22 November, 2013

টুয়েন্টিফোরডটকম বিস্ফোরণ

বছর খানেক ধরে খুব বেশি প্রয়োজন না হলে দৈনিক পত্রিকার ছাপানো কপি হাতে নিয়ে পড়ি না। পত্রিকাগুলো তাদের অনলাইন সংস্করণে মোটামুটি সারাদিন ধরে 'সদ্য সংবাদ' 'তাজা খবর' টাইটেলে কিছুক্ষণ আগে ঘটে যাওয়া খবর সংক্ষেপে তুলে দিচ্ছে। কেউ কেউ অন্যদের থেকে নিজেকে এগিয়ে রাখতে যত দ্রুত সম্ভব শিরোনাম দিয়ে, সঙ্গে দুই বাক্যের বর্ণনা আর শেষে 'বিস্তারিত আসছে---' অনুসরণ করছে। দেশে থ্রিজি এসেছে, টেলিটকে বছর খানেক হলো। ফলে, দ্রুত গতিতে মোবাইল ফোনেই দেখি নিই সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম কী কী। পরদিন ছাপা কাগজে সংবাদগুলো তাই পুরনো হয়ে যায়, দৈনিক পত্রিকার ছাপানো কপি আর পড়া হয় না।
২০০৬-০৯ এর সময়টায় যতোটা না ব্লগে ঘুরতাম, সময় কাটাতাম - এখন তার অনেকটুকু দখল করে নিয়েছে ফেসবুক। দৈনিক পত্রিকার অনেক সংবাদ মুহূর্তের মধ্যে শেয়ার হচ্ছে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে। ফলে, ফেসবুকে নিয়মিত থাকলে জরুরী সংবাদগুলো চোখ এড়ায় না।
দৈনিক পত্রিকার পাশাপাশি অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের শুরুটা করে সম্ভবত বিডিনিউজ টুয়েন্টি ফোর। জানি না, কে বা কারা কেন বিডিনিউজের সাথে টুয়েন্টি ফোর যোগ করেছিল (অনুমান করি, হয়তো চব্বিশ ঘন্টার সংবাদ বোঝাতে টুয়েন্টিফোর যোগ করেছিল), এখন সেটা যত্রতত্র নিউজ পোর্টালের নামের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। মনে পড়ছে, বসুন্ধরা গ্রুপ যখন বাংলানিউজটুয়েন্টিফোর ডট কম চালু করলো, তখন এক ব্লগার বন্ধুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, নামের কি আকাল পড়লো? নামটা বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোরের এত কাছাকাছি কেন? উত্তরে তিনি বলেছিলেন - 'সেই ঘিলু মাথায় থাকতে হবে তো?'
আসলেই কি ঘিলুর সমস্যা? চব্বিশ ঘন্টার সংবাদ মাধ্যম হিসেবে টার্গেট অডিয়েন্সের কাছে পজিশনিং করতে হলে টুয়েন্টিফোর যোগ করার কি কোনো বিকল্প নেই?
নাকি টুয়েন্টি ফোর যোগ করলে সংবাদ মাধ্যম হিসেবে গুগল সার্চে শুরুতে আসবে - এরকম কোনো টেকনিক্যাল ব্যাপার আছে কি?
অবশ্য এটাও সত্যি যে, নামে কী-ই বা এসে যায়?
আজকের কাগজ, ভোরের কাগজ; সংবাদ, খবর; মুক্তকন্ঠ, জনকন্ঠ, কালের কন্ঠ - এ নামগুলোও তো কাছাকাছি।
বাংলাদেশের প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলোর নাম নিয়ে বোধ হয় সচলায়তনে আগেই লেখা হয়েছে। উত্তর দক্ষিণ পূর্ব পশ্চিম এবং এদের পারমুটেশন কম্বিনেশন কিছু তো আর বাকী নেই!
বাংলাদেশে এই মুহূর্তে কয়টা অনলাইন নিউজ সাইট আছে তা সার্চ করছিলাম, এখানে দেখতে পাচ্ছি - ৬৬টি অনলাইন নিউজপেপারের তালিকা আছে, গুনে দেখলাম এর মাঝে ৩০টির নামে টুয়েন্টিফোর যোগ হয়েছে।
নামের আশরাফ-আতরাফ বাদ দিয়ে এবার চোখ ফেরাই নিউজ সাইটগুলোর কন্টেন্টের দিকে।
কী ছাপায়, কোত্থেকে ছাপায়?
খুব বেশি পরিশ্রম হবে না, মোটামুটি চোখ বুলিয়ে নিলে দেখা যাবে - বেশিরভাগ নিউজ সাইট আলাদা কিছু নয় - জাতীয়, আন্তর্জাতিক, রাজনীতি, খেলা; এগুলো অল্প কিছু টুকটাক অনুবাদ এবং বেশিরভাগ শতভাগ কপিপেস্ট অথবা অন্য কোনো সাইট থেকে নেয়া - হাল্কা করে ভাষাটা পালটে দেয়া।
পাঠক কি এসব পড়তে ওখানে যায়?
দৈনিক পত্রিকা বা অনলাইন পত্রিকার মাঝে ৩/৪টি ইতোমধ্যে পাঠকের মনে মোটামুটি রকম একটা ব্র্যান্ডিং করেছে। তাহলে বাকী অর্ধশতাধিক সাইটে কে যাবে? কেন যাবে?
এক্ষেত্রে টুয়েন্টিফোরযুক্ত জঞ্জালগুলো পাঠক টানছে - 'অদ্ভুদ', আজগুবি, ইংগিতপূর্ণ এবং যৌন ইংগিতবাহী কিছু রগরগে শিরোনাম দিয়ে। আর এ শিরোনামগুলো শেয়ার হচ্ছে ফেসবুকে। শিরোনাম দেখে, অধিকাংশ পাঠক অন্তত একবার ঢুঁ মারছে 'আসল ব্যাপার কী' দেখতে।
আসলে ঐ শিরোনামই মূল, ভেতরের সব 'অদ্ভুদ'।
ওসামা বিন লাদেন যে সানি লিওনের ভক্ত ছিল - সেটা একমাত্র অনলাইনের বাংলা জংগলেই পাওয়া যাবে।
আরো পাওয়া যাবে -
অনন্ত-বর্ষার রাগ-অভিমান-খুনসুটি-শপিং আর দূর্ঘটনার খবর।
মা হওয়ার টেনশনে শাবনূর!
কারিনা কাপুর বাংলা শিখছে ঢাকার ছবিতে অভিনয় করতে।
নগ্ন হচ্ছেন শাকিব খান।
সচীনকে সম্মান জানাতে নগ্ন হওয়ার ইচ্ছা পুনম পান্ডের।
ফের বেপরোয়া প্রভা।
কারিনা-ইমরানের ১২ ঘণ্টার প্রাইভেট কার রোমান্স!
গভীর রাতে হাতেনাতে ধরা পড়লেন বিপাশা!
ইত্যাদি বিভিন্ন প্রভৃতি।
এ যেন এক সময়কার হলুদ পত্রিকাগুলোর অনলাইন সন্তান সন্তুতি। স্ট্যাপলড হলুদ পত্রিকাগুলো ড্রয়িং রুমে শোভা পেতো না, কিন্তু এ শিরোনামগুলো কোনো বন্ধু অথবা বন্ধুর বন্ধুর শেয়ারে কিংবা ফেসবুকেরই সাজেশনে চলে আসছে ফেসবুকের হোমপেজে। পাচ্ছে ক্লিক। এসব করে পাঠকও টানছে প্রচুর। খবরের নিচে পাঠকের মন্তব্য আর ফেসবুক শেয়ারের সংখ্যা দেখলেই সেটা অনুমান করা যায়।
এসব অনলাইন মাধ্যমগুলোর ব্যবস্থাপনা বা অর্থায়নই করে বা কে? দু'দিন আগে এরকম একটি পত্রিকার অফিস থেকে ভিওআইপি সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে র‍্যাব, অভিযোগ ছিল - সংবাদ ছাপানোর ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করত অনলাইন পত্রিকাটির লোকজন।
চিরায়ত নিয়মে প্রশ্ন তোলা যায় - 'এসব দেখার কি কেউ নেই?'
সে আশা আপাততঃ করছি না।
শুধু স্মরণ করতে চাই - পুনম পান্ডে আর সানি লিওনের ইয়ে-সব-খবরাখবর অনলাইনে শুরু করেছিল প্রথম আলো অনলাইন।
আর, অনলাইনে লেখালেখির 'দায়িত্বশীলতা' নিয়ে যে সম্পাদক মুখে ফেনা তুলতেন - তার বিডিনিউজ২৪ এর সংবাদগুলোর নিচে এখন পাঠকদের খিস্তিখেউড় শোভা পাচ্ছে নিয়মিত। সম্পাদক নিজের দায়মুক্তি নিয়েছেন এটা যোগ করে "(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর নিজস্ব। bdnews24.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে bdnews24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)"
কারণটা বোধ হয় অন্য ২৯টি টোয়েন্টিফোর ডট কমের সংগে প্রতিযোগিতা।
এটা স্পষ্ট যে, যাবতীয় অনলাইন নীতিমালা আইনকানুন বন্দুক তাক করে আছে - কেবল কিছু ব্লগের দিকে।
অন্যদিকে, টুয়েন্টিফোরডটকম বিস্ফোরণে সৃষ্ট জঙ্গলের আবর্জনা কেবল অনলাইনে বাংলা ভাষার কনটেন্টকে দুষিত করে চলেছে, যার ফলাফল গুগলে ইউটিউবে সার্চ করতে বাংলা একটা অক্ষর টাইপ করলেই বাকী সাজেশনে দৃশ্যমান।

Read more...

13 November, 2013

স্মরণের উৎসব কিংবা উপলক্ষ্য

সামাজিক যোগাযোগে, আমন্ত্রণ নিমন্ত্রণে জন্মদিন-মৃত্যুবার্ষিকী-চেহলাম-কূলখানি-বিয়ে ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এখানে যে পাঁচটি উৎসবের নাম উল্লেখ করলাম তার মাঝে শেষটি, বিয়ে, জীবিত মানুষের জন্য, মাঝের তিনটি মৃত মানুষের উদ্দেশ্যে এবং প্রথমটি, জন্মদিন, জীবিত ও মৃত উভয়রকম মানুষের জন্য পালন করা হয়।

জন্মদিনে একজন মানুষকে শুভেচ্ছা জানানো, ভালোবাসা জানানো এবং মানুষটির উপস্থিতি প্রিয়জনদের কাছে কতোটা ভালোলাগার - এরকম ব্যাপারগুলোর বহিঃপ্রকাশের দিন হিসাবে ধরা যায়।
তাহলে, প্রশ্ন রাখছি - মৃত মানুষের জন্মদিন পালনের উদ্দেশ্য কী?

উদ্দেশ্য যদি হয়ে থাকে মৃত মানুষটিকে, মানুষটির কীর্তিকে স্মরণ করা এবং শ্রদ্ধা জানানো, তবে তার জন্য মৃত্যুদিন বা মৃত্যুবার্ষিকীর দিনটিই কি শ্রেয় নয়?

জন্মদিন পালন যেমন একজন মানুষের বেঁচে থাকার, চারপাশের মানুষের আনন্দের ও ভালোবাসার উৎসব - এবং মানুষটির 'উপস্থিতির' উৎসব, সেক্ষেত্রে একজন মৃত মানুষের স্মৃতি ও কর্মকে স্মরণ করার জন্য 'অনুপস্থিতির' দিনটিই কি অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ নয়?

Read more...

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP