22 November, 2013

টুয়েন্টিফোরডটকম বিস্ফোরণ

বছর খানেক ধরে খুব বেশি প্রয়োজন না হলে দৈনিক পত্রিকার ছাপানো কপি হাতে নিয়ে পড়ি না। পত্রিকাগুলো তাদের অনলাইন সংস্করণে মোটামুটি সারাদিন ধরে 'সদ্য সংবাদ' 'তাজা খবর' টাইটেলে কিছুক্ষণ আগে ঘটে যাওয়া খবর সংক্ষেপে তুলে দিচ্ছে। কেউ কেউ অন্যদের থেকে নিজেকে এগিয়ে রাখতে যত দ্রুত সম্ভব শিরোনাম দিয়ে, সঙ্গে দুই বাক্যের বর্ণনা আর শেষে 'বিস্তারিত আসছে---' অনুসরণ করছে। দেশে থ্রিজি এসেছে, টেলিটকে বছর খানেক হলো। ফলে, দ্রুত গতিতে মোবাইল ফোনেই দেখি নিই সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম কী কী। পরদিন ছাপা কাগজে সংবাদগুলো তাই পুরনো হয়ে যায়, দৈনিক পত্রিকার ছাপানো কপি আর পড়া হয় না।
২০০৬-০৯ এর সময়টায় যতোটা না ব্লগে ঘুরতাম, সময় কাটাতাম - এখন তার অনেকটুকু দখল করে নিয়েছে ফেসবুক। দৈনিক পত্রিকার অনেক সংবাদ মুহূর্তের মধ্যে শেয়ার হচ্ছে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে। ফলে, ফেসবুকে নিয়মিত থাকলে জরুরী সংবাদগুলো চোখ এড়ায় না।
দৈনিক পত্রিকার পাশাপাশি অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের শুরুটা করে সম্ভবত বিডিনিউজ টুয়েন্টি ফোর। জানি না, কে বা কারা কেন বিডিনিউজের সাথে টুয়েন্টি ফোর যোগ করেছিল (অনুমান করি, হয়তো চব্বিশ ঘন্টার সংবাদ বোঝাতে টুয়েন্টিফোর যোগ করেছিল), এখন সেটা যত্রতত্র নিউজ পোর্টালের নামের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। মনে পড়ছে, বসুন্ধরা গ্রুপ যখন বাংলানিউজটুয়েন্টিফোর ডট কম চালু করলো, তখন এক ব্লগার বন্ধুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, নামের কি আকাল পড়লো? নামটা বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোরের এত কাছাকাছি কেন? উত্তরে তিনি বলেছিলেন - 'সেই ঘিলু মাথায় থাকতে হবে তো?'
আসলেই কি ঘিলুর সমস্যা? চব্বিশ ঘন্টার সংবাদ মাধ্যম হিসেবে টার্গেট অডিয়েন্সের কাছে পজিশনিং করতে হলে টুয়েন্টিফোর যোগ করার কি কোনো বিকল্প নেই?
নাকি টুয়েন্টি ফোর যোগ করলে সংবাদ মাধ্যম হিসেবে গুগল সার্চে শুরুতে আসবে - এরকম কোনো টেকনিক্যাল ব্যাপার আছে কি?
অবশ্য এটাও সত্যি যে, নামে কী-ই বা এসে যায়?
আজকের কাগজ, ভোরের কাগজ; সংবাদ, খবর; মুক্তকন্ঠ, জনকন্ঠ, কালের কন্ঠ - এ নামগুলোও তো কাছাকাছি।
বাংলাদেশের প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলোর নাম নিয়ে বোধ হয় সচলায়তনে আগেই লেখা হয়েছে। উত্তর দক্ষিণ পূর্ব পশ্চিম এবং এদের পারমুটেশন কম্বিনেশন কিছু তো আর বাকী নেই!
বাংলাদেশে এই মুহূর্তে কয়টা অনলাইন নিউজ সাইট আছে তা সার্চ করছিলাম, এখানে দেখতে পাচ্ছি - ৬৬টি অনলাইন নিউজপেপারের তালিকা আছে, গুনে দেখলাম এর মাঝে ৩০টির নামে টুয়েন্টিফোর যোগ হয়েছে।
নামের আশরাফ-আতরাফ বাদ দিয়ে এবার চোখ ফেরাই নিউজ সাইটগুলোর কন্টেন্টের দিকে।
কী ছাপায়, কোত্থেকে ছাপায়?
খুব বেশি পরিশ্রম হবে না, মোটামুটি চোখ বুলিয়ে নিলে দেখা যাবে - বেশিরভাগ নিউজ সাইট আলাদা কিছু নয় - জাতীয়, আন্তর্জাতিক, রাজনীতি, খেলা; এগুলো অল্প কিছু টুকটাক অনুবাদ এবং বেশিরভাগ শতভাগ কপিপেস্ট অথবা অন্য কোনো সাইট থেকে নেয়া - হাল্কা করে ভাষাটা পালটে দেয়া।
পাঠক কি এসব পড়তে ওখানে যায়?
দৈনিক পত্রিকা বা অনলাইন পত্রিকার মাঝে ৩/৪টি ইতোমধ্যে পাঠকের মনে মোটামুটি রকম একটা ব্র্যান্ডিং করেছে। তাহলে বাকী অর্ধশতাধিক সাইটে কে যাবে? কেন যাবে?
এক্ষেত্রে টুয়েন্টিফোরযুক্ত জঞ্জালগুলো পাঠক টানছে - 'অদ্ভুদ', আজগুবি, ইংগিতপূর্ণ এবং যৌন ইংগিতবাহী কিছু রগরগে শিরোনাম দিয়ে। আর এ শিরোনামগুলো শেয়ার হচ্ছে ফেসবুকে। শিরোনাম দেখে, অধিকাংশ পাঠক অন্তত একবার ঢুঁ মারছে 'আসল ব্যাপার কী' দেখতে।
আসলে ঐ শিরোনামই মূল, ভেতরের সব 'অদ্ভুদ'।
ওসামা বিন লাদেন যে সানি লিওনের ভক্ত ছিল - সেটা একমাত্র অনলাইনের বাংলা জংগলেই পাওয়া যাবে।
আরো পাওয়া যাবে -
অনন্ত-বর্ষার রাগ-অভিমান-খুনসুটি-শপিং আর দূর্ঘটনার খবর।
মা হওয়ার টেনশনে শাবনূর!
কারিনা কাপুর বাংলা শিখছে ঢাকার ছবিতে অভিনয় করতে।
নগ্ন হচ্ছেন শাকিব খান।
সচীনকে সম্মান জানাতে নগ্ন হওয়ার ইচ্ছা পুনম পান্ডের।
ফের বেপরোয়া প্রভা।
কারিনা-ইমরানের ১২ ঘণ্টার প্রাইভেট কার রোমান্স!
গভীর রাতে হাতেনাতে ধরা পড়লেন বিপাশা!
ইত্যাদি বিভিন্ন প্রভৃতি।
এ যেন এক সময়কার হলুদ পত্রিকাগুলোর অনলাইন সন্তান সন্তুতি। স্ট্যাপলড হলুদ পত্রিকাগুলো ড্রয়িং রুমে শোভা পেতো না, কিন্তু এ শিরোনামগুলো কোনো বন্ধু অথবা বন্ধুর বন্ধুর শেয়ারে কিংবা ফেসবুকেরই সাজেশনে চলে আসছে ফেসবুকের হোমপেজে। পাচ্ছে ক্লিক। এসব করে পাঠকও টানছে প্রচুর। খবরের নিচে পাঠকের মন্তব্য আর ফেসবুক শেয়ারের সংখ্যা দেখলেই সেটা অনুমান করা যায়।
এসব অনলাইন মাধ্যমগুলোর ব্যবস্থাপনা বা অর্থায়নই করে বা কে? দু'দিন আগে এরকম একটি পত্রিকার অফিস থেকে ভিওআইপি সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে র‍্যাব, অভিযোগ ছিল - সংবাদ ছাপানোর ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করত অনলাইন পত্রিকাটির লোকজন।
চিরায়ত নিয়মে প্রশ্ন তোলা যায় - 'এসব দেখার কি কেউ নেই?'
সে আশা আপাততঃ করছি না।
শুধু স্মরণ করতে চাই - পুনম পান্ডে আর সানি লিওনের ইয়ে-সব-খবরাখবর অনলাইনে শুরু করেছিল প্রথম আলো অনলাইন।
আর, অনলাইনে লেখালেখির 'দায়িত্বশীলতা' নিয়ে যে সম্পাদক মুখে ফেনা তুলতেন - তার বিডিনিউজ২৪ এর সংবাদগুলোর নিচে এখন পাঠকদের খিস্তিখেউড় শোভা পাচ্ছে নিয়মিত। সম্পাদক নিজের দায়মুক্তি নিয়েছেন এটা যোগ করে "(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর নিজস্ব। bdnews24.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে bdnews24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)"
কারণটা বোধ হয় অন্য ২৯টি টোয়েন্টিফোর ডট কমের সংগে প্রতিযোগিতা।
এটা স্পষ্ট যে, যাবতীয় অনলাইন নীতিমালা আইনকানুন বন্দুক তাক করে আছে - কেবল কিছু ব্লগের দিকে।
অন্যদিকে, টুয়েন্টিফোরডটকম বিস্ফোরণে সৃষ্ট জঙ্গলের আবর্জনা কেবল অনলাইনে বাংলা ভাষার কনটেন্টকে দুষিত করে চলেছে, যার ফলাফল গুগলে ইউটিউবে সার্চ করতে বাংলা একটা অক্ষর টাইপ করলেই বাকী সাজেশনে দৃশ্যমান।

Read more...

13 November, 2013

স্মরণের উৎসব কিংবা উপলক্ষ্য

সামাজিক যোগাযোগে, আমন্ত্রণ নিমন্ত্রণে জন্মদিন-মৃত্যুবার্ষিকী-চেহলাম-কূলখানি-বিয়ে ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এখানে যে পাঁচটি উৎসবের নাম উল্লেখ করলাম তার মাঝে শেষটি, বিয়ে, জীবিত মানুষের জন্য, মাঝের তিনটি মৃত মানুষের উদ্দেশ্যে এবং প্রথমটি, জন্মদিন, জীবিত ও মৃত উভয়রকম মানুষের জন্য পালন করা হয়।

জন্মদিনে একজন মানুষকে শুভেচ্ছা জানানো, ভালোবাসা জানানো এবং মানুষটির উপস্থিতি প্রিয়জনদের কাছে কতোটা ভালোলাগার - এরকম ব্যাপারগুলোর বহিঃপ্রকাশের দিন হিসাবে ধরা যায়।
তাহলে, প্রশ্ন রাখছি - মৃত মানুষের জন্মদিন পালনের উদ্দেশ্য কী?

উদ্দেশ্য যদি হয়ে থাকে মৃত মানুষটিকে, মানুষটির কীর্তিকে স্মরণ করা এবং শ্রদ্ধা জানানো, তবে তার জন্য মৃত্যুদিন বা মৃত্যুবার্ষিকীর দিনটিই কি শ্রেয় নয়?

জন্মদিন পালন যেমন একজন মানুষের বেঁচে থাকার, চারপাশের মানুষের আনন্দের ও ভালোবাসার উৎসব - এবং মানুষটির 'উপস্থিতির' উৎসব, সেক্ষেত্রে একজন মৃত মানুষের স্মৃতি ও কর্মকে স্মরণ করার জন্য 'অনুপস্থিতির' দিনটিই কি অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ নয়?

Read more...

05 September, 2013

ঢাকামেট্রো ০৫-০৯১৩

বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে আগ্রহ কবে হারিয়েছি মনে নেই। এখন বাংলাদেশ দলে কারা খেলেন, নামও জানি না। বলতে দ্বিধা নেই, বাংলাদেশ ফুটবল দলের অধিনায়কের নামও আমার অজানা। অথচ, একটা সময় ছিল, সে সময় আরো বিশ পঁচিশ বছর আগে (হায়! প্রায় সিকি শতাব্দী আগে!) ফুটবলের দিন অন্যরকম ছিল। আবাহনী-মোহামেডান নিয়ে কী টানটান উত্তেজনা! তৃতীয় শক্তি ছিল ব্রাদার্স ইউনিয়ন, আর একবার হঠাৎ করেই চমক দেখলো মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। আর ছিল ওয়ারী, আবাহনীর যম! ওয়ারী মানেই আবাহনীর ড্র নয় হার! রহমতগঞ্জকেও মনে পড়ছে।
ফুটবলের সব গরমাগরম সময়ের উত্তাপ পেয়েছি - উপজেলা মফস্বলের গ্রামে। স্কুলে আমরা তখন যে যেই দলের সমর্থক সে দলের ছবিওলা খাতা কিনতাম। দাদা একবার ভুলে মোহামেডানের প্লেয়ারদের ছবিওলা খাতা আনলে, রাগ করে সে খাতায় না লিখে রেখেছে দিয়েছিলাম অনেকদিন। শুধু খাতার ওপর ছবি নয়, ছবির ওপর প্রত্যেক খেলোয়াড়ের গায়ে নাম লিখতাম - মুন্না, আসলাম, জনি, মহসীন, গাউস। মোহামেডানের ছিল - কায়সার হামিদ, আবুল, শাব্বির, কানন, এমিলি। আরো কতো নাম ভুলে গেছি! বিদেশি খেলোয়াড়ও আসতো। আবাহনীর হয়ে খেলেছিলো - জিকো। আর দুই ভাই লাডি বাবা লোলা, বাডি বাবা লোলা, কী নাম! এদের একজন আবার ঢাকার মাঠের ইতিহাসে প্রথম গোল্ডেন গোলদাতা ছিল।
এসব তথ্য উপাত্ত পেতাম বাংলাদেশ বেতার, তখনকার রেডিও বাংলাদেশের ধারাবিবরণীর সুবাদে।
টিভিতে শুধু ফাইনাল ম্যাচগুলো দেখানো হতো, রেডিওতে সম্প্রচার হতো বেশি - বাংলাদেশ বেতার তখনকার রেডিও বাংলাদেশ। বছরে তিনটা টুর্ণামেন্ট হতো - প্রিমিয়ার লীগ, ফেডারেশন কাপ, আরেকটা মনে পড়ছে না। ধারাভাষ্যকার ছিলেন - আব্দুল হামিদ, যাঁকে সবাই শ্রদ্ধেয় হামিদ ভাই ডাকতেন, ছিলেন - মোহাম্মদ মূসা, খোদাবক্স মৃধা, মনজুর হাসান মিন্টু, শেষের দিকে জাফরুল্লাহ শরাফত চৌধুরী (পরে নাম পালটে চৌধুরী জাফরুল্লাহ শরাফত)। এদের মাঝে প্রথম তিনজন প্রয়াত। আরো একজনের নাম মনে পড়ছে না, কন্ঠ অনেকটা মোহাম্মদ মূসার কন্ঠের কাছাকাছি ছিল (সংযুক্তিঃ মনে পড়েছে, হান্নান খান)।
ফুটবল নিয়ে এতোএতো স্মৃতি হাতড়ালাম, মঙ্গলবার টিভিতে সাফ ফুটবলে বাংলাদেশ বনাম ভারতের ম্যাচ দেখার পর। রোববার বাংলাদেশ - নেপাল ম্যাচও দেখেছিলাম টিভিতে। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের করুণ অবস্থা ছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে অনেক ভালো খেললেও ইনজুরি টাইমে গোল খেয়ে ড্রটা ছিল পরাজয়ের শোকসম।
ফুটবল নিয়ে স্মৃতিহাতড়ে যা কিছু আনতে যাই, দেখি মনে-না-পড়ার পৃষ্ঠাই বেশি। এখন জাতীয় দলের ফুটবল নিয়ে আগ্রহ নেই, আশাবাদী হওয়ার কিছু নেই - এমনটাই ভাবি, কিন্তু ম্যাচ ড্রয়ের পর কয়েকজন ফুটবলার কান্নার দৃশ্য দেখে আবেগপ্রবণ হয়েছি, বিষন্ন হয়েছি। মনে পড়েছে গত এশিয়া কাপ ক্রিকেটে ফাইনালে হারের স্মৃতি - সাকিব মুশফিকের কান্না। ভাবছিলাম, সমস্ত চেষ্টা দিয়ে ফুটবলাররা মাঠে খেলেন, দেশের জন্য, দেশের জার্সি গায়ে নিয়ে। কিন্তু, আমাদের দেশে শেষ পর্যন্ত ফুটবল বেঁচে থাকবে তো!
দালান-জঙ্গলের শহর ঢাকায় এখন মাঠ আর নেই বললেই চলে। যা আছে, ক্রিকেটময়।
টিভিতে এক ফুটবল কর্মকর্তা বলছিলেন, গ্রামে গ্রামে ফুটবলের প্রসারে সরকার কত হাজার ফুটবল নাকি বিতরণ করবে, কারণ একটা বল হলেই খেলা যায়, ক্রিকেটের মত এটা সেটা লাগে না। কিন্তু, মাঠ কই? ফসলি জমিতে ঘর উঠছে। রিয়েল এস্টেট কোম্পানীগুলো ছুটছে গ্রামের দিকে।
ইচ্ছা ছিল - ঢাকামেট্রো সিরিজে ঢাকা শহরের কথা লিখবো কেবল।
নানান কাজের চাপে এবং কাজ শেষে আরামদায়ক আলস্যে - কিছুই লেখা হয় না। লিখতে বসেছিলাম ঢাকার বিলবোর্ড নিয়ে। সাফ ফুটবল আর স্মৃতিচারণ দখল করে নিলো 'মেট্রোপলিটন মন'।
আগের কোনো এক পর্বে কে জানি বলেছিলেন, ঢাকার কথা লিখলে যানজট অবধারিত। আসলেই তো! ঢাকা মানেই তো যানজটের গল্প, জ্যামে পড়ে ক্লান্ত মানুষ, পঙ্গু ভিখারী, বিলবোর্ড আর ঘোলাটে আকাশের গল্প।
তবে আজ শেষ করি, যানজট মুক্তির গল্প বলে।
মিরপুর থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা আগে সকালে সাড়ে ছয়টায় রওনা দিয়ে যেতাম - ৪০ মিনিটেই। সাতটায় রওনা দিয়ে ৭০-৭৫ মিনিট লেগে যেতো। আর বিকেলে ফিরতে ২ ঘন্টা তো অবশ্যই, অনেকদিন তিন ঘন্টা এমনকি সাড়ে তিনঘন্টা সময়ও লেগেছে।
সুখের ব্যাপার হলো - এখন সকালে যেতে ২৫-৩০ মিনিট আর বিকেলে ফিরতে ৩৫-৪০ মিনিট সময় লাগে।
কুড়িল ফ্লাইওভার উদ্বোধনের পর এমন শান্তি পাচ্ছি, সাথে এয়ারপোর্ট রোড-মিরপুর ফ্লাইওভার পুরো আশীর্বাদ!
মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলাম, ইউটিউবেও দিলাম। টেলিটক থ্রিজি লাইন এ কয়েকদিন ধীর গতি হয়ে গেছে। দেশের বাইরে যারা আছেন, তারা হয়তো ভালো দেখতে পাবেন।

সম্মানিত বাংলাদেশ সরকার, আপনারা এ সামান্য নাগরিকের কৃতজ্ঞতা জানুন।
এ ফ্লাইওভার কোনো কাজে আসবে না, শেষে কোরিয়ার ফ্লাইওভারগুলোর মতো ভেঙে ফেলতে হবে - এমন অনেক আলোচনা শুনেছি এখানে ওখানে। কখন কী হবে জানি না, এটুকু বুঝি - ৩ ঘন্টার দূরত্ব - ৪০ মিনিটে নেমে এসেছে। তাই আবারও ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা।
নির্বাচন হবে কি হবে না সেটা নিয়ে সংশয় জেগেছে মানুষের মনে। সময়ও প্রায় শেষের দিকে। এ বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে শাহবাগে লক্ষ মানুষ যে দাবী নিয়ে সমবেত হয়েছিল, এখনো তরুণ প্রজন্ম যে আশায় আছে - যুদ্ধাপরাধীর বিচার কার্যকর - তা হবে তো শেষ পর্যন্ত?

Read more...

25 April, 2013

মিরপুর মন

সময় পেলে বিকেলে হাঁটতে বের হই।
মানুষের ভীড়ে হাঁটা মুশকিল। ভিডিও গেইমসের মতো ওপাশ থেকে ছুটে আসা মানুষ, যেন গায়ে গা ছুঁলেই লাইফ কমে যাবে। তবুও হাঁটি। রানকিপার চালু করে দেখি আসা যাওয়া মিলিয়ে ৫ কিলোমিটার হয়, এক ঘন্টায়। মেদ কমে কিনা, ব্লাড সার্কুলেশন শ্রেয় হয় কিনা জানি না, তবে তিন চার দিন হেঁটে ভালো অনুভব করেছি।
হাঁটতে গেলেই দেখা হয় চেনা মানুষের সঙ্গে। কেউ চোখে চোখ রেখে কুশল বিনিময় করে, হাত নাড়ে - অথবা কারো সঙ্গে দাঁড়িয়ে দু'মিনিট কথা বলি। কেউ কেউ দেখে না, বা আমি দেখি না, অথবা দুজনেই দেখি- না দেখার ভান করি। একদিন দেখা হলো এক ব্লগার বন্ধুর সাথে, স্বস্ত্রীক। আরেকদিন এক ছাত্রের সঙ্গে।

আজ ফেরার পথে আর-এফ-এল এর শো-রুম বেস্ট বাই-তে ঢুকেছিলাম একটা ওয়েস্ট বাস্কেট কেনার জন্য। বেশ পরিপাটি শোরুম। রঙীন জিনিসের পসরা। দেখতে ভালো লাগে।
ঢুকতেই ৪/৫ বছরের একটি টুনটুনি টাইপ বাচ্চা, ঝুটি বাঁধা মেয়ে, এগিয়ে এলো। জিজ্ঞেস করলো - 'হাই, হোয়াটস ইয়্যুর নেইম?'
একটু চমকালাম, আমাকে?
টুনটুনির মুখে মিষ্টি হাসি দেখে নাম বললাম। ইংরেজীতে জিজ্ঞেস করলাম, তোমার নাম কী?
প্রথমে বুঝেনি, আরেকবার বলার পরে নাম জানালো, বিন্তী।
হাসিমুখে বিদায় নিয়ে ভেতরে গেলাম, শেলফে চোখ বুলাচ্ছিলাম। বিন্তী আবার এসে জিজ্ঞেস করলো, 'তুমি কী কিনবে?'
বললাম, 'বিন কিনবো?'
সে বোঝেনি। বললাম - ময়লা কাগজ ফেলার ঝুড়ি কিনবো।
সামনের সারিতে রাখা একটা দেখিয়ে সে বললো - এগুলো?
আমি বললাম, হ্যাঁ, তবে আরো ছোটো।
বিন্তী আমাকে জিজ্ঞেস করে, তুমি ইংরেজীও বলতে পারো?
বললাম, হ্যাঁ পারি, তুমিও তো পারো।
সে বললো, আমি পারি না।
বললাম, একটু একটু তো পারো!
কিছু না বলে টুনটুনি বিন্তী অন্যদিকে চলে গেল।
আমি দোকানের একেবারে সামনের সারিতে রাখা একটা ছোটো সাইজের ময়লার বাস্কেট কিনলাম। কাউন্টারে দেখি বিন্তী দাঁড়িয়ে, পেশাদার সেলসপারসনের মতো জিজ্ঞেস করলো, 'এটা কিনেছ?'
বললাম, হ্যাঁ।
দোকানে রাখা বড় ললিপপ সাইজের শোপিস হাতে নিয়ে সে নাড়ছে আর জিজ্ঞেস করছে, এটা কী?
কাউন্টারের লোকটি বলছে - ললিপপ দেখোনি কখনো? খাওনি?
তখন পাশ থেকে মহিলা, সম্ভবত বিন্তীর মা, বিন্তীকে ধমক দিচ্ছে, 'এঅ্যাই এতো কথা ব-লে-না।'

দোকান থেকে বেরিয়ে এলাম। মনে হলো - এ শহরে অনেকদিন পরে একজন অচেনা মানুষ এমন মিষ্টি করে কথা বললো। পিচ্চি বিন্তী টুনটুনিকে দেবশিশু মনে হলো।

ইদানিং কোনো কিছুতে আক্রান্ত হইনা।

আনন্দিত-বিষ্মিত-ক্ষুব্ধ-শোকাহত হওয়ার মাত্রা কমে গেছে। চারপাশে নষ্ট হচ্ছে সব, ভেঙে পড়ছে ভবন-বিশ্বাস-সম্পর্ক-আস্থা। সব কিছু নিয়ে হতাশ হচ্ছি। দিন দিন নৈরাশ্যে ডুবছি। স্বার্থপর হচ্ছি। নিজের বেঁচে থাকাটাই চ্যালেঞ্জ।
হেড ফোনে শুনছিলাম অনুপম রায়ের চমৎকার একটি গান -

তুমি জানতে জানতে জানতে - জানতে বোধহয়
আর মায়াহীন পশ্চিম, আসন্ন অন্তিম -
শিথিল হচ্ছে স্নায়ু
তার আঁধারের সঞ্চয়, অনিবার্য যত ক্ষয়
সূর্য তোমার কমছে আয়ু।
তুমি নামতে নামতে নামতে থামবে কোথায়?

Read more...

20 April, 2013

২০ এপ্রিল, ২০১৩

Read more...

06 January, 2013

ঢাকামেট্রো ০৬-০১১৩

আজ হরতাল ছিল।
এখন হরতাল শুরু হয়ে যায় আগের সন্ধ্যা থেকে। বাস পোড়ানো হয়, হাতবোমা মারা হয়। গতকাল এক বাসায় দাওয়াত ছিল রাতে। খাওয়া শেষ হতে রাত সোয়া দশটা বেজে গেল। বের হবো, এমন সময় দেখি ঐ বাসায় সত্তরোর্ধ বয়সের নানু আমার পথ আঁটকালেন। চোখ বন্ধ করে কী কী পড়ে মাথায় ফুঁ দিলেন। একটু আগে টিভিতে দেখেছেন - মিরপুর ১ নম্বরে বাসে আগুন দেয়া হয়েছে, সেটা দেখার পর থেকে তিনি টেনশনে আছেন। আমি বললাম, 'আল্লাহ ভরসা, টেনশন করবেন না।'
ঠান্ডা বাতাসে রাস্তায় বের হয়েই রিকশা পেয়ে গেলাম।
মিরপুর দশ নম্বরে বেশ থমথমে ভাব। মানুষের অভাব নেই, একটা বাস আসতেই এক দঙ্গল মানুষ দৌড় দিলো। চোখে পড়ার মতো পুলিস রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। কাউকে কাউকে, দেখলাম, পুলিস রিকশা থামিয়ে চেক করছে। মিরপুর থানার সামনে একটা প্রিজন ভ্যান, ভেতরে কেউ নেই। হঠাৎ একটা অ্যাম্বুলেন্স একেবারে রিকশার গা ঘেঁষে চলে গেলো উচ্চ সাইরেনে। এরপর আরো কাছ দিয়ে গেল ট্রাক। আমি রিকশাঅলাকে বললাম, 'একটু সাবধানে চালান।'
হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল পার হলে ওএসবি চক্ষু হাসপাতালের সামনে একটা ময়লার ডিপো। আগে এগুলো গলির ভেতরে শিশু হাসপাতালের সামনে ছিল। কয়েক মাস আগে সরিয়ে একটা ডিপো ওএসবির সামনে আরেকটা পোস্ট অফিস আর গ্রামীণ ব্যাংকের গেটের মাঝামাঝি রাখা হয়েছে। দেখলাম এক শিশু, ৭/৮ বছর বয়স হবে, ওএসবির সামনের ডিপো থেকে ময়লা ঘেঁটে একটা প্লাস্টিকের ঝুড়ি বের করলো। ভেতরে কিছু না পেয়ে - ধাম করে আছাড় মারলো রাস্তায়। মারার ভঙ্গিতে তীব্র ক্ষোভ। রাগ।
এসব পেরিয়ে রিকশায় বসে যেন ঠান্ডা বাতাসে সাঁতার কেটে কেটে বাসায় চলে এলাম দ্রুত।

-০২-
হরতালের দিনে বাইরে জরুরী কাজ না থাকলে বাসাতেই থাকি। টিভি দেখি, বই পড়ি। এখন আবহাওয়ায় শীত শীত ভাব আছে বলে - ঝিমানোর জন্য দারুণ সময়।
গত সপ্তায় ফুটপাথে বেশ ভালো অবস্থায় পেলাম হুমায়ূন আহমেদের 'নীল হাতী'। কোনো এক ঐশীর জন্মদিনে তার বড়'মা আর আব্বা তাকে উপহার দিয়েছিল। চার বছর না ঘুরতেই ফুটপাথের হকার ঘুরে সে বই আমার হাতে। দাম রাখলো বিশ টাকা। একটানা পড়ে ফেললাম তিনটি শিশুতোষ গল্প। দারুণ লাগলো, সাথে হাশেম খানের আঁকা ছবিগুলো ছিলো অসাধারণ সংযোজন। এখন শিশুদের জন্য কারা গল্প লিখেন জানি না। অনেকদিন 'শিশু' পড়ি না, বইমেলার বাইরে চোখেও পড়ে না। দৈনিক পত্রিকার শিশুদের পাতায় ছাপানো গল্পগুলো পড়ে হতাশ হয়েছি অনেকবার।

-০৩-
ডিভিডিতে একসাথে ছয় সাতটা সিনেমা কিনতে পাওয়া যায়।
অনেকগুলো ডিভিডি জমে আছে ঘরে। গত বছর ইন্ডিয়ান বাংলা কিছু ছবি দেখেছিলাম। সমস্যা হলো - "আর্ট ফিল্ম" ট্যাগের ছবিগুলোর বেশিরভাগ অনেক জটিল করে বানানো। কিছু বিক্ষিপ্ত চরিত্র থাকে, অস্পষ্ট সংলাপ থাকে। অনেক ধৈর্য্য ধরে বসে থাকতে হবে কী ঘটে তা জানার জন্য। এখানেই ধৈর্য্য হারাই। একারণে অটোগ্রাফ, বেডরুম, বাইশে শ্রাবণ, একটি তারার খোঁজে, নেকলেস; এরকম আরো কিছু সিনেমা দেখে শেষ করতে পারিনি। দেখলেও ভালো লাগেনি।
তবে একাধিকবার দেখেছি - ভূতের ভবিষ্যৎ। আবার দেখলেও বিরক্ত হবো না।
বড়দিনের ছুটিতে হলে গিয়ে দেখেছিলাম - রেদওয়ান রনির 'চোরাবালি'। চারপাশের দর্শকদের মাঝে যে উৎসাহ - ভালো লাগার প্রতিফলন দেখেছি, আমার কাছে সেরকম মনে হয়নি। ছবির তেমন কাহিনী নেই, গানগুলোও সাদামাটা, মনে দাগ কাটার মতো কিছু নেই। একথা সত্যি যে শাকিব খানের ঢিশ্যুম আর অনন্ত জলিলের ডোন্মাইন ছবির বিপরীতে এটা অনেক ভালো। 'চোরাবালি' যতক্ষণ দেখেছি ততক্ষণই ভালো লেগেছে। তবে একটা বড়সড় ফাঁকিবাজি আছে এ সিনেমায় নায়কের ছোটবেলার ঘটনা, প্রায় বিশ মিনিটের মতো, টেনেটেনে লম্বা করে দেখানো।

-০৪-
আজ হরতালের অবকাশে ডিভিডি ঘেঁটে দুটো সিনেমা দেখলাম।
প্রথমটা 'লাইফ ইন পার্ক স্ট্রীট'।
নামের সাথে কেন যেন - লাইফ ইন অ্যা মেট্রো, ৩৬ চৌরঙ্গী লেন, ১৫ পার্ক এভিনিউ; এ নামগুলো মনে পড়ে।
তবে পুরো ছবিতে লাইফ ইন অ্যা মেট্রোর ছায়া আছে। কেবল, ব্যান্ড দল রাস্তায় ঘুরে গান গাওয়া নয় - সম্পর্কের জটিলতার ব্যাপারগুলোও লাইফ ইন অ্যা মেট্রোর কাছাকাছি। লাইফ ইন পার্ক স্ট্রীট দেখতে গিয়ে খারাপ লাগছিল না, তবে আহামারি ভালোও লাগছিল না। কী হয় দেখি - ভেবে ভেবে অপেক্ষায় থাকি। এক সময় সিনেমা শেষও হয়, সাদামাটা গল্প। কেবল একটা জায়গা - ভয়ংকর ছিল। অসহায় একটা ছেলেকে সমকামিতায় বাধ্য করার অংশটুকুই অদ্ভুত লেগেছে। ছবির ঐ অংশের পর থেকে একটা দমবন্ধ বন্ধ ভাব ছিল আমার। নায়ক চরিত্রে পুশন (আসল অভিনেতার নাম জানি না) অসহায় অনুভব ফুটিয়ে তুলেছে। তবে সৌমিত্র ২৫ বছর ধরে যে বান্ধবীকে খোঁজে, ২৫ বছর পরেও তার বয়স বাড়েনি। সৌমিত্র বেমানানভাবে সোনালী উইগ পরে অভিনয় করেছে পুরো ছবিতে।
পরে দেখলাম - চারুলতা ২০১১।
রবীন্দ্রনাথের 'নষ্টনীড়' অবলম্বনে বর্তমানের ফেসবুকীয় জীবন নিয়ে সিনেমা 'চারুলতা ২০১১'।
এখনকার চারুলতা ফেসবুকিং করে, নিঃসঙ্গতা কাটাতে অনলাইন বন্ধুর সঙ্গে সাইবার সেক্স করে। অপরাধবোধে ভোগে। (সিরিয়াস ছবির মাঝখানে হালের মেশিন আর লইট্যা ফিশের ঘটনা প্রাসঙ্গিক মনে হলে হা হা হাসি পেলো)। তবে চারুলতা ২০১১তে পুণরাবৃত্তি ঘটে নষ্টনীড়ের ঘটনা প্রবাহের। নতুনভাবে আসে উমাপতি, মন্দাকিনী, অমল। সমাপ্তিও একই রকম।
"হু ইজ দ্য ফাদার?"
"চারুলতাকে জিজ্ঞেস করো।"
গল্পের চৈতি, যে ফেসবুকে চারুলতা২০১১ অ্যাকাউন্টের মালিক, এমন জিজ্ঞাসা 'নষ্টনীড়'এর বক্তব্যকে বর্তমান সময়ে নিয়ে আসে। সাইবার স্পেসে আমরা সবাই নিজের দ্বিতীয় সত্ত্বা তৈরি করছি। বাস্তবকে ছাপিয়ে ভার্চুয়াল প্রধান হয়ে ওঠে প্রায়ই, দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে।
সব মিলিয়ে 'চারুলতা ২০১১' ভালো লেগেছে।

-০৫-
গত একমাস ধরে হাতে আছে 'আমি দালাল বলছি', মিন্নাত আলীর লেখা স্মৃতিকথা/গল্প সংকলন। ১৯৮০ সালে প্রথম প্রকাশিত। গদ্যরীতি বা গল্প বলার ভঙ্গিতে টানটান আগ্রহ জাগানো কিছু নেই, তাই সময় পেলে অল্প অল্প করে গল্প পড়ছি। পড়তে গিয়ে বারবার মনের ভেতর খচখচ করছে। মনে হচ্ছে, অত্যন্ত সচেতনভাবে ৭১এর ঘটনাকে ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা করা হয়েছে! এ চেষ্টা তো এখন কতোজন কতোভাবে করছে। শর্মিলা বসু, মেহেরজান, কতো কতো জ্ঞানপাপী! মিন্নাত আলীর লেখার ব্যাপারে প্রশ্ন জাগে এ কারণে, 'পাক-প্রেম-সমৃদ্ধ' গল্পগুলো সাপ্তাহিক বিচিত্রাতেই ছাপা হয়েছিল স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে। লেখক ছোটগল্পে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন ১৯৭৫ সালে!
'আমি দালাল বলছি' পড়া শেষ হলে বিস্তারিত লেখার ইচ্ছা রইলো। কোনো সুহৃদ সচল যদি মিন্নাত আলীর লেখা পড়ে থাকেন, বা লেখক সম্পর্কে জেনে থাকেন, তবে এখানে মন্তব্যের ঘরে তা জানানোর অনুরোধ করছি।

-০৬-
মর্ণিং শো'স দ্য ডে যদি সত্য হয় - ২০১৩ সালের ঢাকামেট্রো লাইফ রাজনৈতিক সহিংসতা আর হরতালে ভরপুর হবে। নির্মানাধীন ফ্লাইওভারগুলো চালু হলে যানজটের মাত্রা কমবে এটাই আশা।

Read more...

02 January, 2013

অপার সম্ভাবনার আড়ালে

গতকাল বছরের প্রথম দিন [url=http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-01-01/news/317739]"বাংলাদেশের সামনে অপার সম্ভাবনা"[/url] শিরোনামের আশাবাদী খবর ছাপিয়েছে দৈনিক প্রথম আলো। সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় নিত্য খারাপ খবরের বিপরীতে এ রিপোর্ট মানুষের মনে আশার সঞ্চার করবে - এমনটাই স্বাভাবিক।
দেখা যাক সংবাদের মূল বক্তব্য কী কী। আলাদা বক্সে বলা হয়েছে -



[b]১ম পথঃ[/b] ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার সব ধরণের সুযোগ আছে।
লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, বলা হয়েছে 'সুযোগ' আছে। এ প্রসঙ্গে পরে বলছি।

[b]২য় পথঃ[/b] ২০৩০ সালে বাংলাদেশ সামগ্রিকভাবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৭টি দেশকে ছাড়িয়ে যাবে।
'সামগ্রিকভাবে' বলতে কী বোঝানো হচ্ছে সেটাই মূল প্রশ্ন? ধরে নিচ্ছে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল সূচক - জিডিপি, মাথাপিছু আয়, বেকারত্বের হার, মূদ্রাস্ফীতি; এসব কিছুতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৭টি দেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে থাকবে বাংলাদেশ। প্রশ্ন জাগে, ২০৩০ সালে বাংলাদেশ যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ের ২৭টি দেশের অবস্থানকে ছাড়িয়ে যাবে, সেটা ঐ ২৭টি দেশের কতো সালের অবস্থান? ২০১৩ নাকি ২০৩০ সালের অবস্থান? যদি যায় তবে কীভাবে সম্ভব? বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কী এমন উন্নয়ন ঘটবে যে ১৭ বছর পরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ? যদি ঘটে, তবে তার মূল ক্ষেত্রগুলো কী কী? প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সাফল্যঃ মাথাপিছু আয়, গড় আয়ু, গণস্বাক্ষরতার হার দিয়ে এ পরিবর্তন সম্ভব?

[b]৩য় পথঃ[/b] ২০৫০ সালে প্রবৃদ্ধির দিক থেকে পশ্চিমা দেশগুলোকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ।
২০৫০ সাল মানে ৩৭ বছর পরের প্রবৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে। যদি ভুল বলে না থাকি - এই প্রবৃদ্ধির হারে এগিয়ে থাকায় উস্ফালনের কিছু নেই। এর মাঝে লুকিয়ে আছে বড় ধরণের ফাঁকি।
একটা উদাহরণ ধরি -
আবুল আর বাবুল দুই বন্ধু। আজ আবুলের দৈনিক আয় ১০০ টাকা, বাবুলের দৈনিক আয় ১০০০ টাকা। এক বছর পরে আবুলের দৈনিক আয় হয়ে গেল ১৮০ টাকা আর বাবুলের দৈনিক আয় হয়ে গেল ১৫০০ টাকা। অংকের হিসাবে  - আবুলের আয় বৃদ্ধির হার ৮০% আর বাবুলের আয় বৃদ্ধির হার ৫০%। আয় বৃদ্ধির হারে আবুল এগিয়ে থাকলে প্রকৃত আয় বৃদ্ধিতে বাবুল অনেক শক্ত অবস্থানে থাকবে। ৮০% আয় বৃদ্ধি, যেটা বাবুলের চেয়েও বেশি, এই ভেবে আবুল তৃপ্তির ঢেকুর তুলবে কিনা বড় প্রশ্ন।
বর্তমানে পশ্চিমা দেশগুলো অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের চেয়ে এত বেশি এগুনো যে ২০৫০ সালে বাংলদেশ প্রবৃদ্ধির হারে পশ্চিমা দেশগুলোকে ছাড়িয়ে গেলেও বাংলাদেশের অবস্থান উদাহরণের আবুলের মতোই থাকবে।

বাংলাদেশের এ অপার সম্ভাবনার রিপোর্টে যেসব সুত্রের কথা উল্লেখ আছে তা হলো - বিশ্বব্যাংক, লন্ডনের পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান (বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ ও গবেষকের মতামত), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারী সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টিলিজেন্স কাউন্সিল, অর্থনীতিবিদ জিম ও'নেইল। যদিও এসব সুত্র বিস্তারিত করে বলেনি কীভাবে বাংলাদেশ এমন এগিয়ে যাবে। কিন্তু, বিশ্বের সবচে শক্তিশালী দেশের শক্তিশালী সংস্থা এবং লোকজন বলছে, তাহলে অবাস্তব কোথায়?

এখানে মনে পড়ে গেল - জন পার্কিন্সের 'দ্য কনফেশন অফ অ্যান ইকনোমিক হিটম্যান' বইটির কথা। বাংলায় বইটি অনুবাদ করা হয়েছে - 'এক অর্থনৈতিক ঘাতকের স্বীকারোক্তি' শিরোনামে। বইয়ের ব্যাক কাভারে যেমন বলা আছে  - "জন পার্কিন্স ছিলেন আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাত 'মেইন' নামের একটি কনসাল্টিং ফার্মের কর্তাব্যক্তি। সংস্থাটি বিশ্বের দরিদ্র রাষ্ট্রগুলোকে বিপুল অংকের উন্নয়ন ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রলোভিত করতো। সে সাথে সংস্থাটি এসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ যাতে আমেরিকান কোম্পানীগুলো পায় সেটাও সুনিশ্চিত করতো। যখন ঋণগ্রহীতা রাষ্ট্রগুলো ঋণের কারাগারে চিরবন্দী হতো তখন যুক্তরাষ্ট্র এসব দেশের কাছ থেকে নিজের স্বার্থ আদায় করতো। আর যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ মানেই প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ, সামরিক সহযোগিতা ও রাজনৈতিক সমর্থন।" মোট ৩৫ অধ্যায়ের বইতে পার্কিন্স লিখেছেন কীভাবে ইকুয়েডর, ইন্দোনেশিয়া, পানামা, সৌদিআরব, ইরান, কুয়েত, কলম্বিয়া, ইরাকসহ বিভিন্ন দেশে বানোয়াট অর্থনৈতিক প্রতিবেদন তৈরি করে রাষ্ট্রের প্রভাবশালীদের যোগসাজশে আমেরিকা তার সাম্রাজ্য বিস্তার করেছে। এক্ষেত্রে কতো কতো রাষ্ট্রপ্রধান রহস্যজনকভাবে খুন হয়ে গেছেন। নিজেকে অর্থনৈতিক ঘাতক উল্লেখ করে পার্কিন্স লিখেছেন - "অর্থনৈতিক ঘাতকরা মোটা অংকের বেতনপ্রাপ্ত পেশাদার। এদের কাজ হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে ধাপ্পা দিয়ে লক্ষ কোটি ডলার চুরি করা। একাজে এদের মূল অস্ত্র হচ্ছে ভুলতথ্যপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রতিবেদন, পাতানো নির্বাচন, ঘুষ, চাপ প্রয়োগ, যৌনতা ও হত্যা।"

প্রথম আলোয় প্রকাশিত রিপোর্টের ১ম পথে বিশ্বব্যাংক বলছে - ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার সব ধরণের সুযোগ আছে। অন্য খবরে প্রকাশ, বিশ্বব্যাংকের মতোই আরেকটি প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান আইএমএফ সমান ছয়/সাত কিস্তিতে বাংলাদেশকে ১০০ কোটি ডলার দেয়ার কথা, যার প্রথম কিস্তি পাওয়া গিয়েছিল গত বছর এপ্রিলে। জানা গেল - এই ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি পাওয়া [url=http://www.banglatimes24.com/?p=138051]অনিশ্চিত হয়ে গেছে[/url]। বাংলানিউজ [url=http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=e1efa7a270fa6a62d089dddc37fb5d18&nttl=20120925062531141222]লিখেছে[/url] -[i] "ঢাকায় সফরকালে প্রতিনিধি দলটি যে বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করেছে এর মধ্যে রয়েছে -রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর আধুনিকায়ন, ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন, সরকারের ব্যাংক ঋণ পরিস্থিতি, নতুন মূসক আইন, সর্বশেষ বাজেট পরিস্থিতি, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন পরিস্থিতি, সরকারের ভর্তুকি কমিয়ে আনা, ভর্তুকি কমাতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি, স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ, অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় হ্রাস, ক্রয় পরিকল্পনা প্রণয়ন ও এর আলোকে বাজেটের বরাদ্দ ব্যয়, মূদ্রানীতি বাস্তবায়ন অগ্রগতি ইত্যাদি।"[/i]
বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধি হবে কি হবে না এ নিয়ে সরকারের সাম্প্রতিক দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, বিপরীতে বামপন্থী দলগুলোর হরতাল হুমকি - সাম্প্রতিক সপ্তাহে ছিল উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এরপরও গত ৭ ডিসেম্বর [url=http://www.prothom-alo.com/detail/news/311334]প্রথম আলোর প্রতিবেদন বলছে[/url] - জানুয়ারিতে ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি পাচ্ছে বাংলাদেশ।
কিন্তু, আইএমএফের শর্তগুলো না মানলে কি দ্বিতীয় কিস্তি পাওয়া যাবে?
বিশ্বব্যাংক যেমন 'সুযোগ' এর লোভ দেখাচ্ছে, প্রথম আলোও গতকালের রিপোর্টের শেষ দিকে প্রশ্ন রেখেছে  - [b]"প্রশ্ন হচ্ছে, সুযোগ কি কাজে লাগাতে পারবে বাংলাদেশ?"[/b]

সুযোগের টোপ আর শর্ত বাস্তবায়নের পরিণতি কী হতে পারে তার ইতিহাস জন পার্কিন্সের বইতেই লেখা আছে। প্রথম আলোর ৭ ডিসেম্বরের প্রতিবেদন, আইএমএফের চাপ ও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ, এবং গতকালের প্রতিবেদন তিনটিকে পাশাপাশি রাখলে কোনো সুত্র কি একেবারেই পাওয়া যায় না?


[b]প্রথম আলোর এক পাঠকের মন্তব্য:[/b]
প্রথম আলোর খবরের নিচের পাঠকদের কমেন্ট অনেক ক্ষেত্রে হাসি তামাশার উপকরণ হয়ে ওঠে। তবে গতকালের প্রধান প্রতিবেদনের নিচে ৩য় মন্তব্য পড়ে মনে শংকা জাগলো। মাইনাস টু থিয়রীর পাশাপাশি পার্কিন্সের বইয়ে উল্লেখিত ইন্দোনেশিয়ার জনপ্রিয় নেতা বান্দুং আর পানামার ওমর তোরিজোর পরিণতির কথা মনে পড়লো।

[quote]Md. Mizanur Rahman
২০১৩.০১.০১ ০৩:০৮
    প্রতিবেদনটি ৩বার পড়লাম, মন চায় আরো কয়েকবার পড়ি ........... আল্লাহ তুমি আমাদেরকে, কারো মেয়ে, কারো বউ এর হাত থেকে রক্ষা কর।এই প্রতিবেদন সত্যি হবেই হবে ... আমিন ধন্যবাদ প্রথমআলো একটা পজিটিভ প্রতিবেদন দিয়ে বছরটা শুরু করার জন্য[/quote]

Read more...

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP