04 November, 2017

Wind-up Bird Chronicle নিঃসঙ্গতার হাহাকার


হারুকি মুরাকামির বই পড়া যেন এক অনিবার্য অনুভূতি।
পড়তে ভালো লাগবে, গল্পের ভেতরে গল্প থাকবে, ব্যাপক জটিলতা থাকবে। কিন্তু, এতো বেশি বিক্ষিপ্ত সেসব জটিলতা, এতো বেশি দ্বান্দ্বিক, শেষ পর্যন্ত অনেক অনেক অমীমাংসিত প্রশ্ন থেকে যায়।
ওয়াইন্ড আপ বার্ড ক্রনিকল এক নিগুঢ় নিসঙ্গতার গল্প।
তরু ওকাডো নামের যুবক, স্ত্রী কুমিকোকে নিয়ে নিরিবিলি সংসার।
ওকাডো সম্প্রতি চাকরি হারিয়েছে, কুমিকোর কাজের চাপ। ওদিকে তাদের বিড়াল হারিয়ে গেছে। সে বিড়াল খুঁজতে বের হয় ওকাডো। এরপর থেকে ঘটতে থাকে নানান ঘটনা। সে সব ঘটনা কি পারস্পরিক সম্পৃক্ত? নাকি নিতান্তই কাকতালীয়।
কুমিকো ওকাডোকে ছেড়ে চলে যায়। এর পেছনে কার হাত, কুমিকোর ভাই নোবোরু ওয়াতাইয়ার? মাল্টা কানো, ক্রেটা কানো নামের দুই বোন, তারা কি নোবোরুর সেট আপ? তারা যা যা দাবী করেসবই সত্য? মে কাসারা নামের মেয়েটি আসলে কে? সে- কি ওকাডোকে ফোনে কামকাতর আহবান জানাতো?
উপন্যাসের শেশ ভাগে নাটমেগ তার ছেলে সিনামনের আগমনে নতুন নতুন প্রশ্ন এসেছে, কিছু উত্তরও পাওয়া গেছে। কিন্তু, সে সমাধান কতোটা গ্রহণযোগ্য?
নাকি সবটাই লুসিড ড্রিম? ল্যাফটেন্যান্ট মামিয়া, রাশিয়া মঙ্গলিয়ায় তার ২য় বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতা, কিংবা নাটমেগে শৈশবের চিড়িয়াখানার স্মৃতি যেখানে ২য় বিশ্বযুদ্ধের রক্তপাত হয়েছে পশুকুলের ওপর, সেসব কি কোনো যোগসূত্রে গাঁথা? অথবা, মায়ামির কূপের ভেতর থেকে মুক্তি, এবং ওকাডোর কূপবাস এগুলো কি নিছকই বিক্ষিপ্ত ঘটনা? যদি, সম্পৃক্ত হয়, কী তার ব্যাখ্যা?
উপন্যাসের একনিষ্ট পূণর্পাঠ হয়তো অনেক প্রশ্নের উত্তর পেতে সাহায্য করবে। কিন্তু সেসব উত্তর কি ধ্রুব উত্তর, নাকি তার পালটা উত্তরও আছে।

মুরাকামির যত বই পড়েছি এর মধ্যে বইয়ের ইমোশনাল লেভেল অনেক বেশি। ওকাডোর নিঃসঙ্গতা, কুমিকোকে ফিরে পাবার জন্য তার আকুলতা পাঠক মনকে বিমর্ষ করে, বিষন্ন করে।


DANIEL ROBLES JORGE MILCHBERG এর  El Condor Pasa গানেরলিরিক্সকিওকাডোরইহাহাকার?

I'd rather be a sparrow than a snail
Yes I would, if I could, I surely would
I'd rather be a hammer than a nail
Yes I would, if I only could, I surely would

Away, I'd rather sail away
Like a swan that's here and gone
A man gets tied up to the ground
He gives the world its saddest sound
Its saddest sound

I'd rather be a forest than a street
Yes I would, if I could, I surely would
I'd rather feel the earth beneath my feet
Yes I would, if I only could, I surely would

https://www.youtube.com/watch?v=QqJvqMeaDtU

Read more...

25 January, 2016

Yes, My Accent is Real: Kunal Nayyar

গত বছর টিভি সিরিজ দেখে অনেক সময় কাটিয়েছি।
বিশেষ করে The Big Bang Theoryর সিজন ১ থেকে ৮ পর্যন্ত দেখেছি। এখন ৯ চলছে।

বিগ ব্যাং-এর রাজ তথা রাজেশ কুথ্রপলিকে নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই।
শেলডন, লিওনার্ড, হাওয়ার্ড কিংবা পেনীর থেকে কিছুটা কম হাইলাইটেড চরিত্র। তবুও উজ্জ্বল। আসল নাম কুনাল নায়ার।
গত বছর হায়েস্ট পেইড টিভি অভিনেতার তালিকায় ৩য় ছিল কুনাল।

কুনালের লেখা ১ম বই "Yes, My Accent Is Real: and Some Other Things I Haven't Told You"    প্রকাশিত হয়েছে গত বছর সেপ্টেম্বরে।

শুরুতেই কুনাল বলেছে - এটা কোনো আত্মজীবনী নয়, বরং জীবনের বিভিন্ন না বলা গল্প।
৩৪ বছর বয়েসী গল্প কেমন হতে পারে?

অনেক গল্প স্ট্রাকচার্ড।
ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে অ্যামেরিকা পড়তে গেলে সাইকোলজিক্যাল ও কালচারাল শকের গল্পগুলো খুব কমন।
তবে কুনাল বলেছে তার নিজস্ব ভঙ্গিতে। মাঝে মাঝে হাল্কা রঞ্জন মনে হয়েছে। তবে, সাবলীল ছিল।

জিকোর সাথে বন্ধুত্ব। নারী সংক্রান্ত অস্বস্তি ও সুপ্ত ইচ্ছা। মিশতে না পারার এবং নিজের বাদামী চামড়াকে দায়ী করার গল্পগুলো দারুণ।

সর্বোপরি মনে হয়, কুনাল নিজের জীবন নিজেই বানিয়েছে। পাল্টিয়েছে ২ বছরে। টয়লেট ক্লিন করেছে, গান গেয়েছে, নেচেছে, অভিনয় করেছে। সমালোচিত ও নিন্দিত হয়েছে বারবার। পাবলিক বাসে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে। চোখের পানি লুকিয়েছে, কিন্তু হেরে যায় নি।

সবচেয়ে ভালো লেগেছে - কুনাল জানতো সে কী, এবং কী চায়।
সে বুঝে গিয়েছিল সে অভিনয়ের লোক। তাই বিজনেস স্কুল থেকে ফাইন আর্টসে গিয়ে মাস্টার্স করেছে। ভিসা ফুরানোর চরম ক্রান্তির দিনগুলোতেও আশাহত হয়নি। কাঁচা মাছ মাংসের হোটেলে কাজ করেছে।

আর প্রেম?
সে যেন  - বিগ ব্যাং থিয়রির রাজের মতোই ভাগ্য।
চোখে চুমু খেয়ে যে তরুণীকে আপন করতে চেয়েছিল সে, জন্মদিনে ব্যান্ড দল নিয়ে যাকে বাসায় গিয়ে নেচে গেয়ে চমকে দিয়েছিল, সে তরুণী তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে বুক ভেঙে। সবুজ ভ্যানের মাসলওলা সুঠাম আমেরিকান যুবকের সামনে ভারতীয় কুনাল কেবল শারীরিকভাবে নয়, মানসিকভাবেও তুচ্ছ। ভালোবাসা ফিরিয়ে দেয়ার চেয়েও বড় বেদনা বোধ হয় ফেরানোর সময় নতুন করে কিছু ভালোবাসা দেয়া। ছয় ঘন্টার ড্রাইভ করে শহরে ফেরার সময় কুনাল কি কেবল ভেঙে যাওয়া প্রেমের বেদনাই আনে, নাকি আনে পূর্বরাতের সঙ্গম স্মৃতি, টিফিন বক্সে নাস্তা? ফেরার পথে গাড়িতে তেল নেয়ার সময় জাপানী তরুণীর এসএমএস না পেলেও কুনাল কি একা থাকত?
না, মনে হয় না।

বিভিন্ন তরুণীর সঙ্গে প্রেম আর সম্পর্কের পাশাপাশি কুনালের জীবনে তার বাবার প্রভাবের গল্পগুলো এসেছে ঘুরে ফিরে। বিয়ের গল্প লম্বা ছিল, নেহা কাপুরের সঙ্গে সম্পর্কের অনেক কিছু না বলা রয়ে গেছে বইতে, তবে ভারতীয় কালচারের (বিশেষ করে বিয়ে অনুষ্ঠানের) ব্র্যান্ডিং হয়েছে ভালো।

বিশেষ আগ্রহ ছিল, বিগ ব্যাং-টীমের সাথে তার যোগাযোগ কীভাবে হয়েছিল, কী ঘটেছিল।
সে চ্যাপ্টার কুনাল অল্প পরিসরে যথেষ্ঠ নাটকীয়তা নিয়ে লিখেছে।

প্রশ্ন জাগে - কেন এই বই লেখা বা কী হলো এই বই পড়ে?
এই বই মূলতঃ ভেঙে না পড়ার গল্প। বারবার ইমোশনাল ব্রেক ডাউন সামাল দেয়ার গল্প।
অঞ্জন যেমন গেয়েছে তেমন অনেক হেরে গিয়েও হার স্বীকার না করার গল্প।

কুনালের কাছে আরেকটা বইয়ের আশা থাকলো, হয়তো অনেক দিন পরে - শুধু বিগ ব্যাং থিয়রী মানুষগুলো নিয়ে লেখা হবে সে বই।
পড়বো ঐ বই।

Read more...

24 January, 2016

3:00AM : Nick Pirog



নিক পিরোগের নভেলা। হ্যানরি বিন সিরিজের বই।
৮০ পৃষ্ঠার মতো।

হ্যারি বিন এক তরুণ, যে দিনের ২৩ ঘন্টা ঘুমায় এক ঘন্টা জাগে। এটা একটা রোগ, সারা বিশ্বে মাত্র ৩ জন আছে এ রোগে। রোগটির নামই হ্যানরি বিন।
সে যেমন বলে, আই অ্যাম হ্যানরি বিন অ্যান্ড আই হ্যাভ হ্যানরি বিন।
প্রতি রাত ৩টা থেকে ৪টা এই এক ঘন্টা তার জীবন। এ সময়ে সে খাওয়া দাওয়া, মাস্টারবেশন, ব্যায়াম, দৌড়, অনলাইনে স্টক ট্রেড, গেইম অব থ্রোনস দেখা; সবই করে। অদ্ভুত জীবন। মাঝে মাঝে রাত ৩টার বদলে ২টা ৫৮ মিনিটে ঘুম ভাঙলে অদ্ভুত আনন্দ হয়, মনে হয় ক্রিসমাসের মতো এক্সট্রা ছুটি, এক্সট্রা জীবনের, বেঁচে থাকার আনন্দ।

ঘটনা শুরু হয় এক রাতে, যখন সে রাতে ৩টা ৩৮ মিনিটে সামনে বাসা থেকে আসা এক মহিলার চিৎকার শোনে। জানালায় উঁকি মেরে দেখে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট গাড়িতে উঠে চলে যাচ্ছে। পরে গিয়ে দেখে ঐ বাসায় এক মহিলা খুন হয়েছে।
প্রতি রাতে তার হাতে সময় আছে মাত্র ১ ঘন্টা। কীভাবে সে এই খুনের রহস্যের সমাধান করবে?
সমাধান হয় শেষ পর্যন্ত। অনেক টুইস্ট আছে। যেহেতু নভেলা, তাই লেখক অপেক্ষার কিছু রাখে নাই। স্লিম গল্পে দ্রুত সমাপ্তি হয়েছে।

বড় পরিসরে লিখলে হয়তো পড়তে মজা পাওয়া যেতো। ছোট হওয়াতে অতি নাটকীয়তা রেখে শেষ হয়েছে।
যেমন বিনের বাবা কে, কোত্থেকে এতো তথ্য পায়; এগুলো অতিকাল্পনিক মনে হয়।
তবুও ফিকশন।
মেনে নেয়া যায়।

এ সিরিজের অন্য আরো বই আছে দেখলাম। পড়ার আগ্রহ নেই।

Read more...

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP