30 July, 2009

নিছক চিন্তাজট

Persuasion শব্দটিকে বলা হচ্ছে আগামীর বিজনেস চ্যানেল। ভোক্তা ও ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমগুলো এতো বেশি প্রতিযোগিতাপূর্ণ, তথ্যপ্রবাহের এতো বেশি যন্ত্রণা, রঙ এবং ছলনার এতো বেশি পলেস্তারা যে বিজ্ঞাপন সমাজের নাগরিক দল চিৎকার করে উঠছে আর বলছে - দ্যাটস এনাফ, 'উই আর লিভিং ইন এন ওভার কম্যুনিকেটেড সোসাইটি'। প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে ছাপার মাধ্যমের সীমানা পেরিয়ে রেডিও-টিভি অথবা বিলবোর্ড সব হয়ে উঠেছে বিজ্ঞাপনের জমিন।
সকালের টুথব্রাশ কিংবা পেস্ট থেকে রাতের নিরোধক বিজ্ঞাপিত হচ্ছে ২৪/৭।
কিংবা ঘুমেও মুক্তি নেই - আপনি ঘুমাচ্ছেন রিলাক্সেন ১০০ মিলিগ্রামের সৌজন্যে।
সুমনের গান - 'ছলাৎছল ছলাৎছল ছলাৎছল - ঘাটের কাছে গল্প বলে নদীর জল'।
এতো এতো গল্প - কালো মেয়ে ফর্সা বানানোর ফেয়ারনেস ক্রীম, ম্যান্দামারা পুরুষকে সুদর্শন বানানোর আফটার শেভ, শক্ত হাড্ডির বাচ্চা বানাতে ফুল ক্রীম মিল্ক, শেষ জীবনের ইনস্যুরেন্স - এইসব বিজ্ঞাপন গত দশকে বিগত হয়েছে। আর তাই এখন বলা হচ্ছে - মার্কেটিং চ্যানেলগুলো বড্ডো সেকেলে, ভোক্তার এতো সময় কই? টিভি বক্স মিথ্যেয় ভর্তি, ই-মেইলের পাশের বিজ্ঞাপন স্পাম পাঠাবে পরদিন। তাই - এই সময়ে ভোক্তার আচরণ পাল্টানোর কোনো ব্যবসায়িক চিন্তা হবে সবচেয়ে বড়ো বোকামি।
এখন মানুষকে পাঠাতে হবে মানুষের কাছে।
মানুষের মুখ দিয়ে বলাতে হবে - আপনার ইনস্যুরেন্স আছে তো?
হয়তো সকালের অফিসগামী বাসে পাশের সহযাত্রী আলাপ শুরু করবে কৌশলে, "আর বলবেন না বাজারের যা অবস্থা", তারপর জেনে নিবে আপনি কী খান, কী পরেন - আর অন্য কোনো ছলে আপনার মাথায় গেঁথে দেবে কোনো পণ্যের তথ্য, বিজ্ঞাপিত হবেন আপনি পথে ঘাটে কাজে।
মার্কেটিং ওয়ারফেয়ার। রাইজ এন্ড ট্রাউট ইনকর্পোরেশন।
মানুষের মগজে তুমুল যুদ্ধ খেলে যাচ্ছে বণিকদল। ডিফেন্সিভ অফেন্সিভ কৌশলে চলছে জায়গা দখল। বিজ্ঞাপন চ্যানেলের খলবলানিতে ভোক্তা যখন নিরিবিলি ব্যালকনি খোঁজে, তখন টোকা দেয় আকাশ বিজ্ঞাপন। রাস্তা ভর্তি মানুষ এক একটি পণ্যের ব্র্যান্ড এম্বাসাডার। কৌশলে চাপানো হবে পণ্যের তথ্য, হাওয়াই মিঠার মতো মাথা ব্যথার ক্যাপসুল।

তীব্র পরিমাণে বিরক্ত আছি কিছু লোকের ওপরে। ৫ জন মানুষের ফোন নম্বর, ই-ঠিকানা দিতে ৫ সপ্তাহ সময় নিলো, আর আমার রিপোর্ট পিঁছিয়ে পড়লো ৩য় বারের মতো ডেডলাইনে। এখন হাতে সময় ১৩ ঘন্টা, কাজ বাকী আছে যা তা লিখলে ২৫ পৃষ্ঠা (ধন্যবাদ - ডবল স্পেস, ফন্ট ১২, টাইমস নিউ রোমান), রেফারেন্স ঠিক করতে ৪ ঘন্টা। ধরে নিয়েছি - পারবো না। এরপরেও কিছু একটা হয়ে যাবে। কিছু একটা করে জমা দিতে হবে।
পারসুয়েশনের কথা বলছিলাম শুরুতে। ব্যাপারটিকে সামাজিক এবং দলগত প্রভাব বিস্তারের কৌশল হিসেবে যতো দেখানো হয়, তার চেয়ে বেশি বোধ হয় ব্যক্তিগত যোগাযোগের জন্য ক্ষেত্র বিশেষে বেশি ব্যবহার দরকার। আমার উচিত ছিল ৩ সপ্তাহ আগে হাউকাউ করা, লোকগুলোকে বোঝানো - আমি ভদ্র না, আমাকে হেল্প না করলে আমি নাই। তাহলে আজ এই ১১তম ঘন্টায় বারোটা বাজার অপেক্ষা করতে হতো না।
আসলে ঠিক হাউকাউ না। অন্য কিছু দরকার ছিলো।
'দ্য বেস্ট ডিফেন্সিভ স্ট্র্যাটেজী ইজ দ্য কারেজ টু এটাক ইউরসেলফ'। কার্ল ভন ক্লজউইটস।

গত তিনমাসে ব্যাপক হারে সিনেমা দেখছি।
দ্বিতীয়বারের মতো দেখলাম উত্তম-সুচিত্রার 'পথে হলো দেরী'। ১৯৫৬ সালের ছবি।
ইন্টারনেটে অনেক ঘুরেও সুচিত্রার ভালো রেজ্যুলেশনের ছবি পেলাম না।
খবরে যা পেলাম তা কেবলই অসুস্থতার কথা।
'এমন মেয়ে কী করে বানালে ঈশ্বর!' সঞ্জীব চৌধুরী।
সুচিত্রাকে দিয়ে এখন কীসের বিজ্ঞাপন করানো যেতো ভাবছি। অথবা কী করানো যেতো না?
সম্ভবতঃ ২০০৭এ সুচিত্রা সেনের অসুস্থতার খবর টানা সংবাদ শিরোনাম হলে অর্কুটে লিখেছিলাম - 'ভালোবাসার ভালোলাগার সুচিত্রা সেন, ভালো থাকুন - সুস্থ থাকুন'।

বিজ্ঞাপনগুলো খেয়াল রাখার চেষ্টা করি ব্যক্তিগত আগ্রহ থেকে।
বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন নির্মাতাদের তালি এবং গালির দর্শকের কাতারে থাকি।
গত সপ্তায় অন্তর্জালে আলোচিত-সমালোচিত হয়েছে পত্রিকায় ছাপানো একটি বিজ্ঞাপন
এমন বিজ্ঞাপন গ্রহণে আমাদের ভোক্তা সমাজ এখনো মানসিকভাবে প্রস্তুত নয়, নাকি আমাদের চিন্তাশীলতার-চৌবাচ্চারা কয়েক ধাপ এগিয়ে; সেটা ভাবছি, এবং ভাবছি।

ডেভ ক্যারল কানাডার শিল্পী।
গত বছর ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সে করে হ্যালিফেক্স থেকে নেব্রাস্কা যাচ্ছিলো। ক্রুদের গাফলতিতে তার গিটার ভেঙে গেছে। ক্ষতিপূরণ চেয়েও পায়নি। পরে গান গেয়েছে এ নিয়ে। ইউট্যুবে এই গান ব্যাপক জনপ্রিয়। ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের টনক যখন নড়েছে তখন ক্যারলের অবস্থা চাঙ্গা। ক্ষতিপূরণ নেয়নি। গানটির জনপ্রিয়তার সাথে সাথে ইউনাইটেডের ব্যবসায় আঘাত কেমন আসে সেটাই এখন দেখবে দেখিয়ে-দল। ইন্টারনেটে পাওয়া যাবে আরো বিস্তারিত।



I flew United Airlines on my way to Nebraska
The plane departed, Halifax, connecting in Chicago's "O'Hare".
While on the ground, a passenger said from the seat behind me,
"My God, they're throwing guitars out there"

The band and I exchanged a look, best described as terror
At the action on the tarmat, and knowing whose projectiles these would be
So before I left Chicago, I alerted three employees
Who showed complete indifference towards me

United...(United...)You broke my Taylor Guitar
United...(United...)Some big help you are

You broke it, you should fix it You're liable, just admit it
I should've flown with someone else, Or gone by car

'Cause United breaks guitars.
When we landed in Nebraska, I confirmed what I'd suspected
My Taylor'd been the victim of a vicious act of malice at O'Hare

So began a year long sagan, of "pass the buck", "don't ask me", and "I'm sorry, sir, your claim can go no where".
So to all the airlines people, from New York to New Deli
Including kind Ms. Irlweg, who says the final word from them is "no".

I heard all your excuses,
And I've chased your wild gooses
And this attitude of yours, I say, must go

United... (United...) You broke my Taylor Guitar
United... (United...) Some big help you are

You broke it, you should fix it
You're liable, just admit it
I should've flown with someone else
Or gone by car

'Cause United breaks guitars.
Well, I won't say that I'll never fly with you again,
'Cause, maybe, to save the world, I probably would,
But that won't likely happen,
And if it did, I wouldn't bring my luggage
'Cause you'd just go and break it,
Into a thousand pieces,
Just like you broke my heart

When United breaks guitars.

United... (United...)
You broke my Taylor Guitar
United... (United...)
Some big help you are

You broke it, you should fix it
You're liable, just admit it
I should've flown with someone else
Or gone by car

'Cause United breaks guitars.
Yeah, United breaks guitars.

বাংলাদেশের আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যান্ড দেশিএমসির গান নিয়ে আগে লিখেছিলাম কোনো এক পোস্টে।
তাদের তারুণ্যের উদ্দামতা, আগুন, ক্ষোভ, চিৎকারে তারা কি পারে না সাড়া তুলতে?
চিৎকার করে এমেনেম থেকে ধার করা শব্দে গালি দিয়ে বলতে পারে না -
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই, তোর বাবা জামাতি - তোর সঙ্গে বন্ধুত্ব নাই!
কিংবা যানজট - ঘুষ - দুর্নীতির বিপক্ষে সাহসী আওয়াজ?

পারসুয়েশনটা ভোক্তার মগজেই দরকার।
আজ এবং এই মুহূর্তে।
.
.
.

Read more...

17 July, 2009

সকাল বেলার খিদে: কী আশায় বাঁধি খেলাঘর

এসবই তোমার সকাল বেলার খিদে, সন্ধ্যে বেলা যাবে ফুরিয়ে, দেখতে দেখতে আরো একটা দিন চলে যাবে – জীবন থেকে যাবে হারিয়ে: হ্যাঁ অঞ্জন দত্তের গান। সংবাদপত্রের নানান খবর – সঙ্গতি – অসঙ্গতি নিয়ে ব্লগে সকাল বেলার খিদে প্রথম লিখি দুই বছর আগে, দ্বিতীয় পর্ব লিখি তারও এক বছর পরে। আজ অনেকদিন পরে তৃতীয় বারের মতো সকাল বেলার খিদে সিরিজে লিখতে গিয়ে দেখি, বাংলা সংবাদপত্র এখন আর সকাল বেলার খিদে নেই, অনেকটা বিকেলের নাশতা হয়ে গেছে। উত্তর আমেরিকা আসার পর থেকে - দুপুরের খাবারের পর থেকে মন উসখুশ করে, কখন ওয়েবে বাংলা পত্রিকা আপডেট হবে – তার অপেক্ষা। চায়ের তৃষ্ণার মতো ভীষণ তীব্র এ অপেক্ষা !

কোনটা খবর হবে আর কোনটা হবে না – এ নিয়ে তর্কের শেষ নেই। গত সপ্তায় একটি বাংলা দৈনিকের সম্পাদক কন্যা সন্তানের বাবা হয়েছেন, আমেরিকার এক হাসপাতালে কন্যার জন্ম হয়েছে। এমন সময়ে স্ত্রী-কন্যার পাশে তিনি থাকতে পারেননি। দেশে বসে তিনি খবরটি শিরোনাম করেছেন তার পত্রিকার প্রথম পাতায়। দোয়া চেয়েছেন পাঠকের কাছে। তবে পাঠক বড়ো বেশি দুষ্টু। পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণে খবরের সাথে মন্তব্য যোগ করার জায়গায় ইচ্ছেমতো ঝেড়ে এসেছে দলে দলে। পরদিন সম্পাদক অন্য কোনো বিবৃতি দিয়েছিলেন কিনা জানার সুযোগ হয়নি।
থাক, সে প্রসঙ্গ থাক।
আগের সংবাদ অনেকটা বাসী টোস্ট বিস্কুটের মতো অখাদ্য মনে হতে পারে। বরং আজ শুরুতেই রূপচানের খবরটির দিকে তাকাই। মনে হয় এ যেনো রূপকথার রূপচান। বেঙ্গল প্যাসিফিক প্রাইভেট লিমিটেডের ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম বৃষ্টিভেজা দিনে রিক্সা করে নীলক্ষেত নামার সময় আড়াই লাখ টাকার প্যাকেট ভুলে ফেলে যায়। এত টাকা হারানোর পরেও তার অফিসের এমডি তাকে বরখাস্ত করেনি, বরং “তিনি জাহাঙ্গীরকে দুশ্চিন্তা না করে অফিসে যেতে বলেন। ঝামেলা এড়াতে থানা পুলিশও করতে রাজি হননি তিনি।” এই আড়াই লাখ টাকা কুড়িয়ে পেয়েছিলো রিক্সাচালক রূপচান। এতো টাকা পেয়েও সে লোভে পড়েনি। সোজা গেছে থানায়। থানার লোকজনও এতো টাকা পেয়ে বেহাত করার কুচিন্তা মাথায় আনেনি। খবর দিয়েছে টিভি চ্যানেলে। সেই খবর দেখে টাকার আসল মালিক থানায় যোগাযোগ করেছে। আসল মালিক টাকা পেয়ে রূপচানকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছে পুরষ্কার, আর সাথে পুলিশ কমিশনার দিয়েছে আরো ৫ হাজার।

৫৫ হাজার টাকা রূপচানের জীবন পালটে না দিলেও কিছুটা স্বচ্ছলতা দেবে, এমনটাই আশা রাখি। ওদিকে টেলিফোনে মিছে প্রেমের অভিনয় করে জনৈক শাহীনকে প্রতিপক্ষ ডাকাত দলের হাতে তুলে দিয়ে অপহরণের মামলায় আঁটক হয়েছে – ইয়াসমিন। পুলিসকে ইয়াসমিন বলেছে ১০ হাজার টাকার চুক্তিতে সে টেলিফোনে শাহীনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়েছিলো। কিন্তু চরমপন্থী সালাম ডাকাত গ্রুপ তাকে কোনো টাকা তো দেয়ইনি, উলটা সে এখন পুলিসের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি। শাহীনকে উদ্ধার করা হয়েছে পাবনা থেকে।
পরিস্থিতি আসলেই ব্যাপক চিন্তার। অনামিকা-নীলাঞ্জনাদের ফোনকল মিসকলে রাত বারোটার পরে ২৫ পয়সা মিনিটের কলে এখন সতর্ক থাকতে হবে!

বাজার পরিস্থিতিও খারাপের দিকে। বাড়ছে পানির দামগ্যাসের দাম
কাঁচা মরিচের ঝাল বেড়ে গেছে মারাত্মক। প্রতি কেজির দাম দু’শ টাকা। আগামী কয়েক সপ্তায় জিনিশপত্রের দাম আরো বাড়বে নিশ্চয়। কারণ আর কিছু নয় – অশেষ নেকী হাসিলের সঙ্গে সঙ্গে বরকতময় মুনাফা লাভের মাস রমজান আসতে আর দেরী নেই। পাঁচতারার ঝলমলে ইফতার পার্টিও চলবে নিশ্চয়। ইফতার পার্টির নামে লুটপাটে ফেঁসে যাচ্ছে ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার। খবরে প্রকাশ - এক ইফতার পার্টিতেই ২ হাজার ২০০ জনের আয়োজন করে বিল তোলা হয় ৩ হাজার ৯৯১ জনের। ইফতার বাবদ বিল দেওয়া হয় ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫৫০ টাকা।

আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচে খেলতে নামছে বাংলাদেশ। আশার কমতি নেই। সঙ্গে যোগ হচ্ছে নানান অত্যাশা। আশরাফুলের ৫০ তম টেস্ট, সাকিবের প্রথম টেস্ট অধিনায়কত্ব, আর মাশরাফি বলছে – ‘আমাদেরই সিরিজ জেতা উচিত’। ওদিকে এক জনমত জরিপে ৭৪ভাগ পাঠক বলছে – বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বর্তমান সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবে না। তবুও শুভকামনা - বাংলাদেশ।

শুরুতে রূপচানের খবরে যতোটা বিমোহিত হলাম, তার চেয়ে বেশি আক্রান্ত হলাম মধ্যযুগীয় আরেক বিচার ব্যবস্থায়। মোবাইল চুরির অভিযোগে ১৫ বছর বয়েসী মিরু বেপারীর শাস্তি কার্যকর হয়েছে। খুব সাদামাটা শাস্তি – দুটি চোখ উঠিয়ে নেয়া হয়েছে আর নগদ জরিমানা ৩০ হাজার টাকা। প্রথম আলোর রিপোর্টে ফরিদপুর থেকে অজয় দাশ জানাচ্ছে – সমাজপতিদের এ রায় কার্যকর করার দায়িত্ব ছিলো মিরু বেপারীর বাবা সুলতান বেপারীর হাতে। নয়তো বাবা-ছেলে দুজনেরই চোখ তুলে নেয়ার হুমকি ছিলো।

বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে শালিসী ব্যবস্থা কতোটুকু আইনসিদ্ধ কিংবা বৈধ – সে ব্যাপারে আমি জানতে ইচ্ছুক। কোনো সচল জেনে থাকলে – জানাবেন দয়া করে...।
---

প্রতিদিন পত্রিকায় ভেতর পাতা বাহির পাতা পড়ার সময় একটি খবরে চোখ বুলাই। প্রসঙ্গঃ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। হিমু ভাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে মাস ভিত্তিক ক্যালেন্ডার করছিলেন। অনেকদিন পত্রিকায় এ প্রসঙ্গে কোনো খবর চোখে পড়ে না। সরকারও চুপ হয়ে গেছে। তবে আজ দৈনিক আমাদের সময়ে চোখ আঁটকালো। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া অব্যহত থাকলে বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষ তার প্রতিবাদের রাস্তায় নামবে – এমন হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মূসলিম সংগঠন মুসলিম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকা (মূনা)। এ খবর গত পরশু ছাপিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদপত্রগুলোর অন্যতম ওয়াশিংটন টাইমস। সাংবাদিক চেসি ফ্লেমিং লিখিত ‘বাংলাদেশ প্রোবস টার্গেটস ৭১ ফোজ’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে মুনা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রে এলেই কংগ্রেসের সদস্য এবং স্টেট ডিপার্টমেন্ট/হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করে থাকে এই সংগঠনটি।


মূনার কার্যক্রম আর বিচার প্রক্রিয়ার স্থবিরতা দেখে দীর্ঘশ্বাসই ফেলতে হচ্ছে...।

Read more...

09 July, 2009

আধখানা মানুষ

মনে হচ্ছে এ যেনো স্বর্গ থেকে পতন। আহ! কী শান্তিতেই না ছিলাম এই দুই মাস...। কাজের চাপ ছিলো অফিসে, চিন্তা ছিলো হালকা, কিন্তু আগের ৮ মাসের মতো যন্ত্রণা ছিলো না। কোর্সওয়ার্ক শেষ হওয়ার পরে যেটা ভালো লাগলো বেশি তা হলো একগাদা মেইল থেকে মুক্তি। ৫ কোর্সের ৫টা টীম, ৫টা মাস্টার আর ক্যারিয়ার সেন্টারের মেইল। সঙ্গে ছিলো - টিএ শীপের কাজ, তার মেইল। হাঁফিয়ে উঠেছিলাম।
এ জন্যই ভীষণ আরামের মনে হলো - গত মে-জুন।
আহ, নায়াগ্রা ফলস, আহ!
আহ, উইন্ডজর ট্রিপ, আহ!
কী করে ভুলি এইসব দিন। ঝামেলাহীন এমন সোনালী সময়, কেনো এমন পলকেই চলে যায়!

গত দু'মাসে মুভি দেখছি হাফ ডজন।
বই পড়েছি এক ডজন। এখন হাতে আছে আগুন পাখি, লাভ ইন দ্য টাইম অফ কলেরা, হোয়াট গুগল উড ডু, দ্য লং টেইল, দ্য কাইট রানার, কালো বরফ, মাটির জাহাজ। এর বাইরে দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ ফ্ল্যাট সম্ভবত ধরতে পারবো না।
জীবন খুব ছোটো।
খুব দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে সময়। পড়ছিলাম ধীরাজ ভট্টাচার্যের 'যখন পুলিস ছিলাম'। টেকনাফের মাথিনের কুপের ধীরাজ। তার আরেকটা বই 'যখন নায়ক ছিলাম'। কতো আগের লেখা, কিন্তু মারাত্মক স্বাদু গদ্য। পড়া হলো না ওসব।
গতকাল মনজুরের সঙ্গে আলাপ হচ্ছিলো, বিষয় - আবার যদি আঠারো বয়সে ফিরে যেতে পারতাম!
হায়, ঈশ্বর - 'কে হায় প্রায়শ্চিত্তের পেয়ে গেলো অবসর, আমার তো পাপ করবার সময়টুকুও নেই!' কার লেখা? আনন্দ নারায়ন মুল্লা?

অবস্থা যেই পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে টেনশনে হা হুতাশ করার কথা।
এরপরেও দাঁতে দাঁত চিপে আছি।
হাতে সময় ৬ দিন।
এখনো মেজর রিসার্চ পেপারের ৫০ ভাগ কাজ বাকী।
অফিসের জিম-ক্রিস্টিন বলছে ডোনার সার্ভে হয়ে যাবে। কিন্তু আমি লিখবো কখন?
এইসব তুমুল চাপে মাথায় আসে গল্প উপন্যাসের প্লট। মাথাটা কিরকির করে যন্ত্রণা দেয়। কাজের চাপ কমলে গল্পেরা মারা যায়। ফেসবুক ডিএক্টিভেট করেছি ১ মাসের জন্য। তবুও কাজ আগালো না। শরীরের ওজন না বেড়েও যেমন মুখের আয়তন বাড়ে...

ইয়াহু একাউন্টে এখন কেউ তেমন মেইল করে না। প্রথম পাতায় ইনবক্সে ২০০ মেইল দেখায়। ওখানে ২০০৭ সালের মেইল পর্যন্ত আছে। কিন্তু ২০০৬-২০০৫ সালের দিকে এক মাসেই ২০০'এর মতো মেইল পেতাম ইয়াহুতে। আজ হঠাৎ কী জানি মনে হলো ভাবলাম আগের বছরগুলোয় জুলাই মাসে পাওয়া মেইলগুলো পড়ি। পড়লাম বেশ কিছু।
আমার ধারণা ভুল ছিলো।
সব কিছু মনে থাকে না। কতো কিছুই ভুলে যাই।
অন্যরকম ভালো লাগলো, চেষ্টা না করেই কতো সহজেই ভুলে গেলাম কতো কিছু!
...কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে?হায় চিল, সোনালী ডানার চিল...

ইয়্যুটিউবে ঘুরছিলাম।
সুমেধা কারমাহির প্রতি দীর্ঘদিনের জমে থাকা মোহ এবার কি আসমা মোহাম্মদ রাফি কাটিয়ে দেবে?
ভেবে দেখলাম, উত্তরটা সম্ভবত - 'হ্যাঁ'।
_

_

Read more...

01 July, 2009

তুমি না থাকলে...

২০০৭ সালের ১৬ আগস্ট আমার কাছে ভীষণ মন খারাপের সকাল। আমার সে সময়কার অফিস দীর্ঘদিন ম্যানেজারহীন হয়ে থাকার পরে আমাদের কলিগদের মাঝে যে ‘টীম ওয়ার্ক’ গড়ে ওঠেছিলো তা ‘শ্যাষ’ হয়ে যাবে সেদিন। শুনেছি ইউএনডিপি-তে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে নেপাল থেকে আসছে নতুন ম্যানেজার। তাই আমরা অনুমান করে নিই - রুমের এক কোণায় একজন বয়স্ক ম্যানেজার বসে থাকবে। আর হৈ-হল্লা করা যাবে না, কাগজের প্লেন বানিয়ে এদিকে ওদিকে ছোড়া যাবে না। সবাই বিকল্প খুঁজতে গেলো – খবর পাওয়া গেলো - নতুন ভবনের সাত তলায় একটা খালি ছাঁদ-মতো আছে, সেখানে কারা কারা নাকি লাঞ্চের পরে সিগারেট খায়, আড্ডা দেয়। সিদ্ধান্ত হলো - আমরাও সেখানে চলে যাবো কাজের ফাঁকে।

কিন্তু, আমার মন খারাপ অন্য কারণে...
এতোদিন এই অফিসে কাজের ফাঁকে আমার নিত্য অকাজ, কিংবা কাজ না থাকলেও আমার যে তুমুল ব্যস্ততা তা আর কিছু নয় – সচলায়তন এবং জি-টক। কতো কতোদিন ঘন্টার পর ঘন্টা কতো পোস্ট পড়ে গেছি, কমেন্ট করে গেছি তার হিসেব নেই। বাসায় ইন্টারনেট ছিলো না একসময়, ব্লগে চোখ রেখে খেয়ালই করিনি বাইরে রাত হয়ে গেছে। এমন সব তুমুল অভ্যাস কী করে ছাড়ি কোথাকার কোন এক পাপিষ্ঠ ম্যানেজারের আগমনে?

প্রথম সপ্তাহ অনেক কষ্টে গেলো। নতুন ম্যানেজার মিটিং এর পরে মিটিং ডাকে। আমি প্রায়ই অন্যমনষ্ক হয়ে যাই – সচলে নতুন কী পোস্ট এলো, জি-টকে কে নক করলো – এসব ভেবে ভেবে। কাজের ফাঁকে সচলে উঁকি দিই, জি-টকে একে ওকে গুতাই – কেবল ভয়ে থাকি কখন না আবার ধরা পড়ি! ধরা অবশ্য পড়তেই হলো – আরও দিন কয়েক পর। জি-টক মিনিমাইজ করার পরে ম্যানেজার দুম করে জিজ্ঞেস করে – ‘ওটা কী লুকালা?’
আমি বলি- ‘কোথায় কী?’
ম্যানেজার মাথা নাড়ে – ‘না, আমি প্রায়ই দেখি – আমি এদিকে আসলে তুমি মনিটরে হুটহাট কী জানি করে ফেলো।’
আর চালাকি করা ঠিক হবে না ভেবে জি-টক দেখালাম। ম্যানেজার তখনো ইয়াহু এমএসএনে অভ্যস্ত। অফিসে ওগুলা ব্লকড। সুতরাং তাকে জি-টক শেখালাম। সেও মহাখুশী। আমি প্রায়ই দেখি – জিটকে আমার চেয়েও বেশি ব্যস্ত সে হাসি

এর পরের সপ্তায় আমাকে ধরলো সচলায়তনের পৃষ্ঠা খোলা দেখে।
‘এটা কী?’
আমরা তখন জি-টকে জি-টকে মাসতুতো ভাই হয়ে গেছি। ওকে বোঝালাম এটা একটা রাইটার্স কম্যুনিটি। কম্যুনিটি ব্লগ সাইট নিয়ে জ্ঞান দিলাম। তার ব্যাপক উৎসাহ। বললাম, তুমি চাইলে ব্লগস্পটে নিজের একটা সাইট খুলতে পারো। টুকটাক হেল্প করলাম। দ্বিতীয় দিনেই সে নিজের একটা ব্লগস্পট সাজিয়ে নিলো, এবং আমাকে এও বললো – এটা তার ডায়েরী, কেবল নিজের জন্য, অন্য কারো এক্সেস টেকনিক্যালি ব্লক করা আছে। আমি হাসি।

তবে চমক দেখলাম আরো তিনদিন পরে।
তার ভার্সিটির এলামনাই এসোসিয়েশনের জন্য সে গ্রুপ ব্লগ খুলেছে ব্লগস্পটে, সেখান থেকেই আপডেট হবে সব একটিভিটিজ! একটা নতুন গেজেট যোগ করে, আর আমাকে ডেকে বলে – ‘দেখে যাও এটা কেমন হলো।’
বিকেল হলে আমাকে জিজ্ঞেস করে – ‘আজ ব্লগে কমেন্ট কয়টা করলা?’

মাস ছয়েক পরে ঐ বস অন্য চাকরীতে চলে যায়।
শেষ দিন আমি বলি – ‘ব্লগিং ছেড়ো না’।
সে হাসে।
গত অক্টোবরের দিকে মেইল পেলাম। আমাকে লিখেছে – ‘আশা করছি ভালো আছো। আমার ব্লগের একটি লেখা নেপালের দৈনিক কান্তিপুরে ছাপা হয়েছে। লিংকটা দেখো। ব্লগিং শেখানোর জন্য থ্যাঙ্কস!’

-দুই-
বলা হয় সব শহরের একটি প্রতীক আছে।
লন্ডনের ঘড়ি, ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ার, চীনের প্রাচীর – আরো কতো কী...
কিন্তু, আমার কাছে এখন অনেক দেশ মানেই সেখানকার সচল।
অস্ট্রেলিয়া মানে কনফু-তিথি।
জার্মানী মানে – হিমু, বদ্দা, ধু-গো।
জাপান মানে – সৌরভ, জ্বিনের বাদশা।
নেদারল্যান্ড মানে –তানবীরা তালুকদার। আগে ছিলো - রুট গুলিট হাসি
স্কটল্যান্ড মানেই – হাসান মোরশেদ।
আরিজোনা মানে – এস এম মাহবুব মুর্শেদ।
তাইওয়ান মানে – মামুন হক।
সিঙ্গাপুর মানে – ফারুক হাসান।
আলাবামা মানেই –দ্রোহী।

আর কতো বলি?
শুধু কি জায়গার নাম? কতো শব্দের অর্থই তো বদলে গেছে অথবা একেবারে নতুন শব্দ –

ঠিকাছে।
উত্তম জাঝা।
বিপ্লব।
চ্রম খ্রাপ।
সেইরম।
হ।
ঞঁ!

-তিন-
উইন্ডজর সফর নিয়ে তিন তিনটি পোস্ট এসেছে এর আগে। যে কথা বলা হয়নি –

এই সফরে এই প্রথমবারের মতো বাকী ৪ জনকে দেখেছেন প্রকৃতিপ্রেমিক।
এই সফরে এই প্রথমবারের মতো বাকী ৪ জনকে দেখেছেন বিপ্র।
আমি-অমিত আর কিংকুর দেখা হয়েছে আগে। আমরা তিনজন এই প্রথম বারের মতো দেখেছি – প্র-প্রেমিক ও বিপ্রকে।
কিন্তু, যে দুইদিন উইন্ডজরে ছিলাম, ৫/৬ ঘন্টার ঘুম ছাড়া বিরতিহীন যে আড্ডা চলেছে – সেখানে একটিবারও মনে হয়নি আমাদের ৫ জনের এই প্রথম আড্ডা। মনেই হয়নি, আমাদের আগে কখনো দেখা হয়নি।
আমাদের আড্ডায় কথা বলার বিষয়ের কমতি ছিলো না।
আমাদের স্মৃতিচারণ ছিলো ব্যাপক।
আমাদের আগামীর কথা ছিলো আরও বেশি।

শেষে যখন বাসে উঠি মনে হয় – আরো কত্তো কথাই না বলা রয়ে গেলো...
বাসে ওঠার আগ মুহুর্তে আরেকবার ছুঁয়ে যাই মানুষগুলোর হাত, তখন মনে হয় এ-তো হাজার বছরের স্বজন, আমাদের পরিচয় উইন্ডজরে নয় – পিলী আইল্যান্ড বা ইরি নদীর উপরে দুলুনি দেয়া জীম্যান জাহাজে নয়, আমরা এমন করেই কাছাকাছি ছিলাম, আছি – আমাদেরই ঘরে...
আমাদের সে ঘরের নাম – সচলায়তন।
না দেখেও আমরা ভাই-বন্ধু-স্বজন, আত্মার আত্মীয়...।

-চার-

আজ হিমু ভাইয়ের পোস্টের ছবি দেখে – আরেকটা ছবি দেয়ার লোভ সামলাতে পারলাম না।
২০০৮ সালের, ২৭ মার্চ বৃহস্পতিবার – থাইল্যান্ডের কো-সামেট আইল্যান্ডে ।এভাবেই – সচলায়তন থাকে আমাদের সঙ্গে।
আমরাও সচলায়তনের... ।

জয়তু সচলায়তন!!!

Read more...

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP