13 June, 2007

আমার পিতার মুখ

ল্যাব এইড থেকে বেরিয়ে যখন গাড়ীতে উঠি তখন সোডিয়াম আলোর সান্ধ্য শহর।
মনে হয় এ পৃথিবীতে আর কেউ নেই।
আমরা দু'জন মানুষ কেবল কাছাকাছি।
অসহায় ভীষণ।
ফোনে জানতে পারি আরেকজন অপেক্ষায় আছে - কখন আমরা ঘরে ফিরবো।
ঠিক একজন নয়, দুজন। আমরা মোট চারজন।
চতুর্ভূজের কোণগুলোয় হয়তো দূরত্ব থাকে না সবসময়।
কিছু করার ছিলো না।
তারপর গন্তব্য পিজি হসপিটাল। দুইশ দশ ওয়ার্ড কিংবা তিনশ' পনেরো কেবিন। কবিতার 'জীবন বিনিময়' তখন আমাদের বাস্তবতা। হলদেটে শরীরে ঈশ্বরের কাছে অবিরত নতজানু সময়। ওখানেই কাটি সূবর্ণজয়ন্তী কেক, তেরোই জুন, ২০০৩!

এরকম আরো অনেক সময় আমাদের দুজনের। চিরায়ত দূরত্বের প্রথা বজায় রেখেই আমাদের গলাগলি। অসংখ্য অলস বিকেলে আমাদের ব্যালকনি আড্ডা। লেবু চা এবং চানাচুর-বিস্কুট। একসাথে বিবিসি শোনা, খাওয়ার টেবিলে রাজনীতির এদিক-ওদিক। এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়া-ইন্ডিয়াকে হারালে দুজনের আনন্দ লাফ। এসবই গতকালের কথা কিংবা গত পরশুর কথা। কীভাবে পার হয়ে যায় সেসব সময়!

"God took the strength of a mountain,The majesty of a tree,The warmth of a summer sun,The calm of a quiet sea,The generous soul of nature,The comforting arm of night,The wisdom of the ages,The power of the eagle's flight,The joy of a morning in spring,The faith of a mustard seed,The patience of eternity,The depth of a family need,Then God combined these qualities,When there was nothing more to add,He knew His masterpiece was complete,And so, He called it ... Dad"
হয়তো বিচ্ছিন্নতার এ অসহায়বোধ আমাদের ভাবায়।
নিশ্চিত জানি - বাসায় জমা হবে পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা, সিলেক্টেড কলাম।
"ওগুলো ধরবে না, শিমুল এলে পড়বে।"
অপেক্ষায় দিন যায়। সময় ফুরিয়ে যায় ডাহুকের ফুড়ৎ উড়ালের মতো।
এয়ারপোর্টের ঝাপসা কাঁচ আবার চলে আসে।
ভেজা চোখে আমাদের ব্যবধান।
কতোদিন হলো? ১৮২ দিন!
এবার আর কাছে থাকা হলো না।
আজ তেরোই জুনে ফোনালাপ হয়।
যেমন হয় প্রায়শই। সংলাপের মাঝে থাকে কিছু নীরবতা।
ঐসব নীরবতা মানে এক ঝাঁক স্মৃতি।
অনেকগুলো সকাল দুপুরের দুপদাপ হানাহানি বুকের ভেতর।
__________


'আমার পিতার মুখ' প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর বইয়ের নাম।

Read more...

11 June, 2007

এইসব গোপন কথা, গোপন ছবি


কৈশোরের জিলেট চালানো হলদেটে চোরা চোরা মুখের কিশোর।অথবা অকালপক্ক স্কুল-বালক।বয়েসটা হয়তো সেরকম জরুরী কিছু নয়।আরও বেশীই ধরি, যুবক, তিরিশ-মধ্য তিরিশ কিংবা চল্লিশ-পঞ্চাশের ধুসর চোখের মানুষ।নিশ্চয়তা দেয়ার অথবা সীমারেখা টানার জটিলতা দূরে রেখে স্বীকার করি - আগ্রহটা হয়তো একেবারে কম না। দোষই বা কীভাবে কাকে দিই।আদম যখন স্বর্গের আপেলে লোভাক্রান্ত তখন জ্ঞানীজন ব্যাখ্যা করেন - নিষিদ্ধের প্রতি মানবের আকর্ষণ দূর্দম।

আরো বছর ছয় কিংবা সাতেক আগে হুটহাট করে আমাদের ভালোবাসার শহরে চমক জাগালো কিছু নিষিদ্ধ সিডি। গোলগাল ফরসা মুখের ক্লাস টেন পড়ুয়া সুবোধ বালকটিও বন্ধুদের আড্ডায় মন খারাপ করে - 'দোস্ত সাউন্ড কোয়ালিটি ভালো না, কী কয় বুঝলাম না'। এ প্রবণতা কমে না বরং বাড়ে। সুশীল সমাজের সাপ্তাহিকটি কভার স্টোরি করে। সে সময়কার একমাত্র বেসরকারী চ্যানেলের প্রাইম নিউজে দেখা যায় নিষিদ্ধের এক ঝলক। ক্লাস টেন পড়ুয়া বালকটি বড় হয়। ক্রমে ক্রমে কেবল নিষিদ্ধ ভিডিও নয়, একদিন দেখে ফেলে নিষিদ্ধ ভিডিও তৈরির কলা-কৌশল। জেনে যায়, ক্যামেরার পেছনের মানুষগুলো কীভাবে সাজায় এবং গুছায় টুকরো টুকরো দৃশ্য। তারপর ঐ একদা বালকের আর আগ্রহ জন্মায় না। বড্ড নিরস মনে হয় ঐসব ছবি, মনে হয় - কোথাও অভিনয় হচ্ছে। দর্শক হিসেবে সে প্রতারিত হচ্ছে। - - - কৈশোর পেরিয়ে সে এখন ভার্সিটি যায়।

আমাদের শহর আবারো মেতেছে।এসেছে নতুন সিডি।কথা বলছে - রাজনীতির নাট্যমঞ্চের উজির নাজির।আবার সেই গন্দম মোহ।নিষিদ্ধের আকর্ষণ।সুশীল সমাজের সাপ্তাহিকটি স্পেশাল রিপোর্ট করেছে।প্রশ্ন-উত্তরের লিখিত ভার্সন ছেড়েছে।কারো কারো হাতে চলে গেছে এমপি থ্রি সিডি।এডিটিং নিয়ে চলছে ধুমসে তর্ক।ঐ একদা বালক এবার আগ্রহ পায় না। তার কেন জানি মনে হয়, কোনো ভাবে একটা প্রতারণা আছে এখানে। হয়তো সামনে আরো সিডি আসবে। অডিওর বদলে ভিডিও। এখনকার অডিওকে তুচ্ছ করে দিবে ঐসব ভিডিও। এখন যারা ক্যামেরার পেছনে আছে, ঐ মানুষগুলো তখন সামনে আসবে।

নতুন মাত্রা পাবে - পলিটিক্যাল পর্ণোগ্রাফি।

Read more...

07 June, 2007

ব্লগ জীবনের ইতিউতি


ব্লগিং জিনিসটা বুঝতে আমার অনেক সময় লেগেছে। কীভাবে খুলে, কীভাবে লিখে - চেষ্টা করতে করতে অনেক সময় পার। নিজের একটা ব্লগ খুললাম, সম্ভবত: ব্লগস্পিরিটে। ইংরেজীতে লিখলাম - বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে। পরিচিত সবাইকে মেইল করে জানালাম একটা লেখা আছে, পড়ে দেখো। ২/১জন কমেন্ট করলো। কিন্তু আমার ভালো লাগলো না। ইন্টারনেটে বসে কার এমন আগ্রহ আছে - বড় বড় লেখায় ভাবের কথা পড়বে? একদিন রাগ করে দিলাম - 'ডিলিট দিজ ব্লগ'।
আরো অনেকদিন পরে - জানলাম সামহয়্যারইন নামে একটা ব্লগ আছে। বাংলা লেখার অপশন দেখে রেজিস্ট্রেশন করে ফেললাম। লিখে ফেললাম একটা লেখা। তখন ৯৪টা পোস্ট নিয়ে সর্বোচ্চ ব্লগারের তালিকায় শেষ জন ছিল। ভাবলাম রেগুলার লিখলে আমিও উঠে যাবো এ তালিকায়!
আজব ব্যাপার! লিখতে পারি না। পড়তেই দিন শেষ! চমৎকার চমৎকার সব লেখা। খুঁজে পেলাম আগে পড়েছি এমন কয়েকজনের নাম, লেখা। আমি তখন মাঝে মাঝে টুকটাক ডায়েরীর মতো করে লেখা লিখি। কী আশ্চর্য, কয়েকজন দেখলাম ওগুলো পড়েও কমেন্ট করে! প্রথম পাতায় না দেয়ার পরও মানুষ কীভাবে জানে আমি নতুন পোস্ট দিয়েছি! বোধ হয় ২/৩ সপ্তাহ পর দেখলাম সাম্প্রতিক মন্তব্য বলে একটা কলামও আছে। ডায়েরীর মতো করে লেখা ১৫/২০টা পোস্ট মুছে দিলাম। নিজের ব্যর্থ চেষ্টা গদ্য গল্প লেখা আবার শুরু করলাম। সবাই দেখি প্রশংসা করে, কেউ লেখনীর সমালোচনা করে না! বুঝলাম - এপ্রিসিয়েশনের একটি ব্যাপার আছে। আমিও অন্যদের পোস্ট পড়া শুরু করলাম। অন্তত: ২০জন ব্লগার পেলাম যাদের লেখা পড়ে দিন পার করা যায়। গুগল সরিয়ে আমার কম্পিউটারের হোমপেজ করলাম সামহয়্যারইনব্লগ। ছুটির দিনেও সাইবারে যাই ২০/৩০ মিনিটের জন্য, কে কী লিখলো তা পড়ার জন্য। বুঝলাম ব্লগিং এক নেশা। এই প্রথম বোধ হয় নিজের আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে বেরিয়ে মানুষের সাথে মিশার চেষ্টা করলাম।
আমার পত্রিকা পড়ার অভ্যাস কমে গিয়েছিল এ ব্লগের কারণে। বন্ধুদের সাথে জিমেইল চ্যাটে ধুমধাম করে বিভিন্ন পোস্টের লিংক পাঠাই, ভাবিনা ওরা বিরক্ত হলো কিনা। রকিব কিংবা মনজুর যখন এখানে বেড়াতে এলো তখন কলেজ-ভার্সিটির দিনগুলোর বদলে আমি কেবল ব্লগের গপ্প করি। বুঝি এক নেশায় আক্রান্ত আমি। মুক্তির উপায় খুঁজিনি। অনেক প্রাপ্তি ঐ ব্লগ আড্ডায়। এরপরও কথা থাকে। সবকিছুর বোধ হয় এক রকম সমাপ্তি থাকে। কেউ কেউ বলেন - স্যাচুরেশন পয়েন্ট। সাথে ক্যাটালিস্ট হিসাবে আসলো তুমুল ঝড়। ব্লগ কর্তৃপক্ষের নীতির সাথে নিজেকে মেলাতে পারছিলাম না। প্রতিদিন সকালে ব্লগ খুলে কীটপতঙ্গ দেখতে ইচ্ছে করতো না। তারপর ৪জুন ভাবলাম - যথেষ্ঠ হয়েছে। আর না, নতুন আর কোনো লেখা ওখানে দিবো না। খুব দরকার না হলে কমেন্টও না।
ফিরে এলাম নিজের ম্যাচবক্সে।
এখন থেকে এখানে নিয়মিতভাবে কথা হবে, অল্পকথা - গল্পকথা।

Read more...

06 June, 2007

নির্বাসনের নীল নীড়


ইদানিং অনেক কিছু ভালো না লাগার প্রলেপ পাচ্ছে।
খুব অদ্ভুত এক সময়।
সেদিন শনিবার।
ছুটির দিন।
আমি যে লজে থাকি তার নিচে দাড়িয়ে দেখি অদ্ভুত ফুল ফুটে আছে সামনের গাছে। কী ফুল? কী গাছ? কৃষ্ণচূড়া গাছের মতো বড় গাছ। ফুলের রঙ গোলাপী, না গোলাপী না, ঠিক বেগুনীও না। হয়তো গোলাপী বেগুনীর কাছাকাছি কিছু একটা হবে। ধ্যুত, রঙ চেনা আর হলো কোথায়! প্রজেক্ট প্রেজেন্টেশনে আমার সেন্স অব কালার দেখে সবাই হাসাহাসি করতো। পার হয়ে গেলো দিনগুলো।
ক'দিন পরে সন্ধ্যায় খুব আগ্রহ নিয়ে যখন তাকালাম তখন দেখি ফুল আর নেই, ডালপালা নেই।
বস্ত্রহীন শরীরে নি:স্ব গাছ। মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো।
সে সন্ধ্যাটা অন্য রকম হতে পারতো।
আইপডে শাহানা বাজপেয়ী সুরের জাদুতে মাতাতে পারতো।
কিছুই হলো না।
লিটল ইন্ডিয়ায় সবজি-ভাত খেয়ে বাসায় ফিরে ঘুমিয়ে পড়লাম।
হাসি পায়, এটাও বাসা! ছোট্ট এক খুপড়ি জীবনের ধরা-বাঁধা জীবন।
নিয়মিত বাবুদের কেরাণী ঘরে হাজিরা।
প্রতিদিন এক একটা অভিনয়ের দিন। কেতাবী হাসি।
আর কান্না? কিসের জন্য কান্না?
শাদা বালিশে ছোপছোপ কান্নার দাগের সময় এখন এক অতিক্রান্ত বিলাসিতা।
চারপাশে যখন হুটহাট দরজা বন্ধের শব্দ তখন পলায়নপর আমার গন্তব্য কোথায়!
কোথাও যাওয়া হয় না। কিচ্ছু হয় না।

এসব করেই কেটে গেলো আজ ৬ জুন, তোমাকেই ভেবে ভেবে।

Read more...

04 June, 2007

আমরা সস্তায় ফ্ল্যাট কিনবো ভাবছিলাম

প্রথমে বামে, তারপর ডানে। সামনে দিকটায় উপর-নিচ করে করতে হবে। ম্যাটাডোর থ্রি এঙ্গেল টুথব্রাশ দিয়ে উপরের পাটির হার্ড-টু-রিচ এরিয়ায় যখন ঘষাঘষি করছি তখন সাত্তার মামা খবরটি দিলো। মুখে টুথপেস্টের ফেনা জমে উঠলে আমি কিছুক্ষণ মুখ বন্ধ করে চুপচাপ থাকি, বড় বড় করে নি:শ্বাস নিই। কিন্তু সাত্তার মামার কথা শুনে চুপ থাকতে পারলাম না। ফুচ্চক করে কলগেটের ফেনা বেসিনে ফেলে চমকে গিয়ে বলি - 'কী বলো মামা? আসলেই?'
সাত্তার মামা তখন গরম গরম পরোটা ছিড়ে মুরগীর গিলা-কলিজার ঝোলে চুবিয়ে ডান হাতে মুখে তুলে দিচ্ছে, চোখ তীক্ষ্মভাবে বাম হাতে ধরে রাখা কাগজের উপর। বেসিনের পাশে ঝুলানো তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে আমি আবছা দেখতে পাই - মামার হাতের কাগজে ছক করা ঘর। পাশে গিয়ে বসলে মামা আমার হাতে কাগজটি তুলে দেয়; বিভিন্ন এপার্টমেন্টের লোকেশন, আয়তন আর দাম।এক নজর চোখ বুলিয়ে আমি অবাক হয়ে যাই - 'দাম এত্তো কম?'
সাত্তার মামা কাঁচা মরিচে কামড় দিয়ে বলেন - 'সে জন্যই বলি ভাগ্নে, সময় থাকতে কিনে ফেলো।'
আম্মা তখন রান্নাঘর থেকে আওয়াজ দেন - 'এইসব মামদো ভূত মাথায় নিবা না। পরে আবার কোনদিন কী হয়ে যায় - - -'।
মামা মাথা নাড়ে - 'বুঝলি, তোর মা ছোটবেলা থেকে এরকম। দুলাভাই কই?'
আব্বা ভোর বেলা বাজারে গেছে। আব্বার ধারণা - বাজার থেকে জিনিস কিনতে হয় ফ্রেশ, নয়টা দশটা করে বাজারে গেলে ভালো জিনিস আর পাওয়া যায় না। তাই শুক্রবার সকালে মিরপুর ছয় নম্বর বাজারে গিয়ে ফ্রেশ গরুর গোশত, নখ না খুঁটানো লাউ, শাক-সবজি, শিশির পড়া ধনে পাতা কিনে নিয়ে আসবেন। সাত সকালে বাজার করার অসুবিধাও আছে। একবার আব্বা সকালে বাজারে গেলেন, তখন বৃষ্টি বাদলার দিন। ট্রাক থেকে খাঁচা ভর্তি মাল ফেলছে ঝপাত ঝপাত করে। হঠাৎ দেখা গেলো লাল শাকের খাঁচা ছিড়ে কাদার মধ্যে একাকার। বৃষ্টি ভেজা কাদা, পানিতে জবজব। পাশে জবাই করা গরুর গোবর-রক্ত ভাসছে এখানে ওখানে। এর মাঝে পড়ে থাকা লাল শাক তুলে নিচ্ছে একজন। পাশ থেকে টোকাইদের পাহারা দেয়া হচ্ছে, কেউ যেন শাক নিয়ে দৌড় না দেয়। আব্বা তখন গাঁওপাড়া জেনারেল স্টোরের সামনে দাঁড়িয়ে। দেখা গেলো বড় ড্রামে শাকের মুঠাগুলো একবার চুবিয়ে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে কাঠের পাটাতনে।আব্বার মুখে শাকের বিবরণ শুনে আম্মা ওয়াক-ওয়াক করে বেসিনে ছুটে গেলো, আমার ছোট ভাই মুকুল থু-থু করে থুতু ফেললো মেঝে। আমার কিছু মনে হলো না। কারণ, চোখে না দেখা অনেক জঘণ্য নোংরা জিনিস আমরা হজম করে ফেলছি অনায়াসে। আমার কথায় কোন কাজ হলো না। ওটাই শেষ, এরপর আব্বা আর কখনো লাল শাক কিনেননি। আমার খুব প্রিয় একটি খাবার নিষিদ্ধ হলো আমাদের কিচেনে।
সাত্তার মামা তখন কাপ থেকে চা ঢালছেন পিরিচে। উনি কাপে সরাসরি মুখে দিয়ে চা খেতে পারেন না, ঠোঁট পুড়ে যায়, জিহ্বা পুড়ে যায়। আমি সেদিকে তাকিয়ে বললাম - 'মামা, তুমি তো জানো - আব্বা লাল শাক কিনে না'।
- আরে গাধা, লাল শাক আর ফ্ল্যাট কি এক জিনিস হলো?
- এক না, কিন্তু চিপায় পড়ে ফ্ল্যাট বিক্রি করছে কম দামে, এখন ঐ ফ্ল্যাট কেনা ঠিক হবে? পরে সমস্যা হবে না?
- ফ্ল্যাট কিনবি নগদে, দলিল পত্র সব ঠিক থাকবে। সমস্যার কী আছে এখানে?
চায়ে চিনি দিয়ে শব্দ করে চামচ নাড়তে নাড়তে আম্মা তখন ডায়নিং টেবিলে এসে বসে। মামার দিকে তাকিয়ে বলে - 'শোন, তোর দুলাভাইয়ের এতো টাকা নাই। আর কোথাকার কোন এমপি লুটের টাকায় বাড়ী করছে, ঐটা কেন কিনতে যাবো?'মামা তার পুরনো লজিকে ফিরে যায় - 'আপা তুমি দামের কথা ভাববে না? এতো সস্তায় পাবে কখনো?'আম্মা আর মামার কথা চালাচালির এক পর্যায়ে আব্বা বাজার থেকে ফিরে এলেন ঘামে ভেজা দরদরে শরীর নিয়ে। ফুল স্পীডে ফ্যান ছেড়ে লেবুর শরবতে চুমুক দিয়ে সাত্তার মামার সাথে আলাপ জমে উঠে তার। বাজার - দেশ - রাজনীতি। সাত্তার মামার প্ল্যান ছিল এটা-ওটা কথার ছলে ফ্ল্যাটের ব্যাপারে টোপ ফেলবেন। অথচ আব্বা তখন কেয়ারটেকার সরকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ - 'কেউ ভাবতে পারছিলো - এইসব পালের গোদা জেলের ভাত খাবে?'মামা সামনে বসে হাত কচলায় - 'ভেবে দেখেন দুলাভাই, চার মাস হরতাল নাই। এমন সময় বাংলাদেশে গেছে কখনো? হাসিনা খালেদা শেষ করলো দেশটারে----'।
এসব কথায় কথায় সময় কেটে যায়। আমি তখন আমার রূমে ডেইলী স্টার ম্যাগাজিনের 'রাইট টু মিতা' পড়ছি।
দুপুরে আলাপ জমলো না।জুম্মার আজান দিলে আব্বা গোসলে গেলেন। মামাও আব্বার সাথে চোখে সুরমা মেখে মসজিদে গেলো।
মসজিদে আসা-যাওয়ার পথে আব্বার সাথে মামার কী কথা হলো জানি না। দুপুরে খাবার টেবিলে মামা দেখলাম খুব গম্ভীর। শেষে আচারের বয়াম থেকে দু'চামচ জলপাই টুকরা মুখে দিয়ে খানিকটা অস্পষ্ট উচ্চারণে বললেন - 'দুলাভাই, ভেবে দেখেন। আমিও ওদিকটায় খোঁজ খবর রাখি।' আব্বা হ্যাঁ - না কিছু বললেন না। আম্মা প্রসংগ ঘুরিয়ে আমার প্লেটে আরেক টুকরা মাছ তুলে দিয়ে বললেন - 'তোর খাওয়া দিন দিন কমে যাচ্ছে'।
জিটিভি-তে পুরা মাস জুড়ে রাজকাপুর স্পেশাল দেখাচ্ছে। আজ দেখাবে 'আওয়ারা'। আব্বা-আম্মা পুরোনো দিনের সিনেমার ভক্ত। দুজনে বেশ আয়েশ করে 'আওয়ারা' দেখতে বসেছে। মামা দুয়েকবার ওদিকে চক্কর মেরেও পাত্তা পেলো না। শুক্রবার বিকেলে আমি বাংলাদেশ বেতার ঢাকা'র গ চ্যানেলে ওয়ার্ল্ড মিউজিক শুনি। শান্তা এ প্রোগ্রামের ফ্যান। প্রায়ই আমাকে ডেডিকেট করে সং রিকোয়েস্ট করে। এলটন জন আর জর্জ মাইকেলের গান তার বেশী পছন্দ। ওয়ার্ল্ড মিউজিকে মোহম্মদপুরের তন্ময় রেগুলার লিসেনার। তন্ময়ের চয়েসগুলো আমার সাথে মিলে। ভালো ভালো গান। আমি গান শুনছি - এমন সময় সাত্তার মামা এলেন আমার রূমে
- 'কী করো ভাগ্নে?'
- এইতো মামা, গান শুনি। এসো।
- ভালোই। বাবা-মা হিন্দি সিনেমা দেখে, ছেলে ইংরেজী গান শুনে। বাংলার দাম নাই।
আমার হাসি পায় - 'মামা, আমার টেবিলে 'মেড ইন বাংলাদেশ' সিনেমার সিডি আছে, তুমি দেখতে পারো।'
- নাহ! সিনেমা দেখার টাইম নাই। বিকেলে তোর জরুরী কাজ আছে?
- তেমন কোন কাজ নেই, কেন?
- তাহলে চল, অ্যাপার্টমেন্টটা দেখে আসি।
- আব্বা রাজী আছে?
- পুরা রাজী না, তবে প্রসেসে আছে। একটু টাইম লাগবে।
বিকেল বেলা আমি আর মামা অ্যাপার্টমেন্ট দেখতে বের হয়ে গেলাম। ট্যাক্সি নিয়ে মহাখালী পার হয়ে কাকলী মোড় দিয়ে ঢুকে বনানী কবরস্থানের পাশ দিয়ে চললাম। ঝকমকে গ্রে কালারের একটি বাড়ীর সামনে এসে ট্যাক্সি থামলো। বাড়ীর সামনে ছায়া শীতল পরিবেশ। বড় বড় কাঁঠাল গাছ আছে কয়েকটা। আমি যখন মাথা উঁচু করে ক'তলা বিল্ডিং দেখার চেষ্টা করছি মামা তখন গেটে দারোয়ানের সাথে কী কী কথা সেরে নিলো। খানিক পরে আমরা দো'তলার একটি ঘরে গিয়ে বসলাম। মধ্য তিরিশের এক যুবক এগিয়ে এলো। মামা তার সাথে হাসিমুখে হাত মেলালো। জানা গেলো - যুবকটি এমপি সাহেবের শালা। এমপি সাহেবের এরকম তিরিশ-চল্লিশটির মতো ফ্ল্যাট আছে। জরুরী অবস্থায় জরুরীভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। আমার পড়ালেখা, আব্বার ব্যবসা নানা বিষয়ে আলাপে আলাপে চা-চানাচুর দেয়া হলো। পরে লিফটে করে আমরা গেলাম সাত তলার একটি অ্যাপার্টমেন্টে। দুই হাজার স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাট। বিশাল ড্রয়িং-ডায়নিং, মাস্টারবেড, চাইল্ড বেড, সার্ভেন্ট কোয়ার্টার, গেস্টরূম, তিন দিকে লাগোয়া ব্যালকনি। একদিক থেকে লেকের মতো কিছু একটা দেখা যায়। দখিন বারান্দা দিয়ে শিরশির বাতাস আসছে। মামা আমাকে মুগ্ধ করার চেষ্টা করছে - 'বুঝলে, মীরপুর ভুলে যাও। অনেক তো হলো, আর কতো ঐ চিপাগল্লির জীবনে!'
আমি মাথা নাড়ি।
মামা বলে যায় - 'আপা দেখলে অবশ্যই রাজী হবে, দুলাভাইকে নিয়ে একটু সমস্যা।'
আমি তখন এদিক ওদিক দেখি।মামা থেমে নেই - 'ভাড়া বাসায় আর ক'দিন থাকবি? ক'দিন পর তুই বিয়ে করলে বাড়তি রূমের দরকার হবে না?'
এবার আমি কিছুটা লজ্জা পাই।
মামা টের পেয়ে বলেন - ' কী বলিস, ভুল বললাম নাকি? মেয়েটার নাম যেন কি? শান্তা নাকি কান্তা!'
আমি মুখ লাল করে বলি - 'এসব তো অনেক দূরের কথা মামা।'- 'দূরের হবে কেন? বিয়ে তো একদিন করবিই। পারলে একদিন শান্তাকেও ফ্ল্যাটটা দেখিয়ে নিয়ে যাস। তারও তো পছন্দ-অপছন্দের ব্যাপার আছে!'
রাতে বাসায় ফিরলে আব্বার সাথে এ ব্যাপারে কথা হয় না। ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়বো এমন সময় আম্মা এসে চুপিসারে জিজ্ঞেস করে - 'বাসা কেমন দেখলি? আশেপাশের পরিবেশ কেমন? দাম কমানো যায় না?'আম্মার কথার জবাব দিতে দিতে আমার চোখ দুটো বুঁজে আসে।
ক'বছর পার হলো জানি না। আমি শান্তাকে বিয়ে করেছি। আমাদের অ্যাপার্টমেন্ট টুকটাক শো-পিসে ভর্তি। ঠান্ডা বাতাস আসছে জানালা দিয়ে, সময়টা হয়তো বিকেল হবে। আমি শুয়ে আছি। শান্তার মনে ছেলে মানুষী জেগেছে। সে আজ হলিক্রস কলেজের ইউনিফর্ম পরবে, তারপর আমরা অনেক আগের দিনে ফিরে যাবো, ব্যালকনিতে বসে টুকটাক খুনসুটি করবো দুজনে। এমন সময় কলিংবেল বাজে। আমি আড়মোড়া ভেঙে গিয়ে দরজা খুলি। আমাকে ধাক্কা দিয়ে তিনজন যুবক আমাদের রূমে ঢুকে যায়। অস্ত্র হাতে একজন গিয়ে শান্তাকে ধরে নিয়ে আসে, যুবকটিকে আমি চিনি। এমপি সাহেবের শালা, যার বাসায় চা-চানাচুর খেয়ে ফ্ল্যাট কেনার আলাপ হয়েছিল। আরেকজন আমার মাথায় ছুরি ঠেকিয়ে বলে - 'আপনার বৌরে আমরা নিয়ে গেলাম'। আমি প্রতিবাদ করি - 'কেন? কেন ওকে নিয়ে যাবেন? টাকা পয়সা যা পারেন নিয়ে যান, ওকে না, প্লিজ!' আমার কথা শুনে এমপি সাহেবের শালা হো:হো: করে হাসে - 'শাকের দামে চামেচামে ফ্ল্যাট কিনবা, আমাগো দূর্দিনে কাঁচকলা দেখাইবা, আর আমরা চুপ থাকুম? দিন কী আর সমান যায়?'আমি এবার আব্বা-আম্মাকে ডাকি - 'আব্বা-আম্মা, আপনারা আসেন। শান্তাকে ওরা নিয়ে গেলো'। আমার গলার শব্দ ক্ষীণ হয়ে আসছে। কেউ শুনছে কী-না জানি না। আব্বা ইজি চেয়ারে হেলান দিয়ে পত্রিকা পড়ছে। আম্মাকে দেখছি ডায়নিং টেবিলে খাবার সাজাচ্ছে। আম্মা আমার দিকে মুচকি হেসে বলে - 'বাবা আয় খেতে আয়, তোর আব্বা আজ অনেকদিন পর বাজার থেকে লাল শাক এনেছে'। আমি শান্তার হাত ধরে রেখেছি। লোকগুলো আমাকে ধাক্কা দিচ্ছে ক্রমাগত।
মুকুলের ধাক্কায় আমার ঘুম ভাঙে - 'ভাইয়া, আব্বা তোমাকে ডাকছে। কালকে কোথায় ফ্ল্যাট দেখে এলে, ঐ ব্যাপারে কথা বলবে'।

___________
ছাপা হয়েছিল - 'হাজারদুয়ারী' মে সংখ্যায়।

Read more...

03 June, 2007

পরবাসে পাকমন

স্ট্রাফোর্ডশায়ার ইউনিভার্সিটির ফাইন আর্টস বিভাগের ছাত্র, বাংলাদেশের ছেলে জিয়াউল আবেদীন পলাশ 'জেনোসাইড ৭১' শিল্পপ্রদর্শনীর 'অপরাধে' শারীরিকভাবে আক্রান্ত হয়েছেন। জানা গেছে, 'বাংলাদেশী-পাকিস্তানী সহাবস্থানকে' সুদৃঢ় রাখার জন্য 'মিটমাটের' চেষ্টাও হয়েছে। আসুন এ সহাবস্থান-সহবাসকে অভিনন্দন জানাই। চিয়ার্স!!!_________________________________________________________

এবারের ক্রিকেট বিশ্বকাপের শুরুটা কেমন যেন এলোমেলো হয়ে গেলো। ইন্ডিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশ দারুণ সূচনা করলেও কম্যুনিটির মাথা বাংলাদেশের মকসুদ আলী খুব বেশী উচ্ছ্বসিত হতে পারেনি। পারেনি, কারণ খেলার পর যার সাথে আনন্দটা শেয়ার করার কথা ছিল, পাশের ফ্ল্যাটের মুসলিম ব্রাদার, সালিম নাওয়াজ ওরফে সালিম ভাই তখন ভীষণ বিষণ্ন। পাকিস্তান হেরে গেছে আয়ারল্যান্ডের কাছে।
ফয়সালাবাদ থেকে আরো বিশ বছর আগে এই পরবাসে এসে শেঁকড় গাঁড়ার সময় নি:স্ব সালিম ভাই খুব বেশী কিছু না আনলেও ক্রিকেটের জন্য বিশাল এক মন নিয়ে এসেছিলেন। জাভেদ মিয়াদাঁদ, ওয়াসিম আকরাম আর ইমরান খাঁনের বিশাল বিশাল পোস্টার তার ড্রয়িং রুমে। অন্যদিকে দেশের বাইরে এসে নানান চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে মকসুদ যখন কিছু একটা করবো করবো ভাবছে তখন সালিম ভাই ছিলেন বড় ভাইয়ের মতো। কত্তোদিন দুপুরে-রাতে সালিম ভাই ডেকে ডেকে খাইয়েছে, হালাল মুরগীর ডানাটা কিংবা স্যামন ফিশের লেজটা প্লেটে তুলে দিয়েছে যত্ন করে। আলাপ জমেছে ক্রিকেট নিয়ে। ক্রিকেট মানেই সালিম ভাইয়ের টিভি রুম। ইনজামামের ছক্কা দেখে মকসুদ যখন চেয়ার ছেড়ে লাফ দিয়ে উঠে চিৎকার দেয়, সালিম ভাই তখন মকসুদের গ্লাসে আরেকটু ব্ল্যাক লেভেল ঢেলে দেয়।
ক্রিকেট কিংবা তলানীর শরাবের চেয়েও আরেকটি কারণে সালিম ভাইয়ের বাসা মকসুদের কাছে এক অদম্য আকর্ষণ, সালিম ভাইয়ের বৌ। আফসানা ভাবী পেশোয়ারের মেয়ে। ভাবীকে দেখলে মকসুদ নিজের মাঝে অন্য রকম এক শিহরণ অনুভব করে, বুকের ভেতরের শিরশির করা ঢেউটা তলপেট - হাঁটু ছাড়িয়ে যায় পায়ের তালুতে। সালিম ভাইয়ের গোলগোল চোখ দুটোকে ফাঁকি দিয়ে মকসুদের চোখ তখন আফসানা ভাবীর রেডরোজ মাখা কপাল, খাড়া নাক, নাকের দু'পাশে হাসির ভাঁজ পেরিয়ে ধারালো চিবুকে গিয়ে থামে। উঠতি কৈশোরে যাত্রাপালার এক্সট্রা ড্যান্স দেখে মনের ভেতর জন্ম নেয়া অনুভূতিটা জেগে উঠে আবার। নাকে তখন কাশ্মির বনস্পতির চিকেন টিক্কা মাসালা আর আলু পারাটার ঘ্রাণ আসলে মকসুদ স্বাভাবিক জগতে ফিরে আসে।
এবারও সেরকম উল্লাস হতে পারতো, ওল্ড স্ম্যাগলারের ফোর ফিফটি এমএল বোতল শেষ হয়ে যেতো নিমিষে। পাকিস্তান হেরে সব ওলট-পালট হয়ে গেলো। সালিম ভাইয়ের সাথে দেখা করার সাহস পায় না মকসুদ। অনেকদিন আফসানা ভাবীকেও দেখে না। মকসুদের অপেক্ষাটা খুব দীর্ঘ অবশ্য হলো না। বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ডের কাছে হেরে যাওয়ার পর সালিম ভাই নিজেই টোকা দেয় মকসুদের দরজায় - 'য়্যূ নো, আয়ারল্যান্ড ইস অ্যা স্ট্রং টীম'।
সপ্তাহ কয়েক পর শারজায় পাকিস্তান-শ্রী লংকা সিরিজ জমে উঠলে সালিম ভাইয়ের টিভি রুম পুরনো আমেজ ফিরে পায়। শহীদ আফ্রিদির দুই চার আর চার ছক্কা দেখে উল্লাসে আপ্লুত হয় দু'জন। ফ্রিজ থেকে চিকেন বিরিয়ানী বের করে ওভেনে গরম করে সালিম ভাই। আফসানা ভাবী মাস খানেকের জন্য পেশোয়ার গেছে শুনে মকসুদের মন কিছুটা খারাপ হয়ে আসলেও টেবিলে চিভাস রিগ্যালের বোতল ফিরতি ভালোলাগা এনে দেয়। সালিম ভাই আজ খানিকটা বেশী পান করছে। মাঝে মাঝে সোডা পানি ছাড়াই গলায় ঢেলে দিচ্ছে ঢকঢক করে। মকসুদও সমান তালে চলার চেষ্টা করছে। সালিম ভাইয়ের মাঝে তখন প্রবল ইতিহাসবোধ জাগ্রত হয় - 'দোজ অয়্যার বাস্টার্ড পলিটিসিয়ানস... ডিভাইডেড আস। উই ব্রাদার, ব্রাদা-র' - বলতে বলতে সালিম ভাইয়ের গলায় শব্দ আঁটকে যায়। খানিকটা অস্থির মনে হয়। মকসুদ পাশে গিয়ে বসে, এসি-টা কমিয়ে দেয়। সালিম ভাই আবারও বকাবকি করে - 'স্টিল, স্টিল দেয়ার মাইট বি অ্যা কনফেডারেশন। স্টিল উই ক্যান বি ইউনাইটেড'। এই ফাঁকে মকসুদ বাকী বোতল সাবাড় করে দেয়। সোফা ছেড়ে উঠতে পারে না, নেশাটা আজ বড্ড বেশী হয়ে গেছে। চোখের পাতা জোড়া লেগে আসে।
...উপুড় মাথায় যখন বালিশে দমবন্ধ দমবন্ধ লাগে, তখন মকসুদ টের পায় তার পিঠের উপর ভর করেছে সালিম ভাই। বিশাল পেশীর সাথে লড়াইয়ে হেরে মকসুদ যখন বিধ্বস্ত, সালিম ভাই তখন ডিওরেক্সের প্যাকেট ছিড়ে বলে - 'স্টিল, দেয়ার মাইট বি অ্যা কনফেডারেশন'।
২৮.০৫.২০০৭

_______________________
পলাশ সংক্রান্ত তথ্যসূত্রের জন্য কৃতজ্ঞতা - হাসান মোরশেদ।

Read more...

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP