22 March, 2012

সংরক্ষণঃ রামছাগলের সেই ইন্টারভিউটি

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আজ হেরে যাওয়ার জন্য একমাত্র দায়ী শাহাদাত নামের এই রামছাগলটি। শেষ ওভারে ১৯ রান দিয়ে শেষ করেছে। বেকুবটির এক সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছিল প্র-আলোয় গত বছর।
প্রথম আলো আর্কাইভের ঠিক নাই, কোনদিন আবার ডিলিট করে দেয়।
তাই এখানে সেইভ করে রাখলাম, কপি-পেস্ট।



_________


‘শাহরুখের মতো হতে চাই’

| তারিখ: ০৪-০৯-২০১১




ক্রিকেটারই তাঁর আসল পরিচয়। কিন্তু ঝোঁক নেই কোন দিকে! ফ্যাশন, হেয়ারকাট থেকে শুরু করে হুটহাট গাড়ির মডেল বদলানো—অন্য ক্রিকেটারদের থেকে সবকিছুতেই আলাদা শাহাদাত হোসেন। ইদানীং আগ্রহী হয়ে উঠেছেন রুপালি জগৎ নিয়েও। জাতীয় দলের এই পেসারের সঙ্গে তাঁর মাঠের বাইরের জগৎ নিয়ে কথা বলেছেন তারেক মাহমুদ


প্রশ্ন  প্রেম-ট্রেম কেমন চলছে?
শাহাদাত হোসেন রাজীব  কী? প্রেম-ভালোবাসা...না, এখন আর প্রেম-ভালোবাসায় নেই। কেউ নেই এখন।
 আগে তো করতেন...
 হ্যাঁ, আগে করতাম। এখন করি না।
 বলেন কি! কিন্তু আপনি তো প্লে বয়...
 করি না আর কি...। যারা ছিল তারা এখন আর কেউ নেই।
 বিয়ে করবেন কবে?
 এখনো জানি না। বাসা থেকে যখন দেবে (বিয়ে) তখনই...।
 বাসার পছন্দে বিয়ে করবেন! নিজের পছন্দ নেই?
 অবশ্যই নিজের পছন্দ থাকবে। তবে ওরকম মেয়ে এখনো পাইনি। যদি পাই চিন্তাভাবনা করব।
 কী ধরনের মেয়ে পছন্দ?
 (হাসি) কী বলব! এটা সিচুয়েশন হলে বুঝতে পারব।
 তার পরও হয় না...অনেকে লম্বা চুল পছন্দ করে। বা দেখতে ফরসা...
 ডেফিনেটলি ফরসা হতেই হবে। সবচেয়ে বড় কথা, চামড়া ফরসা থাকলেই হয় না। দেখতে সুন্দর লাগতে হবে। লম্বা লাগবে, আর কিউট লাগবে অনেক।
 হ্যাঁ, লম্বা হওয়াটা খুবই জরুরি। আপনিও তো অনেক লম্বা...
 আমি ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি। এখন মনে হয় আরও বেড়েছি।
 ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি ছেলের জন্য মেয়ে পাওয়া তো কঠিন। মানে কাছাকাছি উচ্চতার কাউকে তো লাগবে...
 ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি তো আর লাগবে না। ৫ ফুট ৬-৭ যথেষ্ট।
 ৫ ফুট ৬-৭ ইঞ্চি পাওয়াও তো কঠিন বাংলাদেশে...
 এটাই কথা। তাই বলে আবার বিদেশি বিয়ে করব না..।
 আপনার মেয়ে ভক্ত তো প্রচুর...
 এখন কী অবস্থা জানি না। লেটেস্ট খোঁজ নিইনি। আগে ছিল অনেক। যখন দলে ছিলাম, ফ্যানের অভাব ছিল না। অবশ্য আল্লাহর রহমতে এখনো খারাপ না, ভালো। অনেকে ফোন-টোন করে।
 শুধু ফোন করে, নাকি দেখা-সাক্ষাৎও হয়?
 না না, ফোনই করে...হা হা হা। ওটা বলা যাবে না।
 মোট কয়টা প্রেম করেছেন?
 প্রেম করছি...উমম...করেছি ভাই (হাসি)। প্রেম করছি কয়টা...উমম...দুইটা দুইটা, হ্যাঁ দুইটা।
 তারা এখন যোগাযোগ করে না?
 যোগাযোগ করে না। ব্যস্ত তো। আমরা সবাই ব্যস্ত।
 মেয়েরা আপনাকে এত পছন্দ করে কেন?
 এটা আমি তো জানি না...হা হা হা। সবচেয়ে বড় কথা স্মার্টনেস। এটা অনেকের মধ্যেই নেই, আমার আছে। স্মার্টনেস জানেন তো? মানে পোশাক-আশাক, চালচলন। হাইটটা অনেক ইম্পর্টেন্ট। সবার স্মার্টনেস হাইটের জন্যই হয়। আমার মতো যাঁরা লম্বা, তাঁরা দেখবেন অনেক সময় গুজা (কুঁজো) হয়ে হাঁটে। এ রকম আমার মধ্যে নেই। স্মার্ট হওয়ার জন্য যা দরকার ওটা আমার মধ্যে আছে।
 স্মার্ট থাকার জন্য নিজে কোনো চেষ্টা করেন নাকি প্রকৃতি প্রদত্ত?
 সে রকম চেষ্টা কোনো কিছু নেই। ভালো ড্রেস পরা, ভালোভাবে হাঁটা, মানুষের সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলা—এসবই। যেমন ধরেন, ব্রেট লি কেমন? ব্রেট লি খুব মিশুক, স্মার্ট না? আমি সব সময় ব্রেট লি, শোয়েব ওদের ফলো করি। ওরা কীভাবে হাঁটে, কথা বলে। এ ছাড়া আর কোনো কিছু নেই। আমার নজর সব সময় ওপরের দিকে ছিল। এখনো তাই আছে।
 এমনিতেও তো আপনি খুব ফ্যাশনেবল। পোশাকে, জুতা-স্যান্ডেলে...
 হ্যাঁ, এগুলোর দিকে আমার খেয়াল আছে। গাড়ির দিকেও...।
 এ পর্যন্ত কয়টা গাড়ি বদলেছেন?
 চারটা। এখন আছে ল্যাক্সাস। প্রথম ছিল হানড্রেড ফাইভ, টয়োটা।
 গার্লফ্রেন্ডদের খুব গাড়িতে ঘোরান নিশ্চয়ই...
 ঘুরাব না কেন! তা তো ঘুরাই-ই। তবে এখন আর ঘুরাই না। আগে ঘুরাতাম। এখন তো আমি একা। নিজে নিজেই ঘুরি।
 আপনি এত স্মার্ট। কখনো মনে হয় না ক্রিকেট না খেলে সিনেমার নায়ক হলে ভালো করতেন?
 হা হা হা। এতক্ষণে সত্যি কথা বলছেন। ঠিক আজকেই আমি এটা চিন্তা করছিলাম। বাসায় থেকে থেকে একটু ফরসা হয়ে গেছি। সে দিন কলাবাগান ক্লাবে চুক্তি করতে গেছি। এক বড়ভাই বলছিলেন, কী খবর? তোকে তো আজ খুব সুন্দর লাগছে। সিনেমা-টিনেমা কর বেটা। তুই গেলে তো সাকিব খানও পারবে না তোর সঙ্গে। আরেকজন বলল, উনি তো কথাটা খারাপ বলেনি। নায়ক সাকিব খান কিন্তু ইচ্ছা করলেই ক্রিকেট খেলতে পারবে না। কিন্তু তুমি খেলোয়াড় হলেও সিনেমা করতে পারবে। তুমি সিনেমা করলে সবাই একবার না একবার সিনেমা দেখতে যাবেই। আমিও ভেবে দেখলাম, এতে তো সিনেমার পরিচালকেরও অনেক লাভ। তখন বললাম ঠিক আছে।
 আপনার তাহলে নায়ক হওয়ার ইচ্ছা আছে...
 হ্যাঁ, ইচ্ছা আছে নায়ক হওয়ার। সত্যি কথা। নাটক-ফাটক-মডেলিং করে লাভ নেই। একটা সিনেমা করলে পরিচালকও ভালো টাকা কামাতে পারবে, আমারও পরিচিতি বাড়বে। সবাই বলবে শাহাদাত কি মুভি করছে, দেখে আসি।
 অ্যাকশন নায়ক হতে চান না রোমান্টিক নায়ক?
 অ্যাকশন না, রোমান্টিক। আমি সব সময় শাহরুখ খানকে পছন্দ করি। আমার ফেবারিট নায়ক। আমি শাহরুখের মতো হতে চাই। অ্যাকশন তো থাকবেই, তবে রোমান্টিকটা বেশি থাকবে।
 নায়িকা হিসেবে কাকে পছন্দ?
 বাইরের ধরলে প্রীতি...প্রীতি, প্রীতি জিনতাকে আমার খুব পছন্দ। তবে বাংলাদেশে আমার কোনো পছন্দের নায়িকা নেই। বিন্দুকে ভালো লাগে। কিন্তু ও তো নায়িকা না, মডেল।
 কোনো পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে?
 দু-একজনকে চিনি। টুকটাক এফডিসিতে যাই। অনেকে বলেছেন, সিনেমা করলে যোগাযোগ করতে।
 সিনেমা হিট হলে খেলা কি ছেড়ে দেবেন?
 না না না। এটা ভুল কথা। তিন-চার মাস যখন ফ্রি থাকব তখন একটা মুভি করব। তবে ক্রিকেট ছাড়ব না।
 প্রথম সিনেমায় নায়িকা হিসেবে কাকে চাইবেন?
 হা হা হা। বাংলাদেশি নায়িকাদের আমার পছন্দ না। সিরিয়াসলি। যেগুলো আছে সব মোটা মোটা। এগুলার একটাকেও আমার ভালো লাগে না। আমি মডেলদের মধ্যে থেকে নায়িকা বেছে নেব। মডেলদের মধ্যে সুন্দর সুন্দর লম্বা মেয়ে আছে।
 সিনেমার লাইনে তো অনেক সময় স্ক্যান্ডাল ছড়ায়...
 না, ওগুলো হবে না। সিনেমা তো আমার পেশা না। হয়তো বা শখে দু-একটা করলাম। মুভি করলেও আমি রেগুলার করব না। হঠাৎ হঠাৎ করব। ওটাই ভালো।
 ক্রিকেটার হয়ে যেটুকু সফল, নায়ক হলে কি আরও বেশি সম্ভাবনা ছিল?
 এটা আমি জানি না। ক্রিকেটার হয়েছি বলেই এ কথাগুলো বলতে পারছি। ক্রিকেটার না হলে মানুষ আমাকে চিনতেই পারত না। আমার লুক এ রকম থাকত না।
 সিনেমার নায়ক আর ক্রিকেটারের মধ্যে পার্থক্য কী?
 ফিল্ম জগৎ তো ফিল্ম জগৎ, আর আমরা ক্রিকেটারেরা ক্রিকেটার। ওরা ব্যস্ত থাকে শুটিং নিয়ে। আমরা ব্যস্ত থাকি খেলা নিয়ে। পার্থক্য তো অবশ্যই আছে। আমি মনে করি, একজন ক্রিকেটারের যে জীবন, ফিল্ম জগতে এ রকম মজার জীবন নেই। আমরা খেলতে গেলেও ঘুরি, মজা করি। ওরা একটা জায়গায় বন্দী থাকে। আমি মনে করি, ফিল্মের নায়কের চেয়ে এটার মূল্য অনেক বেশি।
 মৌলিক একটা পার্থক্য তো আমরাও দেখি, তারা মেকআপ নিয়ে তারকা। আপনারা মেকআপ ছাড়া তারকা...
 এটাই হলো কথা। এটাই মানুষ দেখতে চায় বেশি করে। আফ্রিদিকে সবাই পছন্দ করে কেন? কারণ ও মেকআপ করে না। যেটা তার ভালো লাগে ওটাই। ফিল্মে অনেক সময় পাউডার-পুওডার দিয়ে কালো লোককে ফরসা করে ফেলে। আমাদের মধ্যে ওসব কিছু নেই। মাশরাফি ভাই, আমি—আমাদের আল্লাহর রহমতে ওরকম কিছু লাগাতে হয় না। আল্লাহ যা দিয়েছেন, লাখ লাখ শুকরিয়া। বাংলাদেশে অনেক ফিল্ম স্টারের এ রকম নেই, সত্যি কথা। চামড়া সাদা হলে তো আর সব হয় না।
 নায়ক হওয়ার জন্য আপনার সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট কোনটা?
 আমার হাইটটা অনেক ইম্পরটেন্ট। চেহারাও আল্লাহর রহমতে ভালো।
 প্রায়ই দেখি শেভ না করে অনেক দিন থাকেন। মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি নিয়ে ঘোরেন। রহস্য কী?
 রহস্য কিছুই না। দাড়ির ব্যাপারে আসলে আমার শহীদ আফ্রিদিকে বেশি ভালো লাগে। আমার দাড়িও ওরকমই। প্লেয়াররা সবাই বলে দাড়ি থাকলে আমাকে আফ্রিদি আফ্রিদি লাগে। বিদেশে গেলেও দাড়ি থাকলে কেউ বলে না যে আমি বাংলাদেশি। বলে পাকিস্তানি। তো আমার দাড়ি সুন্দর দেখে আমি দাড়িটা রাখি। এ ছাড়া আর কোনো ইয়ে নেই।
 কোনো মেয়ে কি কখনো বলেছে আপনাকে দাড়ি রাখলে সুন্দর লাগে?
 অনেকে অনেক কিছু বলেছে। দাড়িতে অনেক ভালো লাগে। ওরা বলে, তুমি যা করো সেটাই ভালো লাগে। শেভ করলে ভালো লাগে, দাড়ি রাখলেও ভালো লাগে। তবে সমস্যা হলো যেদিন শেভ করি, সে দিন আমাকে মুরগি মুরগি লাগে। এ জন্য দাড়িই ভালো।
 তো এখন যে বান্ধবীবিহীন অবস্থায় আছেন। এভাবে কয় দিন?
 দেখি, আল্লাহর রহমতে কয় দিন থাকি। আপনি যখন ইন্টারভিউটা ছাপবেন সবাই আসবে, সমস্যা নেই। হা হা হা। সবাই জানবে রাজীব খালি আছে।



লিংকঃ http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-09-04/news/182729

Read more...

ঢাকামেট্রো ২২-০৩১২

“রোজ ঘুম থেকে ওঠা, আর দাঁত মাজা, খবর কাগজে দুঃসংবাদ খোঁজা, দারুণ ব্যস্ততায় স্নান খাওয়া সারা হয়, জীবনে আরেকদিন আবার বাড়তি হয় হয়।” নচিকেতার গানের মত করে দিনযাপনের ঘটনাগুলো একই হলে একঘেঁয়ে হয়ে ওঠে। প্রতিদিনের গল্পে সেই ট্রাফিক জ্যামের গল্প, অনিশ্চয়তার গল্প আজ থাক। বরং বলি, ঢাকার দেয়াল লিখনের কথা। কষ্টে আছি আইজুদ্দিন অথবা অপেক্ষায় নাজির নেই। যাপনের কষ্ট এবং সুখক্ষণের অপেক্ষার এ শহরে নির্বাচন হবে। তাই সালাম শুভেচ্ছায় বিলবোর্ড পোস্টার ভরে যাচ্ছে। মেয়র প্রার্থীরা ফটোসেশনে ব্যস্ত হচ্ছেন। ডাঃ তুহিন মালিক, শিরিন আকতার, হাজী সেলিম, মাহমুদুর রহমান মান্না আরও কিছু নাম। নির্বাচন কবে হবে? বিএনপি কি প্রার্থী দেবে? কী হবে ফলাফলে? ফেসবুকে বহুল-বিজ্ঞাপিত ইরাজ আহমেদ সিদ্দিকী নির্বাচনে কত ভোট পাবে? ঢাকা উত্তর নাকি দক্ষিণ তার এলাকা? এসব ভাবতে ভাবতে সকাল ৭টা ৬ মিনিটে যখন গুলশান পার হচ্ছিলাম, পাকিস্টান অ্যাম্বেসি পার হয়ে, ৭১ নম্বর রোডের ডান পাশে দেয়াল লিখন দেখলাম – What would happen if one day you decide to follow your heart?
কে লিখেছে এই লাইন, কেন লিখেছে, কার জন্য লিখেছে? হৃদয় সে তো কাদামাটির মুর্তি নয়, গানটি কি সে শুনেছে?

সকাল ১১টা ৫৫ মিনিট
বিশ্বরোড রেলগেইট থেকে দেশবাংলা পরিবহনে উঠলাম। বড় বাস, বাতাস আসে প্রচুর। র্যাtডিসন পার হতেই জ্যাম। জ্যামের গল্প লিখতে চাই না। বরং পড়া শুরু করলাম – কাজী আনোয়ার হোসেনের “তিন উপন্যাসিকা”। পরপর পড়লাম এইচ জি ওয়েলসের দ্য স্টোরি অভ দ্য লেইট মিস্টার এল্ভেশাম এর অনুবাদ ‘রূপান্তর’ এবং জর্জ ল্যাঙ্গেলানের দ্য ফ্লাই এর অনুবাদ ‘মাকড়সা’। দুটো গল্প পড়ে মাথা ঝিম ঝিম করে উঠলো। অনেকদিন পরে দূর্দান্ত দুটা রহস্য গল্প পড়লাম। বিশেষ করে রূপান্তরের কাহিনী, একজন মানুষ আরেকজনের শরীরে নিজেকে প্রবেশ করিয়ে অমর হওয়ার যে গল্প, মাঝে মাঝে গা শিউরে ওঠে। অসাধারণ গল্প। অনুবাদটাও ঝরঝরে...। সেবার পেপারব্যাক সাইজে ৪৮ পৃষ্ঠার দুটো গল্প পড়তে কতো সময় লাগলো? দেড় ঘন্টা। গল্প শেষ করে বাইরে তাকিয়ে দেখি বাস তখনো বনানী পার হয়নি।

দুপুর ২টা ১০ মিনিট
এবার এশিয়া কাপ চলাকালীন সময়ে মিরপুরবাসীর দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। বিশ্বকাপের সময়ও এমন হয়নি। দুপুর ১২টার পর থেকে রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়। একদিকে ১৩ নম্বর বিআরটিএ’র সামনে থেকে বন্ধ, অনেক ঘুরে আসতে হবে – অরিজিন্যাল ১০ দিয়ে। ওদিকে আগারগাঁও থেকে মিরপুর ১০ নম্বরের দিকে রাস্তা বন্ধ। শুধু রিক্সা-সিয়েঞ্জি ট্যাক্সি যেতে পারবে। জনা ষাটেক লোক দাঁড়িয়ে আছে বাহনের অপেক্ষায়। একটা স্কুল মাইক্রোবাস এসে খেপ মেরে দিলো, বিশ-পঁচিশজন লোক দৌড়ে গেল উঠতে। একটা সিয়েঞ্জি এলো, মিরপুর ১০ নম্বর পর্যন্ত জনপ্রতি ২০টাকা। উঠে বসলাম। ততক্ষণে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ শুরু হয়ে গেছে। দলে দলে লোক ছুটছে স্টেডিয়ামের দিকে। মিরপুর ১০ নম্বরে এসে রিক্সা পেলাম না। আম্মা এর মাঝে ফোন করে বলেছে, কবুতরের বাচ্চা কিনে নিতে, অসুস্থ আপার জন্য রান্না করে পাঠাবে। মধ্য দুপুরে খাঁ খাঁ রোদ। হেঁটে মিরপুর ২ নম্বর বাজারে এলাম। চক্কর দিয়ে দেখলাম, মাত্র একটা দোকানে কবুতরের বাচ্চা বিক্রি হয়। দোকানী চাচা, টুপি মাথায়, মুখে বিড়ি ফুকে মনোপলি ব্যবসার সুযোগ নিলো। এক জোড়ার দাম চাইলো ১৬০টাকা, দুই জোড়া কেনায় ১০ টাকা ছাড় দিলো, মোট ৩১০ টাকা। সাথে একথাও শুনিয়ে দিলো – লাভ হয়েছে ৫টাকা। কিছু বললাম না। তখন বাজারে হঠাৎ চিৎকার। নাহ্‌! পাকিস্তানের উইকেট পড়েনি, অ্যাপিল বাতিল হয়ে গেছে।
বাজারের পরে মনিপুর স্কুলের দিকে যাওয়ার পথে রাস্তার কাজ চলছে, রিক্সা যাবে না। আবার হাঁটা শুরু করলাম। বাসার মোড়ে আসতেই চিৎকার শুনি চারপাশে, মানে এক উইকেট গেল। সিঁড়ি বেয়ে উঠতে আবার চিৎকার, মানে আরো এক উইকেট!

সন্ধ্যা ও রাত
আমি পুরো খেলা দেখলে বাংলাদেশ জিতে না। এরকম একটা (কু)সংস্কার মাথায় ঢুকে গেছে। তাই আপার বাসা থেকে চক্কর দিয়ে এলাম। বাংলাদেশ ব্যাটিং করছে, রান তোলার গতি কম, কিন্তু উইকেট যায়নি। টিভির সামনে বসে থাকি। বাংলাদেশ ধুকে ধুকে এগুচ্ছে। মনের ভেতর বারবার খচখচ লাগে, শাহাদাতের শেষ ওভারের ১৯ রানই নাকি কাল হয় আবার। সেটা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলাম। গত ম্যাচে স্টাটাস দিয়েছিলাম, শাহাদাত একটা রামছাগল। আজ পাকিস্তানের ব্যাটিং ৩০ ওভারে তখনি স্ট্যাটাস দিলাম – ইশ্মাট শাহাদাত একটা রামছাগল।
এবং এই রামছাগলের জন্যই আর বাংলাদেশ হেরে গেল।
তামিম ইকবাল অর্ধশত করে এক দুই তিন চার করে যখন চার আঙুল দেখালো, সেটা নিশ্চয় সিলেক্টরদের দিকে, চার আঙুল নয়, সেটা মিডল ফিঙ্গার দেখানো হয়েছে। গন্ডারের চামড়াঅলা সিলেক্টররা কি বুঝবে এবার? আশরাফুল নামক অপদার্থটিকে এবার বাদ দেয়া হয়েছে। শাহাদাত নিয়ে কিছু ভাববে কি টিম সিলেক্টররা? তর্জনে গর্জনে হালুম করা ফার্স্ট বোলার শাহাদাতের বোলিং বিশ্লেষণ কি দেখবে কেউ? গড়ে যেখানে ওভারপ্রতি রান ৭/৮! ক্রিকেট কেবল শরীরের শক্তির খেলা নয়, বুদ্ধি-চিন্তা-বিবেচনারও খেলা। স্বঘোষিত স্মার্ট শাহাদাতের এই ইন্টারভিউটি [http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-09-04/news/182729] কি ভুলে গেছে কেউ? ওর কথা শুনলে কি ভাঁড় ছাড়া অন্য কিছু মনে হয় তাকে?
খেলা শেষে মুখ দিয়ে গালির স্টক বের হয়ে এসেছে, বৌ ভ্রু কুঁচকে আমার দিকে তাকাচ্ছে। এসব গালি সে শোনেনি আমার মুখ থেকে আগে।
মিরপুর স্টেডিয়ামের মতো আমাদের বাসার পাশেও নীরবতা নেমে এসেছে। কতটুকু দূরে, হাঁটা পথে ৪ মিনিট। অনুমান করছি সেখানেও মন খারাপের মেঘ। টিভি স্ক্রীণে দেখছি – সাকিবকে জড়িয়ে ধরে মুশফিক হু হু করে কাঁদছে। এ কান্না, এক অধিনায়কের কান্না, দেশকে স্বপ্ন দেখানো দলের কান্ডারীর কান্না, দেশের কান্না! এ অশ্রুর ভাগ আমাদেরও নিতে হবে। ক্যাপ্টেন, আমরা পাশে আছি – কেঁদো না!
আমাদের সামনের বাসায় তিন তলায় নিপু থাকে। মনিপুর স্কুলে ক্লাস ফাইভে কি সিক্সে পড়ে। গত বিশ্বকাপের সময় কেনা ভুভুজেলা সযতনে রেখে দিয়েছে সে। বাংলাদেশের সকল খেলায়, চারে, ছয়ে, উইকেটে, উল্লাসে সে বারন্দায় এসে পোঁ পোঁ করে বাজায়। আমরা হাততালি দিই ওর দিকে তাকিয়ে। আর বাংলাদেশ হারার পরে দেখলাম হাল্কা অন্ধকার বারান্দায় নিপু দাঁড়িয়ে আছে। রেলিংয়ে থুতনি লাগানো। কিছু বললাম না। ততক্ষণে মিরপুর স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের সমাপনী অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। বাজি ফোটছে, আতশবাজির উৎসব। আম্মা-বৌ বারান্দা থেকে দেখছে। আমি গেলাম না। পটকার প্রতিটি শব্দ বুকে লাগছে। কষ্ট হচ্ছে। আমি জানি, সামনের বাসার ১০/১১ বছরের নিপু নামের ছেলেটির আরো বেশি কষ্ট হচ্ছে। আমার ইচ্ছে করে ওকে গিয়ে বলি, ১৯৯৪ সালে, আমি যখন ওর মত বয়েসি, কেনিয়ার নাইরোবিতে ১১ কি ১২ রানে কেনিয়ার কাছে হেরে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলার মিশন শেষ হয়েছিল, সেদিন আমি হু হু করে কেঁদেছিলাম। ওকে বলি, বাংলাদেশে ক্রিকেটের একটা প্রজন্ম শুধু খরাই দিয়ে গেছে। ২০০০ থেকে ২০০৫ খুব বাজে সময় কেটেছে, টেস্ট দূরে থাক ওয়ানডেতে জয় পাওয়াও স্বপ্ন ছিল। তখন কেনিয়া জিম্বাবুয়ের কাছে নিয়মিত হেরেছি আমরা। ২০০৩এ ঈদের আগেরদিন বিশ্বকাপে কানাডার কাছে হেরেছি আমরা। আজকে ২ রানে হেরে যাওয়া এই কষ্টের চেয়েও আরো বড় কষ্ট আমরা পেয়েছি। এখন বাংলাদেশ আগের তুলনায় অনেক ভালো খেলে। এশিয়া কাপ নয়, আমরা একদিন বিশ্বকাপ জিতবো। নিপু মন খারাপ করো না।
আসলে, নিপুকে নয়। এ কথাগুলো আমি আমাকেই বলছি।
কাল সকালে ঘুম ভাঙতেই যে কথাটা মনে পড়বে তা হলো, বাংলাদেশ মাত্র ২ রানে হেরে গেছে। বাগে পেয়েও পাকিস্টানকে হারাতে পারেনি। এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। আমি জানি সাথে এও মন পেরিয়ে মুখ থেকে বেরিয়ে পড়বে, শাহাদাত তুই একটা আস্ত হারামজাদা। বাংলাদেশ দলকে সমর্থন দেবো, কিন্তু শাহাদাতের মত খেলোয়াড়ের জন্য আমাদের স্বপ্ন ভেঙে যাবে – এমনটি চাই না।
শুরুতে বলেছিলাম, একঘেঁয়ে দিনের কথা।
আজ দিনটি আমাদের জন্য রূপকথার দিন হতে পারতো। হলো না।
সকালে দেখা দেয়াল লিখনটি আবারও মনে পড়ছে - What would happen if one day you decide to follow your heart?
কেন? জানি না।

Read more...

16 March, 2012

৬০০০ টাকা বেতনের একটি চাকরির খবর ও কিছু জিজ্ঞাসা

এক সহকর্মীর দেয়া লিংক ধরে পেলাম বিডিজবসে দেয়া একটা চাকরির বিজ্ঞাপনের খবর।
পার্ট টাইম সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ, শুধু মহিলা (১৮-২৪ বছর) আবেদন করতে পারবেন। এলেভেল/ওলেভেল/এইচএসসি পাস, বা আন্ডারগ্রেড পাস হতে হবে।
কী কী কাজ করতে হবে সে তালিকায় বলা আছেঃ
  • Direct Sell and Marketing.
  • Responsible for achieving the minimum sales target.
  • Attending seminars, events, meetings and programs.
  • She will have to work closely under the direct supervision of the superiors.
  • She will keep her up to date with company’s latest information, products and offer.
  • She will lead a sales team after certain period.
অ্যাডিশনাল জব রিকোয়ার্মেন্টের লিস্টিও লম্বাঃ
  • Age 18 to 24 year(s)
  • Only females are allowed to apply.
  • Must be very Well-groomed, Good-looking, Extrovert, Talk-active, Patient & Dynamic.
  • Pro-active, Friendly & Positive attitude towards people.
  • Pleasant & Flexible personality.
  • Very smartly presentable.
  • Ability to cope up with any type of environment and culture.
  • Ambitious, Confident, Persistent and Hard-working to earn money .
  • Excellent interpersonal, communication and strong convincing skills.
  • Necessary Training will be provided to the deserving candidates.
  • Experience: No Bar.
বেতনঃ ৬০০০ টাকা।
তবে কমিশন ও অন্যান্য আয় থাকবে বলা আছে।

কাজ করতে হবে ঢাকায়। কোন কোম্পানী, অফিস কোথায়; কিচ্ছু বলা নাই। ওপরে অবশ্য বলা আছে - A Renowned Group of Companies।

ভাবছি -
এই থাকতে হবে, সেই থাকতে হবে, হেন করতে হবে, তেন করতে হবে বলে রিনাউন্ড গ্রুপ অব কোম্পানীস মাত্র ৬ হাজার টাকা বেতন দেবে কেন?
নাকি " Ability to cope up with any type of environment and culture.Ambitious, Confident, Persistent and Hard-working to earn money ." -লাইন দুটোতেই আছে লোল্প্রুষের টোপ!

মূল লিংকঃ http://jobs.bdjobs.com/Jobdetails.asp?id=431787&cid

Read more...

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP