29 February, 2012

ঢাকামেট্রো ২৯-০২১২

সকাল ছয়টা চল্লিশ মিনিট
সকাল কয়টায় রওনা দিলে মিরপুর থেকে বসুন্ধরা বারিধারায় আটটার আগে পৌঁছানো যাবে তা নিয়ে রীতিমতো গবেষণা হয়ে গেছে গত ক’বছরে। বছর দুয়েক আগেও সাতটা বিশে বাসা থেকে বের হয়ে আটটার আগে পৌঁছানো যেতো, এখন সেদিন আর নাই। যাওয়ার পথকে ক্যান্টনমেন্ট-বনানী-গুলশান, ক্যান্টনমেন্ট-শেওড়া-নদ্দা, ভাষানটেক-জিয়াকলোনী-এয়ারপোর্ট এরকম অনেকগুলো পারমুটেশন কম্বিনেশন করে নানান পথে গিয়ে দেখেছি ভীড় বেড়ে গেছে অনেক। গত ছ’মাস সকাল ছ’টা পঞ্চাশে রওনা দিলেও আটটায় পৌঁছানো যেতো, এখন তাও যাচ্ছে না। অগত্যা ছ’টা চল্লিশে বাসা থেকে বেরুলাম আজ।
সাত সকালের আগেই গুড়িগুড়ি বৃষ্টি। বছরের প্রথম বৃষ্টি। মর্নিং ওয়াকে বের হওয়া মানুষজন দৌড়াচ্ছে, ভিজে যাচ্ছে, কেউ কেউ মাথায় হাত রেখে হাঁটছে দ্রুত পায়ে। মিরপুর দশ নম্বর গোলচক্করে ভয়াবহ জ্যাম। সকাল সাতটার আগেই বিশ্রী অবস্থা। কারণ হলো, বৃষ্টির কারণে ট্রাফিক স্যার মাঝের ট্রাফিক বক্সে দাঁড়িয়ে আছেন, গা ভেজাবেন না, শুধু হুইসেল দিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু কে শোনে কার কথা? ওদিকে চারপাশে চক্রাবক্রা কার, মাইক্রো, বাস, রিক্সা, সিয়েঞ্জি। সাত মিনিটের জ্যাম শেষে রাস্তা খালি পাই। বৃষ্টি বাড়ছে। রাস্তার ধুলোগুলো যেনো আরাম পেয়ে ঘুমিয়ে যাচ্ছে পথে। শহীদ পুলিশ স্মৃতি স্কুলের সামনে দেখলাম এক কিশোরী ছাতা মাথায় রাস্তা চলছে, তবে ছাতার শিক খুলে গেছে একদিকে। মনে মনে ভাবলাম, আমার নিজের ছাতাটাও এবার ঠিক করাতে হবে, গতবার বাতাসে উলটে পালটে দূর্বল হয়ে গেছে।

দুপুর একটা
এসময়টায় একটু ফ্রি থাকি।
কম্পিউটারে পত্রিকা পড়ি, ব্লগ পড়ি, ব্যক্তিগত মেইলগুলোর রিপ্লাই করি। গত দু’সপ্তায় সারাক্ষণ পত্রিকার পাতা খুলে রাখতাম পিসিতে। একটু পরপর রিফ্রেশ করতাম। অনেকটা ক্রিকইনফোতে প্রতি সেকেন্ডে সেকেন্ডে স্কোর ফলো করার মতো। পত্রিকায় চোখ রাখতাম সাগর-রুনীর হত্যাকান্ডের কোনো সুরাহা হলো কিনা জানতে। চমকের-ঝমকের পরে এখন সব থেমে গেছে। আগ্রহ পাই না আর। পত্রিকায় বানোয়াট খবর প্রকাশের অভিযোগ শুনেছি এতদিন। এবার নিজের চোখেই দেখলাম, সাগর-রুনি নয়, অন্য এক প্রসঙ্গে। তিন চারটি পত্রিকা যদি একযোগে মিথ্যা কথা বলে, কথাগুলো বোধ হয় সত্যি হয়ে যায়। এটাই হয়তো সত্যি -বড়মাছ ছোটোমাছকে খেয়ে ফেলে, তারপর একদিন বড়মাছ মারা যায়, বেঁচে যাওয়া ছোটোমাছ একদিন বড় হয়, সেও অন্য ছোটোমাছ খায়। আর আমি তো, দিন আনি দিন খাই। আদার ব্যাপারীও নই যে জাহাজের খবর নেবো। তবে আজ খেলার পাতা পড়িনি। মন খারাপ, খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলস হেরে গেছে সেমিফাইনালে। অবাক হলাম, শেষদিনে খুলনা দলে পাকি এক খেলোয়াড়কে দেখে! হতাশও হলাম। ওদিকে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরের জয়জয়কার, আফৃদি-আজমল-নাজির-মেহমুদরাই মূলতঃ ঢাকা কিংসকে জিতিয়ে দিলো। গ্যালারীতে আফৃদির জয়ধ্বনি, উল্লাস। তবে, ধন্যবাদ সেই দর্শককে যিনি কাগজে, বুমবুম আফৃদি লিখে আফৃদিকে ক্রস সাইনে কেটে নিচে বড় করে সাকিব লিখেছিলেন। পাকিস্তানকে ঘৃণা করি বলে, ঢাকার এই বিজয়ে খুশি হতে পারিনা, শরীক হতে পারি না। এরচেয়ে বরং পরাজিত খুলনার সাকিবকেই স্যালুট জানাই, বীরের মতো লড়ে যায় যে, পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পরেও যে প্রবল বিক্রমে শেষ দুই বলে ছয় মারে তার প্রতি মুগ্ধতা জানাই। এই লেখা যখন লিখছি, তখন ফাইনালও শেষ হয়ে গেছে। ম্যান অব দ্য ম্যাচ, সর্বোচ্চ রান, এসব পুরস্কার গেল পাকিদের হাতে, ম্যান অব দ্য সিরিজের ৩ প্রার্থীর দুজন পাকি, অন্য জন বাঙালি; সাকিব। সাকিবই পেলো সে-ই গাড়ির চাবি। অভিনন্দন সাকিব। বিপিএল’এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলিউডের চ্ছম্মক্কচ্ছল্লা দেখে বলেছিলাম, বিপিএল=বলিউড প্রিমিয়ার লীগ। শেষদিন এসে মনে হলো এটা আসলে পিপিএল=পাকি প্রিমিয়ার লীগ। এমনকি একমাত্র জুয়াড়ি যে ধরা পড়েছে সেও পাকি।

সন্ধ্যা পাঁচটা তেত্রিশ
মিরপুর তেরো নম্বরের আগে বি আর টি এ’র অফিসের সামনে থেকে দশ নম্বর গোলচক্করের দিকে বিশাল জ্যাম। কোনো গাড়ী চলছে না। সামনে কী হলো বুঝতেও পারছি না। একবার খবর পেলাম, আজ ফাইনাল খেলা তাই রাস্তা বন্ধ, আরেকজন বললো সামনে আগুন লেগেছে। তবে ঘটনা যাই হোক জ্যাম ছুটতে সময় লাগবে, এটাই সত্য কথা। বাদামওলার থেকে ৫০ গ্রাম বাদাম কিনে খাই, জানলাম ১০০ গ্রামের দাম এখন ২০ টাকা। বাদামওলা বললো - দাম বেড়ে গেছে, এই ব্যবসা আর করা যাবে না। জিজ্ঞেস করলাম, ভুট্টার দাম কেমন? জবাব না দিয়ে অন্যদিকে চলে গেল সে। শেষমেশ সোয়া সাতটার সময় বাসার গলিতে ঢুকি। দু’নম্বর কাঁচা বাজারে দোকানে দেখি - সয়াবিন তেলের দাম আবার বেড়ে গেছে, প্রতি লিটার ১৩০ টাকা।

গুড বাই, ২৯ ফেব্রুয়ারি
চার বছর পরপর আসা এই দিনটিকে অন্যরকম মনে হয়। কেন মনে হয় জানি না, এর কোনো কারণ নেই ব্যাখ্যা নেই আমার কাছে। তবে ১লা মার্চে , ভারত বনধ আহবানে [http://www.sachalayatan.com/himu/43489], আমার এয়ারটেল সিমকার্ডটি বন্ধ রাখবো। কালই ঢাকায় শুরু হচ্ছে ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং সামিট। এ বিষয়ের ছাত্র হওয়ায়, ব্যক্তিগত আগ্রহ ছিল – কী হবে, কে কে আসবে তা জানার। শুরুতে জেনেছিলাম, ৩ দিনের এ অনুষ্ঠানে যেতে চাইলে টিকিট ফি ৮৩ হাজার টাকা। সাত নাকি দশ জনের গ্রুপে গেলে জনপ্রতি পয়ষট্টি হাজার টাকার মতো, তেত্রিশ হাজার টাকারও কী একটা প্যাকেজ ছিল। গত জুনে ফিলিপ কটলারের ‘সেশন উইথ ইয়ং’এ গিয়ে চ্রম হতাশ হয়েছি। এ গুরুকে দেখার ইচ্ছে ছিল সত্যি, কিন্তু তার থেকে শোনার আগ্রহ ছিল আরো বেশি। ২ ঘন্টা বলার কথা ছিল, কিন্তু কটলারদাদুভাই নাকি অসুস্থ বোধ করছিলেন, তাই ৩৫ মিনিটের ‘সাদামাটা’ কথায় শেষে থ্যাঙ্ক্যু বলে শেষ করেছিলেন। পোলার নাকি মিল্কভিটার ফ্রি আইসক্রিম খেয়ে বাসায় ফিরেছিলাম দুপুরে। আজ শেষ বিকেলে জানতে পারলাম, এবারের মার্কেটিং সামিটে যাওয়ার একটি ফ্রি প্রবেশ পত্র পাওয়ার সুযোগ আমার আছে। কিন্তু, আগ্রহ পেলাম না, শুনলাম – কটলারদাদুও আসবেন না। কিন্তু, তিনি যদি না আসেন, তার ছবি দেখিয়ে যে বিজ্ঞাপন, প্রচারণা, [http://www.worldmarketingsummit.org/speakers.php] টিকিট বিক্রি সেসবের কী হবে? সবশেষ ওয়েবসাইটে দেখতে পাচ্ছি টিকিটের দাম আরো কমেছে – বিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ হাজারে পাওয়া যাবে (১৫% ভ্যাট ছাড়া) [http://www.worldmarketingsummit.org/register.php]। জানিনা, এ সামিটে কী হবে, ভুরুঙ্গামারির কোনো উন্নতি হবে কিনা, বাংলাদেশের মার্কেটিং থিংকট্যাংকরা ভোক্তা সন্তুষ্টির জগত উল্টেপাল্টে দেবেন কিনা, তবে – মনে পড়ছে গতকাল ডেইলি স্টারে দেখা আরেক বিজ্ঞাপনের কথা – ঢাকায় আসছেন আশা ভোঁশলে। সম্ভবতঃ র্যাহডিসনে গান গাইবেন, সেটাও টিকিট সিস্টেম। এ আর নতুন কী? শাহরুখ নাইট, শ্রেয়া ঘোষাল নাইট, রাহাত আলী খান ইভিনিং (যদিও নাকি শেষ মুহূর্তে আসেনি, দর্শক চেয়ার ভেঙেছে), শিলাকিজওয়ানির ক্যাটরিনা, বিপাশা বসু, সবাই শো করছে। তাহলে জ্ঞানের ফেরিওয়ালা কটলার, লরা রাইস, পুনম কেলার ও অন্যান্যরাও বাদ যাবে কেন? কটলার কিংবা ক্যাটরিনা, লরা রাইস কিংবা লারা দত্ত, পুনম কেলার বা পুনম পান্ডে; বণিক সাম্রাজ্যে তাদের নগদের আশা কি ভুল?
তাই ওরা সবাই নাচনেওলা বাঈজী। এদিকে বুভুক্ষু ভোক্তা সমাজ প্রস্তুত, কেবল ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার অপেক্ষা “এনজয়িং এক্সোয়াইজেড’স ইভিনিং অ্যাট এবিসি হলরুম”।

Read more...

24 February, 2012

বইমেলা ২০১২ (২)

বউ ঢাকা ফিরেছে।
আজ দুজনে গিয়েছিলাম বইমেলা।
শুক্রবার বলে প্রচন্ড ভীড়, ধুলোও ব্যাপক।
কিনলামঃ
১) পথরেখা (ছোটগল্প ও প্রসঙ্গকথা সংখ্যা)। সম্পাদক নূহ-উল-আলম লেলিন। ৪৭টা ছোটগল্প, ১৩টা প্রবন্ধ, প্রায় ৫০০ পৃষ্ঠা। ৫০% ডিসকাউন্টে দাম ৫০টাকা।
২) বাংলা একাডেমির পত্রিকা মাসিক উত্তরাধিকার। মূল্য ৩০টাকা, ৩০% ডিসকাউন্টে ২১ টাকা প্রতি সংখ্যা। নতুন পুরনো মিলিয়ে মোট দশ সংখ্যা কিনলাম।

সেবা প্রকাশনী থেকেঃ
৩) হেনরী রাইডার হ্যাগার্ডের জেস। রূপান্তরঃ সায়েম সোলায়মান।
৪) হ্যাগার্ডের পার্ল মেইডেন। রূপান্তরঃ ইসমাইল আরমান
৫) হ্যাগার্ডের দ্য ব্রেদ্‌রেন। রূপান্তরঃ ইসমাইল আরমান
৬) হ্যাগার্ডের বেনিটা। রূপান্তরঃ সায়েম সোলায়মান
৭) হ্যাগার্ডের মেরি। রূপান্তরঃ সায়েম সোলায়মান
৮) হ্যাগার্ডের দ্য লেডি অভ ব্লসহোম। রূপান্তরঃ সায়েম সোলায়মান
৯) তিনটি বই একত্রেঃ জুল ভার্নের আ সায়েন্টিস্ট কিডন্যাপড, রূপান্তরঃ শামসুদ্দিন নওয়াব। জিম করবেটের বনের গল্প, রূপান্তরঃ অনীশ দাস অপু। এরিখ কেস্টনারের লোটি ও লিসা, রূপান্তরঃ এটিএম শামসুদ্দিন
১০) মাসুদ রানা, হ্যাকার। দুই খন্ড একত্রে।
১১) মাইকেল জান-এর সিক্স মিলিয়ন ডলার ম্যান। জর্জ লুকাসের স্টার ওয়রস। রপান্তরঃ রকিব হাসান।
(*৩-১১ নম্বর বইগুলো বউয়ের পছন্দ। কিছু পড়বে, বাকীগুলো উপহার দেবে।)

রোদেলা প্রকাশনীতে মারিও পুজোর 'ওমের্তা' 'দ্য ফ্যামিলি' দেখেছিলাম। বাংলা পড়ব নাকি ইংরেজী পড়ব ভেবে ভেবে কেনা হয়নি।
বাসায় বুকশেলফে জায়গা নাই। ভাবছি নতুন শেলফ না কেনা পর্যন্ত আর নতুন বই কিনবো না। এর মধ্যে প্রায় অর্ধ শতাধিক 'কেনা-কিন্তু-না-পড়া' বই পড়ে শেষ করতে হবে।

Read more...

19 February, 2012

প্রিয় লোমেলা - ৫

"দ্বিতীয় প্রজন্মের, এমনকি প্রথম প্রজন্মেরও, কিছু নাগরিক তার অতীতকে মুছে দিতে চায়। ভুলে যেতে চায় তার পূর্বপুরুষের শেকড়। "আমরা ঢাকায় সেটেলড", "আমাদের সব কিছু ঢাকাতে", "আমরা গ্রামের বাড়ি যাই না", "গ্রামে যাওয়া হয়না অনেকদিন, ছোটবেলায় একবার গিয়েছিলাম"; এরকম সংলাপে চারপাশে শুনতে পাই অহরহ। মফস্বল, গ্রাম, পারিবারিক অতীতের পরিচয় আড়ালে রাখলে অনেকের আলোচনা সহজ হয়। কোন থানা, কোন উপজেলা, ওখানে কী পাওয়া যায়; এসব আলাপ থেকে সরে আসা যায়। বরং, আমার জন্ম বনানীতে, বড় হয়েছি ধানমন্ডিতে, এখন নিকেতনে থাকি, নিকুঞ্জে নিজেদের বাসায় শিফট করবো এ বছর। তখন গল্প থেমে যায়। কারণ, শহুরে সাজ নিলে, বলার মতো আর কোনো গল্প থাকে না।"
[ফেসবুক স্ট্যাটাসঃ ১৮/০২/২০১২]

Read more...

17 February, 2012

ঢাকামেট্রো ১৭-০২১২

সকাল দশটা দশ মিনিট
মাঝে মাঝে যখন হীনমন্যতায় ভূগি, ক্ষমতার লোভ এবং আকাঙ্ক্ষা যখন জেগে ওঠে, তখন মনে হয় সবকিছু ছেড়ে সিয়েঞ্জি ট্যাক্সির ড্রাইভার হয়ে যাই। প্রায়ই মনে হয়, ঢাকা শহরে ক্ষমতাবান একটা পেশার নাম সিয়েঞ্জির ড্রাইভার। রোদ-বৃষ্টি-মেঘলা আকাশ, শীত-গরম-বর্ষা, সকাল অফিস টাইম, দুপুরের জ্যাম, সন্ধ্যার অফিস টাইম, রাত হয়ে গেছে; সব পরিস্থিতিতে সিয়েঞ্জির ড্রাইভাররা রাজা-বাদশা। ‘যামু না’ বলার জন্য
যতোটুকু মনোযোগ দেয়া দরকার সেটুকুও দেবে না। মামা-কাকা-ভাই ডাকে লাভ নেই। বিশ টাকা বাড়িয়ে দেবো – এমন প্রস্তাবও এখন কাজ করে না। জমা নাকি ৮৫০ টাকা হয়ে গেছে, সিয়েঞ্জির দাম ডবল হয়ে গেছে, ঐদিকে জ্যাম বেশি; এসব ছুতোয় রাজারা তুচ্ছ করে দেয় যাত্রীদের। তবুও রাস্তায় দাঁড়াই, দাম হাকি। আজ ভাগ্য প্রসন্ন, বয়স্ক ড্রাইভার বিনয়ের সঙ্গে জানালেন, "শুক্রবার – ১৪ নম্বর মোড়ে চেক করে – মিটারে চলেন – বিবেকমত একটু বাড়ায়ে দিয়েন।" উঠে বসলাম, মিরপুর-বনানী।
মিরপুর তেরো নম্বর পার হতে মোবাইল ফোনে রিং। অপরিচিত নম্বর। জিজ্ঞেস করলাম – কে?
নারীকন্ঠ হ্যালো, "একটু রনিকে দেন।"
"জ্বী, কাকে চান?"
"রনিকে দেন ভাইয়া।"
"এটা রনির নম্বর না, আপনি ভুল নম্বরে কল করছেন।"
"ভুল নম্বর না, আমি আপনাকে চিনি, প্লিজ রনিকে একটু দেন।"
এবার বিরক্ত হই – "আচ্ছা আপনি কত নম্বরে ডায়াল করছেন?"
"আমি ঠিক নম্বরেই করছি, এটা আমার সীম।"
"হা হা, আপনার? শোনেন, এইটা আমার অনেক পুরানা নম্বর। আপনি নম্বর দেখে ঠিকমত ডায়াল করেন।"
"প্লিজ রনিকে দেন, নাইলে আমি গাজীপুর চলে যাবো।"
ধ্যুত বলে লাইন কেটে দিলাম।
"বিশ সেকেন্ড পরে আবার কল, প্লিজ ভাইয়া রনিকে দেন।"
"আচ্ছা, বলেন তো রনি কে, কী করে? আপনার নাম কী?"
"আমার নাম সুপ্তি।"
"সুপ্তি শোনেন, আমি ভদ্রভাবেই বলছি এটা রনির নম্বর না।"
"ও ভদ্রভাবেই তো বলবেন। ভদ্রভাবে বলার জন্যই তো গতরাতে…"
এই বাক্যে চার-পাঁচ অশ্লীল শব্দে সুপ্তি যা বললো তার মানে এই যে গতরাতে তারা ঘনিষ্ঠ সময় কাটিয়েছে, সুপ্তি তার গোপনতম ভালোবাসা প্রকাশ করেছে।
একটু ধাক্কা খেলাম, ধমক দিলাম, "শোনেন, ভুল নম্বরে ফোন করে জটিলতা বাড়াবেন না।"
সুপ্তি এবার রেগে গেল। বললো, "রনিকে বইলেন – সে কথা না বললে তার অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে, আমি গাজীপুর চলে যাবো। হু, গাজীপুর চলে যাবো।"
কন্ঠে হাল্কা কান্না ও তীব্র ক্ষোভ। নিজে থেকেই লাইন কেটে দিলো।
ভাবলাম, কে এই সুপ্তি? রনি কে? রনি ফোন ধরছে না কেন? সুপ্তি কেন বারবার ভুল নম্বরে ফোন করছে? আর সে গাজীপুর কেন যাবে? গাজীপুর গেলে রনির কী ক্ষতি হবে?
এসব যখন ভাবছিলাম, সিয়েঞ্জি কাকলী মোড়ে এসে সিগন্যালে থামে। ডানে বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ডে তাকিয়ে থাকি। শেল্টেক বা স্টীলটেকের মডেল তরুণী, স্কার্ট পরা, হাঁটুদ্বয় দেখতে বড়ো রুক্ষ, পুরুষালী...।
সিয়েঞ্জি মিটারে বিল এসেছে চৌষট্টি টাকা, দিলাম পঁচাশি টাকা।


বিকাল চারটা চল্লিশ মিনিট
মিরপুর দশ নম্বরে কাজীপাড়া থেকে গোলচক্করের দিকে যাওয়া সব গাড়ি স্থবির হয়ে আছে। অন্য পাশে পার হতে গিয়ে দেখি অনেক নিরাপত্তা পুলিশ, পার হতে দিচ্ছে না। মাঝে রোড ডিভাইডারেও দাঁড়ানো নিষেধ। তীব্র হুইসেলে সবাইকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। অনুমান করলাম, ভিয়াইপি কেউ যাবে। শুনলাম প্রাইম মিনিস্টার যাবেন। আরো অপেক্ষার পরে সাঁই সাঁই করে কিছু মোটর সাইকেল এবং আরো কয়েকটা প্রাইভেট কার, জিপ, শেষে পুলিসের ভ্যান গেলে অনুমান করি তিনি চলে গেছেন। পুলিসের সংকেত পেয়ে গাড়ি চলতে শুরু করে, আমি এবং অন্যরা রাস্তা পার হয়। কেউ কেউ মাথা তুলে কাজীপাড়ার দিকে তাকিয়ে থাকে –ঐ তো একটু আগে চলে গেল!
আজ মনজুর হাসান অস্ট্রেলিয়ায় চলে যাচ্ছে। উদ্দেশ্য উচ্চশিক্ষা।
আমার কলেজ জীবনের ঘনিষ্ঠতম বন্ধুদের একজন। ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লেও, আমি মাঝে প্রবাসে কাটালেও বন্ধুত্ব অটুট আছে নিত্য যোগাযোগে, কারণ আমরা সমমনা। আজ বাসায় দেখা করতে গিয়ে, শেষে যখন বিদায় নিচ্ছিলাম, বললাম – "এ শহরের অর্ধেক খালি হয়ে গেল"। হ্যাঁ, কোনো কোনো মানুষের অনুপস্থিতি অনেক বেশি শুন্যতা সৃষ্টি করে।


সন্ধ্যা ছয়টা আটান্ন মিনিট
মতিঝিল শাপলা চত্ত্বর। শুক্রবার বলে তেমন ভীড় নেই। সোনালী ব্যাংক ভবনের সামনে সেই চেনাজানা হকারদল। অনেকদিন আগে, যখন কলেজ থেকে বাসায় ফিরতাম ১৫ নম্বর বাসে চড়ে, একটা ঘ্রাণ পেতাম নাকে, সে ঘ্রাণ আজও আছে। বাসে ওঠার আগে ভাবলাম বাদাম কিনে উঠি।
দশ টাকার বাদাম দিলো অতি সামান্য।
জিজ্ঞেস করলাম, "এত কম? ১০০ গ্রাম কত?"
বললো, "২০ টাকা।"
"এহ! এই না দু’দিন আগেও ১৪ টাকা ছিল?"
"হ, ছিল। তখন কেজি ছিল ৮০টাকা, আজ কেজি ১০৫ টাকা।"
ঠোঙা হাতে নিয়ে ডাক শুনলাম, “ঐ মিরপুর দশ, ডাইরেক্ট সিটিং, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, মিরপুর দশ চৌদ্দ, ডাইরেক্ট।“
দৌড়ে বাসে উঠলাম।

Read more...

16 February, 2012

বই, মেলা-২০১২

বইয়ের তাকে অনেকগুলো না-পড়া বই রয়ে গেছে, তাই কম বই কেনার ইচ্ছা ছিল। শেষমেষ বইমেলা থেকে কিনলামঃ

১) আর এক দৃষ্টিকোণ - রশীদ করীম
২) সিকান্দার আবু জাফর রচনাবলী - ৩
৩) রবীন্দ্রনাথঃ ছোটগল্পে ছোটরা। আহমাদ মোস্তফা কামাল
৪) আমরা কি এই বাঙলাদেশ চেয়েছিলাম- হুমায়ুন আজাদ
৫) একাত্তরের ঘাতক ও দালালেরা কে কোথায়
৬) দ্য সি-হক - রাফায়েল সাবাতানি (রূপান্তরঃ ইসমাইল আরমান)
৭) তিনটি উপন্যাসিকা, ছায়া অরণ্য, পঞ্চ রোমাঞ্চ - কাজী আনোয়ার হোসেন
৮) Different Spring - Jahir Raihan (আরেক ফাল্গুন'এর ইংরেজী অনুবাদ)
৯) Warf and Woof - Selina Hossain (বাংলা কোন বই জানি না)
১০) দেশে বিদেশে - সৈয়দ মুজতবা আলী
১১) চাচা কাহিনী - সৈয়দ মুজতবা আলী
১২) টাইম মেশিন, দ্য ব্রিজ অন দ্য রিভার কওয়াই, মবিডিক (রূপান্তর - খসরু চৌধুরী)
১৩) তিন গোয়েন্দা, ভলিউম-১২৪
১৪) রাজুর নবম বিড়ম্বনা - কাইজার চৌধুরী
১৫) ছাপাখানার ভূত - কাইজার চৌধুরী
১৬) ট্যালেন্ট ক্লাব - আহমেদ রিয়াজ
১৭) আধুনিক রান্না - নাছ্রিন আক্তার

প্রথম ৭টা বই আমার জন্য। বাকী দশটা চার স্বজনের জন্য উপহার।

Read more...

09 February, 2012

বিপিএল টি-টুয়েন্টিঃ খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলসের জন্য শুভকামনা

"আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি"
একুশের গান দিয়ে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ ক্রিকেট টি-টুয়েন্টির প্রথম আসর। অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে মিনিট বিশেক আগে। লাইভ দেখাচ্ছে নতুন আসা বাংলা টিভি চ্যানেল, চ্যানেল নাইন।
বিপিএল-এর থিম সং গাইতে মঞ্চে আসলেন ভারতের শান, বাপ্পী লাহিড়ী আর বাংলাদেশের কুমার বিশ্বজিৎ। গানটিকে আহামারী কিছু মনে হয়নি। এরচে' বরং শুভ্রদেবের 'গুডলাক বাংলাদেশ' ভালো ছিল। আসিফের 'সাব্বাস বাংলাদেশ'ও অনেক শ্রুতিমধুর ছিল। আয়োজকরা বিপিএল'এর আয়োজনের গান বাজনা অংশটুকুয় নিখাঁদ বাংলাদেশ রাখতে পারেননি, এটা দূর্ভাগ্যের। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আরো নাকি জমকালো করে তোলা হবে ভারতীয় হটিদের নটি চম্মকচ্চাল্লায়। দৈনিক মানবজমিন জানাচ্ছে "বিপাশা বসু, মালাইকা অরোরা ও ঋতুপর্ণা সেনের নাচের তালে তালে উত্তাল হয়ে ওঠবে গ্যালারি। সেই সঙ্গে দর্শকদের পাগল করবে শান ও বাপ্পী লাহিড়ীর সুরের মূর্ছনায়ও। "
অপেক্ষায় আছি, একদিন আসবে যেদিন বাংলাদেশের ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট কেবল বাংলাদেশের শিল্পীদের কন্ঠেই সুচনা হবে।
এবারের বিপিএল-এ আমি খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলসের সমর্থক।
আমি মনে প্রাণে চাইছি, খুলনা চ্যাম্পিয়ন হোক।
কারণ?
এ টুর্ণামেন্টে খুলনাই একমাত্র দল যাতে কোনো পাকি খেলোয়াড় নেই। ফরমালিনমুক্ত মাছ।
"আমি কি ভুলিতে পারি" গেয়ে সুচনা করা টুর্ণামেন্টে আমি ভুলতে পারি না ১৯৫২, ১৯৬৯, ১৯৭১।
তাই পারবো না আফ্রিদী-মালিক- আব্দুল-কামরান-আরাফাতদের সমর্থনে তালি বাজাতে। অতএব, বাদ পড়ে যায় শৈশবের চট্টগ্রাম, বেড়ে ওঠার শহর ঢাকার দল, এবং অন্যান্য দলগুলোও।
থাকে শুধু খুলনা, খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলস; সাকিব, নাসির রাজ্জাক, শফিউল, শাহাদাত।
গুডলাক, খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলস!!!

Read more...

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP