22 June, 2009

আনোয়ারা সৈয়দ হকের 'মোবাইল সমাচার'

আনোয়ারা সৈয়দ হক সম্ভবতঃ পেশা পরিচয়ে ‘মনোবিজ্ঞানী’ লেখেন। তাঁর কিছু উপন্যাসকেও ‘মনোবিশ্লেষণধর্মী’ উপন্যাস বলা হয়। আমার কাছে আনোয়ারা সৈয়দ হক অন্য কারণে মনে রাখার মতো নাম। প্রথমতঃ ১৯৯৩/৯৪ সালে ‘শিশু’ পত্রিকায় তাঁর লেখা দূর্দান্ত একটি গল্প পড়ি। গল্পের নাম ঠিক মনে পড়ছে না, তবে কাহিনী এরকম – এক মুক্তিযোদ্ধার ছেলের আত্মকথন। তার বাবার মুক্তিযুদ্ধে গিয়ে আর ফিরেনি। সে যখন বড় হয় তখন এলাকায় স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রতাপ। সামাজিকভাবে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটিকে হেনস্তা করা হয়। জায়গা জমি দখল করে দেয় রাজাকাররা। এরপরে মুক্তিযোদ্ধার কিশোর ছেলেটি ক্রমান্বয়ে পালটে যেতে থাকে। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে নদীর ঘাঁটে রাখা নৌকায় শুয়ে মাসুদ রানা পড়ে সে। আই লাভ ইউ লেখা লাল গেঞ্জি পরে; এরকম। গল্পটির প্লট আমাকে আক্রান্ত করেছিলো, বিষণ্নতা জাগিয়েছিলো। তাই মনে পড়ে প্রায়ই।

দ্বিতীয়তঃ আনোয়ারা সৈয়দ হকের একটি বই, ‘তুমি এখন বড় হচ্ছো’ খুব আগ্রহ নিয়ে পড়েছিলাম। কিশোর বয়সের শরীর ও মন নিয়ে জেগে ওঠা রহস্যময়তার সরল বিশ্লেষণ ছিলো সে বই। গল্পে গল্পে জানলাম অনেক কিছু। এরপর থেকে আনোয়ারা সৈয়দ হক নাম দেখলেই আমার এ দুটো ব্যাপার মাথায় আসে। পত্র-পত্রিকায় বিক্ষিপ্তভাবে তাঁর কলাম পড়েছি। তিনি নারী প্রগতির কথা লেখেন, ধর্মীয় গোঁড়ামীর বিরুদ্ধে লেখেন, মানুষের মন ও মনের ভেতর নিয়ে লেখেন। তবে আজ চমকালাম ‘সাপ্তাহিক২০০০’ চলতি সংখ্যায় তাঁর কলাম ‘মোবাইল সমাচার’ পড়ে।

কলামের একেবারে প্রথম কথাগুলো – ‘মোবাইল ফোন আমাদের দেশে একটি অসভ্য সংস্কৃতির ধারা বহন করে ফিরছে বিগত এক দশক। দিনে দিনে এই অসভ্যতা বাড়ছে, বেড়েই চলেছে, এর যেন কোনও আর থামাথামি নেই। মোবাইল ফোন আমাদের দেশে ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং সামাজিক আব্রম্ন নষ্ট করেছে। এবং করেই চলেছে।’

সাপ্তাহিক২০০০ এর ফন্টে সমস্যা আছে, তাই ‘আব্রম্ন’ কী বোঝলাম না। ধারণা করে নিচ্ছি – তিনি বলতে চেয়েছেন মোবাইল ফোন আমাদের দেশে ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং সামাজিক শৃঙ্ক্ষলা/অবস্থান/ব্যালান্স/আবহ কিংবা এরকমই কিছু একটা নষ্ট করছে। এবং করেই চলেছে।

এরকম অভিযোগ নতুন নয়। মোবাইল ফোনের ব্যবহার এবং নানান দিক নিয়ে সুতর্ক-কুতর্ক পুরনো, যার চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেই। বরং নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবার ব্যাখ্যা আছে। তবে, আনোয়ারা সৈয়দ হক মনোবিজ্ঞানী বলেই তাঁর কথাগুলো গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হয়। সাড়ে সাতশ’ শব্দের এ কলামে তার মূল কথা এরকম –
১) মানুষ এখন সময়ে অসময়ে ফোন করে। সময়জ্ঞান কমে যাচ্ছে।
২) ‘মোবাইল ফোন পুরো বাঙালি জাতিকে ইমপাল্‌সিভ একটি জাতিতে পরিণত করেছে। শুধু ইমপাল্‌সিভ নয়, প্যারানয়েডও।‘
৩) সিনিয়র-জুনিয়রের সম্পর্ক নষ্ট করছে মোবাইল ফোন। ‘একজন চ্যাংড়া মোবাইলধারী এখন বৃদ্ধ একজনকে রাত বারোটায় ঘুম থেকে জাগিয়ে সামান্য একটি সংবাদ জানায়, অর্থাৎ দিন হওয়া পর্যন্ত সে অপেক্ষা করতে পারে না।‘
৪) কর্মক্ষেত্র এবং অন্যান্য জায়গা অহেতূক ব্যক্তিগত মোবাইল আলাপে ভরে যাচ্ছে।
৫) কিশোর কিশোরীরা ঋণাত্বকভাবে মোবাইল ফোনে বন্ধু-পরিবার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। ব্যক্তিগত সময় কিংবা স্বাধীনতা আর থাকছে না।

মোটের ওপর এই হলো আনোয়ারা সৈয়দ হকের অভিযোগের কিংবা সমাচারের সারমর্ম।

অবাক হলাম, মোবাইল ফোন ব্যবহারের এইসব বিপ্রতীপ বিষয়গুলো সমাধান বা নিয়ন্ত্রণের উপায়ে না গিয়ে তিনি দোষটা মোবাইল ফোনের উপরেই চাপিয়েছেন। সেইসব পুরনো অভিযোগ মনে পড়ে যায়, যখন বলা হতো – কম্পিউটারের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে, ১০ জনের কাজ একজন করে ফেলবে, দেশে বেকার সমস্যা দেখা দেবে। কিংবা ইন্টারনেট এলে দেশের সব তথ্য বাইরে পাচার হয়ে যাবে। এসব যুক্তি হাস্যকর হতে খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি, আনোয়ারা সৈয়দ হক এগুলো জানেন বলেই অনুমান করছি। অন্ততঃ নিজেকে যতোটা বিজ্ঞানমনষ্ক এবং প্রগতিশীল বলে লেখায় ছাপ ফেলতে চান, তাতে করে তাঁর এসব জানার কথা। এজন্যই বেশি চমকাই, যখন দেখি লেখার উপসংহারে তিনি বলেন -

তবে শেষ কথা হচ্ছে এখন মোবাইলের যুগ। প্রতিটি মানুষের হাতে মোবাইল তুলে দেওয়াই এখন বিশ্ব বাজারের লক্ষ্য। তবে এই যুগ থাকবে না। মানুষ অচিরেই এই মোবাইল সংস্কৃতি পরিত্যাগ করবে। মানুষের মন ও আত্মাকে কোনওদিন কোনও মেশিন সন্তুষ্ট রাখতে পারবে না দীর্ঘদিন। এটা আমার বিশ্বাস।


আনোয়ারা সৈয়দ হকের বিশ্বাস কতোটুকু সত্যি হবে, মানুষ মোবাইল সংস্কৃতি পরিত্যাগ করবে নাকি এ সংস্কৃতির ধারা বিবর্তিত হবে; সেসব সময়ই বলে দেবে। তবে আনোয়ারা সৈয়দ হকের কাছে পাঠক হিসেবে আমার একটি অন্যরকম চাওয়া আছে। তাঁর অবস্থান, বুদ্ধিবৃত্তিক সামর্থ্য এবং যোগ্যতা বলেই তিনি কাজটি করতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস। বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের বুদবুদ যুগে একদল বিভ্রান্ত কিশোর-তরুণদল নষ্ট এক খেলায় মেতে উঠেছে। প্রেমিকা-বান্ধবী অথবা অন্যকারো ব্যক্তিগত অন্তরঙ্গ মুহূর্ত মোবাইলে রেকর্ড করে ছড়িয়ে দিচ্ছে নানা মাধ্যমে। আমাদের সামাজিক কাঠামোতে এর প্রধান ভিক্টিম হচ্ছে কিশোরী কিংবা তরুণীটি। ক্ষেত্র বিশেষে পুরুষটিও। আনোয়ারা সৈয়দ হক কি এই প্রবণতা কিংবা চর্চাটি নিয়ে লিখবেন? এসব ঘটনায় আক্রান্ত কিংবা সম্ভাব্য আক্রান্তদের মানসিক বিপর্যয়ের ব্যাপারটি নিয়ে তিনি কি কলাম কিংবা গল্প অথবা উপন্যাস লিখবেন, আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াবেন?

খ্যাতনামা মনোবিশ্লেষক আনোয়ারা সৈয়দ হকের কাছে এ চাওয়াটি খুব বেশি হবে কি!

.
.
.

Read more...

19 June, 2009

পারমিতার একদিন : সম্পর্ক এবং আশ্রয়হীনতার ছবি

একই ঘর এবং সংসারে বাস করেও মানুষ দিন শেষে নিঃসঙ্গ হয়ে যায়। যখন আয়নায় মুখোমুখি তাকিয়ে কেবল নিজের সঙ্গেই কথা বলা লাগে। মনে হয় – এর বাইরেও অন্য কোথাও সঙ্গোপন টানাপড়েন রয়ে গেছে। অঞ্জন দত্তের গানে যেমন, ‘চারটে দেয়াল মানে নয়তো ঘর, নিজের ঘরে অনেক মানুষ পর’। তেমন করেই, নিজের ঘরে পর হয়ে ওঠা মানুষগুলো তাই ক্রমশঃ আশ্রয় খোঁজে অন্য কোথাও।

শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়ে, মেল শভিনিস্ট স্বামী কিংবা মাতাল সন্তান নিয়ে পারমিতার শাশুড়ী যেমন আশ্রয় খোঁজে, আরো অতীত – আরো গোপন অথচ ভালোবাসার মানুষটির কাছে। জীবনের পৌঁণিক প্রান্তে এসে সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না, তাই প্রশ্নহীন উত্তরহীন থাকে সম্পর্কের ধরণ। নিজের এই ব্যক্তিগত দূর্বলতাই হয়তো শাশুড়ীকে বৌয়ের কাছাকাছি নিয়ে আসে, অথবা দুজনেরই শারীরিক প্রতিবন্ধী সন্তানের কারণে কোথাও মিল খুঁজে পায় দুজনে। কিন্তু, নিজের ঘরে পর হয়ে যাওয়া দুজন আসলেই কি সমান্তরাল জীবনে চলতে পারে? কিংবা চললেই বা কতোটুকু? ‘পারমিতার একদিন’ দেখতে গিয়ে এ প্রশ্নই বারবার জেগে উঠেছে। উত্তর জানার চেষ্টা ছিলো - পারমিতার স্মৃতিমন্থনে।

একটি শোকের বাড়িতে পারমিতার আগমন, চারপাশের জটিল মানুষের ফিসফাস, হুট করে অতীত এবং আবার বর্তমান; এভাবেই ছবি এগিয়েছে। সরলরৈখিকভাবে ভাবলে – তেমন চমকের কিছু নেই। কিন্তু, অতীত বর্তমানের মিশ্রণে দর্শককে অপেক্ষা করতে হয়েছে, কখনো দীর্ঘশ্বাসে – কখনো আশায়। পারমিতার দ্বিতীয় জীবনে পা রাখার পেছনের ঘটনা জানার আগ্রহই ছিলো অপেক্ষার মূল বিন্দু। প্রথম জীবনের সঙ্গে সম্পর্কছিন্নের গল্প প্রলম্বিত হয়নি, জটিলতার ছিলো অনেক কিছু – থাকতেও পারতো। কিন্তু, সম্পর্কের সুতোয় টান পড়ে যাওয়া মানুষগুলো একে অন্যকে আর ধরে রাখতে পারে না। খটকা যা লেগেছে তা ঐ দ্বিতীয় জীবনের সম্পর্ক নির্মাণের দ্রুততা। দর্শক হিসেবে মনে হয় – এ পরিচালক কিংবা কাহিনীকারের তাড়াহুড়া। অবশ্য না জেনেও ক্ষতি হয়নি খুব বেশি। গৃহবধু পারুর চেয়ে বিজ্ঞাপনী সংস্থার পারমিতা অনেক বেশি প্রত্যাশিতই মনে হয়।

নামের সঙ্গে মিল রেখেই মূল কাহিনী একদিনের, কিংবা কয়েক ঘন্টার। ক্ষণে ক্ষণে অতীত-বর্তমানের দৃশ্যপট। শেষ ভাগে – পারমিতা এবং মনুকাকা যখন ঐ বাড়ির গেট পেরিয়ে এলো, তখন মনে হয়- এ দুজনের কখনো আর এখানে আসা হবে না। পারষ্পরিক আশ্রয়হীনতার যে সম্পর্ক ছিলো তারও সমাপ্তি হলো। কিন্তু জীবনের গল্পের সমাপ্তি কি হয়? মন হয় - ‘বিপুল তরঙ্গরে...’ গানের মতো করেই পারমিতা ও বাকী মানুষগুলো হয়তো নতুনভাবে আশ্রয় খুঁজবে অন্য কোথাও...।
.
.
.

Read more...

09 June, 2009

মেঘ পিওনের ব্যাগ

এমন সকালে কারও সঙ্গে কথা বলতে আমার ভালো লাগে না। শনি-রবিবার সকাল ছাড়া কোনো সকালেই আমার ঘুম পূর্ণ হয় না। তাই প্রতিটি সকালে আমি বিষন্ন থাকি। মুখভার থাকি। আমার নীরব থাকতে ভালো লাগে। ভেবে দেখলাম গত এক যুগ ক্রমাগতঃ এমন নিঃসঙ্গ সকাল আমাকে অবশ করেছে। সকাল মানে আমার জন্য এক কাপ কফি, সকাল মানে মেইল চেক করা, সকাল মানে গান শোনা। সকাল মানে ভাবা আরও একটা দিন গেলো...।

এখানে আসার পর সকালের ট্রেন যাত্রা খুব উপভোগ করি। ভাগ্যক্রমে সীট পাওয়া গেলে আরামসে বই পড়া যায়। ১১ আর ১০ এ ২১টি স্টেশন দ্রুতই পার হয়। আমার ভালো লাগে। বই পড়তে গিয়ে যা ঘটে তা হলো, গন্তব্যে পৌঁছার মুহুর্তে বইয়ের সবচে' আকর্ষণীয় অংশ শুরু হয়। আর আমি সারাদিন অপেক্ষায় থাকি।

তালিকা করেছি, আগামী ১২ সপ্তায় ১২টা বই শেষ করবো। এ উইকএন্ডে প্রিয়-রুমকির সঙ্গে আড্ডায় খেলা দেখে দিন গেলো। আজ সকালে যখন ভিক্টোরিয়া পার্ক স্টেশনে বাসে উঠতে যাবো, শুরু করবো প্রায় শেষ হয়ে আসা 'আউটলায়ার্স', তখন দেখি প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো - পল। মার্কেটিং এর লেকচারার। পলের কাছে আমার সীমাহীন কৃতজ্ঞতা। উইন্টারে টি-এশীপ অনিশ্চিত হয়ে গেলে যখন ধুমায়ে সবার কাছে মেইল করছি, তখন পলই একমাত্র মেইলের রিপ্লাই করেছিল। কফি আলাপের ডাক দিয়ে কাজ দিয়েছিলো প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। এ কারণেই ৪ মাস থাকা খাওয়া ঘোরা নিরাপদে করতে পেরেছি। আলাপের শুরুতেই জেনে নিলাম সে কোন স্টেশনে যাবে। ব্লোর এন্ড ইয়াং; মানে ১১টা স্টেশন পর্যন্ত কথা বলতে হবে। স্বভাবতই আমি ভালো শ্রোতা তাই সমস্যা হয় না। পড়ালেখা-অর্থনীতি-বাংলাদেশ-পিএইচডি-সোশ্যাল সিস্টেম-বেড়াল; এরকম নানান বিষয়ে কেটে যায় পঁচিশ কিংবা এরকম কোনো মিনিট। আমি ব্লোরে উত্তরমূখী প্ল্যাটফর্মে, ওপাশে দক্ষিণমূখীতে পল। আমি আবার আউটলায়ার্সের পাতা উল্টাই...। টরন্টোর ভিক্ষুকরা এমন ভদ্র ভাবে পয়সা চায়, প্রথমে দেখে খুব অবাক হয়েছিলাম। তবে আজ চমকালাম, 'লেডিস এন্ড জেন্টেলম্যান, আয়্যাম হাংরি ফর লাস্ট থ্রি ডেজ, জাস্ট থিংক - থ্রি ডেজ, ওহ গড মারসি মি, প্লিজ হেল্প মী'। ময়লা জামার, অপরিচ্ছন্ন চেহারার কৃষ্ণাঙ্গ মহিলার সকাতর আকুতি। এক নজরে দেখে মনে হয় ড্রাগ এডিক্টেড। সব ঐ ম্যালকমের দোষ, তার 'ব্লিংক'ই শিখিয়েছে - জাজ এট ফার্স্ট সাইট। অন্ধকার টানেলে ট্রেনের জানালায় তাকিয়ে নিজের মুখই দেখি...। আর কিছু নয়...।

অফিস থেকে যখন বের হবো, প্রচন্ড মাথা ব্যথা। ঠান্ডা বাতাসে উলটো পথে টিম হর্টন্সে না গিয়ে শেপার্ড সেন্টারে ঢুকি। কফি শপ খুঁজি। জানি না কীভাবে, কেনো - এসে দাঁড়াই 'কোল'' , বইয়ের দোকান, এর সামনে। মিনিট চল্লিশেক ঘুরে বগলদাবা - ওয়ার্ল্ড ফেমাস ডিক্টেটরস, আর থ্রি কাপ অব টি। প্রথমটা স্রেফ ইতিহাস জানার জন্য। আর পরেরটা পাকিস্তান-আফগানিস্তান প্রেক্ষিতে লেখা। টিটিসিতে অনেক মাস বিজ্ঞাপিত ছিলো। ততক্ষণে মাথাব্যথা কমে গেছে। তবুও কফি কিনি...। মন খারাপে ট্রেনে উঠি।

মন খারাপের কারণ, ঐ একটাই। লিখতে ইচ্ছে করছে না বিস্তারিত।
সচলে এক পোস্টে দুটো কমেন্ট করেছি -

গত ৫ বছরে আজ এই প্রথম আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের উপরে চ্রম বিরক্ত হলাম।হ্যালু, হ্যালু উৎপল শুভ্র, হ্যালু মতিউর রহমান, হ্যালু প্রথম আলু, আমিও লাইনে দাড়াইলাম। আমিও শপথ করিব আজ।আমি শপথ করিতেছি যে, ২০০৯ এর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের আর কোনো খেলা আমি টেলিভিশনে কিংবা ক্রিকইনফো বা অন্য কোনো মাধ্যমে ফলো করিবো না।

-
আসসালামুয়ালাইকুম আশরাফুল গং। ভালো থাইকেন। আমার মন ভালো/খারাপ করানোর দায়িত্ব আর বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের উপরে রাখতে চাই না। ২০০৯ সাল অন্ততঃ এই অপদার্থ ক্রিকেট প্রতিভা থেকে মুক্তি চাই। জাঝাকুল্লাহ খাইরান। খুদাপেজ।

-

হিসেব করে দেখেছি, নিজের কাছে করা প্রতিজ্ঞাগুলো ভুলে যাই মাঝে মাঝে।
এই প্রতিজ্ঞা আমি পালন করতে চাই।

অসংখ্য মন খারাপের ডিস্টার্বিং এলিমেন্ট হুটহাট আজকাল যন্ত্রণা দেয়।
কষে লাত্থি মারতে ইচ্ছে করে এসব যন্ত্রণাকে...

ভরসা ইয়্যুটুব।
এবং রাজ কাপুর...
অনুবাদে পেলাম -
Give ur life for someone's smile..take other's pain..love others..that is life...
i accept that i m poor..but not from heart..life is one which knows how to love..
that is life.. relation among hearts is by belief in each other..
love is alive bcoz of us.. i will be remembered even after I die..
I will smile through someone's tears..that is life...



.
.
.

Read more...

08 June, 2009

ছবি ব্লগ : Eat, Drink, Die

১৩ রকম ব্যস্ততায় দিন যায় আজকাল।
সচল থাকি, সচল রাখি...
_

[১০ শব্দের
কম লিখে
পোস্টানো যায় না
;( ]

Read more...

03 June, 2009

নিয়ন পেপসি - ২ : শুরুর কথা

এ প্রশ্নের উত্তর দেয়া আমার কাছে একটু কঠিন মনে হয়। সাক্ষাতে কিংবা অনলাইন চ্যাটে যারা এ প্রশ্ন করেছেন তারা আমার সরাসরি উত্তর শুনে ভ্রুঁ কুঁচকিয়েছেন। ভাবখানা এমন যেনো, এই ব্লগস্ফিয়ারে এত শত শত লোক থাকতে ঐ লোকের কাছ থেকে আপনি বাংলা কম্যুনিটি ব্লগের খবর প্রথম পেয়েছিলেন? কী আর করা, সত্য তো সত্যই। এই যেমন সেদিন, ডানডাস স্কয়ারে বসে বন্ধুবর অমিত আহমেদ এবং জনপ্রিয় কিংকর্তব্যবিমুঢ়ের সঙ্গে কফিতে চুমুক দিচ্ছি, তখনো এ আলাপ শুরু – আপনাকে বাংলা ব্লগস্ফিয়ারের খবর প্রথম কে দিয়েছিলো?

আমাকেও সে-ই পুরনো গল্প বলে যেতে হয়।
অনলাইন জীবনের প্রথম দিকে নানান বাংলা সাইটে রেজিস্ট্রেশনের কারণে কিংবা পত্রিকায় চিঠিপত্র কলামে লেখার শেষে ই-মেইল দেয়ার কারণে – অথবা অন্য কোনো অজানা কারণে, আমার ইয়াহু ইমেইল এড্রেস বিভিন্ন জাংক মেইলের লিস্টে চলে গেছে। ক্যালেন্ডারের পাতায় ৯ বছর উলটে গেছে, কিন্তু এখনো হাবিজাবি মেইল আসে। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, জব ট্রেনিং, সাইপ্রাসের ভিসা, কক্সবাজারকে ভোট দিন, হাই ফাইভ – ইয়ারীতে বন্ধু করতে চাই। কী নেই! তবে বেশি মনে পড়ে আদিত্য আনীকের কবিতা মেইল। অনেক অনেক রিকোয়েস্ট করেও যখন ঐ মেইল তালিকা থেকে নিজেকে সরাতে পারিনি তখন আদিত্যিক ঠিকানাটি ব্লক করেছিলাম। মনে পড়ে, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি মোহাম্মদ আলী আকন্দকে। ভারতের নানান ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রায়ই তিনি মেইল করে সাবধান করে দিতেন, জনসচেতনতা তৈরি করতেন। এ সবই আজ অতীত! এ অতীতেই, ২০০৫ এর শেষের দিকে সদ্য প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিকের ইয়াহুগ্রুপে আমার ইয়াহু একাউন্ট যুক্ত করে নেয় একজন। এই ভদ্রলোক এরপরে নানান মেইলে নিয়মিত ঐ সাপ্তাহিকের কোন সংখ্যায় কী ছাপা হলো – সে সব লিংক দিতেন। আমিও ক্লিক করে দেখে আসতাম। এই ভদ্রলোক, নিজের রিপোর্টিং এর জন্য নানা রকম জরিপও চালাতেন। লিংক দিয়ে বলতেন – এখানে কিছু প্রশ্ন আছে, উত্তর দিয়ে আসেন। আমি সেই লিংকে যাই, কিন্তু কী লিখবো বুঝি না। তবে পরের সপ্তায় আপডেট আসতো – রিপোর্ট ছাপা হয়েছে, দেখে আসুন। খারাপ না, ভালোই লাগে। অন্ততঃ কবিতা মেইল বা ভারত সতর্কতার মতো বিরক্তিকর না।

এরকম একদিন, ২০০৬ এর মাঝামাঝি সময়ে – ভদ্রলোক আবার ঐ ইয়াহু গ্রুপে মেইল করলেন। বাংলা ব্লগ নিয়ে একটি রিপোর্ট ছাপা হয়েছে সাপ্তাহিকটিতে। সেখানে চলমান বাংলা ব্লগের কয়েকজন ব্লগারের মন্তব্য, কে কেনো ব্লগিং করেন, একটি ফান্ড রাইজিং উদ্যোগের কথা ছিলো। তবে আগ্রহ পেয়েছিলাম, এ কথা জেনে – ব্লগে লিখলে সাথে সাথে পাঠক প্রতিক্রিয়া চলে আসবে মন্তব্যের ঘরে। মুহুর্তেই জেনে যাবেন, আপনার লেখাটি কার কেমন লেগেছে। ব্লগ পোস্ট নিয়ে বইও ছাপা হচ্ছে – যেগুলোকে ব্লগ ও বুক এর মিশ্রণে ‘ব্লুকস’ বলা হচ্ছে। মহা তুলকালাম কান্ড। ব্লগে লিখে টাকা আয় করা যাবে, এমনও নাকি সম্ভব! ঐ রিপোর্টে দেয়া লিংকে ক্লিক করে দেখি একটি বাংলা সাইট। এখনকার বাংলা ব্লগজগতের জনবহুল সাইট। দূর্দান্ত কিছু লেখা পড়ে ফেললাম এক টানা। মনে পড়ছে – বাম পাশে সর্বোচ্চ ব্লগারের একটি তালিকাও ছিলো, সেখানে ৭৭/৭৮টি পোস্ট দিয়েও জায়গা করে নিয়েছিলো কেউ কেউ। সেদিনই রেজিস্ট্রেশন করলাম। লিখে ফেললাম – ছোট্ট এক পোস্ট। দিনটি ৩রা জুলাই, ২০০৬।

সে-ই যে ব্লগের নেশা পেয়ে বসলো, এখনো ছাড়লো না। কতো কিছু হয়ে গেলো। ব্লগ জগত বিস্তৃত হলো। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে জায়গা করে নিলেন ব্লগারুরা। হারিয়ে গেছে প্রথম দিকের কতো কতো মুখ। এসেছে নতুন ব্লগার-প্রজন্ম, আসছে, এবং আসবে। দ্বন্ধ-কোলাহল-সংঘাত কিংবা নাটকের কমতি নেই। তবুও তুমুল গতিতে ছুটছে – কী বোর্ড। ব্লগ এক্সপ্রেস। কতো কতো স্টেশন পেরিয়ে গেলো গত প্রায় তিন বছরে। পিঁছু ফিরে দেখি স্মৃতির ঝাপির ওজন একেবারে কম নয়। ব্যক্তিগতভাবে আমার ব্লগিং এ প্রথম উৎসাহ ছিলো – কনফুসিয়াসের কিছু কমেন্ট। কোন সেই কমেন্ট কেনো এতো গুরুত্বপূর্ণ এ আলাপ পরে হবে, অন্য কোনো পর্বে। সেসব আজ থাক।

লিখতে গিয়ে ভেবেছিলাম, ব্লগিং নিয়ে খানিক নস্টালজিক হই আজ। ধুসর গোধুলি-চোর-মুডিওয়ালা কিংবা নুশরাত শারমিন সুমির কিছু গল্প বলি। কিন্তু, শুরুতেই এসে গেলো – ঐ প্রশ্ন, বাংলা ব্লগের প্রথম খবর আমি কার কাছ থেকে পেয়েছিলাম। কীভাবে পেয়েছিলাম সে গল্প করা হলেও ভদ্রলোকের নামটি বলা হয়নি। বলাটা খুব জরুরীও নয়। পাবলিক ফোরামে তিনি ৩টি যুগান্তকারী তথ্য দিয়েছিলেন – ১) বাংলাদেশের অনেক অনেক সাংবাদিক সন্ধ্যার সময় তার রুমে এসে অপেক্ষা করে, তার যে কোনো লেখা দেশের ১ম সারির আধা ডজন দৈনিক ছাপানো মুহুর্তের ব্যাপার মাত্র। ২) কামাকাঙ্খাই অসহনীয় মাথাব্যথার অন্যতম কারণ, এবং ৩) তিনি বাংলাদেশের প্রথম পাঁচজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর একজন।
আর বোধ হয় নাম বলার দরকার নেই। ভাবছি, এখন থেকে উত্তরটি এভাবে দেবো, বাংলা ব্লগ জগতের খবর আমাকে প্রথম যিনি দিয়েছিলেন, তিনি বাংলাদেশের প্রথম ৫জন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর একজন...।

কিন্তু, আজ এসব বলা কেনো!
কেনো এই স্মৃতিকাতরতা! তেমন কিছু হয়তো নয়, আবার একেবারে তুচ্ছও নয়।
আজ থেকে দুই বছর আগে, তখনো সচলায়তনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়নি – নানান ফিচার কারিগরী দিক টেস্টিং চলছে, জি-টকে নক করেছিলেন অরূপ কামাল, বলেছিলেন - সচলায়তনে রেজিস্ট্রেশন করতে। সেই থেকে শুরু...। ‘আমাদের সচলায়তন!’ শিরোনামের পোস্ট দিয়েছিলাম, এই দিনটিতেই।
৩রা জুন, ২০০৭ ছিলো সেদিন।

.
.
.

Read more...

ফেসবুক স্ট্যাটাস সমগ্রঃ মে ২০০৯

1. সহস্র শব্দের উৎসব থেমে যায় ।।

2. ফেসবুক ভালো লাগে না। একাউন্ড ডিএক্টিভেটের প্রস্তুতিপর্ব চলছে...

3. ফেসবুক ছেড়ে থাকা অসম্ভব কিছু না ।

4. বন্ধুবর সৌরভ (আলীম জামান)-এর দ্রুত শারীরিক সুস্থতা কামনা করছি ।

5. "কে আমাকে কতোটুকু জানে" কুইজ বানাচ্ছি ।

6. দেখছি, 'দৈনিক তোলপাড়'

7. ভুলি নাই, জুবায়ের ভাই..

8. শুভ জন্মদিন, দ্রোহী মহোদয়!

9. had an unexpected, but wonderful day...

10. 'সবার অলক্ষেতে তুমিও কি ছিলে, হাওয়ায় হাওয়ায় - হাওয়ায় হাওয়ায়, বন্ধু তোমায় এ গান শোনাবো বিকেল বেলায়

11. মে মাস ভীষণ ক্লান্তিকর ও দীর্ঘ মনে হচ্ছে...

12. মাসুদ-মেধা আজ পরস্পরকে 'ভালোবাসি' বলেছে ;)

13. :( :( :( -- 08:02am -- :( :( :(

14. ফেসবুকে বাম পাশে যেই ৬ জন বন্ধু দেখায়, তার কি কোনো সুত্র আছে? গত দুইদিন ধরে এত রিফ্রেশ করি - ৫ জন পালটায় কিন্তু একজন সরেই না, আঠার মতো লেগে আছে ;)

15. গুড মর্ণিং, ফেসবুক!

16. 'সংবিগ্ন পাখিকুল ও বৃষ্টি বিষয়ক'

17. প্র-আলো ২৮ মে ২০০৯ রাশিফল বলছে - "পরকীয়ার অপবাদ ঘুচবে" ;)

18. মেট্রোনিউজ ২৮ মে ২০০৯ রাশিফল বলছে - "লোকজনকে লাই দিও না, মাথায় চড়ে বসবে" ;(

19. রাশিফল-২৯ মে : "অসৎ সঙ্গীর সঙ্গ এড়িয়ে চলুন। প্রিয়জনের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে।"

20. Metronews - May 29, 2009: You will win an argument of some kind today but don’t make too big an issue of it. Be gracious in your victory.

21. 'পুরনো কিংবা নতুন মলাটে আমি, আসলে কিন্তু তোমাকে খুঁজবোই...'

22. এমন রোদেলা দিন, অনায়াসে ভাবতে পারি, প্রেমিকার চিবুকে

23. 'আমার পায়ের নখ থেকে মাথার প্রতিটি চুলে এত অপরাধ' : (অনুতাপ)

24. 'গহীন জলে শ্যাওলা ভাসে, বন্ধু ভাসে মনে, নদীর পানি বাড়ে আমার চোখের বরিষণে, আমি সাঁতার না, জানি না বাইতে নাও - কেমনে যাইবো বন্ধুর বাড়ি; ও মাঝি আমায় নিয়া যাও'
-
.
.
.

Read more...

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP