06 January, 2013

ঢাকামেট্রো ০৬-০১১৩

আজ হরতাল ছিল।
এখন হরতাল শুরু হয়ে যায় আগের সন্ধ্যা থেকে। বাস পোড়ানো হয়, হাতবোমা মারা হয়। গতকাল এক বাসায় দাওয়াত ছিল রাতে। খাওয়া শেষ হতে রাত সোয়া দশটা বেজে গেল। বের হবো, এমন সময় দেখি ঐ বাসায় সত্তরোর্ধ বয়সের নানু আমার পথ আঁটকালেন। চোখ বন্ধ করে কী কী পড়ে মাথায় ফুঁ দিলেন। একটু আগে টিভিতে দেখেছেন - মিরপুর ১ নম্বরে বাসে আগুন দেয়া হয়েছে, সেটা দেখার পর থেকে তিনি টেনশনে আছেন। আমি বললাম, 'আল্লাহ ভরসা, টেনশন করবেন না।'
ঠান্ডা বাতাসে রাস্তায় বের হয়েই রিকশা পেয়ে গেলাম।
মিরপুর দশ নম্বরে বেশ থমথমে ভাব। মানুষের অভাব নেই, একটা বাস আসতেই এক দঙ্গল মানুষ দৌড় দিলো। চোখে পড়ার মতো পুলিস রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। কাউকে কাউকে, দেখলাম, পুলিস রিকশা থামিয়ে চেক করছে। মিরপুর থানার সামনে একটা প্রিজন ভ্যান, ভেতরে কেউ নেই। হঠাৎ একটা অ্যাম্বুলেন্স একেবারে রিকশার গা ঘেঁষে চলে গেলো উচ্চ সাইরেনে। এরপর আরো কাছ দিয়ে গেল ট্রাক। আমি রিকশাঅলাকে বললাম, 'একটু সাবধানে চালান।'
হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল পার হলে ওএসবি চক্ষু হাসপাতালের সামনে একটা ময়লার ডিপো। আগে এগুলো গলির ভেতরে শিশু হাসপাতালের সামনে ছিল। কয়েক মাস আগে সরিয়ে একটা ডিপো ওএসবির সামনে আরেকটা পোস্ট অফিস আর গ্রামীণ ব্যাংকের গেটের মাঝামাঝি রাখা হয়েছে। দেখলাম এক শিশু, ৭/৮ বছর বয়স হবে, ওএসবির সামনের ডিপো থেকে ময়লা ঘেঁটে একটা প্লাস্টিকের ঝুড়ি বের করলো। ভেতরে কিছু না পেয়ে - ধাম করে আছাড় মারলো রাস্তায়। মারার ভঙ্গিতে তীব্র ক্ষোভ। রাগ।
এসব পেরিয়ে রিকশায় বসে যেন ঠান্ডা বাতাসে সাঁতার কেটে কেটে বাসায় চলে এলাম দ্রুত।

-০২-
হরতালের দিনে বাইরে জরুরী কাজ না থাকলে বাসাতেই থাকি। টিভি দেখি, বই পড়ি। এখন আবহাওয়ায় শীত শীত ভাব আছে বলে - ঝিমানোর জন্য দারুণ সময়।
গত সপ্তায় ফুটপাথে বেশ ভালো অবস্থায় পেলাম হুমায়ূন আহমেদের 'নীল হাতী'। কোনো এক ঐশীর জন্মদিনে তার বড়'মা আর আব্বা তাকে উপহার দিয়েছিল। চার বছর না ঘুরতেই ফুটপাথের হকার ঘুরে সে বই আমার হাতে। দাম রাখলো বিশ টাকা। একটানা পড়ে ফেললাম তিনটি শিশুতোষ গল্প। দারুণ লাগলো, সাথে হাশেম খানের আঁকা ছবিগুলো ছিলো অসাধারণ সংযোজন। এখন শিশুদের জন্য কারা গল্প লিখেন জানি না। অনেকদিন 'শিশু' পড়ি না, বইমেলার বাইরে চোখেও পড়ে না। দৈনিক পত্রিকার শিশুদের পাতায় ছাপানো গল্পগুলো পড়ে হতাশ হয়েছি অনেকবার।

-০৩-
ডিভিডিতে একসাথে ছয় সাতটা সিনেমা কিনতে পাওয়া যায়।
অনেকগুলো ডিভিডি জমে আছে ঘরে। গত বছর ইন্ডিয়ান বাংলা কিছু ছবি দেখেছিলাম। সমস্যা হলো - "আর্ট ফিল্ম" ট্যাগের ছবিগুলোর বেশিরভাগ অনেক জটিল করে বানানো। কিছু বিক্ষিপ্ত চরিত্র থাকে, অস্পষ্ট সংলাপ থাকে। অনেক ধৈর্য্য ধরে বসে থাকতে হবে কী ঘটে তা জানার জন্য। এখানেই ধৈর্য্য হারাই। একারণে অটোগ্রাফ, বেডরুম, বাইশে শ্রাবণ, একটি তারার খোঁজে, নেকলেস; এরকম আরো কিছু সিনেমা দেখে শেষ করতে পারিনি। দেখলেও ভালো লাগেনি।
তবে একাধিকবার দেখেছি - ভূতের ভবিষ্যৎ। আবার দেখলেও বিরক্ত হবো না।
বড়দিনের ছুটিতে হলে গিয়ে দেখেছিলাম - রেদওয়ান রনির 'চোরাবালি'। চারপাশের দর্শকদের মাঝে যে উৎসাহ - ভালো লাগার প্রতিফলন দেখেছি, আমার কাছে সেরকম মনে হয়নি। ছবির তেমন কাহিনী নেই, গানগুলোও সাদামাটা, মনে দাগ কাটার মতো কিছু নেই। একথা সত্যি যে শাকিব খানের ঢিশ্যুম আর অনন্ত জলিলের ডোন্মাইন ছবির বিপরীতে এটা অনেক ভালো। 'চোরাবালি' যতক্ষণ দেখেছি ততক্ষণই ভালো লেগেছে। তবে একটা বড়সড় ফাঁকিবাজি আছে এ সিনেমায় নায়কের ছোটবেলার ঘটনা, প্রায় বিশ মিনিটের মতো, টেনেটেনে লম্বা করে দেখানো।

-০৪-
আজ হরতালের অবকাশে ডিভিডি ঘেঁটে দুটো সিনেমা দেখলাম।
প্রথমটা 'লাইফ ইন পার্ক স্ট্রীট'।
নামের সাথে কেন যেন - লাইফ ইন অ্যা মেট্রো, ৩৬ চৌরঙ্গী লেন, ১৫ পার্ক এভিনিউ; এ নামগুলো মনে পড়ে।
তবে পুরো ছবিতে লাইফ ইন অ্যা মেট্রোর ছায়া আছে। কেবল, ব্যান্ড দল রাস্তায় ঘুরে গান গাওয়া নয় - সম্পর্কের জটিলতার ব্যাপারগুলোও লাইফ ইন অ্যা মেট্রোর কাছাকাছি। লাইফ ইন পার্ক স্ট্রীট দেখতে গিয়ে খারাপ লাগছিল না, তবে আহামারি ভালোও লাগছিল না। কী হয় দেখি - ভেবে ভেবে অপেক্ষায় থাকি। এক সময় সিনেমা শেষও হয়, সাদামাটা গল্প। কেবল একটা জায়গা - ভয়ংকর ছিল। অসহায় একটা ছেলেকে সমকামিতায় বাধ্য করার অংশটুকুই অদ্ভুত লেগেছে। ছবির ঐ অংশের পর থেকে একটা দমবন্ধ বন্ধ ভাব ছিল আমার। নায়ক চরিত্রে পুশন (আসল অভিনেতার নাম জানি না) অসহায় অনুভব ফুটিয়ে তুলেছে। তবে সৌমিত্র ২৫ বছর ধরে যে বান্ধবীকে খোঁজে, ২৫ বছর পরেও তার বয়স বাড়েনি। সৌমিত্র বেমানানভাবে সোনালী উইগ পরে অভিনয় করেছে পুরো ছবিতে।
পরে দেখলাম - চারুলতা ২০১১।
রবীন্দ্রনাথের 'নষ্টনীড়' অবলম্বনে বর্তমানের ফেসবুকীয় জীবন নিয়ে সিনেমা 'চারুলতা ২০১১'।
এখনকার চারুলতা ফেসবুকিং করে, নিঃসঙ্গতা কাটাতে অনলাইন বন্ধুর সঙ্গে সাইবার সেক্স করে। অপরাধবোধে ভোগে। (সিরিয়াস ছবির মাঝখানে হালের মেশিন আর লইট্যা ফিশের ঘটনা প্রাসঙ্গিক মনে হলে হা হা হাসি পেলো)। তবে চারুলতা ২০১১তে পুণরাবৃত্তি ঘটে নষ্টনীড়ের ঘটনা প্রবাহের। নতুনভাবে আসে উমাপতি, মন্দাকিনী, অমল। সমাপ্তিও একই রকম।
"হু ইজ দ্য ফাদার?"
"চারুলতাকে জিজ্ঞেস করো।"
গল্পের চৈতি, যে ফেসবুকে চারুলতা২০১১ অ্যাকাউন্টের মালিক, এমন জিজ্ঞাসা 'নষ্টনীড়'এর বক্তব্যকে বর্তমান সময়ে নিয়ে আসে। সাইবার স্পেসে আমরা সবাই নিজের দ্বিতীয় সত্ত্বা তৈরি করছি। বাস্তবকে ছাপিয়ে ভার্চুয়াল প্রধান হয়ে ওঠে প্রায়ই, দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে।
সব মিলিয়ে 'চারুলতা ২০১১' ভালো লেগেছে।

-০৫-
গত একমাস ধরে হাতে আছে 'আমি দালাল বলছি', মিন্নাত আলীর লেখা স্মৃতিকথা/গল্প সংকলন। ১৯৮০ সালে প্রথম প্রকাশিত। গদ্যরীতি বা গল্প বলার ভঙ্গিতে টানটান আগ্রহ জাগানো কিছু নেই, তাই সময় পেলে অল্প অল্প করে গল্প পড়ছি। পড়তে গিয়ে বারবার মনের ভেতর খচখচ করছে। মনে হচ্ছে, অত্যন্ত সচেতনভাবে ৭১এর ঘটনাকে ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা করা হয়েছে! এ চেষ্টা তো এখন কতোজন কতোভাবে করছে। শর্মিলা বসু, মেহেরজান, কতো কতো জ্ঞানপাপী! মিন্নাত আলীর লেখার ব্যাপারে প্রশ্ন জাগে এ কারণে, 'পাক-প্রেম-সমৃদ্ধ' গল্পগুলো সাপ্তাহিক বিচিত্রাতেই ছাপা হয়েছিল স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে। লেখক ছোটগল্পে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন ১৯৭৫ সালে!
'আমি দালাল বলছি' পড়া শেষ হলে বিস্তারিত লেখার ইচ্ছা রইলো। কোনো সুহৃদ সচল যদি মিন্নাত আলীর লেখা পড়ে থাকেন, বা লেখক সম্পর্কে জেনে থাকেন, তবে এখানে মন্তব্যের ঘরে তা জানানোর অনুরোধ করছি।

-০৬-
মর্ণিং শো'স দ্য ডে যদি সত্য হয় - ২০১৩ সালের ঢাকামেট্রো লাইফ রাজনৈতিক সহিংসতা আর হরতালে ভরপুর হবে। নির্মানাধীন ফ্লাইওভারগুলো চালু হলে যানজটের মাত্রা কমবে এটাই আশা।

Read more...

02 January, 2013

অপার সম্ভাবনার আড়ালে

গতকাল বছরের প্রথম দিন [url=http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-01-01/news/317739]"বাংলাদেশের সামনে অপার সম্ভাবনা"[/url] শিরোনামের আশাবাদী খবর ছাপিয়েছে দৈনিক প্রথম আলো। সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় নিত্য খারাপ খবরের বিপরীতে এ রিপোর্ট মানুষের মনে আশার সঞ্চার করবে - এমনটাই স্বাভাবিক।
দেখা যাক সংবাদের মূল বক্তব্য কী কী। আলাদা বক্সে বলা হয়েছে -



[b]১ম পথঃ[/b] ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার সব ধরণের সুযোগ আছে।
লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, বলা হয়েছে 'সুযোগ' আছে। এ প্রসঙ্গে পরে বলছি।

[b]২য় পথঃ[/b] ২০৩০ সালে বাংলাদেশ সামগ্রিকভাবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৭টি দেশকে ছাড়িয়ে যাবে।
'সামগ্রিকভাবে' বলতে কী বোঝানো হচ্ছে সেটাই মূল প্রশ্ন? ধরে নিচ্ছে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল সূচক - জিডিপি, মাথাপিছু আয়, বেকারত্বের হার, মূদ্রাস্ফীতি; এসব কিছুতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৭টি দেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে থাকবে বাংলাদেশ। প্রশ্ন জাগে, ২০৩০ সালে বাংলাদেশ যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ের ২৭টি দেশের অবস্থানকে ছাড়িয়ে যাবে, সেটা ঐ ২৭টি দেশের কতো সালের অবস্থান? ২০১৩ নাকি ২০৩০ সালের অবস্থান? যদি যায় তবে কীভাবে সম্ভব? বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কী এমন উন্নয়ন ঘটবে যে ১৭ বছর পরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ? যদি ঘটে, তবে তার মূল ক্ষেত্রগুলো কী কী? প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সাফল্যঃ মাথাপিছু আয়, গড় আয়ু, গণস্বাক্ষরতার হার দিয়ে এ পরিবর্তন সম্ভব?

[b]৩য় পথঃ[/b] ২০৫০ সালে প্রবৃদ্ধির দিক থেকে পশ্চিমা দেশগুলোকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ।
২০৫০ সাল মানে ৩৭ বছর পরের প্রবৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে। যদি ভুল বলে না থাকি - এই প্রবৃদ্ধির হারে এগিয়ে থাকায় উস্ফালনের কিছু নেই। এর মাঝে লুকিয়ে আছে বড় ধরণের ফাঁকি।
একটা উদাহরণ ধরি -
আবুল আর বাবুল দুই বন্ধু। আজ আবুলের দৈনিক আয় ১০০ টাকা, বাবুলের দৈনিক আয় ১০০০ টাকা। এক বছর পরে আবুলের দৈনিক আয় হয়ে গেল ১৮০ টাকা আর বাবুলের দৈনিক আয় হয়ে গেল ১৫০০ টাকা। অংকের হিসাবে  - আবুলের আয় বৃদ্ধির হার ৮০% আর বাবুলের আয় বৃদ্ধির হার ৫০%। আয় বৃদ্ধির হারে আবুল এগিয়ে থাকলে প্রকৃত আয় বৃদ্ধিতে বাবুল অনেক শক্ত অবস্থানে থাকবে। ৮০% আয় বৃদ্ধি, যেটা বাবুলের চেয়েও বেশি, এই ভেবে আবুল তৃপ্তির ঢেকুর তুলবে কিনা বড় প্রশ্ন।
বর্তমানে পশ্চিমা দেশগুলো অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের চেয়ে এত বেশি এগুনো যে ২০৫০ সালে বাংলদেশ প্রবৃদ্ধির হারে পশ্চিমা দেশগুলোকে ছাড়িয়ে গেলেও বাংলাদেশের অবস্থান উদাহরণের আবুলের মতোই থাকবে।

বাংলাদেশের এ অপার সম্ভাবনার রিপোর্টে যেসব সুত্রের কথা উল্লেখ আছে তা হলো - বিশ্বব্যাংক, লন্ডনের পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান (বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ ও গবেষকের মতামত), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারী সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টিলিজেন্স কাউন্সিল, অর্থনীতিবিদ জিম ও'নেইল। যদিও এসব সুত্র বিস্তারিত করে বলেনি কীভাবে বাংলাদেশ এমন এগিয়ে যাবে। কিন্তু, বিশ্বের সবচে শক্তিশালী দেশের শক্তিশালী সংস্থা এবং লোকজন বলছে, তাহলে অবাস্তব কোথায়?

এখানে মনে পড়ে গেল - জন পার্কিন্সের 'দ্য কনফেশন অফ অ্যান ইকনোমিক হিটম্যান' বইটির কথা। বাংলায় বইটি অনুবাদ করা হয়েছে - 'এক অর্থনৈতিক ঘাতকের স্বীকারোক্তি' শিরোনামে। বইয়ের ব্যাক কাভারে যেমন বলা আছে  - "জন পার্কিন্স ছিলেন আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাত 'মেইন' নামের একটি কনসাল্টিং ফার্মের কর্তাব্যক্তি। সংস্থাটি বিশ্বের দরিদ্র রাষ্ট্রগুলোকে বিপুল অংকের উন্নয়ন ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রলোভিত করতো। সে সাথে সংস্থাটি এসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ যাতে আমেরিকান কোম্পানীগুলো পায় সেটাও সুনিশ্চিত করতো। যখন ঋণগ্রহীতা রাষ্ট্রগুলো ঋণের কারাগারে চিরবন্দী হতো তখন যুক্তরাষ্ট্র এসব দেশের কাছ থেকে নিজের স্বার্থ আদায় করতো। আর যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ মানেই প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ, সামরিক সহযোগিতা ও রাজনৈতিক সমর্থন।" মোট ৩৫ অধ্যায়ের বইতে পার্কিন্স লিখেছেন কীভাবে ইকুয়েডর, ইন্দোনেশিয়া, পানামা, সৌদিআরব, ইরান, কুয়েত, কলম্বিয়া, ইরাকসহ বিভিন্ন দেশে বানোয়াট অর্থনৈতিক প্রতিবেদন তৈরি করে রাষ্ট্রের প্রভাবশালীদের যোগসাজশে আমেরিকা তার সাম্রাজ্য বিস্তার করেছে। এক্ষেত্রে কতো কতো রাষ্ট্রপ্রধান রহস্যজনকভাবে খুন হয়ে গেছেন। নিজেকে অর্থনৈতিক ঘাতক উল্লেখ করে পার্কিন্স লিখেছেন - "অর্থনৈতিক ঘাতকরা মোটা অংকের বেতনপ্রাপ্ত পেশাদার। এদের কাজ হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে ধাপ্পা দিয়ে লক্ষ কোটি ডলার চুরি করা। একাজে এদের মূল অস্ত্র হচ্ছে ভুলতথ্যপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রতিবেদন, পাতানো নির্বাচন, ঘুষ, চাপ প্রয়োগ, যৌনতা ও হত্যা।"

প্রথম আলোয় প্রকাশিত রিপোর্টের ১ম পথে বিশ্বব্যাংক বলছে - ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার সব ধরণের সুযোগ আছে। অন্য খবরে প্রকাশ, বিশ্বব্যাংকের মতোই আরেকটি প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান আইএমএফ সমান ছয়/সাত কিস্তিতে বাংলাদেশকে ১০০ কোটি ডলার দেয়ার কথা, যার প্রথম কিস্তি পাওয়া গিয়েছিল গত বছর এপ্রিলে। জানা গেল - এই ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি পাওয়া [url=http://www.banglatimes24.com/?p=138051]অনিশ্চিত হয়ে গেছে[/url]। বাংলানিউজ [url=http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=e1efa7a270fa6a62d089dddc37fb5d18&nttl=20120925062531141222]লিখেছে[/url] -[i] "ঢাকায় সফরকালে প্রতিনিধি দলটি যে বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করেছে এর মধ্যে রয়েছে -রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর আধুনিকায়ন, ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন, সরকারের ব্যাংক ঋণ পরিস্থিতি, নতুন মূসক আইন, সর্বশেষ বাজেট পরিস্থিতি, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন পরিস্থিতি, সরকারের ভর্তুকি কমিয়ে আনা, ভর্তুকি কমাতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি, স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ, অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় হ্রাস, ক্রয় পরিকল্পনা প্রণয়ন ও এর আলোকে বাজেটের বরাদ্দ ব্যয়, মূদ্রানীতি বাস্তবায়ন অগ্রগতি ইত্যাদি।"[/i]
বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধি হবে কি হবে না এ নিয়ে সরকারের সাম্প্রতিক দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, বিপরীতে বামপন্থী দলগুলোর হরতাল হুমকি - সাম্প্রতিক সপ্তাহে ছিল উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এরপরও গত ৭ ডিসেম্বর [url=http://www.prothom-alo.com/detail/news/311334]প্রথম আলোর প্রতিবেদন বলছে[/url] - জানুয়ারিতে ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি পাচ্ছে বাংলাদেশ।
কিন্তু, আইএমএফের শর্তগুলো না মানলে কি দ্বিতীয় কিস্তি পাওয়া যাবে?
বিশ্বব্যাংক যেমন 'সুযোগ' এর লোভ দেখাচ্ছে, প্রথম আলোও গতকালের রিপোর্টের শেষ দিকে প্রশ্ন রেখেছে  - [b]"প্রশ্ন হচ্ছে, সুযোগ কি কাজে লাগাতে পারবে বাংলাদেশ?"[/b]

সুযোগের টোপ আর শর্ত বাস্তবায়নের পরিণতি কী হতে পারে তার ইতিহাস জন পার্কিন্সের বইতেই লেখা আছে। প্রথম আলোর ৭ ডিসেম্বরের প্রতিবেদন, আইএমএফের চাপ ও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ, এবং গতকালের প্রতিবেদন তিনটিকে পাশাপাশি রাখলে কোনো সুত্র কি একেবারেই পাওয়া যায় না?


[b]প্রথম আলোর এক পাঠকের মন্তব্য:[/b]
প্রথম আলোর খবরের নিচের পাঠকদের কমেন্ট অনেক ক্ষেত্রে হাসি তামাশার উপকরণ হয়ে ওঠে। তবে গতকালের প্রধান প্রতিবেদনের নিচে ৩য় মন্তব্য পড়ে মনে শংকা জাগলো। মাইনাস টু থিয়রীর পাশাপাশি পার্কিন্সের বইয়ে উল্লেখিত ইন্দোনেশিয়ার জনপ্রিয় নেতা বান্দুং আর পানামার ওমর তোরিজোর পরিণতির কথা মনে পড়লো।

[quote]Md. Mizanur Rahman
২০১৩.০১.০১ ০৩:০৮
    প্রতিবেদনটি ৩বার পড়লাম, মন চায় আরো কয়েকবার পড়ি ........... আল্লাহ তুমি আমাদেরকে, কারো মেয়ে, কারো বউ এর হাত থেকে রক্ষা কর।এই প্রতিবেদন সত্যি হবেই হবে ... আমিন ধন্যবাদ প্রথমআলো একটা পজিটিভ প্রতিবেদন দিয়ে বছরটা শুরু করার জন্য[/quote]

Read more...

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP