28 March, 2007

জন্মযুদ্ধ

অকাল প্রয়াত কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ আকাশের ঠিকানায় চিঠি লেখার আহবান জানানোর প্রায় সমসাময়িক আমাদের আকাশ চিঠি চর্চা। এরি মাঝে আকাশের ঠিকানায় জায়গা করে নিয়েছে বেশ কিছু বাংলা ওয়েবসাইট। জন্মযুদ্ধ তারই একটি। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার ইঁদুর দৌড়ে দ্বিধান্বিত তরুণ সমাজের সামনে জন্মযুদ্ধ এক প্রামানিক আকাশ দলিল। সত্যকে ছাইগাদার মধ্য থেকে ফিনিক্স পাখীর মত ওড়ানোর প্রত্যয়ে জন্মযুদ্ধ এক অন্যরকম প্রচেষ্ঠা।

স্বাধীনতা দিবসে "জন্মযুদ্ধ" নিয়ে লিখেছেন আনোয়ার সাদাত শিমুল-

বাংলাদেশ ১৯৭১। পৃথিবীর বুকে জন্ম নেয় একটি সবুজ শ্যামল রাষ্ট্র সত্ত্বা। এ জন্মের পেছনে আছে শোষণ-বঞ্চণা আর সংগ্রামের ইতিহাস। তিরিশ ল্ক্ষ শহীদের আত্মত্যাগে গৌরবোজ্জ্বল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস প্রেরণা দেয় অর্থনৈতিক-সামাজিক ও রাজনৈতিক মুক্তির পাশাপাশি একটি সেক্যুলার রাষ্ট্র ব্যবস্থার। কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের পটপরিবর্তনে বদলে গেছে অনেক কিছু। একাত্তরের পরাজিত পাকিস্তানী হানাদার ও তাদের দোসর বাহিনীর রেখে যাওয়া কীটগুলো ক্রমাগত পরিণত হয় দানবে। পাল্টায় ইতিহাসের পাতা। বদলে যায় সংগ্রামের ইতিহাস।

৩৫ বছর পেরিয়ে ক্রমাগত ইতিহাস বিকৃতি, রাজনৈতিক প্রাধান্য আর ক্ষমতার চেয়ারের জন্য মুক্তিযুদ্ধের ব্যক্তিকরণের অস্থির সময়ে - "আমরা একাত্তরের কথা বলতে এসেছি" প্রত্যয় নিয়ে ডিসেম্বর ২০০৬ থেকে যাত্রা শুরু করেছে ওয়েবসাইট "জন্মযুদ্ধ"।

প্রচলিত ওয়েবসাইটগুলো থেকে বেশ ভিন্নতা চোখে পড়ে প্রথম নজরেই। বাম পাশের সূচীমালা দেখেই ধারণা করা যায় - অনলাইন পাতায় ধারণের মাধ্যমের দেশ ও দেশের সীমানা পেরিয়ে অনাগত প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের বিশাল ক্যানভাসকে পৌঁছে দেয়ার সুতীব্র বাসনা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

মুক্তিযুদ্ধের দিনলিপি, ছবি, তথ্যচিত্র, গান, বই, সাহিত্য, দলিল, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখা, একাত্তরের ঘাতক-দালাল বিভাগসহ পরিব্রাউজকারীদের মতামত জানানোর সুযোগ থাকছে 'জন্মযুদ্ধ' সাইটে।

আপাতত: সাইটের শরীর কাঠামো নির্মাণ হয়ে গেছে, বাকী আছে সমৃদ্ধকরণ ধাপ। সংশ্লিষ্টদের পরিকল্পনা থেকে আশা করা যায় - প্রতিদিন নতুন নতুন বিষয় যোগ হবে জন্মযুদ্ধের সেকশনগুলোয়। নির্মিত কাঠামোর অবয়ব দেখে নি:দ্বিধায় আশা করা যায় - এ কেবল যাত্রার শুরু। আগামী দিনগুলোয় মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণিক দলিলের এক অনন্য সাধারণ উঠোন হয়ে থাকবে, যে উঠোনে ক্লিক করে আমরা পাবো - আমাদের শেকড়ের ইতিহাস, আমাদের নিত্য-প্রেরণা, আমাদের আগামীর জয়যাত্রা। প্রচলিত সাইটগুলো যেখানে দায়সারা ভাবে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিভাগ রেখে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে কিংবা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তির ছদ্মাবেশী ভাড়াটে গবেষকদের এসাইনমেন্ট রাইট-আপ দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ায়, তার বিপরীতে 'জন্মযুদ্ধ' হবে শুদ্ধতম ইতিহাস চর্চা ও সংরক্ষণের শক্তিশালী ক্ষেত্র; এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।

'জন্মযুদ্ধ' হোক একটি চলমান প্রক্রিয়া।

এ সাইটের আলোয় আগামী প্রজন্ম খুঁজে পাক প্রকৃত ইতিহাসের প্রত্যাশিত স্পটলাইট।
আলোকিত হোক গৌরবের ইতিহাস গাঁথা।

সাইটের পেছনের মানুষদের ভাষায় 'জন্মযুদ্ধ' উদ্যোগটি নেয়া হয়েছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দায়বোধ থেকে। ইতিহাসকে প্রজন্মান্তরে পৌঁছে দেয়ার এ দৃঢ়তা নি:সন্দেহে এক সফল আলোকিত সূচনার ইঙ্গিত বহন করে।

জন্মযুদ্ধের চেতনা বুকে নিয়ে অনাগত প্রজন্ম আসুক একাত্তরের দীক্ষায়।
ঘুরে দেখুন www.jonmojuddho.org

(হাজারদুয়ারী-তে প্রকাশিত)

Read more...

প্রজন্মের ইতিহাস পাঠ-চর্চা এবং রাজনীতি

হয়তো নিয়মটাই এমন - সবাই নিজের একটি আইডেন্টিটি খুঁজে। একাত্তরে যুদ্ধ করা মানুষরা আমাদের সামনে এক উজ্জ্বল তারকাপুঞ্জ! একজন মুক্তিযোদ্ধার হাত ছুঁয়ে টের পাই নিজের ভেতরে রক্তের তাপীয় বুদবুদ। কিংবা আরো পরে কিছু মুখ এসে বিষ্ময় জাগিয়ে যায়। নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের গমগমে কবিতার পংক্তিমালা আনে গণতন্ত্রের বাতাস। বুঝি - তারা সবাই একটি প্রজন্মের উত্তরসূরী। এরকম প্রতিটি প্রজন্ম এগিয়ে যায় সামনে নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে। প্রেরণা দেয় ইতিহাস, প্রেরণা দেয় রাজনীতি।

সময়ের দাবিতে প্রতিবাদী হাতগুলো জড়ো হয় সুন্দরের শপথে। তবুও ইদানিং কেমন জানি দলছুট মনে হয়। কৈশোর উত্তীর্ণ যৌবনে রাজনীতির নিষিদ্ধ দীক্ষা দেন গুরুজনেরা। কিশোর কিশোর ভাব নিয়ে কলেজে ভর্তি হই। বাবা-মা খুঁজে বের করেন - 'রাজনীতি ও ধুমপানমুক্ত কলেজ'। প্রতিনিয়ত উপদেশ পাই- কী কী থেকে মুক্ত থাকতে হবে। রাজনীতির মতো খারাপ জিনিস থেকে দূরে থাকি, মাঝে দুয়েকবার সিগারেটে ঠোঁট ছোঁয়ালেও তিতা স্বাদে ফেলে দিই। মনে হয় - রাজনীতিও বুঝি সেরকম ব্যাপার।

আরো পরে, গুরুজনেরা আলাপ করেন - 'রাজনীতি দেশটা শেষ করে দিলো। ছাত্র রাজনীতি আরো খারাপ। কী হয়, ভার্সিটিগুলোয় পড়ালেখা হয়! খালি মারামারি, গোলাগুলি।'শুনে চমক লাগে। জ্বীন-পরীও ভূত-প্রেতের গল্প সত্যি হয়ে আসে। বর্গী আসার আগেই ঘুমোতে হবে। খাজনা দেয়ার দিন এখন নেই। দেশের জনপ্রিয়তম লেখকটি তখন টিভির টকশো-তে বলেন - 'স্বাধীন দেশে ছাত্র রাজনীতির দরকার নেই।' আসলেই তো! কী দরকার! আমরা এখন স্বাধীন, কার জন্যই রাজনীতি করবো।

আমি ঘুমাই, বন্ধুরা ঘুমায়। খোকা ঘুমায়। পাড়াও হয়তো জুড়ায়।
ঘুমায় ইতিহাস চর্চা।এর মাঝে দেয়াল লিখন পাল্টায়। পাল্টায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস।
গোলমেলে টিকটিকিও ভাষা সৈনিক হয়ে উঠে। টের পাই না, এরাই একাত্তরের কীট!আমরা তখন বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি। স্যরি, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের কারিকুলামে ছিল না। আমি মার্কেটিংয়ের ছাত্র, আমার বন্ধুরা ফাইন্যান্সের। কেউ বা সাহিত্যের, ভূগোলের কিংবা সায়েন্সের।
ইতিহাসের পড়ুয়ারা মাথা চুলকে বলে -

জিয়াউর রহমানই তো স্বাধীনতার ঘোষক! তাই না?
আসলেই!
ধ্যাত - এগুলো তো জেনারেল নলেজ। কেনো! আমরা ক্লাস ফাইভে পড়লাম না?
রাইট। রাইট।
একাত্তরে তিরিশ লাখ মারা গিয়েছিল নাকি, আসলে ওটা হবে তিন লাখ।
কারা কারা জানি - তিন লাখকে ভুলে থ্রি-মিলিয়ন বলেছিল।
ঠিক, ঠিক। তিন লাখ।

আমরা আবার ঘুমাতে যাই। আমাদের বিবেকও ঘুমায়।
জেগে থাকে কীট প্রতঙ্গ। ওরা ধীরে ধীরে দানব হয়ে উঠে।
আমরা কচ্ছপের মতো মাথা লুকাই, সুযোগ বুঝে বের হবো।
অথচ ঐ সুযোগ আর আসে না।
আমাদের ঘুমে এবং জাগরণে তখন দানবের রাজত্ব।

আমরা হয়ে উঠি - দানব প্রজন্ম।

Read more...

24 March, 2007

স্বাধীনতার ঘোষক বিতর্ক

মীমাংসিত বিষয় নিয়ে 'বিতর্ক' হয় কী-না সেটা এক বিরাট প্রশ্ন। তবুও কিছু কিছু বিষয়ে 'বিতর্ক' জিঁইয়ে রাখা হয়। পেছনে থাকে স্বার্থের সুনিঁপুন ছলা। তেমনি একটি বিষয় - বাংলাদেশের 'স্বাধীনতার ঘোষক' বিতর্ক। মসনদ দখলের জন্য আরোপিত এ চেষ্টা দেশের ইতিহাস বিকৃতির একটি অংশ মাত্র। এভাবেই হয়তো নতুন নতুন বিষয় আসবে সামনের দিনগুলোয়। নতুন প্রজন্মের কাছে ঝাপসা প্রশ্ন ছুঁড়ে প্রমাণ করা হবে - 30 লাখ নয়, 3 লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল 1971-এর 'গন্ডগোলে'। 3 লাখকে ভুলে 'থ্রি মিলিয়ন' বলা হয়েছিল তখন! রাজনৈতিক প্রাধান্যের জন্য ইতিহাস বিকৃতির প্রপাগান্ডায় ইতিহাস চর্চা হয়ে উঠবে 'পুরনো কাসুন্দি'।


সমপ্রতি সাপ্তাহিক2000-এ কবি নির্মলেন্দু গুণ লিখেছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক বিতর্ক নিয়ে। যেখানে স্থান পেয়েছে- 1971এর 7মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ভাষণ, মেজর জিয়াউর রহমানের লেখা 'একটি জাতির জন্ম', সমপ্রতি প্রকাশিত মার্কিন ইন্টেলিজেন্সের দলিল এবং প্রাসংগিক আলোচনা।


ইতিহাসের বিভ্রান্তি দূর করার পথে হয়তো আরো খানিকটা এগুনো যাবে জার্মান বেতার ডয়েচে ভেলে বাংলা বিভাগের '35 বছরে বাংলাদেশ'-এর ষোড়শ পর্ব শুনলে। ডয়েচে ভেলের সম্পাদক মাসকাওয়াথ আহসান এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দ সৈনিক আবদুল্লাহ আল ফারুকের গ্রন্থনা উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটিতে উঠে এসেছে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ - মেজর জিয়ার ঘোষণা-র অডিও, স্বাধীন বাংলা বেতার বেতার কেন্দ্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শব্দ সৈনিক বেলাল মোহাম্মদের সাক্ষাৎকার, মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্রের প্রথম সংস্করণের অন্যতম গ্রন্থিক ও ইতিহাস গবেষক আফসান চৌধূরীর প্রামাণিক বয়ানসহ বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয়।

"ইতিহাসের সবচে' বড় ট্র্যাজেডী - বিজয়ের অঙ্গুলী হেলনে তা লেখা হয়। পূর্বসূরীকে স্মৃতি থেকে মুছে ফেলতে ইতিহাসের তথ্য উপাত্ত ধ্বংস বিজয়ের এক চিরকালীন প্রবণতা। কিন্তু যেটা ধ্বংস করা যায় না তা হচ্ছে প্রতীক। তাই ইতিহাসের গবেষকরা প্রতীককে অনুসরণ করে পৌঁছে যান সত্যের কাছে। কোথাও না কোথাও সত্য লুকিয়ে থাকে অথবা ঘুমিয়ে থাকে প্রতীকের খোলসে - শুধু নির্ণয়ের অপেক্ষায়।"

Read more...

22 March, 2007

সকাল বেলার খিদে

সুইডিশ শার্লট্যা গত পরশু থাইল্যান্ড এসেছিলেন বিজনেস পারপাসে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট আজ সকাল দশটায়। আজ সকাল সাতটায় ফোন করে জানালো - স্যরি আই ক্যান নট কাম!
গলার স্বর খুব বিমর্ষ শোনালো।
- কেন? আর য়ূ্য ওকে?
- মাই ক্যাট ইস গন...
- মানে?
- 'আমার বিড়ালটি পাওয়া যাচ্ছে না'। মনে হলো শার্লট্যা কান্না করছে।
- বিড়াল! কোথায় হারিয়েছে?
- সুইডেনে, আমার বন্ধুর বাসায় রেখে এসেছিলাম। গত রাতে ফোন পেলাম - দ্য ক্যাট ইজ লস্ট! আমাকে সুইডেন যেতে হবে বিড়াল খুঁজতে...।
- মিটিংটা করে গেলে হয় না? আমার অবাক হওয়ার পালা।
- নো, ইমপসিব্যল! আই লাভ হিম মোর দ্যান মাই লাইফ।
আমি নীরব। কী বলবো বুঝতে পারছিলাম না।
- য়ূ্য নো, পৃথিবীতে বিড়ালটি ছাড়া আমার আপন আর কেউ নেই। মাই হাসব্যান্ড ডাইড, নো চাইলড...।
- সুইডেন যাচ্ছো কবে?
- আজ বিকেলের ফ্লাইটে। বিড়াল খুঁজে পেলে আবার নতুন শিডিউল জানাবো। আই অ্যাম স্যরি ফর য়ূ্যর ইনকনভেনিয়েন্স!
সামান্য একটি বিড়ালের জন্য এতো মায়া! প্লেন ফেয়ার, ফুডিং-লজিং সব বৃথা! বিড়াল খুঁজতে বিজনেস ট্রিপ ক্যানসেল করে সুইডেন যেতে হবে!
পরে ভাবলাম - কে জানে, হয়তো 51 বছর বয়েসী শর্লট্যার কাছে ঐ বিড়ালই একমাত্র আপন! আহ্, মানুষ কতোটা নি:স্ব হয়ে যায় !
-------

বাংলাদেশ হেরে গেলো শ্রী লংকার কাছে। হারার চেয়েও বড় কথা বাংলাদেশ নিজেদের খেলাটুকু খেলতে পারেনি। উৎপল শুভ্রের লেখাটা খুব ভালো লেগেছে - দিনটি বাংলাদেশের ছিল না। এখনো আশায় আছি - বাংলাদেশ সুপার এইটে খেলবে। গুড লাক বাংলাদেশ!

-------
দেশের রাজনীতিতে স্থবিরতা এসে গেছে। ঘরোয়া রাজনীতিও নিষিদ্ধ।
একজন বলছিলেন - গত দু'মাস দেশে হরতাল হয়নি, পাবলিক হিসেবে এটাই অনেক বড় স্বস্তি! তবুও মহীরুহেরা বসে নেই। ইলেকশন করে আগের ফরম্যাটে আনতে হবে সব। এ গভর্মেন্ট বেশ আনকমফোর্ট্যাবল। তাই দাবী - নির্বাচনের সময়সীমা। 'তোরা যে যা বলিস ভাই, আমরা ক্ষমতা-ই চাই...'।

-------
খবরে প্রকাশ - উল্লাপাড়ার 9 বছর বয়সী নয়ন নাথ দাশকে অপহরণের পর জোর করে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। সুন্নতে খৎনার কাজটিও সম্পাদন করা হয়েছিল! অপহরণের 3দিন পর তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। এলাকার বেলাল - শহীদ ও কতিপয় ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা করা হয়েছে। কিন্তু গ্রামের অনেকেই মামলা দায়েরের বিষয়টি 'সহজভাবে' দেখছে না। আসুন আমরা বেলাল-শহীদদের জন্য তালি বাজাই, বিষয়টিকে 'সহজভাবে' দেখি...।

-------

নওমি ক্যাম্পবেল, সুবেদার মেজর ফরিদ মূন্সী এবং একজন ইছানূরের একটি কেক:

গোপালগঞ্জের ইছানূর কাজ করতো ঢাকায় সুবেদার মেজর ফরিদ মূন্সীর বাসায়। সেখানে তাকে তিনবেলা খাওয়া দেয়া তো হতোই না, বরং বিভিন্ন অজুহাতে চলতো বৈদ্যুতিক শক, গরম সেঁকা বিভিন্ন শারীরিক নির্যাতন । গত বুধবার ইছানূর ফ্রিজ থেকে একটি কেক খেয়ে ফেললে বাড়ীর সবাই তার উপর চড়াও হয়। রিপোর্টে জানা গেছে - বেদম প্রহারে ইছানূর এখন জীবন-মৃত্যূর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।

ব্রিটিশ সুপার মডেল নওমী ক্যাম্পবেল নিউইয়র্কের বাস স্টেশন ও রেলস্টেশনের মেঝে ও টয়লেট পরিস্কারের কাজ শুরু করেছেন। জানা গেছে - তার অপরাধ - তিনি গৃহপরিচারিকাকে মোবাইল সেট ছুড়ে মেরেছিলেন। তাই এ শাস্তি। গত জানুয়ারিতে কমিউনিটি সার্ভিসের আদেশ দেন আদালত। পাশাপাশি নওমিকে 363 মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়। নিউইয়র্ক পয়ঃনিষ্কাশন বিভাগের মুখপাত্র আলবার্ট ডুরেল জানান, 'পাঁচদিন সাত ঘণ্টা করে নওমি ক্যাম্পবেল ধোয়ামোছার কাজ করবেন। দিনে দু'বার তিনি বিরতি পাবেন।'

আপনার দূর্ভাগ্য নওমি ক্যাম্পবেল। আপনি সুবেদার মেজর ফরিদ মূন্সীর কপাল নিয়ে জন্মাননি। বাংলাদেশ কেবল হতভাগা ইছানূরের অমোঘ নিয়তি।

Read more...

18 March, 2007

ফ্লপ ফোর্থ অ্যাম্পায়ার

রাসেল ভাই ঝলমলে অবস্থায় বান্ধবীরে লইয়া সিনেমা দেখে, মাশরাফি সকালে আয়নার সামনে গিয়ে চমকে উঠে কিংবা রাজীব ভাই অটোগ্রাফ দিতে গিয়ে চোখ কচলায়। পেসার হান্ট প্রোগ্রামের বিজ্ঞাপন। এর বাইরে অনেকদিন বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের খেলা টিভি স্ক্রীনে দেখার সুযোগ হয়নি। গতকাল প্রায় দু'বছর পর টিভি পর্দায় বাংলাদেশ দলের খেলা দেখলাম ইন্ডিয়ান দূরদর্শন ন্যাশনালের সৌজন্যে।

বাংলাদেশ জিতবেই - অমনটা খুব জোর করে বলতে পারছিলাম না। কিন্তু মনের ভেতর থেকে টের পাচ্ছিলাম ভালো করবে বাংলাদেশ। এর মাঝে ডিডি ন্যাশনালের 'ফোর্থ অ্যাম্পয়ার' প্রোগ্রাম শুরু হলো। উপস্থাপকের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষক হিসেবে ছিল - চেতন শর্মা, শ্রীকান্ত, আঞ্জুম চোপড়া। ইন্ডিয়া এবার বিশ্বকাপ জিতবেই - এমন মনোভাব তাদের। ব্যাটিং অর্ডারকে কীভাবে সাজানো যায় সেটা নিয়ে প্ল্যান চলছিল। কার কেমন পারফরম্যান্স দরকার ওটা নিয়েও মহাতুলকালাম। শ্রীকান্ত তার সহজাত মাত্রাতিরিক্ত বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে চোখ পাকিয়ে এমনভাবে কথা বলছিল - মনে হচ্ছে - ইন্ডিয়া মাঠে যা খেলবে তার চেয়ে তিনিই বেশী খেলিয়ে দিবেন। উথাপা প্রসংগ এলে জানলাম - এবার ইন্ডিয়া যদি বিশ্বকাপ জিততে চায় তবে মূল খেলাটা উথাপাকেই খেলতে হবে! মাঝে বারবার উঠে আসছিল আগের ম্যাচে গিবসের ছয় ছককার বিষয়টি।

এরমাঝে ক্যামেরা চলে গেল বাইরে। 'জন্তা' কী বলে। পাবলিক ওপিনিয়ন। এক তরুণকে জিজ্ঞেস করা হলো - 'আগের ম্যাচে গিবস এক ওভারে ছয় ছককা মেরেছে। আজ ইন্ডিয়া কী করবে?' হাসি মুখে তরুণটি জবাব দিল - আজ ধোনি এক ওভারে সাত ছককা মারবে! কীভাবে? বাংলাদেশ একটা এক্সট্রা নো বল করবে, ওটাও ছককা হবে!

ক্যামেরা আবার স্টুডিওতে ফিরে আসতেই সাত ছককা নিয়ে হাসাহাসি। শ্রীকান্তের ভাবভঙ্গী এমন যেন - সাত ছককা না মেরে আজ উপায় নেই। পাবলিক ডিমান্ড। আলোচনায় প্রসংগ এলো - আজকের খেলায় বাংলাদেশ কোনো আপসেট ঘটাবে কী না। শ্রীকান্ত তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলো। অসম্ভব! ভারতের এ ব্যাটিং লাইন আপের সাথে বাংলাদেশ টিকতেই পারবে না। পাশে বসে থাকা আঞ্জুম অনেকটা ডিসেন্ট - কোন অপোনেন্টকেই ছোট করে দেখা উচিৎ হবে না, তাছাড়া বাংলাদেশ প্রস্তুতিমূলক ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে। তবে আজকে ইন্ডিয়ার সাথে আপসেট ঘটানোর সম্ভবনা খুব কম, নেই বললেই চলে...।আঞ্জুমের কথা কেড়ে নিয়ে শ্রীকান্ত জোশ পেয়ে যায়, বলে - বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডকে ওয়ার্মআপ ম্যাচে হারিয়েছে, এটা করেছে ওটা করেছে - এসবই রাবিশ। বাংলাদেশের সাথে ইন্ডিয়ার তফাৎ অনেক বেশী। বাংলাদেশ লড়তেই পারবে না। তাছাড়া ইন্ডিয়া এসেছে বিশ্বকাপ জিততে, এখন আজকের ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে হারলে ইন্ডিয়ার উচিৎ হবে আগামীকালের ফ্লাইটে রিটার্ন করা।শুনে সবাই হো হো করে হাসে। চেতন শর্মার মতে - বাংলাদেশকে এতো কেয়ার করার দরকার নেই। বাংলাদেশকে এতো সমীহ করলে ইন্ডিয়ার বিশ্বকাপ খেলতেই যাওয়া উচিৎ না।শেষে মতামত এলো - আঞ্জুম 100% কনফার্ম ইন্ডিয়া জিতবে, শ্রীকান্তও 100%, চেতন শর্মা 100%, উপস্থাপক 100%, ইন্ডিয়ান সাপোর্টার 100% - - - সবাই মিলে 500% কনফিডেন্ট ইন্ডিয়া জিতবে, অফ যা বাংলাদেশ; এমন অবস্থা!!!

ইন্ডিয়া ব্যাটিং করলো। 191 তে অল আউট। লাঞ্চ ব্রেকে আবার 'ফোর্থ অ্যাম্পায়ার' শুরু হলো। শ্রীকান্ত নিজেই আপসেট। এটা কী খেললো ইন্ডিয়া? বারবার উঠে আসছিল মাশরাফির কথা। মাশরাফি চার উইকেট নিয়েছে। কিন্তু শ্রীকান্ত তখন মাশরাফির বদলে স্পিনারদের কৃতিত্বটাই বড় করে দেখলেন। কয়েক মিনিটের মাথায় কমেন্ট করলেন - এই পিচে স্পিনারদের কিছু করার নাই, বাংলাদেশ যা আউট করেছে সব ইন্ডিয়ান ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা!!! তবুও চেতন শর্মা আশাবাদী - বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডার অতোটা স্ট্রং না। কুম্বলেকে খুব মিস করলো তারা। ইন্ডিয়া যদি উইকেট টু উইকেট বল করে তবে ম্যাচ জেতা অসম্ভব কোন ব্যাপার না। তবে শ্রীকান্ত তখনো অনড় - বাংলাদেশের সাথে হারলে ইন্ডিয়ার উচিৎ হবে পরেরদিন দেশে ব্যাক করা। আহারে পিচ্চি বাংলাদেশ!!!

বাংলাদেশের ব্যাটিং শুরু হলো। ইন্ডিয়ান বোলাররা তেমন সুবিধা আদায় করতে পারছে না। ধারাভাষ্যে আতাহার আলী খান এলে ডিডি ন্যাশনাল হিন্দি কমেন্ট্রি দেয়া শুরু করে। রাজেন্দ্র আর গুর্পীত মিলে ইন্ডিয়াকে জেতানোর জন্য যতগুলো পসিবল অপশন আছে সব প্রেডিক্ট করতে থাকে। কাজ হয় না! শেষে বাংলাদেশ 5 উইকেটে জয়ী। ভীষণ আমোদ নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম - শ্রীকান্ত-চেতন বিশেষজ্ঞদ্্বয় কী বলে! 'ফোর্থ আম্পায়ার' শুরু হলো। দেখি - শ্রীকান্ত-চেতন নেই। আঞ্জুম আছে। আঞ্জুম তার প্রাথমিক সমীহসুলভ আচরণ বজায় রেখে টুকটাক বিশ্লেষণ করলো। খুব জানতে ইচ্ছে করছিল বাকী দুই জ্ঞানী ওস্তাদ কোথায় গেলো? শ্রীকান্ত যদি ইন্ডিয়ান টীমের রিটার্ণ টিকিট কনফার্ম করতে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স অফিসে যান তবে আপত্তি নেই, শুধু বিনয়ের সাথে বলবো - আমাদের আতাহার আলী খানের বিশ্লেষণ শুনে নিবেন প্লিজ! আপনাদের মতো ঝলমলে রেকর্ড ক্যারিয়ার হয়তো তাঁর নেই, তবে স্পোর্টসে প্রতিপক্ষকে কীভাবে সম্মান করে কথা বলতে হয় তা তিঁনি আপনাদের চেয়ে ভালো জানেন।'ফোর্থ অ্যাম্পায়ার'-এর শেষে উপস্থাপক আঞ্জুম চোপড়াকে জিজ্ঞেস করলো - 'তাহলে ইন্ডিয়া-শ্রীলংকা ম্যাচ খুব ভাইটাল হয়ে গেলো?'আঞ্জুম চমকে দিয়ে বললো - 'মে বি। হয়তো শ্রীলংকাকে হারিয়ে বাংলাদেশ আরেকটি আপসেটের জন্ম দিবে, যেটা ইন্ডিয়ার জন্য ভালো হবে'।ওয়াওওও!!! কমপ্লিট ইউ-টার্ণ!!!!!!আঞ্জুম চোপড়া, ভালোই হলো! শ্রীলংকার সাথে ম্যাচে বাংলাদেশের সমর্থক একজন বাড়লো। থ্যাংকস্! শুধু একটা কথা - বাংলাদেশকে খুব আকাশে কিংবা একেবারে মাটিতে নামাবেন না প্লিজ! বাংলাদেশ যা, তা-ই বলবেন। টিভি সেটের সামনে আপনাদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য শুনে কিছু বলতে পারিনি। দু'প্যাকেট বাদাম আর কয়েক কাপ কফি শেষ করেছি। দারুণ উত্তেজনা নিয়ে খেলা শেষ পর্যন্ত দেখে বন্ধুদের এসএমএস পাঠিয়েছি - আমরাও পারি, শাব্বাশ বাংলাদেশ - অবাক পৃথিবী, অবাক তাকিয়ে রয়...!

ফেয়ারওয়েল কিস ফর পাকিস্তান:
পোলাও-কোর্মা-রেজালা খেতে খুব ভালো লাগে। সাথে বুরহানী হলে কথাই নেই। আমার ভীষণ পছন্দের খাবার। কিন্তু সমস্যা হলো - যথাসময়ে বুরহানী পাওয়া যায় না। কোক-সপ্রাইট খেয়ে চুপ থাকতে হয়। কিন্তু এবার বুরহানী স্বাদ এনে দিলো আয়ারল্যান্ড। বাংলাদেশের জয়ের সাথে সাথে পাকিদের পরাজয়! দারুণ একটি দিন। থ্রি চিয়ার্চ ফর আয়ারল্যান্ড। এসি বোথা আট ওভার বল করে চার মেডেনে দুই উইকেট নিয়েছে মাত্র পাঁচ রানের বিনিময়ে! অসাধারণ বোলিং! পাকিস্তানকে ফেয়ারওয়েল কিস দিয়ে দেশে পাঠানোর জন্য আয়ারল্যান্ডকে অভিনন্দন-শুভেচ্ছা!

একজন মানজারুল ইসলাম রানা:
ক্রিকেট ইতিহাসে অনেকদিন পর ঘটনাটি ঘটেছিল। পাঁচ ম্যাচ সিরিজে 2-0তে পিছিয়ে থেকেও 3-2-এ সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। 2004-05 সালে জিম্বাবুয়ের সাদামাটা দলটির বিপক্ষে মানজারুল ইসলাম রানা চমৎকার নৈপূণ্য দেখিয়ে বাংলাদেশ দলকে সিরিজে ফিরিয়েছিলেন। আনন্দে মেতেছিল বাংলাদেশ। মাত্র 22 বছর বয়সে গত পরশু রোড অ্যাক্সিডেন্টে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন তিনি। বিধাতার নিষ্ঠুর নিয়ম! ইন্ডিয়ার সাথে গতকালের জয়টি ডেডিকেট করা হয়েছে রানার স্মৃতির উদ্দেশ্যে। রানার জন্য রইলো আমাদের অপরিসীম শ্রদ্ধা, ভালোবাসা...।

---------------
সংযুক্তি: লেখাটির অংশ বিশেষ দু'দিন পর সমকালে ছাপা হয়।
--------------
পরে মুক্তমনায় সিলেক্টেড আর্টিকেল হিসেবে জায়গা করে নিয়েছিল।

Read more...

12 March, 2007

পাক পতাকার ছায়ায়

দর্জি বলেছিল রাজশাহী সিল্কের কাপড় দিবে। প্রথমে হাতে নিয়ে খানিকটা খটকা লেগেছিল। তবুও পতাকাটা যখন দু'হাতে জড়িয়ে ধরে ঘ্রাণ নিলো, তখন দেলুমিয়ার মনটা অন্যরকম হয়ে যায়। আজ সকালে ছাদের উপর পতাকাটা উড়িয়ে অনেকক্ষণ মুগ্ধ মনে তাকিয়ে ছিল সে। মনে পড়ে শৈশব-কৈশোর। দেখেই মনটা ভরে যায় - সবুজ জমিনে চাঁদ তারার ঝিলিক। আহ! পতাকাটা যদি সারা বছর এভাবে ওড়ানো যেতো! তবুও চার বছরে সুযোগটা একবারই আসে। মাস দুয়েক পতাকা ওড়ে। মনের ভেতর রোশনাই জাগে তখন, গুণগুণ করে সারাদিন - পাকসার জমিন সাদবাদ। দেলুমিয়া বাজারে বাজারে তাবিজ বেচতো। কী সব দিন ছিল তখন। টোটকা অসুদের রমরমা কাস্টোমারদের এটা-ওটা বলে বটিকা ধরিয়ে দেওয়া...। এখন দেলুমিয়া বুঝতে পারে - তার নূরানী চেহারায় সারল্যের মাঝেও সেলসম্যানশিপের বাহার ছিল। নইলে দেশের এত্তো মানুষকে ম্যানেজ করে এমন পজিশনে কীভাবে আসা যায়! এসব ভাবতে ভাবতে দেলুমিয়ার ক্লান্তি আসে। ছাদে পানির ট্যাংকির ছায়ায় ইজি চেয়ারে বসে দৈনিক সংগ্রামে চোখ বুলাচ্ছিল দেলুমিয়া।
ক্রিকেট খেলাটা প্রথম একটু একটু বুঝে বিরান্নব্বইয়ে। সেবার কী খেললো পাকিস্তান! খেলা শেষ হওয়ার পর বনানীর কাকলী মোড়ের দোকান থেকে দেলুমিয়া ইমরান খান আর ওয়াসিম আকরামের পোস্টার কিনেছিল, এখনো ঝুলছে বেডরুমে। এখন আরো নতুন নতুন প্লেয়ার এসেছে, কী জোয়ান তাগড়া শরীর! দেখতেই মন ভালো হয়ে যায়। দেলুমিয়া ভাবে - ক্রিকেট খেলা হইলো জমিদারের খেলা। ডাল-ভাত খাওয়া বাঙ্গালের জন্য এ খেলা আসে নাই। তবুও মনে পড়ে নিরানব্বইয়ে হেরে যাওয়ার কথা। পাকিস্তান কী ফালতুই না খেললো সেদিন। জেতার পর মহল্লার বখাটে পোলাপান দেলুমিয়ার জানালায় ঢিল ছুড়েছিল, হৈ-হুল্লা করে কী কীসব মিছিলও দিয়েছিল - একাত্তরের দালালরা হুশিয়ার সাবধান...। দেলুমিয়া ভেবেছিল সে রাতে বের হয়ে দেখবে কে কী বলে। কিন্তু ছোটবিবি ঘর থেকে বের হতে দেয়নি। দেলুমিয়ার মনে পড়ে - এরপর অনেকদিন বাংলাদেশ ক্রিকেটে জিতেনি। কে জানে - হয়তো দেলুমিয়ার শাপ লেগেছিল ঢিলছোড়া পাজিদের উপর। পরমকরূণাময় তাই এ জাতের আনন্দ বরাত তুলে নিয়েছিলেন! নাহ্! দেলুমিয়া নিজেকে তো অতো কামেল মনে করে না। তার শাপে এমন হওয়ার কথা না। ভাবতে ভাবতে সংগ্রামটা চোখের উপর রেখে ঝিমিয়ে পড়ে, মাথাটা হাল্কা হয়ে আসছে...।
হঠাৎ সামনে তালুকদার এসে দাঁড়ায়। দেলুমিয়া চমকে উঠে - 'তালুকদার! তুই কোত্থেকে?'তালুকদার হাসি দেয় - 'পাকিস্তানের পতাকা ঝুলাইছোস ক্যান?'- তোর সমস্যা কী?- স্বাধীন বাংলাদেশে পাকিস্তানের পতাকা উড়বো ক্যান?- ঐটা তোরে কওন লাগবো? তোর মন চাইলে তুই ওয়েস্টিন্ডিজের পতাকা লাগা, আফ্রিকার পতাকা লাগা, তোর আব্বা ইন্ডিয়ার পতাকা লাগা। মানা করছে কে?তালুকদার শীতল গলায় বলে - 'মানা তো কেউ করে নাই, দেল্লা! বাংলাদেশের পতাকা কই?'এটা বলে তালুকদার তার হাত দিয়ে লম্বা বাঁশের উপর থেকে পতাকাটা টান মেরে ছিড়ে ফেলে। দেলুমিয়া অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখে তালুকদারের হাত দুটো অনায়াসে লম্বা হয়ে গেলো - দশ হাত, বিশ হাত কিংবা তারও বেশী!এবার দেলুমিয়া চিৎকার করে - তালুকদার, হারামী করবি না, খবরদার। তোরে না আমি পাড়ের হাঁটের ক্যাম্পে শেষ করছিলাম, তুই আবার আসলি ক্যামনে?
তালুকদার শুনে হো হো করে হাসে। বলে - আমরা কখনো মরি না, দেল্লা। আমরা কখনো মরি না।
তালুকদারের দিকে তেড়ে যেতেই দেলুমিয়ার ঘুম ভেঙে যায়! ধড়পড় করা বুকে সাহস আসে। ধ্যুত, ছত্রিশ বছর পর তালুকদার আসবে কীভাবে! ঢোক গিলে চোখ কচলে দেখে মার্চ মাসের বাতাসে পতপত করে উড়ছে তার পেয়ারের পতাকা। বেলা বেড়েছে খানিকটা। স্বপ্নে তালুকদার এসে কী ভয়ই না লাগিয়ে গেলো! ছাদের কার্ণিশে এসে দাঁড়ায় দেলুমিয়া। পাশের বাড়ীর ছাদের উপরও উড়ছে পাকিস্তানের পতাকা। ও বাসার কলেজ ভার্সিটি পড়ুয়া ছেলেগুলো খুব আদব জানে।
তালুকদার কখনো সত্যি সত্যি ফিরে এলে ওদের ডাক দেয়া যাবে।

Read more...

01 March, 2007

রসনা জিজ্ঞাসা

গুলশানে নতুন একটা দোকান
কী যেন নাম - ঐ যে
বুড়ো দাদুর ছবি, লাল সাইনবোর্ড -
রাইট, মনে পড়েছে -
কেএফসি।

ঝলমলে মানুষগুলো ওখানে
ফ্রাইড চিকেনের সাথে স্ট্র-তে
চুমুক দিয়ে কী যেন খায় -
ধ্যুত, বিয়ার না-
ওটা পেপসি।

Read more...

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP