05 September, 2013

ঢাকামেট্রো ০৫-০৯১৩

বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে আগ্রহ কবে হারিয়েছি মনে নেই। এখন বাংলাদেশ দলে কারা খেলেন, নামও জানি না। বলতে দ্বিধা নেই, বাংলাদেশ ফুটবল দলের অধিনায়কের নামও আমার অজানা। অথচ, একটা সময় ছিল, সে সময় আরো বিশ পঁচিশ বছর আগে (হায়! প্রায় সিকি শতাব্দী আগে!) ফুটবলের দিন অন্যরকম ছিল। আবাহনী-মোহামেডান নিয়ে কী টানটান উত্তেজনা! তৃতীয় শক্তি ছিল ব্রাদার্স ইউনিয়ন, আর একবার হঠাৎ করেই চমক দেখলো মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। আর ছিল ওয়ারী, আবাহনীর যম! ওয়ারী মানেই আবাহনীর ড্র নয় হার! রহমতগঞ্জকেও মনে পড়ছে।
ফুটবলের সব গরমাগরম সময়ের উত্তাপ পেয়েছি - উপজেলা মফস্বলের গ্রামে। স্কুলে আমরা তখন যে যেই দলের সমর্থক সে দলের ছবিওলা খাতা কিনতাম। দাদা একবার ভুলে মোহামেডানের প্লেয়ারদের ছবিওলা খাতা আনলে, রাগ করে সে খাতায় না লিখে রেখেছে দিয়েছিলাম অনেকদিন। শুধু খাতার ওপর ছবি নয়, ছবির ওপর প্রত্যেক খেলোয়াড়ের গায়ে নাম লিখতাম - মুন্না, আসলাম, জনি, মহসীন, গাউস। মোহামেডানের ছিল - কায়সার হামিদ, আবুল, শাব্বির, কানন, এমিলি। আরো কতো নাম ভুলে গেছি! বিদেশি খেলোয়াড়ও আসতো। আবাহনীর হয়ে খেলেছিলো - জিকো। আর দুই ভাই লাডি বাবা লোলা, বাডি বাবা লোলা, কী নাম! এদের একজন আবার ঢাকার মাঠের ইতিহাসে প্রথম গোল্ডেন গোলদাতা ছিল।
এসব তথ্য উপাত্ত পেতাম বাংলাদেশ বেতার, তখনকার রেডিও বাংলাদেশের ধারাবিবরণীর সুবাদে।
টিভিতে শুধু ফাইনাল ম্যাচগুলো দেখানো হতো, রেডিওতে সম্প্রচার হতো বেশি - বাংলাদেশ বেতার তখনকার রেডিও বাংলাদেশ। বছরে তিনটা টুর্ণামেন্ট হতো - প্রিমিয়ার লীগ, ফেডারেশন কাপ, আরেকটা মনে পড়ছে না। ধারাভাষ্যকার ছিলেন - আব্দুল হামিদ, যাঁকে সবাই শ্রদ্ধেয় হামিদ ভাই ডাকতেন, ছিলেন - মোহাম্মদ মূসা, খোদাবক্স মৃধা, মনজুর হাসান মিন্টু, শেষের দিকে জাফরুল্লাহ শরাফত চৌধুরী (পরে নাম পালটে চৌধুরী জাফরুল্লাহ শরাফত)। এদের মাঝে প্রথম তিনজন প্রয়াত। আরো একজনের নাম মনে পড়ছে না, কন্ঠ অনেকটা মোহাম্মদ মূসার কন্ঠের কাছাকাছি ছিল (সংযুক্তিঃ মনে পড়েছে, হান্নান খান)।
ফুটবল নিয়ে এতোএতো স্মৃতি হাতড়ালাম, মঙ্গলবার টিভিতে সাফ ফুটবলে বাংলাদেশ বনাম ভারতের ম্যাচ দেখার পর। রোববার বাংলাদেশ - নেপাল ম্যাচও দেখেছিলাম টিভিতে। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের করুণ অবস্থা ছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে অনেক ভালো খেললেও ইনজুরি টাইমে গোল খেয়ে ড্রটা ছিল পরাজয়ের শোকসম।
ফুটবল নিয়ে স্মৃতিহাতড়ে যা কিছু আনতে যাই, দেখি মনে-না-পড়ার পৃষ্ঠাই বেশি। এখন জাতীয় দলের ফুটবল নিয়ে আগ্রহ নেই, আশাবাদী হওয়ার কিছু নেই - এমনটাই ভাবি, কিন্তু ম্যাচ ড্রয়ের পর কয়েকজন ফুটবলার কান্নার দৃশ্য দেখে আবেগপ্রবণ হয়েছি, বিষন্ন হয়েছি। মনে পড়েছে গত এশিয়া কাপ ক্রিকেটে ফাইনালে হারের স্মৃতি - সাকিব মুশফিকের কান্না। ভাবছিলাম, সমস্ত চেষ্টা দিয়ে ফুটবলাররা মাঠে খেলেন, দেশের জন্য, দেশের জার্সি গায়ে নিয়ে। কিন্তু, আমাদের দেশে শেষ পর্যন্ত ফুটবল বেঁচে থাকবে তো!
দালান-জঙ্গলের শহর ঢাকায় এখন মাঠ আর নেই বললেই চলে। যা আছে, ক্রিকেটময়।
টিভিতে এক ফুটবল কর্মকর্তা বলছিলেন, গ্রামে গ্রামে ফুটবলের প্রসারে সরকার কত হাজার ফুটবল নাকি বিতরণ করবে, কারণ একটা বল হলেই খেলা যায়, ক্রিকেটের মত এটা সেটা লাগে না। কিন্তু, মাঠ কই? ফসলি জমিতে ঘর উঠছে। রিয়েল এস্টেট কোম্পানীগুলো ছুটছে গ্রামের দিকে।
ইচ্ছা ছিল - ঢাকামেট্রো সিরিজে ঢাকা শহরের কথা লিখবো কেবল।
নানান কাজের চাপে এবং কাজ শেষে আরামদায়ক আলস্যে - কিছুই লেখা হয় না। লিখতে বসেছিলাম ঢাকার বিলবোর্ড নিয়ে। সাফ ফুটবল আর স্মৃতিচারণ দখল করে নিলো 'মেট্রোপলিটন মন'।
আগের কোনো এক পর্বে কে জানি বলেছিলেন, ঢাকার কথা লিখলে যানজট অবধারিত। আসলেই তো! ঢাকা মানেই তো যানজটের গল্প, জ্যামে পড়ে ক্লান্ত মানুষ, পঙ্গু ভিখারী, বিলবোর্ড আর ঘোলাটে আকাশের গল্প।
তবে আজ শেষ করি, যানজট মুক্তির গল্প বলে।
মিরপুর থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা আগে সকালে সাড়ে ছয়টায় রওনা দিয়ে যেতাম - ৪০ মিনিটেই। সাতটায় রওনা দিয়ে ৭০-৭৫ মিনিট লেগে যেতো। আর বিকেলে ফিরতে ২ ঘন্টা তো অবশ্যই, অনেকদিন তিন ঘন্টা এমনকি সাড়ে তিনঘন্টা সময়ও লেগেছে।
সুখের ব্যাপার হলো - এখন সকালে যেতে ২৫-৩০ মিনিট আর বিকেলে ফিরতে ৩৫-৪০ মিনিট সময় লাগে।
কুড়িল ফ্লাইওভার উদ্বোধনের পর এমন শান্তি পাচ্ছি, সাথে এয়ারপোর্ট রোড-মিরপুর ফ্লাইওভার পুরো আশীর্বাদ!
মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলাম, ইউটিউবেও দিলাম। টেলিটক থ্রিজি লাইন এ কয়েকদিন ধীর গতি হয়ে গেছে। দেশের বাইরে যারা আছেন, তারা হয়তো ভালো দেখতে পাবেন।

সম্মানিত বাংলাদেশ সরকার, আপনারা এ সামান্য নাগরিকের কৃতজ্ঞতা জানুন।
এ ফ্লাইওভার কোনো কাজে আসবে না, শেষে কোরিয়ার ফ্লাইওভারগুলোর মতো ভেঙে ফেলতে হবে - এমন অনেক আলোচনা শুনেছি এখানে ওখানে। কখন কী হবে জানি না, এটুকু বুঝি - ৩ ঘন্টার দূরত্ব - ৪০ মিনিটে নেমে এসেছে। তাই আবারও ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা।
নির্বাচন হবে কি হবে না সেটা নিয়ে সংশয় জেগেছে মানুষের মনে। সময়ও প্রায় শেষের দিকে। এ বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে শাহবাগে লক্ষ মানুষ যে দাবী নিয়ে সমবেত হয়েছিল, এখনো তরুণ প্রজন্ম যে আশায় আছে - যুদ্ধাপরাধীর বিচার কার্যকর - তা হবে তো শেষ পর্যন্ত?

Read more...

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP