18 October, 2007

নতুন খাতার পাতায়

ওমেন্স ওয়ার্ল্ডের সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে মনে হয় অনেক কাল পেরিয়ে যাচ্ছে। ধাপগুলো শেষ হচ্ছে না, বেড়ে যাচ্ছে প্রতি মুহুর্তে। অল্প সময়টুকুয় ভাবনার অনেকগুলো ঢেউ এসে তোলপাড় করে দিচ্ছে। মনের ধারাপাত আর সিঁড়ির ধাপ এ দু'য়ের মাঝামাঝি নো ম্যানস ল্যান্ডে আসতেই মনে হয় পা ফসকে পড়ে যাবে। তড়িৎ নিজেকে সামলে নেয় লোমেলা, রেলিং ধরে সাবধানে পা ফেলে। এমন হচ্ছে কেনো? গত রাতে মেইলটা পাওয়ার পর এ ভাবনা জেঁকে বসেছে মাথার ভেতর। আজ সকাল থেকে একটানা ভ্রু-প্লাগ, হেয়ার হারবাল, প্যাডিকিউর-ম্যানিকিউরে এতোটা সময় কেটে গেলো, একটুর জন্যও মন বসেনি। পার্লারের নাক বোঁচা মেয়েটি যতবারই কিছু জিজ্ঞেস করেছে, লোমেলা হু-হ্যাঁ করে গেছে। হিসাব নিকাশটা মাথার ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে কেবল, থিতু হতে পারছে না - খানিকটা এক্সসাইটমেন্টও ঘিরে রেখেছে। সিঁড়ির শেষ ধাপে পা দিয়ে আবার পেছনে তাকায় লোমেলা। কতোগুলো ধাপ? মাথায় যে সংখ্যাটা কাঠঠোকরার মতো ঠুকিয়ে চলেছে ততবার সিঁড়ি ওঠানামা কি সম্ভব? কতক্ষণ লাগবে! কিংবা কতো দিন লাগবে? জিরো পয়েন্ট টু সিক্স নাইন মিলিয়ন!

দুই
দুপুরের পর থেকে আকাশের মুখ গোমড়া। অনেকক্ষণ ঝিম মেরে আছে চারপাশ। গুলশান লেকের শরীর শীর্ণ হয়ে আসছে ক্রমাগত। বছর তিনেক আগে লোমেলারা যখন নতুন ফ্ল্যাটে ওঠে তখনও খানিকটা নীল ছিল পানি। কচুরিপানা আছে সেরকমই, তবে পানির রং গেছে পাল্টে। আবার মনে হয় - মেঘলা আকাশের কারণে হয়তো পানি কালো মনে হচ্ছে! সেদিন জাহেদ ভাই বলছিলো - বাংলার আকাশ আর বাংলার মেয়ের মতিগতি বোঝা দায়। এই রোদের ঝিলিক, এই বৃষ্টি কখনো বা দো-মনা ভাব। লোমেলার মনে হচ্ছে - জাহিদ ভাই ইদানিং দো-মনা ব্যাপারটিকে ইনিয়ে বিনিয়ে টেনে আনছে বারবার। হয়তো সিদ্ধান্ত চাচ্ছে দ্রুত। পরিচয়টা খুব বেশী দিনের নয়, ফোরামে রিসেন্ট কার্টুন ডিবেট ডিসকাশন থ্রেডে মন্তব্য - প্রতিমন্তব্য। পরের মান্থলি মিটিংয়ে আলাপ এবং জানাশোনা। জাহিদ ভাই এ-লেভেল শেষে কিছুদিন ইস্ট ওয়েস্ট বিবিএ-তে ছিল। পরে ক্রেডিট ট্রান্সফার করে ব্রিসটল, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্টে এমবিএ। দেশে ফিরে ডেভেলপমেন্ট সেক্টরে কাজ করছে। সিক্স ফিগারের স্যালারি, নোকিয়া পিডিএ ভর্তি শিডিউল - শহুরে হান্টার তরুণীরা এমন সুদর্শন ঈর্ষণীয় ইয়াংকে খুঁজে চলে দিনরাত। তবে জাহিদ ভাই অন্য রকম। মার্জিত ব্যবহার - মৃদূভাষী - ভীষণ ব্যক্তিত্বময় আচরণ। সব মিলিয়ে কালো ফ্রেমের চৌকোণা চশমা কিংবা চশমার ভেতরের চোখগুলো ইদানিং লোমেলাকে কাতর করছে খুব।

সেদিন ইফতার পার্টি শেষে ইমান্যুয়েলের সামনে জাহিদ ভাই নিচুস্বরে বলেছিলো - বাল বিখারকি, টুঁটি কবরোপে যাব কোই মাহযাবিন রোনতি হায়, মুঝে অফসর খিয়াল আতে হ্যায়, মোউত কিতনি হাসিন হ্যায়। শুনে লোমেলার মনে হয়েছিলো এই ইমান্যুয়েল, এই স্ট্রীট লাইট - সব নিভে যাক, থেমে যাক সব নি:শ্বাস, পাশাপাশি কেবল জাহিদ ভাই আর লোমেলা! এরকম উলুথালু ভাবনায় লাজুক সংকোচ ভর করে। সংকোচ থেকে মন ফেরাতেই এক বড়সড় নি:শ্বাস ফেলে লোমেলা। এ নি:শ্বাসে যতোটা না জাহিদ ভাইকে নিয়ে দমবন্ধ ভাবনা, তারচে' বেশী দো'মনা মনকে স্থির করে সিদ্ধান্ত নেবার সংকট। ততক্ষণে বাইরে সন্ধ্যা নেমেছে। বৃষ্টি নামেনি, হয়তো লোমেলার মতো আকাশও দ্বিধান্বিত। ব্যালকনি থেকে উঠে ড্যাডির স্টাডি রূমে যায় লোমেলা। দ্বিতীয় খোপের খালি জায়গায় একটা অদৃশ্য বই জায়গা করে নেয়। কল্পনা করতে ভালো লাগে - লোমেলার লেখা বই। কো-অথর হিসেবে জাহিদ ভাইয়ের নাম আছে কিনা সেটা স্পষ্ট নয়। তবে আলোড়ন তোলা বই। জিরো পয়েন্ট টু সিক্স নাইন মিলিয়ন - ফ্যাক্ট অর পলিটিক্স?

তিন
গতকাল চাঁদ দেখার অপেক্ষা ছিল। আজ অপেক্ষা কিংবা আগ্রহ কোনোটাই নেই। আগামীকাল ঈদ। সন্ধ্যার পর গাড়ী নিয়ে বের হয় লোমেলা। 'লিবাস'এ জামাটা কেনা না কেনা নিয়ে সংশয় ছিল। লোমেলা চেয়েছিল স্ট্রেইট নেক, কালারও আরেকটু লাইট হলে ভালো হতো। লিবাস থেকে সামিরার বাসা ওয়াকিং ডিসট্যান্স। জামা কিনে সামিরার বাসায় আড্ডা হয়। টিভি চ্যানেলগুলোয় ঈদের গান চলছে - রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ। বাস্কিন-রবিন্সের আইসক্রীম ছিলো ফ্রিজে। খেতে খেতে আলাপ জমে ইতস্তত, বিক্ষিপ্ত। লোমেলা টিভির চ্যানেল পাল্টায়। ইন্ডিয়ান চ্যানেলগুলোও এবার ঈদের উপর হাইলাইট করছে। জিটিভিতে নভরাত্রি-ঈদ নিয়ে বিশেষ আয়োজন, মাস জুড়ে সানডে নাইট স্পেশালে শাহরুখ খান। হঠাৎ লোমেলার মনে পড়ে আজ হিরো হোন্ডা সারেগামাপা গ্র্যান্ড ফিনালে। ঘন্টা কয়েক পরেই শুরু হবে, আদিত্য নারায়ণ হোস্ট হিসাবে দূর্দান্ত! লোমেলার ফেভারিট আমানত আলী, আর সামিরার প্রিয় রাজা হাসান। রেডিফে লোমেলা অনলাইন ভোট দিয়েছে। সামিরার এমপিথ্রি প্লেয়ারে তখন রাজা হাসানের হাস্কি ভয়েস - আল্লাহ কি বন্দে হাসতে - - -। তারপর অনিক ধর নিয়ে আলাপ হয়। সনু নিগমের কপিক্যাট কোলকাতার ছেলে অনিক সারেগামাপা বাংলার চ্যাম্পিয়ন, হিন্দিতেও চ্যাম্পিয়ন হলে পাবলিক ওপিনিয়ন কেমন হবে সেটা নিয়ে তর্ক জমে। হিমেশ রেশমিয়ার নাটুকেপনা নিয়েও হাসাহাসি হয়। লোমেলা চ্যানেল পাল্টায় বারবার। ফোরামে লোমেলা মিডিয়া অবজারভার; বাংলা-হিন্দি-উর্দূ- ইংরেজী চ্যানেলে নিয়মিত চোখ রাখতে হয়। অনগোয়িং কনসেন্ট্রেশন আর্টিকেল স্যাটেলাইটে ডেইলি সোপ। সাত ফেরের সালুনি, সারথীর মানসেন, দুলহানের ভেদিয়া-সিন্দুরা, মায়িকার মাহী অথবা কসম সে'র বাণী ওয়ালিয়ার নিত্য জীবন নিয়ে নোট রাখছে লোমেলা। সাথে পিটিভি-হোমের স্ত্রী নিয়ে চমৎকার কমপারিটিভ অ্যানালাইসিস হবে। সোশ্যাল ট্রান্সফরমেশনের এলিমেন্ট হিসেবে আর্টকেলটা প্রয়োজনে এক্সটেন্ড করা যাবে। তবে আপাতত: ফোরামে ঝড় উঠবে নিশ্চিত! আচমকা স্টার ওয়ার্ল্ডে চুম্বক দৃশ্য শুরু হলে সামিরা লোমেলাকে খামচি মেরে বসে - 'তুই একটা পুরা শয়তানের নানী দাদী'।

সামিরার বাসা থেকে ফেরার পথে গাড়ীতে এফএম এইটি নাইন পয়েন্ট সিক্স; রেডিও টুডে। সংবাদ শিরোনামে - 'কাঁচপুরে চল্লিশ বাসযাত্রীর সর্বস্ব লুট'। চল্লিশ জনের মাল লুট করতে কয় জন ডাকাত লাগে? কতক্ষণ লাগে? সলিটেয়ারে হিডেন কার্ডগুলো উন্মোচন করলে বাকী খেলা যেমন টপাটপ মিলে যায় তেমন করে চল্লিশ জনের হিসাব করতে গিয়ে সকালের সংখ্যাটা আবার ফিরে আসে। কিভাবে আগানো যায়, কোথায় আরো ম্যাটারিয়াল পাওয়া যায় সেসব ভাবতে ভাবতে লোমেলা বাসায় পৌঁছে। টু হান্ডরেড অ্যান্ড সিক্সটি নাইন থাউজেন্ড!

চার
ঈদের এসএমএস পাঠানো শুরু হয়ে গেছে। লোমেলার মোবাইলে বেশ কিছু গ্রিটিংস আসলো ঘনঘন। শেষটা দেখে মেজাজ চড়ে যায়, আসিফের এসএমএস। মানারাতে ভালো বন্ধু ছিল আসিফ । এরপর, আরো বেশি কিছু। লোমেলা তখন নিজেকে জেফরি আর্চারের হুইমি হিরোইন এবং আসিফকে দেয়াল বেয়ে পনেরো তলায় ওঠা ইস্পাত হিরো ছাড়া কিছু ভাবতে পারেনি। নাইনথ গ্রেডের ফাইনাল শেষে লোমেলার বার্থ ডে ছিল সেদিন। গার্লস নাইট আউটে লোমেলা নিজেকে কিশোরীর বদলে রমণী ভাবতে চেয়েছিলো অদ্ভুত সন্ধ্যায়। পরে আসিফের বাটারফ্লাই আচরণে লোমেলা দূরে সরেছিল, কেবল সরেনি সন্ধ্যার ভুল ভালোবাসা, ভুল স্মৃতি। মাঝে মাঝে মনে হয় স্মৃতিকোষে ছুরি চালিয়ে ঐ অংশটুকু ফেলে দিলে ভালো হতো। পারা যায় না। আজ যেমন আসিফের এসএমএস অনুতাপ জাগিয়ে দেয় মনে। রাগে কাঁপতে কাঁপতে লোমেলা রিপ্লাই করে - "টোল্ড য়্যূ থাউজেন্ড টাইমস, এগেইন - প্লিজ নেভার কন্টাক্ট মী। আই হেইট য়্যূ - বিচ।"

এক অসহনীয় যন্ত্রণায় লোমেলার কান্না পায়। জিটিভিতে ততক্ষণে বিজেতা ঘোষিত হচ্ছে, আমানত আলী থার্ড। কষ্টটা আরো জাঁকিয়ে বসে। এমন সময় জাহিদ ভাইয়ের ফোন -
- কি করো?
- কিছু না।
- ঈদ মোবারক।
- আপনাকেও।
- আগামীকাল প্ল্যান কি?
লোমেলা এই ফাঁকে টিস্যুতে চোখ মোছে - 'কোনো প্ল্যান নেই'।
- লেট'স গো সামহয়্যার!
লোমেলা চুপচাপ।
- 'আর য়্যূ অলরাইট?' জাহিদ ভাইয়ের উদ্বিগ্ন প্রশ্ন।
- না আমি ঠিক আছি। আপনি কি এখন ফ্রি?
- হ্যাঁ, বলো।
- আপনি আর্টিকেলটা পেলেন কোথায়?
- গত রাতে যেটা মেইল করলাম?
- হুমম
- দেখোনি? ইকনোমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলি। তিন সপ্তাহ আগের ইস্যু।
- আই অ্যাম ইমপ্রেসড! দারুণ অ্যানালাইসিস। আমি ভাবছি - এটা নিয়ে খানিকটা পড়াশোনা করি। ফোরামে দেবো নাকি?
- ট্রান্সলেট করে দিও না। নিজের মতো করে গুছাও। সময় নিয়ে লিখো।
- ওকে। এটা নিয়ে কি আংকেলরা কেউ কাজ করেছেন?
- তেমন হয়নি। তিরিশ লক্ষের হিসাব নিয়ে কিছু লেখালেখি আছে। আব্বাও বলছিলেন - ইন্টারন্যাশনালি লেখা হয়নি।
- ওকে। ড্যাডি আমাকে বলছিলেন, শেখ মুজিব তিন লক্ষকে ভুলে থ্রি মিলিয়ন বলেছিল।
- আরো লজিক আছে। 'লিগ্যাসি অব ব্লাড' পড়েছো?
- শেলভে আছে দেখেছি, পড়িনি।
- তালুকদার স্যারের কিছু সংকলনও আছে পলিটিক্যাল সায়েন্স নিয়ে, ওগুলো ইংলিশে সার্কুলেট করা দরকার।
- তালুকদার স্যার মানে, ঐ যে প্রফেসর আংকেল?
- হ্যাঁ। এফএম এর লেখা ফলো করো?
- এফএম কে?
- তুমি তো মনে হচ্ছে ডেইলি সোপে ডুবে আছো ইদানিং। পেপার পড়ো না?
- ওহ, বুঝেছি - মাজহার সাহেব?
- হ্যাঁ।
লোমেলা হাসে এবার। কোনো কারণ নেই, অথবা খানিকটা অপ্রত্যাশিত ভালো লাগা।
- 'পোস্ট ঈদ গেট টুগেদার কোথায়?' জাহিদ ভাই প্রশ্ন করে।
- এবার চলেন বাঁশরীতে যাই। ওদের সেট মেন্যুটা দারুণ।
- ওকে।
- আচ্ছা, উইকিপিয়ায় দেখলাম - সুজান ব্রাউনমিলারের সুত্র মতে দুই লক্ষ থেকে চার লক্ষের মতো রেপড।
জাহিদ ভাই হেসে উড়িয়ে দেয় - 'ওটা সম্ভবত: এগেনস্ট আওয়ার উইল বই থেকে নেয়া।
- মে বি।
- হা হা। জানোই তো ইতিহাস লেখা হয় বিজয়ীর কলমে।
- আপনার হেল্প লাগবে এবার। আমি সিরিয়াসলি ব্যাপারটা নিয়ে কাজ করতে যাই।
- টেক য়্যূর টাইম, ম্যাম!
- ম্যাম?
জাহিদ ভাই এবার অন্যস্বরে কথা বলে - 'হোয়াট অ্যাবাউট টুমরো'স ইভিনিং'?
- 'হোয়াট?' লোমেলার জিজ্ঞাসায় উৎসাহের চেয়ে আবেদন বেশী।
- ওনলি য়্যূ অ্যান্ড মি । নো ওয়ান ইন দ্য ওয়ার্ল্ড! সাম ক্যান্ডেল লাইটস উইল ফিল শাই।
লোমেলা চুপচাপ। পাঁচ দশ সেকেন্ড মুহুর্ত কাটে নীরবে।
- মে আই গেট সাম টাইম?
- ইফ আই সে, নো?
লোমেলার মনে হয় গলাটা কেউ যেন চেপে ধরেছে। সে কথা বলতে পারছে না। চোখ মুখ ঝাপসা লাগছে। আরো একটু সময় নিয়ে ফিসফিস বলে - "হাউ মেনি আওয়ার্স লেফট ফর দ্যাট ইভিনিং?"
জাহিদ ভাই উচ্ছ্বাস লুকোতে পারে না - "আই ন্যূ বেবী- ইউ উইল বি মাই গার্ল"।

পাঁচ
দুই লক্ষ ঊনসত্তর হাজারকে দু'শ ছেষট্টি দিয়ে ভাগ করলে প্রতিদিন এক হাজারের মতো রেপড! লোমেলার অবাক লাগে তিন যুগেও কেউ সংখ্যাটা নিয়ে সংশয় করলো না! কম্পিউটারের স্ক্রিনে অনেকক্ষণ তাকিয়ে আছে সে। পিডিএফ ফাইলে শিরোনাম - "লুজিং দ্য ভিকটিমস - - - রিকাউন্টিং বাংলাদেশ ওয়ার"। একাত্তরের গন্ডগোলকে রিকাউন্ট করা হচ্ছে বিভিন্নভাবে। ফোরামে অনেক রিসোর্স জমা পড়েছে। জাহিদ ভাইয়ের ইফোর্ট খুব ইফেকটিভ হবে এবার! আট পৃষ্ঠার লেখাটা পড়তে পড়তে মুগ্ধতা জাগে বারবার। অনেকদিন এরকম সরল বিশ্লেষণের লেখা চোখে পড়েনি। প্রতি প্যারা পড়তে পড়তে লোমেলার মনে হচ্ছে বাংলা করলে আরো ডিটেইল আনা যাবে। লোমেলার ভাষার গাঁথুনি নিয়ে সবাই অ্যাপ্রিশিয়েট করে।

সারা দিনের চাপটা কমতে শুরু করেছে। ত্রিশ লক্ষের মিথ নিয়ে কাজ হয়েছে অনেক। সময়ের সাথে সাথে মানুষের আবেগ কমেছে, অ্যলায়েন্স হয়েছে বারবার। দুই লক্ষ ঊনসত্তর হাজার নিপীড়নের অযৌক্তিকতা উঠে আসবে এবার। লোমেলা সিরিয়াসলি লেখা শুরু করে, প্রথম লাইন - ফিকশন ক্যান নট সাবস্টিটিট দ্য ফ্যাক্ট। আর এগুতে পারে না। মনে হয় আরো পড়তে হবে। তারপরেই ফ্যাব্রিকেশন হবে। লোমেলার চোখে আবারও নিজের লেখা বইয়ের স্বপ্নটা জেগে ওঠে - "জিরো পয়েন্ট টু সিক্স নাইন মিলিয়ন - ফ্যাক্ট অর পলিটিক্স?" লোমেলারা প্রমাণ করে দেবে ওটা নির্ঘাৎ পলিটিক্স। হয়তো সময় লাগবে খানিক। একাত্তরকে রি-কাউন্ট, রি-ডিফাইন করে ইতিহাসের পাতাগুলো নতুনভাবে জ্বলজ্বল করবে। আপাতত: জি-মেইলে কম্পোজ ক্লিক করে লোমেলা - "ডিয়ার মিস শর্মীলা বোস - - -"।

.
.
.

Read more...

14 October, 2007

মহাসমারোহে শুরু হলো সচলটিভি, এবারের বিশেষ আয়োজন - - -

ফ্রিকোয়েন্সি লাইসেন্স পাওয়া নিয়ে খানিকটা জটিলতা ছিলো, সেটা কাটানো গেছে শেষ মুহুর্তে। তবে কুশীলবদের ফ্রি পাওয়া যাচ্ছিলো না। গত রাতে "ফেলে আসা ছেলেবেলা" ই-বুক আপলোডের পর সবাই হামলে পড়েছে। তবে একটু আগে নিশ্চিত করা গেছে, সবাই আজ রাতের মধ্যে ছেলেবেলা রোমন্থন শেষ করে জেগে উঠবেন, এবং আগামীকাল মহাসমারোহে সম্প্রচার শুরু করছে - সচলটিভি ব্লগভেট লিমিটেড।
ঈদ ও পূজা উপলক্ষে জমজমাট সব আয়োজন নিয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে সচলটিভি। আসুন এক নজরে দেখে নিই সচলটিভির উদ্বোধনী আয়োজন।

সকাল:
৮-০০: পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ
পাঠ করবেন: সংসারে এক সন্ন্যাসী , অদৃশ্য ভগবান, সাধক শঙ্কু, সোমনাথ, জ্বিনের বাদশা।

৮-১০: সচল থাকুন, সচল দেখুন
সচলায়তনের প্রেক্ষাপট নিয়ে কথিকা পাঠ।
উপস্থাপনায় : এস এম মাহবুব মুর্শেদ এবং মৌটুসী

৮-২০: দেশের গানের অনুষ্ঠান - জাগো সচলবাসী জাগো
পরিবেশনায়: দৃশা, গীতিকবি, টুটুল,

৮-৪০: বাংলার উৎসব ও পরিবেশ প্রভাব
গ্রন্থনা ও উপস্থাপনায়: প্রকৃতিপ্রেমিক
আলোচনায়: বিপ্রতীপ

৯-০০: সচল সংবাদ
পাঠ করবেন: থার্ড আই, বিপ্লব রহমান
প্রযোজনায়: অণৃণ্য

৯-২০: টক শো: উৎসবের সেকাল-একাল
উপস্থাপক: উৎস
মূল আলোচক: শোহেইল মতাহির চৌধুরী, হাসান মোরশেদ, ফারুক ওয়াসিফ

৯-৪৫: সচলঞ্চ: লোক সংগীতের অনুষ্ঠান
উপস্থাপনায়: নজমুল আলবাব
পরিবেশনায় : সেলিনা তুলি, মেঘ।

১০-০০: রান্নাবান্না বিষয়ক অনুষ্ঠান : সচল কিচেন
উপস্থাপনায়: সুমন চৌধুরী
বিষয়: মাত্র ৫ মিনিটে ল্যাটকা সেমাই, ল্যাটকা পায়েশ, ল্যাটকা সন্দেশ
সহায়তায়: আয়েশা আখতার

১০-২০: খেলাধুলা পর্যালোচনা : সচল গ্যালারী
গ্রন্থনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনায় : অমি রহমান পিয়াল
অনফিল্ড রিপোর্টার: অচ্ছুৎ বলাই
প্রযোজনায়: আপন তারিক

১০-৩৫: ছোটোদের অনুষ্ঠান: সবজান্তার আসর
উপস্থাপনায়: সবজান্তা

১১-০০: ছড়ায় ছড়ায় সচল বেলা
গ্রন্থনা, উপস্থাপনা, পরিচালনা: লুৎফর রহমান রিটন
প্রযোজনা: মাশীদ

১১-৩০: উৎসবে এপার ওপার
পরিচালনায়: কারুবাসনা
উপস্থাপনায়: শ্যাজা, দিগন্ত, সুবিনয় মুস্তফী
প্রযোজনায়: শশাংক বরণ রায়

১১-৫০: কার্টুন আঁকাবুকি : আয় তোর মুন্ডুটা দেখি
পরিবেশনা ও পরিচালনায় : সুজন চৌধুরী

দুপুর:
১২-০০: উৎসবে মধ্যবিত্তবোধ এবং পুঁজিবাদ
গবেষণায়: ভাষ্কর
উপস্থাপনায়: ইশতিয়াক জিকো
আলোচনায়: সুমন রহমান
প্রযোজনায়: ইমরুল হাসান

১২-২০: ম্যাজিক শো
ম্যাজিশিয়ান: জ্বিনের বাদশা
প্রযোজনায়: অতিথি লেখক

১২-৩০: খন্ড নাটক : তাহারা গন্দম খাইলো
রচনা ও নাট্যরূপ: অমিত আহমেদ
অভিনয়ে: কনফুসিয়াস ও নিঘাত তিথি
নির্দেশনায়: চামেলী হাতে মানুষ
প্রযোজনায়: তারেক রহিম

০১-০০: সাহিত্যে উৎসব এবং জীবন প্রভাব
উপস্থাপনায়: রাসেল, অপালা
আলোচনায়: মাসুদা ভাট্টি, শমিত, পুরুজিত, মুহম্মদ জুবায়ের, কন্থৌজম সুরঞ্জিত, মাহবুব লীলেন, তিমুর
প্রযোজনায়: সবুজ বাঘ

১-৩০: সচল ফ্যাক্ট জানুন, ফ্যাক্ট জানান
আয়োজনে: হার্ভি কাম্পেট

০১-৪০: কবিতার আসর: জনস্রোতে কবিতা
আলোচনায়: শেখ জলিল, জিফরান খালেদ, রানা মেহের, মাহবুবুল হক, নজরুল ইসলাম
কবিতা পাঠে: ঝরাপাতা, মৃন্ময় আহমেদ, মাশা, আরশাদ রহমান, অনিকেত, কর্ণজয়, এরশাদ আলমগীর, মধুশ্রী

০২-০০: মননে একাত্তর
উপস্থাপনায়: এস্কিমো
পরিকল্পনায়: আহমেদ রাহিদ অমিত
আলোচনায়: এম. এম. আর. জালাল
প্রযোজনায়: অচেনা

০২-১৫: বটু মিয়ার বৈঠকখানা
অল ইন অল: বটু মিয়া

০২-৩০: পূর্ণ দৈর্ঘ্য সচল ছবি : অমীমাংসিত
কাহিনী : দ্রোহী
সংলাপ: মুহম্মদ জুবায়ের
চিত্রনাট্য: আরিফ জেবতিক
পরিচালনায়: অলৌকিক হাসান
শ্রেষ্ঠাংশে: অরূপ, মাশীদ, ধুসর গোধুলী, হিমু, কিংকর্তব্যবিমুঢ়, মুশফিকা মুমু, ইশতিয়াক রউফ, নব্য এবং অতিথি লেখক

বিকেল:
০৪-০০: ফান ফ্যাশন শো: সচলে হাসানরা হাসান
গ্রন্থনায়: হাসিব
অংশগ্রহণে: হাসান, ফারুক হাসান, ধ্রুব হাসান, অলৌকিক হাসান, মু নুরুল হাসান, হাসান মোরশেদ, রাগিব হাসান, ইমরুল হাসান, মেহদী হাসান খান।
প্রযোজনায়: ৩০ নং কয়েৎটুলী

০৪-১৫: মুখফোঁড়ের ১৫ মিনিট
আদমচরিত
মুখফোঁড়ের একক পরিবেশনা

০৪-৩০: বিজ্ঞানে উৎসব
উপস্থাপনায়: অভিজিৎ, বন্যা
আলোচনায়: ফরিদ আহমেদ, অপবাক, দীক্ষক দ্রাবিঢ়, দিগন্ত

০৪-৪৫: আড্ডার আসর: চা'য়ের কাপে ঝড়
উপস্থাপনায়: আড্ডাবাজ
অংশগ্রহণে: দূর্বাশা তাপস, সুশান্ত, অয়ন, কেমিকেল আলী, আবু আহসান, আসিফ দীপঙ্কর, অর্ক, জলদস্যু, এহেসান লেলিন, আশিক আহমেদ, যুথচারী

সন্ধ্যা:
০৫-০০: লাইন ছাড়া চলে রেল গাড়ী (১৮+)
লাল মিয়ার বিশেষ পরিবেশনা

৫-১৫: টেলিফিল্ম: বালকের বিষন্নতা বিকিকিনি
রচনা: মাসকাওয়াথ আহসান
পরিচালনায়: তীরন্দাজ
অভিনয়ে: সৌরভ
প্রযোজনা: রাহা

০৫-৪৫: সীমানা পেরিয়ে বাংলা প্রযুক্তি
উপস্থাপনায়: এস এম মাহবুব মুর্শেদ, শামীম
আলোচনায়: রাগিব হাসান, রিজওয়ান, অপর্ণা
প্রযোজনায়: মেহদী হাসান খান

০৬-০০: সচল স্পট লাইভ
বিভিন্ন দেশ থেকে উৎসব রিপোর্টিং সরাসরি।
স্টুডিও হোস্ট: আসাদুজ্জামান রুমন
সমন্বয়ে: দর্শক, ইফতেখার চৌধুরী, অর্ক, উদ্ভ্রান্ত
রিপোর্টার: যখন যাকে লাইভ পাওয়া যাবে।

০৭-০০: সচল ক্যাচাল
বিষয়: বিয়ে - পরকীয়া - শালী - ললনাজট এবং প্রবাসে দৈবের বশ
পরিকল্পনা: অচ্ছুৎ বলাই
মূল সঞ্চালক: হিমু
অংশগ্রহণে: অরূপ, ধুসর গোধুলী, হাসিব, কনফুসিয়াস, অনিকেত, ইরতেজা, কেমিকেল আলী

০৭-৪৫: তার এক তারেক সমগ্র
উপস্থাপনা: কনফুসিয়াস (নুরুল হাসান তারেক)
পরিবেশনায়: তারেক, আপন তারিক, তারেক রহিম

রাত
০৮-০০: ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান: সচল সমাবেশ
গ্রন্থনা: হাসান মোরশেদ
গবেষণা: শোহেইল মতাহির চৌধুরী, মুহম্মদ জুবায়ের
উপস্থাপনায়: আরিফ জেবতিক, অর্না জেবতিক, অমি রহমান পিয়াল
অংশগ্রহণে: সকল সচল
প্রযোজনায়: অচ্ছুৎ বলাই

১১-৫৯: সমাপ্তি ঘোষণা

সৌজন্যে:
আনোয়ার সাদাত শিমুল
.
.
.

Read more...

13 October, 2007

আমার ছেলেবেলার জ্বিনগুলি

শৈশব মানে গল্প শোনার দিন। আমার গল্প শোনা শুরু হয়েছিল - জ্বিন পরী ও ভূত প্রেতের কাহিনী ঘিরে। সকালে দলবেধে মক্তবে যেতাম আরবী পড়তে। মাটির দালানে ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে ভীষণ আগ্রহে আরবী পড়া। প্রথমে কায়দা, তারপর সিরফা, সবশেষে কোরআন শরীফ। বইগুলো বাড়ী আনতাম না। মক্তব ঘরের বইয়ের তাকে রেখে আসতাম। আমাদের প্রবল বিশ্বাস - রাতের বেলা 'উনারা' (নাম মুখে নেয়া বারণ!) ইবাদতে আসেন মক্তব ঘরে, আমাদের রেখে যাওয়া বইগুলো পড়েন। কোনোদিন আমার কায়দা 'উনাদের' নজরে পড়তো না বলে ভীষণ মন খারাপ করতাম। ওদিকে বাবু-আরিফ-শহীদরা খুশি। কারণ, তাদের কায়দার পাতার ভাঁজে রাখা ময়ুরের পালক ঠিক জায়গায় নেই। দশ নম্বর পাতা থেকে আঠারো নম্বর পাতায় চলে গেছে। সকালের আলো ফোটার সাথে সাথে নিশ্চয় 'উনারা' তাড়াহুড়া করে ময়ুরের পালক ভুল পাতায় রেখে চলে গেছেন!

আমাদের বন্ধুদের মাঝে চলতো গল্প বিনিময়। মোটামুটি সবাই জ্বিন দেখে ফেলেছে, আমি বাকি। অনেক চেষ্টা করেও জ্বিন দেখি না। একদিন শুক্রবারে গেলাম মক্তব ঘরের কাছে, সাহস করে জানালায় তাকাতেই দেখি কালো বিশাল কিছু একটা দাঁড়িয়ে আছে। চারকোণা মাথা, কালো স্বচ্ছ শরীর। এপাশ থেকে ওপাশে দেখা যাচ্ছে। আমি ভয়ে দিলাম দৌড়। আমার দৌড় দেখে মক্তবের সামনে ঘাস খাওয়া ছাগলটা তেড়ে আসলো আমার দিকে। এবার আমি জান-প্রাণ নিয়ে দৌড়। পরদিন গল্পের আসরে জ্বিনের দাঁতগুলো অনেক বড় বড় হয়ে গিয়েছিলো, আর আমি রাস্তা পার হয়েছিলাম ঐ ছাগলের পিঠে ভর করে!

স্কুলে যাওয়ার পথে ছিল বড়সড় বাঁশ ঝাড়। তার পাশে বিশাল এক তাল গাছ। ছোট্ট শরীরের উপর ভর করে মাথা তুলে উপরে তাকিয়ে নিমিষেই গুনে দেখেছি - একশ' হাতের চেয়েও লম্বা ঐ তাল গাছ। বাতাস বইলেই বাঁশ ঝাড়ে এক অদ্ভুত শোঁ শোঁ শব্দ হতো। মনে হতো বাতাস ভেদ করে কেউ যেন ধেয়ে আসছে। অসংখ্য দিন মোড়ে এসে দাড়িয়ে ছিলাম কারো সংগী হবো বলে, একা একা ঐ রাস্তা পার হতাম না ভয়ে। একদিন স্কুলে যাওয়ার সংগী কেউ নেই। ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বসে আছি। একটাই ভয়, পথের ঐ তাল গাছ। হঠাৎ ছোটো কাকা পরামর্শ দিলো - যাওয়ার পথে তালগাছের দিকে তাকিয়ে 'স্লামালাইকুম জ্বিন মামা' বলে গেলে কোনো সমস্যা হবে না। দুরুদুরু বুক নিয়ে রওনা দিলাম। তালগাছের কাছে আসতেই সেই বাঁশ ঝাড়ের বাতাস, সাথে আচমকা উপর থেকে কোন গাছের ডাল যেন ভেঙে পড়লো। আমি চিৎকার করে সালাম দিয়েই দৌড়। তবুও বিশ্বাস জন্মে - সালাম দেওয়ায় সেদিন জ্বিনটা আমাকে মাফ করে দিয়েছে, নইলে তো ঘাঁড় ধরে এক টানে এক্কেবারে তাল গাছের উপরে নিয়ে যেতো! এরপর বন্ধুরা এক সাথে আসা যাওয়ার পথে আস্তে করে বিনয় নিয়ে তালগাছকে সালাম দিই। ঐ তাল গাছ এবং তালগাছের বাসিন্দা জ্বিন মামারা প্রায়ই আমাদের কোমলমতি স্বপ্নে এসে দেখা দিতো। যারা সালাম দিতে ভুলে যেতো, ওরা রাতে স্বপ্ন দেখতো সাদা পাঞ্জাবী পড়া, লম্বা দাঁড়ির কেউ একজন ভয় দেখাচ্ছে! একবার বাংলা পরীক্ষার দিন আমি জ্বিন মামাদের সালাম দিতে ভুলে গেলাম, সেজন্যই বানান ভুল করে নম্বর কম পেলাম!

পাশের বাড়ীর ইরান কাকা আসতেন আমাদের অংক শেখাতে। বিশাল বিশাল গুন অংক, তিরিশ হাজার তিনশ তিরিশকে তিন হাজার তিনশ তিরিশ দিয়ে গুন করলে কতো হয়! এরকম অংক, ভুল হলে আরো বড় অংক দেয়া হতো। একবার ইরান কাকা একটানা তিনদিন আসলেন না। পরে আমরা জিজ্ঞেস করলাম - কোথায় গিয়েছিলেন?
ইরান কাকা বললেন - 'রোকাম শহরে'।
রোকাম শহর? এটা আবার কোথায়?
উত্তরে যা শুনলাম! শুনে আমাদের গায়ের লোম খাড়া হয়ে উঠে।
রোকাম শহর হলো জ্বিনেদের শহর। ওখানে কেবল জ্বিন-পরীরা থাকে।
শুনলাম, ইরান কাকাকে নাকি একবার জ্বিনেরা তুলে নিয়েছিল। তখন তিনি কলেজে পড়তেন। একদিন রাত জেগে পড়ছেন। হঠাৎ দরজায় টোকা। ভাবলেন - বন্ধু বান্ধব কেউ হবে। দরজা খুলতেই দেখেন, দুইজন হুজুর দাড়িয়ে। হাতে মিষ্টির বাটি। ইরান কাকার মাথায় ফুঁ দিয়ে এক হুজুর বললো - 'অনেক রাত জেগে পড়ালেখা করিস, নে মিষ্টি খা।‘ মিষ্টির ঘ্রাণ নাকি এতোই মোহনীয় ছিল, ইরান কাকা নিজেকে সংবরণ করতে পারলেন না। একটি মিষ্টি মুখে দেয়ার পর আর কি হলো মনে নেই। ঘুম ভেঙে দেখেন বিশাল এক খাটে উনি শুয়ে আছেন। চারপাশে জ্বিনেরা দাড়িয়ে আছে। কেউ বিশাল পাখা দিয়ে বাতাস করছে। উনি তখন রোকাম শহরে। তারপর জ্বিনের রাজা দেখা করতে এলো। বললো - ইরান কাকাকে রোকাম শহরে থেকে যেতে হবে। বাচ্চা জ্বিনদের জন্য নতুন স্কুল খোলা হয়েছে। সেখানে অংক মাস্টারের অভাব। তাই পৃথিবীতে ঘুরে ঘুরে অংকের মাস্টার জোগাড় করা হচ্ছে। ইরান কাকার নাম ওদের লিস্টে গেছে। ইরান কাকা রাজী হলেন না, কান্নাকাটি শুরু করলেন। জ্বিনরা অনেক সুন্দর সুন্দর শার্ট উপহার দিলো, দারুণ দারুণ মজাদার সব খাবার। এরপরও ইরান কাকা বললেন - 'আমি রোকাম শহরে থাকবো না, আমাকে বাড়ী দিয়ে আসো।' শেষে জ্বিনেরা রাগ করে তাকে এক ঘরে বন্দী করে রাখলো। খাওয়া দাওরা বন্ধ। এদিকে ইরান কাকার বাবা-মা কান্নাকাটি করে অস্থির। সাত-পাহাড়ের পীর আনা হলো। তিন দিনের মাথায় পীর খুঁজে পেলো - ইরান কাকা রোকাম শহরে বন্দী। চেষ্টা তদবীর করে জ্বিন রাজার সাথে বৈঠক বসানো হলো। অনেক বুঝিয়ে দেন-দরবার করে ইরান কাকাকে ফিরিয়ে আনা হলো। এরপরও জ্বিনেরা ইরান কাকার পিঁছু ছাড়লো না। মাঝে মাঝে রোকাম শহরের ঐ স্কুলে যেতে হয় বার্ষিক পরীক্ষার সময়!

তখন ক্লাস থ্রি-তে পড়ি। একদিন হঠাৎ করে আমাদের ক্লাসের শাহাবুদ্দিনকে জ্বিনে ধরলো। ক্লাসের মাঝে হো হো হাসি দিয়ে সবাইকে ভয় পাইয়ে দিলো। একে ভয় দেখায়, ওকে ভয় দেখায়। আমরা কেউ ওর পাশে বসি না। শাহাবুদ্দিন একা একা কথা বলে, গান গায়, হাসে। হুজুর স্যার এসে শাহাবুদ্দিনের মাথায় দোয়া-দুরুদ পড়ে ফু দিলেন। শাহাবুদ্দিন স্যারের দিকে বড় বড় চোখ নিয়ে তাকিয়ে থাকলো। হুজুর স্যার অফিসে গিয়ে বললেন, খুব খারাপ জিনিস ভর করেছে। এটা আবার আমাদের তাজুল ইসলাম শুনে ফেললো। আমাদের সবার কানে কানে খবর হলো - খুব খারাপ জিনিস ভর করেছে। শাহাবুদ্দিনের বাড়ীতে খবর পাঠানো হলে তার বাবা-মা এসে নিয়ে গেলো। এরপর আমাদের মাঝে শাহাবুদ্দিনকে নিয়ে নানান গল্প হয়। কেউ কেউ বললো - জ্বিন নয়, শাহাবুদ্দিনকে পরী ধরেছে। আরেকজন ধমক দেয় - পরী ধরে সুন্দর সুন্দর ছেলেদের। শাহাবুদ্দিনের মতো ভুটকাকে পরী ধরবে কোন দু:খে? দশ পনের দিন পরে শাহাবুদ্দিন স্কুলে ফিরলো। হাতে তাবিজ, গলায় মাদুলি। মাথায় সুগন্ধি তেল। সাহসী কয়েকজন শাহাবুদ্দিনের পাশে গিয়ে বসে। শাহাবুদ্দিন কোনো কথা বলে না। খাতার মধ্যে কী কী সব আঁকিবুকি করে। টিফিন আওয়ারে দেখা গেলো শাহাবুদ্দিন পিপড়া খাচ্ছে , দেয়ালে সারি বেঁধে চলা পিপড়াদের ধরে একটা একটা করে মুখে পুরে দিচ্ছে। কে একজন গিয়ে হুজুর স্যারকে খবর দিলো - 'স্যার শাহাবুদ্দিন পিপড়া খায়।' স্যার ধমক দিলেন - 'শাহাবুদ্দিন খায় না, জ্বিনে খায়।'
খারাপ জ্বিনটা আর শাহাবুদ্দিনকে ছাড়লো না। জ্বিন শাহাবুদ্দিনের স্কুলে আসা ওখানেই শেষ। শুনেছি, পরে শাহাবুদ্দিন মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছিল।

পরিশিষ্ট:
সময়ের সাথে অনেক কিছু পাল্টে গেছে। মাটির দালানের মক্তব ভেঙে গেছে একানব্বইয়ের ঘুর্নিঝড়ে। ইরান কাকা অনেক বছর হলো মিডল ইস্টে। কে জানে হয়তো ওখান থেকেও রোকাম শহরের স্কুল-কলেজ পরিদর্শনে যায়! শাহাবুদ্দিনের কোনো খবর পেলাম না। তবে পুরনো বন্ধুরা তাকে জ্বিন শাহাবুদ্দিন বলেই স্মরণ করে। গতবার গ্রামে গিয়ে দেখি তালগাছটি নেই, বাঁশ ঝাড়ও হাল্কা হয়ে এসেছে। ছেলেমেয়েরা দল বেধে স্কুলে যাচ্ছে। ওদের মনে তালগাছ কিংবা জ্বিন বিষয়ক কোনো ভীতি আছে কিনা জানি না। তবে মাঝে মাঝে অলস দুপুরে আমার স্মৃতিতে ভর করে ছেলেবেলার জ্বিনগুলি!


.
.
.

Read more...

11 October, 2007

চিঠি

কলেজে পড়ার সময় ঢাকায় বিচ্ছিন্ন জীবন আমার। হঠাৎ মনে হলো - সবাইকে ছেড়ে এ কোথায় এলাম! সন্ধ্যা হলেই মন খারাপ। এক কিশোরের হু হু চাপা কান্না মুয়াজ্জিনের সান্ধ্য আজানের সাথে মিশে যায়। এভাবে দিন যায়। তারপর একদিন বাসার সবার কাছে, স্কুলের বন্ধুদের কাছে চিঠি লেখা শুরু করলাম। বিশাল বিশাল চিঠি; কোন ক্লাসে কি হলো, কোন স্যার কি রকম, বাসে কোনদিন কোন লোক কি কি ঝগড়া করলো এসব। মাস কয়েক পরে মনে হলো, এটার চেয়ে বড় কোনো থেরাপী নেই। পরীক্ষার আগের রাতে বই খোলার আগে চিঠি লিখি, মন ভালো হয়ে যায়। ভীষণ অভিমানী কিছু চিঠি লেখার পর মনে হয়েছে - পোস্ট না করি, থাক। আর পোস্ট করা হয়নি, অথচ মন খারাপটা কেটে গেছে।

ধীরে ধীরে মোবাইল এলো। কমলো চিঠি লেখা। বিশ্ব ডাক দিবসের স্লোগান হলো - 'চিঠি লিখুন, চিঠি স্থায়ী'। আমারও চিঠি লেখার অভ্যাস কমে গেলো। দু'য়েকবার যা-ও লিখতে হয়েছে ভীষণ ক্লান্তিময় চেষ্টা। দু'টাকার হলুদ খাম তখন কেবলই স্মৃতিময়তা। মিরপুর পোস্ট অফিসের বিবর্ণ দালানে যাওয়া হয় না তেমন। চাকরীর আবেদনে অনলাইন কার্যকলাপ। চিঠি লেখার দিনগুলো ক্রমান্বয়ে ধুসর হয়ে উঠে।

চিঠি লিখে উত্তর পাবো সেটা খুব বেশী হয়তো প্রত্যাশা করতাম না। তাই ফিরতি পত্র পেলে আনন্দের সীমা থাকতো না। স্কুল জীবনে টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে রেডিও অনুষ্ঠানে চিঠি লিখেছি অনেক। সম্ভবত: সবচে' বেশী চিঠি বাংলাদেশ বেতার, ১২১ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউতেই লিখেছি, এর আগে ১৫ নিউ বেইলী রোডে, তখনকার রেডিও বাংলাদেশ। প্রভাতী অনুষ্ঠান মহানগর, ম্যাগাজিন দর্পন, উত্তরণ। বিভিন্ন রকম সংগীতমালা। চিঠি পত্রের অনুষ্ঠান বিনিময়। একদিন হঠাৎ আমার ঠিকানায় এলো - বিজ্ঞাপন কন্ঠ নাজমুল হুসাইনের চিঠি। কী আনন্দের বিকেলই না ছিল সেদিন! পত্রিকায় 'শব্দজব্দ'এর ঠিকানা দেখে চিঠি লিখেছে বেশ কয়েকজন। কয়েক বালিকা প্রেম করার উদাত্ত আহ্বান নিয়েও চিঠি লিখেছিলো। বাসার সবাই হাসাহাসি। আর আমার সদ্য কৈশোরের অনভ্যস্ত লজ্জা। ডয়েচে ভেলে, ভয়েস অব অ্যামেরিকার মিতালী আর বিবিসির প্রীতিভাজনেষু-তেও চিঠি লিখতাম। সব চিঠির জবাব না পেলেও বছরের শুরুতে ক্যালেন্ডার, ভিউকার্ড, শুভেচ্ছাপত্রগুলো জমিয়ে রাখতাম যত্ন করে। এখনো দেশে গেলে ড্রয়ার খুলে পুরনো ফাইল বের করি। আলতো করে হাত বুলাই। ফিরে আসে পুরনো দিনের ঘ্রাণ।

বিদেশে আসার পর প্রথম দিকে খুব মেইল পেতাম। বন্ধু-স্বজনদের ই-পত্রে মেইল বক্স ভরপুর। তারপর ধীরে ধীরে ব্যস্ততা জীবনকে গ্রাস করে। ইনবক্সটা ফাঁপা হয়ে ওঠে। কখনো বা কর্পোরেট আদলে দুয়েকটা থ্যাংকস গিভিং মেইল, স্পেশাল ডে, জাস্ট টু কীপ ইন টাচ, পাবলিক রিলেশনের পারসোনালাইজেশন। গত বছর একদিন রুমে ঢুকেই চিঠি পেলাম, সাদা খাম - আগামী মাস থেকে বাসা ভাড়া বাড়ানো হলো। হায়রে চিঠি! আমিও মেনে নিই, বুঝি - বিষয় ও বাসনার বিষ অমৃততে।

শ্রম বাজারে টিকে থাকার জন্য, কেরাণী ঘরের রাজনীতিতে নিজেকে সামনের সারিতে রাখার জন্য অফিসিয়াল লেটার লিখতে হয় নিয়মিত। অনেক সুন্দর করে গুছিয়ে ঋণাত্বক কথা বলতে হয়। লেসিকারের সবুজ কভারের বিজনেস কম্যুনিকেশন বই কিংবা লেসিকার যোগাযোগে নতুন প্রলেপ দিয়েছে। পাশের টেবিলের বাবুটির সাথে দিনে কথা হয় ৫ লাইন, ই-মেইল আদান প্রদান হয় ১৫/২০টি। মনে হয় - আশে পাশে কোথাও লেসিকার সাহেব উঁকি দিয়ে দেখছে, হাসছে আর বলছে - খেলারাম খেলে যা।

আজ শেষ বিকেলে ফোন পেলাম ফ্রন্ট ডেস্ক থেকে - 'তোমার নামে চিঠি আছে'। হাসি পায়। আমাকে আবার কে চিঠি লিখবে। যতসব হাবিজাবি কোম্পানী তাদের নিউজ লেটার পাঠায়। নিতান্তই ব্যাবসায়িক ধান্ধা অথবা স্রোতে টিকে থাকা। কোথায় সে হলুদ খামের চিঠি! কোথায় সে ঘ্রাণ! ভীষণ অনাগ্রহে কমলা রঙের খাম হাতে নিলাম। টিএনটি। প্রেরকের ঠিকানা না দেখেই খুললাম। মুহুর্তের জন্য হলেও চোখ ভিজে উঠেছে। নাজমুল আহসান খান, প্রিয় নাজমুল ভাই। কার্ডে লেখা আছে -

Eid for eternal joy,
happiness for us all
you are a part of it
let's celebrate a colorful Eid!

আবার সেই পুরনো চিঠির ঘ্রাণ পেলাম আজ অনেকদিন পর।

কাল/পরশু ঈদ।
নীল নির্বাসনের পৌণপুঁনিক জীবন খুব কালারফুল হয়ে ওঠে না।

ব্লগের সকল সুহৃদকে ঈদ ও পূজার শুভেচ্ছা।
.
.
.

Read more...

07 October, 2007

বৃষ্টির সন্ধ্যায় ভালোলাগা বিকিকিনি

পকেট খানিকটা ভারী থাকায় আজ সন্ধ্যায় কাঁচ ঘেরা তাপ নিয়ন্ত্রিত দোকানে বসি। প্রচন্ড খিদে নিয়ে গপাগপ কামড় দিই, মুরগীর বুক - রান। গলায় আঁটকে গেলে কোমল পানীয়ে চুমুক। ঝাঁঝে হয়তো চোখে পানি এসে যায়, তারপর - আলুর ফরাসী ভাজা; মরিচ টমেটোর সচে মাখিয়ে নিই। এ সময়টায় বারবার মিরপুর এসে আমার মনে হানা দেয়। আমার প্রিয় শহর, ভালোবাসার শহর, স্মৃতির শহর। বন্ধুত্বের শহর। দশ নম্বর গোল চক্করের গ্রামীণ রেস্তঁরা, চার টাকা দামের বড় বড় সিংগাড়া। তেতুলের সচ, সাথে শষা পিঁয়াজের সালাদ। ঘন্টা ধরে আড্ডা, গুটিকয় বন্ধু, প্রেম-অপ্রেমের সংকটে কারো উদ্ভ্রান্ত মন। অথবা আরেকটু দূরে একটু ঘষামাজা করে জমিয়ে উঠা পূর্ণিমা রেস্টুরেন্ট, তেল ছাড়া পরোটা, স্পেশাল চা - চিনি কম, দুধ বেশী। মাঝে মাঝে বাজারের মাঝখানে অদ্ভুত রহস্যময় চেহারার গম্ভীর চা দোকানদার, ঘন দুধের সর উঠা গরম চা। রিকশা ভাড়া বাঁচিয়ে দুটাকার বাদাম কিনে খেয়ে খেয়ে ঘরে ফেরা। এসব স্মৃতির হানাহানিতে টের পাই না কখন পাশের টেবিলের কিশোর কিশোরীগুলো উঠে গেছে। এসে বসেছে মধ্য বয়সের এক বাবা, সাথে তার দুই ছেলে মেয়ে। নিজের প্লেট থেকে, আমি আড়চোখে দেখি, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই তুলে দিচ্ছে ছেলের প্লেটে। অর্ধেক গ্লাস স্প্রাইট মেয়ের গ্লাসে।

আমার মা সেদিন ফোনে বলছিলো - 'তোর ওখানে কি বুট-পিঁয়াজো পাওয়া যায়? বেগুনি?'
আমি হাসি। বলা হয় না - 'আমার ভীষণ হালিম খেতে ইচ্ছে করছে আজ।'

সামনের টেবিলে দু'জন এসে বসেছে তখন। বাবার বয়েসী শ্বেতাঙ্গ পুরুষ, সাথে প্রাক যৌবনা থাই কিশোরী। লোকটি বাবা নয়, কিশোরীটি মেয়ে নয়। কেউ প্রেমিক নয়, প্রেমিকা নয়। ভোক্তাপ্রধান সমাজে ওরা কেবলই ক্রেতা বিক্রেতা। এ সন্ধ্যায় ভালোবাসার নামে তারা নিরাপত্তা অথবা বিশ্বাস কেনার অভিনয় করছে। রোদে পোড়া খসখসে চামড়ার সাদা লোকটি তখন খুব কুৎসিতভাবে মেয়েটির গলায় ঘ্যাঁসঘ্য্যঁস শব্দে আদর করছে।

সিঁড়ি বেয়ে সুপার স্টোরে ঢুকি। গেটে দেখলাম - চার ভারতীয়কে আঁটকে দেয়া হয়েছে। সিক্যুরিটি এক এক করে বিল আর সওদা মেলাচ্ছে। এটা প্রায়ই চোখে পড়ে। দক্ষিণ এশীয় চেহারার প্রতি কিছু থাই হারামজাদার অহেতুক সন্দেহ আছে। তাদের কাছে ইউরোপ-অ্যামেরিকার সাদা চামড়ার লোক মানে ঈশ্বর, পকেট ভর্তি ডলার কিংবা দু'তিনটি ক্রেডিট কার্ড। দেদারসে কিনে নেয় - পন্য ও সেবা। অন্যদিকে কালো চেহারার লোকগুলো যেন শপিং সেন্টারে ঢুকে উইন্ডো শপিং কিংবা চুরির জন্য। আজ ভারতীয়গুলো খানিকটা ভড়কে গেছে। পাশ কাটিয়ে আমি ভেতরে যাই। সারি সারি দোকান। কিডস কর্নারে একটি বাচ্চা বায়না ধরেছে খেলনা গাড়ী কিনবে, মা'টি বাচ্চাকে শান্ত করতে পারছে না। আমি হাঁটতে হাঁটতে এপাশ থেকে ওপাশে যাই। আসলে কোথাও যাবার নেই, কিচ্ছু করার নেই। তাই অহেতূক চলা। আচমকা টের পাই আমি ভিক্টোরিয়া'স সিক্রেট বিভাগে! হায় হায়, এলাম কই? দড়ি ছেড়া গরুর মতো ঢু মেরে জুতার শেলভের সামনে যাই। আরেকটু পরে - এক ষাটোর্ধ প্রেমিক ঝাড়ু কিনছে, সাথে অন্তসত্বা তরুণী প্রেমিকা। ট্রলিতে ডিটারজেন্ট পাউডার, নুডুলস, চাল, সবজি, মিস্টার বীনের থাই সিডি। দুজনের মুখ হাসি খুশি। মেয়েটি ভাবছে - এ অনেক সুখের জীবন, আর্থিক নিরাপত্তার চেয়ে বড় কিছু নেই। ধুসর চোখে বৃদ্ধ ভাবছে - শুধু শুধু জীবনের আসল সময়টা বরফের দেশে কাটিয়ে দিলাম, এমন কেয়ারিং বউ ইউরোপে কোথায়! থাই প্রেমিকাটিকে আপাত: ঈভ মনে হয়, সে অ্যাডাম। নিষিদ্ধ আপেল বলে কিছু নেই। ইস, কেনো আরো আগে দেখা হলো না দু'জনার! সুখী পরিবারের দৃশ্য থেকে আমি চোখ সরাই। ওরা সুখের লাগি চাহে প্রেম, প্রেম মিলে না।

বাইরে এসে দেখি বৃষ্টি ভেজা পথ। তখনো থামেনি, বিরক্তিকর গুড়িগুড়ি বৃষ্টি। টেম্পোর জন্য রাস্তায় দাঁড়াই। বৃষ্টি বাড়ছে। লাইনের টেম্পো আসলে আমি উঠে বসি। আরো তিনটি সীট খালি। আরো তিন জনের জন্য অপেক্ষা। পাঁচ মিনিট, দশ মিনিট, পনের মিনিট। কেউ আসে না। বাকী সহযাত্রীরা চুপচাপ, কারো কোনো তাড়া নেই, অথচ আমার ভেতরে ভীষণ তাড়া। এ এক বিরক্তিকর অপেক্ষা। বৃষ্টি বেড়েই চলেছে। হঠাৎ ঝলক মেরে দুই রমণী গাড়ীতে উঠে। দু;জনই পুতিন মামার ভাগ্নী, রাসপুটিনের পাশের ফ্লাটে থাকতো একসময়। তুলনামূলক তরুণীটি আমার পাশে বসে। হাতে ম্যাপ। কী যেনো জিজ্ঞেস করলো। আইপডের প্লাগ সরিয়ে মনোযোগ দিই। রূপবতীর ডাক অগ্রাহ্য করলে রূপের অভিশাপ লাগে, কোথায় পড়েছিলাম (!), সেই অভিশাপের আগুন মারাত্মক। তাই আমি আলাপী হই। প্রশ্নের জবাবে জানাই - তরুণীর ধারণা ভুল, আমি মালয়েশিয়ান কিংবা ইন্দোনেশিয়ান নই। ম্যাপ ধরে আমি তাকে বুঝাই - এটা সুকুমভিত রোড, আমরা আছি সিটি হলের সামনে, বামে গেলে নর্থ, ডানে গেলে বীচ রোড ধরে সাউথ। বাইরে তখন ঝমঝম বৃষ্টি। আচমকা হাঁটু পানির জলদস্যুর কথা মনে পড়ে। জার্মানী থেকে কোনোভাবে এ দৃশ্য কল্পনা করলেই তার হানা দেয়ার সম্ভবনা ছিল। আমার কেন জানি মনে হয়, বৃষ্টি না থামুক, বাকীজন না আসুক, টেম্পো না চলুক। আমি ভুগোলের মাস্টার হয়ে শহরের পথ ঘাট চেনাই অনেকক্ষণ। এসময় তরুণীদ্বয় কী কী আলাপ করে নিজেদের মাঝে। চট করে বলে "আমরা সাউথে যাবো, ভুল গাড়ীতে উঠেছি" - দু;জনই নেমে পড়ে। তিন সীট খালী রেখেই টেম্পো তখন চলতে শুরু করেছে। আইপডে শ্রীকান্ত বৃষ্টি ঝরে, ঝরে মধুর দানায় - - -।

বৃষ্টি ভেজা কালো পিচের রাস্তা তখন সোডিয়াম আলোয় চিকচিক। আমার মনে হয় - ঘরে ফেরার তাড়া নেই কোনো। ইচ্ছে করে এ ঝমঝম বৃষ্টিতে হাঁটি অনেক পথ।
.
.
.

Read more...

04 October, 2007

কষ্টের নদী


ছেলেটি বড্ড নি:সঙ্গ। একা। রাতের নিস্তব্ধতা তাকে স্পর্শ করে না। একটি আধা তৈরি বাড়ির তিনতলায় শুয়ে আছে সে। ঠিক শোয়া নয়, আধশোয়া। কোমর পিলারের সাথে ঠেস দিয়ে মাথাটা উপরে তোলা। ছেলেটি চাপা হাই দেয়। গভীর রাতে পেঁচার ডাকের সাথে মিশে যায় সে শব্দ। উঠে দাঁড়ায় সে। ঠাস ঠাস করে ঝাড়া দেয় প্যান্টে। ধুলো কতটুকু ঝরলো দেখতে পায় না সে। দেখতে ইচ্ছে করে না তার। তারাহীন আকাশে তাকিয়ে থাকে কয়েক পলক। চাঁদ দেখতে ইচ্ছে করে। মনে পড়ে যায় ছোটবেলার কথা। মায়ের কোল, আয় আয় চাঁদ মামা - - -। নিবিড় উষ্ণতা, গভীর ঘুম আর সিন্দাবাদ হওয়ার স্বপ্ন। মাত্র কয়েক বছরে স্বপ্নগুলো ঝরে গেছে ইউক্লিপটাসের রক্তশুন্য বাকলের মতো।

তারপর অন্য জীবন, অন্য স্বাধ, অন্য স্বপ্ন। প্রচুর ক্ষমতা। বড় নেতাদের বসার ঘর। আর রাতদিন অপারেশন। কিন্তু সব পাল্টে গেছে গত রাতে। ধরা পড়েছে তার দলের দু'জন। সে পালালো। আজ দ্বিতীয় রাত।

---খোলা আকাশ। বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ। ছেলেটি শুয়ে পড়ে। নিজেকে খসখসে শুকনো ঝরাপাতার মতো মনে হয় তার। ভাবতে ভাবতে চোখে জল এসে যায়। আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়। কোন হিসাব মেলাতে পারে না। তার মনে হয় - থৈ থৈ কষ্টের নদীতে সে সাঁতার কাটছে। সে নদীর জলে জ্বলছে আগুন।


__________________

এতটুকু ছাপা হয়েছিলো বন্ধুসভায় ১৯৯৯ সালে, 'যে জলে আগুন জ্বলে' ফিচারে। সচলায়তনে দেয়ার পর, মন্তব্যের ঘরে কাহিনী এগিয়ে উস্কিয়ে দিয়েছিলেন ব্লগার দ্রোহী। তার সুত্র ধরে আমারও খানিকটা টান মারা। এ দুটি খন্ড নিচে -
_________________
_________________



দ্রোহী | বিষ্যুদ, ২০০৭-১০-০৪ ০৬:০০

কষ্ট সইতে পারে না সে একদমই। ছোটবেলায় যখন ব্যথা পেত কোথাও পড়ে গিয়ে - ভেউ ভেউ করে কান্না জুড়ে দিতো। তখন বাবা এসে কোলে তুলে নিতেন, পরম আদরে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন। তবুও তার কান্না থামতো না।

বাবা হাসতেন, আর বলতেন - আমার পাগল ছেলে। এভাবে কাঁদতে আছে? তারপর কান্না ভোলানোর জন্য বাবা তাকে বাইরে ঘুরতে নিয়ে যেতেন।

মাঝে মাঝে যখন খুব ঘুরতে ইচ্ছা করতো। তখন সে ব্যথা পাওয়ার ছুতোয় কান্না জুড়ে দিতো। বাবা তখন তাকে বাইরে ঘুরাতে নিয়ে যেতেন।

"ধুর ছাই" বলেই ছেলেটি বিছানা থেকে উঠে বসে। জানালা দিয়ে বাইরে তাকায়। তারাহীন আকাশে চাঁদ খুঁজে বেড়ায় সে। মনে পড়ে যায় ছোটবেলার কথা। মায়ের কোল, আয় আয় চাঁদ মামা - - -।

হাতে ধরে থাকা মদের বোতলটা সজোরে ছুড়ে মারে জানালা দিয়ে। শক্ত পিচের রাস্তায় ঠনাৎ করে একটা শব্দ শোনা যায় - বোতলটা হাজারো খন্ডে ভেঙ্গে চৌচির হয়ে ছড়িয়ে পড়ে সারা রাস্তা জুড়ে। বোতল ভাঙার শব্দটা শুনে কেমন যেন এক অদ্ভুত রকমের আরাম বোধ হয় মনে। আবারও তার মনে হয় - থৈ থৈ কষ্টের নদীতে সে সাঁতার কাটছে। সে নদীর জলে জ্বলছে আগুন।

পাশে পড়ে থাকা মোবাইল ফোনটা তুলে নিয়ে একটি বিশেষ নাম্বারে ফোন করে। অস্পষ্টভাবে কিছু কথা বলে সে। তারপর ফোনটা নামিয়ে রেখে হা হা করে হেসে উঠে। আজ সে উৎসব করবে। তার মরণ উৎসব। জীবন্ত ও মৃত মাংসের উৎসব।

চোখ বুঁজে কিছুক্ষন আনমনা হয়ে থাকে - জীবনের কোন অর্থ খুঁজে পায় না সে। শুয়ে পড়ে সে চিৎ হয়ে। আবারো মনে পড়ে যায় ছোটবেলার কথা, মায়ের মুখ -মাথার ভেতরে টংকারে টংকারে আবৃত্তি হতে থাকে –

আয় আয় চাঁদ মামা টিপ দিয়ে যা
চাঁদের কপালে চাঁদ টিপ দিয়ে যা॥

ঘুমিয়ে পড়ে সে। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখে সে – সেই ছোটবেলার কথা, সে শুয়ে আছে মায়ের কোলে। মা তাকে আদর করছে আর মধুর সুরে আবৃত্তি করছে।

আয় আয় চাঁদ মামা টিপ দিয়ে যা
আমার চাঁদের কপালে চাঁদ টিপ দিয়ে যা॥

ঘুম ভাঙে দরজায় মৃদু করাঘাতের শব্দ। উঠে গিয়ে দরজা খুলতে ইচ্ছা করে না তার। দরজায় করাঘাত চলতেই থাকে। একসময় শব্দটা অসহ্য বোধ হতে থাকে, সে উঠে যায় - উঠে গিয়ে দরজা খুলে দেয়।

“একি তুমি?” অবাক হয়ে প্রশ্ন করে সে। দরজায় দাড়িয়ে আছে তার একসময়ের ভালোবাসা। মেয়েটির নাম মিলি।

____________________
____________________



আনোয়ার সাদাত শিমুল | বিষ্যুদ, ২০০৭-১০-০৪ ০৯:২০

দরজা খুলে ছেলেটি মাথা তোলে তাকায়। মি-ম-মি-লি? নাহ! আসলেই নেশাটা বেশী হয়ে গিয়েছিলো। এখনো ঘোর কাটেনি। মিলি আসবে কোত্থেকে! ধ্যুত্। মনে হয় স্বপ্ন দেখছে। তারপর দু'হাতে চোখ কচলায়। নাহ, স্বপ্ন না। স্বপ্ন হলে এতো চোখ কচলানো যায় না। মাথাটা ঝাঁকি দেয় এবার। আরে এ তো শম্পা!
শম্পা! শম্পা!!! তুমি এ সাত সকালে?
মেয়েটি দরজা ধাক্কা দিয়ে ঘরে ঢুকতে চেষ্টা করে - 'দরজায় দাঁড়িয়েই কথা বলবে? নাকি ঘরে যেতে বলবে?'
ছেলেটি সরে দাড়ায়।
ঘরে ঢুকেই মেয়েটি বকবক করে। ছি:। কি বিচ্ছিরি করে রেখেছো ঘর! কি নোংরা! মশারীটাও আধ ঝোলা। মেঝেতে এতো সিগ্রেট কেনো? হু? এই অবস্থা কেনো?
ছেলেটি বিড়বিড় করে, 'না, মানে শম্পা। তুমি এই অসময়ে কোত্থেকে এলে?"
-"এই ছেলে বদমায়েশ, মানুষ চেনো না? উফ!!! মুখে কি গন্ধ। কি সব ছাইপাশ গিলেছিস? আমাকে চিনিসনি এখনো? আমি শম্পা না, আমি শম্পার টুইন সিস্টার চম্পা।"
- চম্পা? ছেলেটি অবাক হয়। ভালো করে তাকিয়ে দেখে চিবুকের বাম পাশের তিলটি নেই। আসলেই তো।

শম্পার ঐ তিলে তাকিয়ে ছেলেটি কতো কী-ই না ভেবেছে একসময়। মৌলি'র আড্ডা, ফান্টার স্ট্রতে চুমুক দিয়ে শম্পার অনবরত মাথা নাড়া। ছেলেটি প্রবল অপেক্ষায় থেকেছে, কখন ঐ মাথা নাড়া বন্ধ হয়ে 'ভালোবাসি' শব্দটি ধ্বনিত হবে! ঘন্টার পর ঘন্টা কেটেছে এইভাবে। ভেনিলা আর স্ট্রবেরী ফ্লেভারের আইসক্রীম শেষ হয়েছে প্রতিদিন। তবুও ছেলেটি অপেক্ষায় ছিলো। মানিব্যাগ হাল্কা হয়ে এলে কেন্দ্রের সায়ীদ স্যারকে মনে পড়ে - 'রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে, প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে যাবে, বই খানা - - -'।
ইস! শম্পার পেছনে এতো খরচ না করে, আবুল কালাম শামসুদ্দিনের 'কাগজের বৌ' কেনা যেতো প্রতিদিন। তবুও আশাহত হয়নি সে, আশা ছিলো - শম্পার কালো তিল হারিয়ে যাবে না।

চম্পার চিৎকার ছেলেটির ভাবনায় ভাঙন ধরায় - "কি বলছি শুনছো?"
ছেলেটি মাথা নাড়ে।
- "আমার বোনটার তো মাথা খেয়েছ। ঐ ঘরের জামাই হবার স্বপ্ন দেখো, একবারও খবর নিয়েছো ঘরের বড় জামাইয়ের কি অবস্থা?"
ছেলেটি অবাক হয়।
বড় জামাই! মানে, কী যেনো ঐ হালার নাম? সায়েন্স ফ্যাকাল্টিতেই তো পড়তো, এখন আমেরিকা থাকে, ব্লগেও লিখে। একবার নীরব হোটেলে শম্পাসহ লাঞ্চ করতে গিয়ে আচমকা ঐ ভিলেন সামনে এসেছিলো। সে-কী ধমক। শম্পা তো ভয়ে নীল হয়ে গিয়েছিলো। ছেলেটি মনে মনে ভেবে রেখেছে - আমিও ঐ ঘরের জামাই হবো, তারপর দেখে নেবো একদিন।
খানিকটা সামলে নিয়ে চম্পাকে বলে - "কি হয়েছে বড় জামাইয়ের?"
- "পাসপোর্ট হারাইছে"।
- মানে?
- হ, সাথে আরও কি সব জরুরী ডকুমেন্ট হারাইছে। এখন দুই বছরেও দেশে আসতে পারবে না।
ছেলেটি খুশি হয় মনে মনে। এ যেনো ভাগ্যের খেলা। কি নিষ্ঠুর প্রতিশোধ। তবুও বলে - "আমি কি করবো? শম্পাকে তো আর পাবো না। আপনারা তখন ঐ মোহাম্মদ মেজরের কাছে শম্পাকে তুলে দিলেন।"
চম্পা এবার কান্নায় ভেঙে পড়ে -"প্লিজ একটা কিছু করো। হাজার শত্রুতা থাকলেও তোমাদের মিডল নেমে মিল আছে।"
- মিল? কিসের মিল? ওহ! আরে শুনো চম্পা, আমার নামে আছে 'সুন্দর'এর স। আর ঐ হারামীর নামে আছে - 'শয়তান'এর শ। আর আমার নামে 'হা' নাই। ঐ আমেরিকান শয়তানটা সব সময় 'হা' করে থাকে, তাই তার নামে 'হা' আছে।
- চম্পা এবার হু হু করে কাঁদতে থাকে। ও গো তুমি ভুল বুঝো না। বড় দুলাভাই নয়, আমিই শম্পার সাথে তোমার সম্পর্ক ভেঙেছিলাম। আমি, আমি, আমি।
- তুমি? তুমি? কেনো? কেনো তুমি শম্পা আর আমাকে আলাদা করলে? কী ক্ষতি আমি করেছি তোমার। আমি কি তোমার মাশকারা দেয়া চোখে শ্যাম্পু মেখেছি?
চম্পার কান্না থামে না। ভেঁউ ভেঁউ শব্দে মাতম উঠে -"তুমি কি মানুষ, নাকি অন্য কিছু। তোমার কি মন বলে কিছু নেই? খোদা কি তোমার হৃদয়টা পাথর দিয়ে বানিয়েছে? এখনো বুঝলে না, আমি তোমাকে কত্তো ভালোবাসি!"
ছেলেটির মনে হয়, এক আগুনের নদীতে সে সাঁতার কাটছে সে। সামনে দাড়িয়ে থাকা চম্পাকে মালেকা হামিরা মনে হয়, পরক্ষণেই সে বানেছা পরী হয়ে উঠে।
এ উন্মাতাল পরিবেশে মনে হয় সুনামী নামছে পৃথিবীতে। তখন হঠাৎ কলিং বেল বাজে। দরজা খুলে দেখে শম্পার বড় দুলাভাই দাড়িয়ে। বলে - ' আজ সকালেই দেশে এলাম। তোমার বাসায় চম্পা আছে?'
ছেলেটি চুপচাপ।
সাথের লোকটিকে পরিচয় করিয়ে দেয়, উনি জার্মানি থেকে এসেছেন - - -

___________________
___________________


এর বাকী অংশ ছিলো জমজমাট। "একটি অমীমাংসিত বাংলা ছায়াছবির গল্প" শিরোনামে কামাল করেছেন দ্রোহী। সে অংশটুকু পড়ার জন্য ক্লিক করুন এখানে---

.
.
.
.

Read more...

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP