30 August, 2008

ইদানিং দ্রুত সন্ধ্যা নামে

গত রাতের বৃষ্টিতে রাস্তায় কাদা হয়ে গেছে। দশ নম্বর গোল চক্করে কাদায় থকথক। আলতো করে পা ফেলে গুটি গুটি করে আগাই। যাবো গুলশান। মিশুক ড্রাইভার 'একদাম একশ' টাকা' বলে ফিরে তাকালো না। আমিও সামনে যাই। বনানী কাকলীর জন্য মানুষের দৌড়। শাদা মাইক্রো কাকলী কাকলী বলে ডাকলে আমি দৌড়ে উঠি, সাথে আরো ৬ জন। ক্যান্টনমেন্টে প্রচন্ড জ্যাম। শনিবারে এত গাড়ী হবে ভাবিনি।

এ পথ আমার অনেক চেনা। জলপাই সাম্রাজ্যের মইনুল রোড।
অনেক সকাল দুপুরের আনন্দ বেদনা গন্তব্য।
জীবনের শ্রেষ্ঠতম এক দৃশ্য দেখেছিলাম এ রাস্তায়।
গোধুলির আলোয় মোটর বাইকে প্রেমিকের পিঠে প্রেমিকার নির্ভার আস্থা।
"তখন আমার একুশ বছর বোধ হয়।"

সৈনিক ক্লাব এগিয়ে গাড়ী সামনে যায়, কাকলী মোড়ে জ্যাম।
আমার ডান পাশে সিএনজি। ঘনিষ্ট তরুণ, উঠতি তরুণী।
চোখ পড়ে যাওয়ায় কিংবা আড়চোখে দেখার বিষ্ময় কাটিয়ে দেখি, মেয়েটি হু হু করে কাঁদছে।
হাত জোড় করে মাফ চাইছে।
ছেলেটি কিছু একটা বোঝানোর চেষ্টা করছে। মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে, কপালে চুমু খাচ্ছে ।
মেয়েটি আরো আবেগী হয়ে যাচ্ছে। কিছু একটা চাইছে হয়তো।

সামনে সিগনাল ছাড়ে না। আমার চোখ লোভী হয়ে উঠে। আবার তাকাই।
হাঁটুর নিচ থেকে পা কাটা এক জোয়ান ভিক্ষা চায় সিএনজির ডানে দাঁড়িয়ে। তাদের নজর নেই ভিক্ষুকের দিকে। রোড ডিভাইডারে জোয়ান বসে পড়ে। এবার এক থুরথুরে বৃদ্ধ। হাত এগিয়ে ভিক্ষা চাচ্ছে, কী কী জানি বলছে - হয়তো প্রেমীদের সংকট মোচনের দোয়া করছে। বসে থাকা জোয়ান এবার বৃদ্ধের হাত ধরে টান দেয়, শরীরি ভাষায় বলে, এখন ভিক্ষা চেয়ে লাভ হবে না। আবার হাসেও। সি এন জির অন্য দরজায় আরেক বুড়ি ভিক্ষুক। এবার হাত পেতে নয়। তারা নাটক দেখছে।

মেয়েটি ছেলের বুকে মাথা রেখে আছে।
ফোঁসফাস করে কাঁদছে। পা ধরছে।

আমিও ভিক্ষুক হয়ে যাই।
গল্প বানাইঃ
- মেয়েটি বলছে - প্লিজ তুমি আমাকে বিয়ে করে ফেলো, প্লিজ। আমার বাসায় বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। ছেলেটি বলছে, এই তো আর কটা দিন। তার পর টু ফোর ফোর ওয়ান ওয়ান থ্রি নাইন।

অথবা,
- মেয়েটি বলছে - প্লিজ তুমি আমাকে ঠকিও না, অনন্তার সাথে ঘুরো না, আমার কী নেই যা ওর কাছে আছে? ছেলেটি বলছে - ও সবই গুজব...

অথবা,
- মেয়েটি পা ধরে বলছে - 'আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছি, ভালোবেসে শুয়েছি। প্লিজ, সিডিটা আমাকে দিয়ে দাও।'

এবার আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলি।
নষ্ট ভাবনারা ঘুরঘুর করে। হঠাৎ এ মেয়েটির সাথে কফি খেতে ইচ্ছে হয়। চোখ মুছে বলতে ইচ্ছে করে, 'মেয়ে কেঁদো না'।
দেখি, আশেপাশের অনেক চোখ এখন ঐ সি এন জি তে।

সিগনালের সবুজ বাতি জ্বলে উঠে।
সেদিন ছোট ভাইয়া বলছিল - ছিনতাই ঠেকাতে সিএনজির কাভার ট্রান্সপারেন্ট করা হবে।
ভাবছিলাম, সিক্রেসি অফ লাইফ কোথায় যাবে?
এবার আমি আমার নিজেকে গল্পে নিয়ে আসি। নিজের সাথে নিজের লুকোচুরি। মানুষের মাঝে গল্প খুঁজি, আর সিক্রেসীর দোহাই দিই। শালা, আমি হিপোক্রেট।

দুপুরে দাওয়াতে বসি আজন্ম অদেখা মানুষের টেবিলে।
"বুঝলেন লিখতে গিয়ে ধর্মের বিরোধী হবেন না, এমন কিছু লিখবেন যাতে করে ইমানী মুসলমান দু ফোটা চোখের পানি ফেলে, দোয়া করে।"
আমি আবারও গল্প বানাই। জানি এসব লেখা হবে না।

ইচ্ছে ছিলো, নাজমুল ভাইয়ের বাসায় যাবো। তার আগে আদনানের বাসায় এক ঢু, মিলটনকে ফোন দিয়ে ডেকে মিতুর অফিসে এক মিনিট। বিকেল ঘনায় দ্রুত। আদনানের বাসায় গপ্পে গপ্পে ছ'টা বাজে। মিল্টন বাসার বাইরে যাবে না। ফোনে জানি নাজমুল ভাই গলফ ক্লাবে যাবেন, তাই বলি - 'আজ আমি বাসায় চলে যাবো'।
মিতুর সাথে আর দেখা হবে না। হাজবেন্ডের সাথেও না।
শোনা হবে না, 'তুই আর মানুষ হইলি না'।

মানুষের ভীড়ে গুলশান এক নম্বর চক্কর।
গাড়ী নেই।
নীল ক্যাবে একজন দরাদরি করছে, ড্রাইভার বলছে - মিটারের চেয়ে ১০টাকা বাড়িয়ে দিয়েন।
আমি বলি - মীরপুর যাইবেন?
একজন বলে, চলেন তাইলে দুইজন মিলে যাই, আমিও মিরপুর যাব।
অবিশ্বাসে আমি সামনে ড্রাইভারের সাথে বসি।
মহাখালী পার হলে আর জ্যাম নাই। ক্যান্টনমেন্টে ফ্রি রাস্তা।
পেছনের জন ফোনে গদগদ আলাপ করছে - 'কী বলো, তুমি আমাকে এখনো বিশ্বাস করো না? এতোদিনেও চিনলা না?... আচ্ছা তুমি ডায়ানোসর দেখেছো?"
এখানেও গল্প ভর করে। আমি কি ডায়ানোসর দেখেছি?
সকালের প্রেমী দুজনের কথা মনে পড়ে।
মানুষের সম্পর্ক এখন খুব বেশি ইনসিকিউরড।
"কেউ দেবে নিরাপত্তা, কেউ বিশ্বাস, আসলে সবাই চায় জিততে।"

দশ নম্বরে নেমে রিক্সা করে বাসায় ফিরি।
সময় সোয়া সাতটা।
মাইকে হারানো বিজ্ঞপ্তি। ১২ বছরের কালো মেয়ে হারিয়ে গেছে।
রাস্তার পাশে সারিসারি ভ্যান, তাল - কলা - বই; নেয়ামুল কোরান, নবজাতকের সুন্দর নাম।
হোটেলে বড় কড়াইয়ে মোগলাই পরোটা ভাজা হচ্ছে।
কোলাহলের মাঝে নাকে ঘ্রাণ ভর করে।

আমি পলায়নপর।
দেশের বাইরে গেলে গল্পের প্লট খুঁজি। নিত্য।
এখন গল্প আর লেখা হয় না।

এই দ্রুত সন্ধ্যা নামাটা এখনকার বড় গল্প।

-
-
-

Read more...

24 August, 2008

আবুল হাসানের দু'টি কবিতা

সুনীলের নীরা, আবুল হাসানের স্বাতী - অনেক আগে খুঁজে ফেরা নিহত নক্ষত্রের গল্প শেষে এখন আবুল হাসানের দুটি কবিতার পাঠক হইঃ


ঝিনুক নীরবে সহো

ঝিনুক নীরবে সহো
ঝিনুক নীরবে সহো, ঝিনুক নীরবে সহে যাও
ভিতরে বিষের বালি, মুখ বুঁজে মুক্তা ফলাও।

____


একলা বাতাস

নোখের ভিতর নষ্ট ময়লা,
চোখের ভিতর প্রেম,
চুলের কাছে ফেরার বাতাস
দেখেই শুধালেম,

এখন তুমি কোথায় যাবে?
কোন আঘাটার জল ঘোলাবে?
কোন আগুনের স্পর্শ নেবে
রক্তে কি প্রব্লেম?

হঠাৎ তাহার ছায়ায় আমি যেদিকে তাকালেম
তাহার শরীর মাড়িয়ে দিয়ে
দিগন্তে দুইচক্ষু নিয়ে
আমার দিকে তাকিয়ে আমি আমাকে শুধালেম

এখন তুমি কোথায় যাবে?
কোন আঘাটার জল ঘোলাবে?
কোন আগুনের স্পর্শ নেবে
রক্তে কি প্রব্লেম?

-
-
-

Read more...

18 August, 2008

একই শহরে

যা ভেবেছিলাম, তা-ই হলো। মনে হয়েছিলো, সময় দ্রুত গিয়ে আবার পিছুটানে আঁটকাবে। গত দু'মাসে এ পাতায় কিছু লেখা হয়নি। লেখার ছিলো তো অনেক কিছু। নকিয়া বারোশ'তে র‌্যাপিড রোল খেলে কেটে গেছে অনেক বিকেল। এখনো আকাশ দেখি বাসার উত্তরে খালি প্লট এখনো আছে, এক টুকরো আকাশ আছে। এ ইট পাথরের এ কোণে গাছ গাছালি বেড়েছে।
বাসার নিচে ওরা ছাগল পালে। ভোর রাত থেকে ছাগলের ডাকাডাকি। ঘুম ভেঙে যায়। এম্বেসীর ইত্রামিতে আমি ছাগল হয়ে থাকি।
ঝিম মেরে থাকি। শ্যাওলা জমা ফ্লোরে পায়ের আঙুল টিপে টিপে সাবধানে যাওয়া। একবার পা মচকালে ৬ মাস।

তপু ফোন দিয়ে জানিয়েছিলো, রকিব দেশে এসেছে, তাও আমি আসার ১০ দিনের মাথায়। সন্ধ্যা করে গিয়ে দেখা, নয়তো আর দেখাই হতো না। তপু গাড়ী কিনেছে। নতুন গাড়ীতে মোহাম্মদপুর বিহারী ক্যাম্প, স্যুপ, চাপ, চিকেন। কিছু সময় খুব দ্রুত কাটে।

শেষতক পরাগ-সাথীর বিয়ে হলো।
এবার অদ্ভুত দুঃসময়ে আমার ১০২ ডিগ্রী জ্বর। বিয়ে-বৌভাত কোনোটায় যাওয়া হলো না।
পরাগ ফোন করেছিলো আধ ডজন বার। সাথীও করেছিলো। সাথীর আগে সাথে দেখা হয়েছে একবার। পরাগ সাথীর একান্ত চা সন্ধ্যায় ১০ নম্বরের গ্রামীণ রেস্তঁরায় আমিও সংগী হয়েছিলাম। পরাগের সাথে দেখা কলেজ শেষের পরে। রাইনখোলা রোডের চেনা মুখ। কিংবা ফার্মগেট। জাহিদ এসেছিলো আমার বাসায় সেবার। বললো, চলো - পরাগ ভাই'র বাসায় যাই।
তারপর গ্রুপ স্টাডি।
কারো হয় কারো হয় না।
শেষে জাহিদই হারিয়ে গেল। শিমুল সময়ের ধুলোয় মুকুল মেহেদী হয়ে যায়।
আমি আর পরাগ অনেক বিকেল বিক্ষিপ্ত আড্ডা মারি। বেশিরভাগ পরাগের বাসায়, সময় চারটা তিরিশ।
কতো দিন, কতো কথা। কতো তর্ক।

সংসারী বন্ধুদের সাথে আলাপে দ্বিধা করছি ইদানিং। এ সমস্যা বাড়ছেই বাড়ছে।
ফ্রেন্ডশীপ ডে তে পরাগ এস এম এস করেছে - "when someone asks me, which one is better; love marriage or settle marriage?
i reply - it's as simple as giving options of suicide or hanging".
আমি রিপ্লাই করি - "ur sms reminds me the monkey who eats all sweet grapes and says, it's sour."
পরাগ রিপ্লাই করেনি আর।

মিল্টনের সাথে ফোনে আলাপ হলো বেশি এবার।
এবং এবার নাকি সে বুঝতে পেরেছে, আমি ভালো চাপা মারতে পারি। সে চাচ্ছে এ চাপায় তাকে সান্ত্বনা দিই, আশার কথা বলি।
আমি হাসি, আর কী বলি? সেই একটি কথাই, 'আমাদের জীবনটা খুব ছোটো'।
এটাও নাকি চাপা। হায়!
মিল্টন আমাদের ক্যাম্পাসের ডাটাবেস হয়ে গেছে। যাবতীয় তথ্য তার মুখের আগায়।
মিল্টন এস এম এস দিয়েছিলো - "medicine and friends both cure you, when u needed. but the only difference is friendship doesn't have any expire date."
রিপ্লাই করেছিলাম, "tahole manusher bondhutto vange keno?"
এটারও জবাব পাইনি।

এফ এম রেডিও'র উপর ত্যক্ত হয়ে আছি। সব ফাজলামি আর মানুষের পকেট কাটা।
এসএমএস বিজনেস। ডেইলি স্টারে রিপোর্ট দেখলাম ৬০% রেডিও'র আর ৪০% মোবাইল কোম্পানির হাতে!
হায় - পাগলা বাবা, মেটাল শিরিন- মাতাল শিরিন, ক্রেজি বয়।
পারস্পরিক বিচ্ছিন্নতা আর সামাজিক শৈথিল্যের মাঝে কে কোথায় আশ্রয় খোঁজে?
আরযে নীরব, আরযে জ্যাক্লিন জয়জয়কার।
রেডিও ফুর্তিতে লাইভ এসেছে প্রীতম।
নচিকেতার সাথে ডুয়েট এল্বামের কিছু গান ভালো লেগেছিল। তাই কান পাতি।
উপস্থাপিকা, ওহ - ওরা বলে হট সীটের হোস্ট;এর খলবলানিতে চটুল প্রশ্ন।
তবুও শুনি।
হঠাৎ এক শ্রোতার প্রশ্নঃ হ্যালো প্রীতম ভাই... হ্যালো।
হোস্টঃ আপনার নামটা প্লিজ?
কলারঃ বাইঞ্চুত!
হোস্টঃ কী? কী নাম?
কলারঃ বাইঞ্চুত।
টো টো টো, লাইন কেটে গেছে।

আজকাল নিচের ছাগলটা আর ডাকে না। হয়তো জবাই হয়ে গেছে।
গরম তেমন নেই, বৃষ্টি হচ্ছে প্রতিদিন।
প্রতিদিন ৩ বার ১ ঘন্টা করে ৩ ঘন্টা লোডশেডিং। অভ্যস্ত হয়ে গেছি।
ভালোও লাগছে, এভাবে পাওয়ার সেইভ করার জন্য বললে কেউ করতো না।
সন্ধ্যা সাতটা সতেরো'তে গেলে আটটা সতেরোতে আসে। এই এক ঘন্টা কোনো কাজ হয় না।

নাজমুল ভাই'র সাথে ফোনে কথা হয়েছে, দেখা করা দরকার আবার। মনজুরের সাথে দুবার দেখা। আদনান-মিতু-পরাগ-তপুর সাথে দেখা করা দরকার। এখন একটা চেক লিস্ট। মোজা কিনতে হবে, কেনা হলো, টিক মার্ক।

প্রবাসের সাতষট্টি দিন এতো ধীর কেনো? কেনো এতো দ্রুত কাটে না।
বাইরে থাকলে দু'মাসে ৫টা দিনলিপি হতো। এখানে নেই কেনো?

এ শহরের চমকের বিল বোর্ড বাড়ছে, বাড়ছে জ্যাম। কোলাহল।
ক্লান্ত মানুষের বিষণ্ন মুখ। যেনো কোথাও আশার আলো নেই। বাজারে আগুন। যানবাহনে ভাড়ায় নৈরাজ্য।
কালো মেঘ ক্রমশঃ ধেয়ে আসছে।
আর আমি এবং আমরা আশান্বিত হতে চাই প্রতিদিন।
আস্থা কমছে। আর কতো ভুল যাপনের দায়?

বাপ্পা মজুমদার গেয়ে চলেছে -
"এতো কাছে, একই শহরে আমাদের বসবাস/ তবু কারও দেখা নেই/ চোখে চোখে কথা নেই/ একই চাদরে পড়ে না নিঃশ্বাস/ শুণ্যতা ঘিরে আছে শীতের বাতাস"।


(অসমাপ্ত)
.
.
.

Read more...

16 August, 2008

৬ষ্ঠ পাতার বিজ্ঞাপন

'ইত্তেফাকের ৬ষ্ঠ পাতায়
বিজ্ঞাপনে ছিলো পাত্রী চাই,
বর্ণনাতে ছিলো মিল-
ঠিক আমি চেয়েছি যা তাই।'


৯০/৯১ সালের দিকে তুমুল জনপ্রিয় গান, আদনান বাবুর এলবাম - রং নাম্বার।

সময়ের সাথে আদনান বাবু ক্রেজ হারিয়েছে। নতুন নতুন শিল্পীর কন্ঠ শ্রোতা প্রিয় হয়েছে। ইত্তেফাকের ৬ষ্ঠ পাতার বিজ্ঞাপনের এ গানও আর শোনা যায় না এখন। নেটে ঘেঁটেও পেলাম না। তবে ইত্তেফাকের পাশাপাশি আরও পত্রিকা এসেছে নানান রঙে।
কোনো এক অদ্ভুত কারণে ৬ষ্ঠ পাতার বিজ্ঞাপনে রয়ে গেছে মিল।

ক'দিন আগে কিচ্ছু করার নাই। হাতের কাছে দৈনিক যুগান্তর। প্রথম পাতা, শেষ পাতা, খেলার পাতা, চিঠিপত্র কলাম শেষ। গেলাম ৬ষ্ঠ পাতায়, বিজ্ঞাপনে ভর্তি।

পাত্র চাই বিজ্ঞাপনে আছেঃ

"ইতালীর সিটিজেন, সেটেল্ড। +৩৬, সংগত কারণে ডিভোর্সড। ইতালীতে নিজের জুয়েলারী ব্যবসা। পাত্রীর পিঠে টিউমারের চিকিৎসায় স্বল্প সময়ের জন্য ঢাকায় অবস্থান। ইতালী যেতে আগ্রহী সদ্বংশের রুচিশীল অবিবাহিত পাত্র, +৪০ দাঁড়িতে আপত্তি নাই। শেষ জীবনের সংগী পাত্রকে আর্থিক সাহায্য করা হবে। যোগাযোগ করুন - মোবাইলঃ ০১৭*******"

_
লে হালুয়া।
পাত্রী ইতালীর সিটিজেন, নিজের জুয়েলারী ব্যবসা আছে। এরপরেও টিউমারের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসতে হলো?
এখন পাত্রী সদবংশের ৪০ বছরের পাত্র বিয়ে করে ইতালী নিয়ে যাবেন, আর পাত্র যদি পাত্রীর শেষ জীবন পর্যন্ত সংগী হয়ে থাকতে পারে তাহলে আর্থিক সাহায্য করা হবে। প্রশ্ন হচ্ছে - পাত্রীর যখন শেষ জীবন, পাত্রের তখন কোন জীবন?
দাঁড়িতে আপত্তি নাই? আপত্তি থাকে নাকি!!!

প্রথম আলো এখন বিজ্ঞাপনে সয়লাব।
আদনান বাবুর গানের ৬ষ্ঠ পাতার মুক্তি নাই। বাড়ী ভাড়া, পাত্র-পাত্রী, পড়াব, বিক্রয়, কোরিয়ান ভাষা, সাইপ্রাসে পড়াশোনা হেন কোন বিষয় নাই যে নাই। নিউজ যেমন ১ম পাতা থেকে জাম্প করে - বাকী অংশ ১৫ পাতায়, তেমনি এসব বিজ্ঞাপনও ৬ষ্ঠ পাতায় শেষ হয় না - "শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপনের বাকী অংশ দেখুন ১৪ নং পৃষ্ঠায়"।

গত ২-৩ দিনের প্রথম আলো থেকে বাছাই করা কিছু পাত্র-পাত্রী চাই।

পাত্রীঃ যুক্তরাজ্যে বসবাসরত একটি কোম্পানীতে ম্যানেজার হিসাবে কর্মরত (বয়স ৪৫) পাত্রের জন্য সংস্কারমুক্ত পাত্রী চাই।
সরাসরিঃ ০০৪৪৭৮*********।


সংস্কারমুক্ত পাত্রী জিনিসটা কী রকম?
_

পাত্রীঃ মাস্টার্স, ভদ্র মুসলিম অবিবাহিত ৫'-৪"-৩৫, প্রতিষ্ঠিত কোং-তে কর্মরত পাত্রের জন্য চাকুরীজীবি/আবাসিক সুবিধা আছে এমন সুশ্রী ভদ্র পাত্রী চাই। বিবাহিত-অবিবাহিত বিবেচনাযোগ্য। ব্যাংকার অগ্রাধিকার। মিডিয়া নয়ঃ ০১১৯৫******।

বাহ! পাত্রী চাকুরীজীবি এবং ব্যাংকার হইলে অগ্রগণ্য। তবে পাত্রীর আবাসিক সুবিধা থাকতে হবে। এটা কি বলে কয়ে ঘরজামাই হওয়ার বিজ্ঞাপন?

_

পাত্রীঃ কলেজ টিচার। (৫'-৮"+৩৬) দীনদার ফর্সা পাত্রের জন্য দীনদার পরিবারের লম্বা সুশ্রী পাত্রী চাই। সরাসরি অভিভাবক# ।

পাত্র দীনদার। পাত্রীর পরিবার দীনদার হইতে হবে। পাত্রী দরকার লম্বা সুশ্রী। পাত্রীর দীনদার হওয়ার দরকার নাই?
_

পাত্রীঃ ঢাকায় অভিজাত এলাকায় বসবাসরত বিবিএ (আইইউবি) যুক্তরাজ্যের গ্লামারগন বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কেটিং-য়ে মাস্টার্স অধ্যয়নরত সুদর্শন পাত্রের (২৫/৫'-১১") জন্য সম্ভ্রান্ত পরিবারের শিক্ষিতা সুন্দরী পাত্রী। বর্তমানে পাত্র গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে স্বল্পকালীন সময়ের জন্য ঢাকায় আছেন। শুধু পাত্রীর অভিভাবকগণ দয়া করে সরাসরি যোগাযোগ করুন # ।

আচ্ছা, বিয়েটাও কি গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে স্বল্পকালীন সময়ের জন্য?
_

পাত্রঃ ভদ্র শিক্ষিত পরিবারের অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তার স্বল্পকালীন বিবাহ বিচ্ছেদকৃত শিক্ষিত সুন্দরী কন্যার (৩২) (বিবাহের ৫ মাসে জীবন রক্ষার্থে অন্তঃস্তত্বাকালীন ডিভোর্স প্রদানকৃত) প্রফেশনাল, শিক্ষিত, চাকরীজীবি পাত্র (৩৫-৪০) চাই। সরাসরি#

"বিবাহের ৫ মাসে জীবন রক্ষার্থে অন্তঃসত্তাকালীন ডিভোর্স প্রদানকৃত"; এই লাইনের মাজেজা কী?
_

পাত্রীঃ বিয়ের দুই মাস পর অস্ট্রেলিয়া। এইচ এস সি তে কমপক্ষে ৩.৫ পেতে হবে। আইইএলটিএস- ৫.৫ প্রাপ্ত হলে ভালো হয়। আরেক ভাই বিয়ের পর আমেরিকা নিয়ে যাবে। সিটিজেন বিধবা ডিভোর্সী হলে চলবে। মিডিয়া নয়, সরাসরি বিকেল ৫টা ৩০মিনিটের পর #

হা হা। এইটা তো মনে হয় চাকরীর বিজ্ঞাপন। এইচ এস সি ৩.৫। আইইএলটিএস ৫.৫। আবার বিয়ের দুই মাস পরে অস্ট্রেলিয়া।
লারে লাপ্পা। "আরেক ভাই বিয়ের পর আমেরিকা নিয়ে যাবে"। কাকে নিয়ে যাবে? এই পাত্রীকে? সর্বনাশ - ২ ভাই মিলে এক পাত্রীকে বিয়ে!!!
_

পাত্রীঃ ধার্মিক ডাক্তার পাত্রের জন্য সম্পূর্ণ পর্দানশীন, সৎ ধার্মিক পরিবারের পাত্রী চাই। যোগাযোগঃ#

এই ধার্মিক ডাক্তার পাত্র নিজে কতোটা পর্দানশীন? সম্পূর্ণ নাকি আংশিক?
_

পাত্রীঃ শ্যামলা, চুল কম, মধ্যবিত্ত পাত্রের জন্য নম্রভদ্র সাংসারিক মনের বিবাহিত/অবিবাহিত সুশ্রী পাত্রী চাই। যোগাযোগ #

চুল কম? নাকি টাক মাথা?

_


পাত্রীঃ ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত শিক্ষিত মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন চল্লিশোর্ধ পাত্রের পঁয়ত্রিশ সুশীলা। সরাসরি #

একজনের আছে মানবিক মূল্যবোধ, চাইতেছে সুশীলা। জয়কার সুশীল সমাজ।

_

পাত্র চাইঃ উচ্চ বংশীয় দ্বীনদার, পি এইচ ডি (ইংল্যান্ড) ডিগ্রীধারী, নিঃসন্তান পাত্রীর (৩৫) জন্য উপযোক্ত পাত্র চাই। যোগাযোগ #

হুম। যেমন তেমন পাত্র না। 'উপযোক্ত' পাত্র।

_

পাত্রঃ ডাক্তার (৩৮+৫'-৪") বিচ্ছেদকৃত ঢাকায় লাক্সারিয়াস গাড়ীবাড়ি সুদর্শনা নারীর জীবনসংগীর সন্ধানে #

সুদর্শনার জীবনসংগী দরকার। কারণ, সাথে আছে লাক্সারিয়াস গাড়ীবাড়ি। বিচ্ছেদকৃত ঢাকায়? মানে ঢাকার সাথে বিচ্ছেদ???
_

পাত্রঃ এমকম সুন্দরী। বুনিয়াদী পরিবার (৫'-৩"+৩০) হাই অফিসিয়াল পিতা। মাল্টি ন্যাশনালে সম্মানজনক পদে পাত্রীর জন্য, যোগাযোগ#

ওজন আছে। যেমন তেমন সুন্দরী না; এমকম সুন্দরী, বুনিয়াদী পরিবার, হাই অফিসিয়াল পিতা!!!
_

প্রথম আলোর পাতা খুঁজে ঘটক পাখী ভাইকে পেলাম না।
আদনান বাবুর গানের মতো পাখি ভাইও হয়তো হারিয়ে গেছে।
তবে ছোট্ট করে আছে মনিকা পারভিনের বিজ্ঞাপনঃ
_

পাত্র-পাত্রীঃ সুন্দর পরিবেশ, সাথে চা। গোপনীয়তার সাথে চলবে বিয়ের কথা। আসুন মনিকাস বাঁধনে। মনিকা পারভিন #

সুন্দর পরিবেশ, সাথে চা। বিয়ের কথা চালাবে মনিকা!!!
_

ক'দিন ধরে ইচ্ছা ছিলো S@ifur's এর বিজ্ঞাপন নিয়ে লিখবো।
এথিকসের বিন্দু মাত্র ধার না ধরে ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্ধীদের আক্রমণ করে S@ifur's প্রতিদিন এক একটা অসভ্য বিজ্ঞাপন দেয়।
আরো আজব লাগে যখন বিজ্ঞাপনে দেখিঃ মানিকগঞ্জের/ছাগলনাইয়ার সাবেক এম-পি অমুকের ভাগিনা তমুক এখন S@ifur's এর এই ব্রাঞ্চে। আইইএলটিএস বিষয়ে সরাসরি জানুনঃ #

১৪ আগস্টের প্রথম আলোর ৬ষ্ঠ পাতায় S@ifur's এর একটা বিজ্ঞাপনে চোখ আঁটকালো।
উপরে বড় করে লেখা "সুন্নত পোষাক"।

মূল বিজ্ঞাপনঃ

সুন্নত পোষাকের কারণে চাকরি পেতে সমস্যায় জর্জড়িতরা ফ্রি পরামর্শের জন্য ফোন করুন ঢাবি থেকে মাস্টার্স করা মুরাদ ভাইয়ের (০১৭২০০৪****) সাথে

সুন্নতী পোশাকের বিজ্ঞাপন দেখে আদনান বাবুর আরেকটা গান মনে পড়লো। কথাগুলো -

'সালোয়ার কামিজ পড়া
লিপস্টিক ঠোঁটে মাখা
বাঁকা চুল, চুলে রং করা
নেইলপলিশ নখে ভরা,
ও মুখে তাকিয়ে নিজেকে
নিজেকে হারাই,
আমি যে খুন হয়ে যাই...'

পাত্রীর এতো এতো বিজ্ঞাপনে এরকম কিছু একবারও দেখলাম না!

-
-
-

Read more...

05 August, 2008

ক্যাসেলস ইন দ্য এয়ার

And if she asks you why, you can tell her that I told you
That I’m tired of castles in the air.
I’ve got a dream I want the world to share
And castle walls just lead me to despair.

Hills of forest green where the mountains touch the sky,
A dream come true, I’ll live there till I die.
I’m asking you to say my last goodbye.
The love we knew ain’t worth another try.

Save me from all the trouble and the pain.
I know I’m weak, but I can’t face that girl again.
Tell her the reasons why I can’t remain,
Perhaps she’ll understand if you tell it to her plain.

But how can words express the feel of sunlight in the morning,
In the hills, away from city strife.
I need a country woman for my wife;
I’m city born, but I love the country life.

For I cannot be part of the cocktail generation:
Partners waltz, devoid of all romance.
The music plays and everyone must dance.
I’m bowing out. I need a second chance.

Save me from all the trouble and the pain.
I know I’m weak, but I can’t face that girl again.
Tell her the reasons why I can’t remain,
Perhaps she’ll understand if you tell it to her plain.

And if she asks you why, you can tell her that I told you
That I’m tired of castles in the air.
I’ve got a dream I want the world to share
And castle walls just lead me to despair.

ডন ম্যাকলিনের গানটার ভিডিও এইখানে



Read more...

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP