22 April, 2009

ন্যান্সির গান: হতাশা ও নাম বিভ্রাট

হাবিবের সাথে গাওয়া কয়েকটা গান শুনে ন্যান্সির পাংখা হয়েছিলাম বছর আগে। দু'মাস আগে 'থার্ড পারসন সিংগুলার নম্বর' ছবিতে ন্যান্সির গান শুনে পাংখার গতি বেড়েছে। 'দ্বিধা'/কে কার' ট্র্যাকগুলা একটানা শুনেছি।

এর মধ্যে ন্যান্সির এলবাম 'ফার্স্ট এপিসোড' আসবে খবর পেলাম। ইন্টারনেটেও আসলো এবং ডাউনলোড করে শুনলাম।
শুনে হতাশ হলাম।
ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলাম - চমৎকার মিষ্টি কন্ঠের কী অদ্ভুত অপচয়!
এক বন্ধু জিটকে স্ট্যাটাস দিলো - "ন্যান্সির ফার্স্ট এপিসোড শুনে হতাশ হলাম।"
ক'দিন পরে আরেক বন্ধু ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলো - "'ফার্স্ট এপিসোড'-এর পর ন্যান্সি ওর নতুন অ্যালবাম 'ভালোবাসা অধরা'-তেও হতাশ করে কি না!"
খুব অল্প সময়ে আরও একটি এলবাম। এবারেরটা শুনলাম - তবে হতাশ হলাম না।
হাবুল ভাই তার স্টাইলে ন্যান্সির জন্য গান কম্পোজ করেছে।
টাইটেল ট্র্যাকটা দূর্দান্ত...।

শেষে পাব্লিক ওপিনিয়ন যা শুনলাম, ঐ কথাই - "'ফার্স্ট এপিসোড' ভুয়া হইছে। 'ভালোবাসা অধরা' পাংখা।"

তবে আজকে চমকালাম।
চমকালাম বিডিনিউজের গ্লিটজ পাতায় "অগোচরে বেড়ে ওঠা ফুল - ‘ন্যান্সি ফার্ষ্ট এপিসোড’ অ্যালবামের গায়িকা শেখ রোমানা ওয়াদুদ ন্যান্সির গল্প" পড়ে।

জানলাম, 'ফার্স্ট এপিসোডের' ন্যান্সি আর 'ভালোবাসা অধরা'র ন্যান্সি এক মানুষ না। আলাদা ;)

"নামজনিত একটি বিতর্ক এখন পিছু নিয়েছে ন্যান্সির। আরো একজন ন্যান্সি আছেন এবং তার অ্যালবামও আসছে বাজারে আর কয়েকদিনের মধ্যে। সেই ন্যান্সি বেশ বিখ্যাত। হাবিবের সঙ্গে তিনি গেয়েছেন, ছবির গান গেয়ে তুমুল সাড়া ফেলেছেন। আবার তার একটি গান মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নতুন ছবি থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার ছবিতে ব্যবহৃত হয়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছে। এই ন্যান্সি অভিযোগ করেছেন- তার নাম এবং সুনাম ব্যবহার করে আরেকজন অ্যালবাম বের করেছেন। তিনি নিজের খ্যাতিকে অন্যায়ভাবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন এই ন্যান্সির বিপক্ষে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ন্যান্সি বলেন, “আমি শেখ রোমানা ওয়াদুদ ন্যান্সি। আমার অ্যালবামেও সেটা আছে। আমার নিজেরই খুব অস্বস্তি হয়, যখন আমাকে কেউ জিজ্ঞেস করেন- আমিই কি সেই ‘ন্যান্সি’?”


একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম।
যাক, যে-ই ন্যান্সির পাংখা হইলাম; সেই ন্যান্সি হতাশ করে নাই।

কেনার সময় আসল লুকাস ব্যাটারি দেখে কিনুন।
গান শোনার সময় আসল ন্যান্সি জেনে শুনুন।

ন্যান্সির 'ভালোবাসা অধরা'

__
Get this widget | Track details | eSnips Social DNA

Read more...

17 April, 2009

হারিয়ে যাচ্ছে পত্রমিতালী

আমেরিকার সিয়েরা আর ইংল্যান্ডের মারলিন যখন প্রথম বারের মতো দেখা করে তখন একজনের বয়স ৬৭ আরেকজনের ৬৮। অথচ দু'জনের যোগাযোগ শুরু আরও ৫৬ বছর আগে। আটলান্টিকের ওপার থেকে চিঠি আসে সিয়েরার স্কুলের ঠিকানায়। তারপরে দুজনের পত্রমিতালী। এতোদিন পরে সেসব স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে দু'জনই স্মৃতি বিহবল হচ্ছে, বলছে - কী কী তারা শেয়ার করতো চিঠিতে - কী করে মাঝে ৮ বছর যোগাযোগ হয়নি, আবার কীভাবে যোগাযোগ হলো, এইসব।
এ তো গেলো ইন্টারনেটে খুঁজে পাওয়া পত্রমিতালীর পুরনো গল্প।

অথচ আমাদের জীবনে এই বছর দশেক আগেও পত্রমিতালীর ছাপ ছিলো। বুদ্ধদেব গুহের 'সবিনয় নিবেদন' সাহিত্য হিসেবে কালজয়ী। কিন্তু, বাস্তবে মানুষ পত্র মিতালী কেনো করে?
অচেনা মানুষের সাথে যোগাযোগ, পরিচয়ের উৎসাহ, বয়সের উৎসুক্য - নাকি আরও বেশি কিছু?
আগে নানান ম্যাগাজিনে বিজ্ঞাপন থাকতো -
মুক্তমনের ছেলে/মেয়ের সাথে বন্ধুত্ব করতে চাই।
উদার বন্ধুত্বে আগ্রহী, হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল...
কেবল বরিশালের মেয়েরা লিখুন, আমি এক হতভাগা মানুষ হাত পেতেছি...

এরকম বাহারী সব আহবান।
তসলিমা নাসরিনের লেখালেখির শুরুও নাকি পত্রমিতালীর বিজ্ঞাপন থেকে।

পত্রমিতালী থেকে পরিচিত হয়ে সংসারী হয়েছেন, এমন ঘটনাও অনেক।
একসময় রেডিও'র নানা অনুষ্ঠানে চিঠি লেখার সুবাদে আমার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল - রাজশাহী বাঘা থানার এক ছেলের...।
পত্রিকায় 'শব্দজব্দ' ছাপানোর সুত্রে বোধ হয় সব'চে বেশি পত্রমিতালীর আহবান পেয়েছি।
তবে, বেশ কয়েকবার নামের শেষ অংশটুকু ছাপার কারণে - মেয়ে ভেবে অনেক প্রেমাকাঙ্খী যুবক ভাই বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছিলো ;)
অন্যদিকে মনে পড়ে - কক্সবাজারের সুমি, আলেকান্দার জুলি, পশ্চিম রাজাবাজারের নিম্নি পাল; গোটা গোটা হাতের অক্ষর...। আহা!

দেশ বিদেশের ১ হাজার ছেলে মেয়ের নাম ঠিকানা ও ফোন নম্বরের স্লোগানওয়ালা পত্রমিতালী গাইডের বিজ্ঞাপন বোধ হয় এখনো কালেভদ্রে পত্রিকায় দেখা যায়...।

তবে হারিয়ে যাচ্ছে পত্রমিতালী।
প্রযুক্তি এখন মানুষকে কাছাকাছি নিয়ে এসেছে, জীবনকে গতিময় করছে। হাতে চিঠি লিখে খামে পুরে ডাকঘরে গিয়ে পোস্ট করার দিন ফুরিয়েছে ইন্টারনেট আসার সাথে সাথে।

'হাই সুজি এট ইয়াহু, তোমার খবর কি হাউ ডু ইয়্যূ ডু
আমার বাড়ী যাদবপুর আর তোমার বাড়ী সিংগাপুর
টেকনোলজির এ যুগে মোটেও নয় যে দূর'

প্রতীক চৌধুরী গেয়ে গেছে তা'ও দশ বছর হতে চললো।

সিংগাপুরের সুজি, টেক্সাসের জেনি এক ক্লিকেই কথা বলছে মীরপুরের পল্লবীর টিনশেডের ঘরে কিংবা এক্সপ্লোর সাইবার ক্যাফেতে বসা পরাগের সঙ্গে। মিরপুর-সিংগাপুর, মতিঝিল-কারগিল, কিংবা বাসাবো-কসভো; দূরত্ব কমে গেছে দিনদিন। মেইল-টেক্সট চ্যাটের পরে ভয়েস চ্যাটে বাড়ছে যোগাযোগ। গতির তোড়ে চ্যাট বক্স থেকে মোবাইল ফোনে...। ওভারকম্যুনিকেটেড সোসাইটির অভিযোগ তুচ্ছ করে মোবাইলের আলাপও সংক্ষিপ্ত হয়ে যায়। রংপুর মেডিক্যাল কলেজের তুশি ঢাকা মামার বাসায় বেড়াতে এসে ২য় বিকেলেই দেখা করে মিসকল মিসকল খেলায় পরিচিত অভির সংগে। সাহসের কমতিতে ছাদেই দেখা হয়। আর শহুরে কিশোর কিশোরী, তরুণ তরুণীরা ততক্ষণে 'ডিঙি'তে চলে গেছে। অথবা ম্যাংগো ক্যাফেতে।

টেস্ট ক্রিকেটের পরে ৫০ ওভারের ওয়ান ডে আরও সংক্ষিপ্ত হয়ে টুয়েন্টি২০ ম্যাচ হয়ে যায়। ফলাফল জানতে অপেক্ষার তীব্রতা প্রবল।
তেমন করেই তীব্রতা অচেনা মানুষের সঙ্গে দেখা করার। তাই আগের মতো অপেক্ষা নেই, নেই চিঠি লিখে ফিরতি চিঠি পাওয়ার অপেক্ষা, গেরুয়া খামের ঘ্রাণ। নেই অনুভূতি - 'আজ সকালেই মনে হয়েছিলো, তোমার চিঠি পাবো। দুপুরে বাসায় ফিরেই তোমার চিঠি পেলাম। জামা কাপড় না পালটে, না খেয়েই লিখতে বসেছি। বিকেলের ডাকে পোস্ট করবো।'
ফিরতি চিঠিতে - 'এই যে মিস্টার, পেটের খিদে নিয়ে চিঠি লিখতে নেই, তাহলে মনের খিদেও চলে আসে।'
হায় ঋতু রায়, হায় রাজর্ষি বসু! আপনাদের হাতেও মোবাইল এসে গেছে বুঝি!

দু'বছর আগে থেকে বাংলাদেশে টেলিগ্রাম সেবা বন্ধ হয়ে গেছে। পাপিয়া সরোয়ার কি এখনো গাইবেন - 'নাই টেলিফোন নাইরে পিওন, নাইরে টেলিগ্রাম।'
কিংবা মাকসুদের 'আজ তোমার চিঠি যদি না-ই পেলাম, তবে ভেবে নেবো ডাকপিওনের অসুখ হয়েছে।'
এ সবই গল্প হবে একদিন...
প্রায়ই পত্রিকায় দেখি - ডাক বিভাগ লস দিচ্ছে বছর বছর। 'চিঠি লিখুন, চিঠি স্থায়ী' কেবল ডাক দিবসের স্লোগানে বন্দী।

হারিয়ে যাচ্ছে, চেনা-অচেনা মানুষের কাছে চিঠি লেখার দিন। বন্ধুর কাছে চিঠি লেখা, খামের কিংবা চিঠির কাগজ-কালির মতো নস্টালজিক ঘ্রাণ হয়ে যাচ্ছে...।
হারিয়ে যাচ্ছে পত্রমিতালী।

মধ্যরাতের পরে ডিজুস ফ্রি কলের যুগও ফুরালো। ফোন নম্বর জানার কিংবা জানানোর ঝামেলা নেই। শুনেছি - জিপি'র ২৮২৮ সার্ভিস ফোন নম্বর প্রকাশের ঝামেলা মিটিয়ে দিচ্ছে, চুটিয়ে আড্ডা দিচ্ছে - বিচ্ছিন্নতায় বেড়ে উঠা নিঃসংগ কিংবা অস্থির বাটারফ্লাই তরুণদল।
সুষম সাইবার সমাজে মেল শভিনিজম এবার ভাঙলো বলে...।


ইউটিউবে ঘুরতে ঘুরতে পেলাম লেডিchatআর্জির ডাক -
'আমার সংগে চ্যাট করবে? আমি সা-রা-রা-ত চ্যাট করি...'



.
.
.

Read more...

13 April, 2009

ধুসর সন্ধ্যা শেষে

লেখালেখি নিয়ে একটা দীর্ঘ বন্ধ্যা সময় যাচ্ছে। যতোটা না সময়ের টানাটানি তারচে' অনীহা বড়ো হয়ে গেছে আজকাল। কিছু প্লট মাথায় ঘুরঘুর করে। আবার চলে যায়, ওড়ে যায় অন্য কোথাও। কতোদিন হলো বিকেলে হাল্কা জামা গায়ে স্যান্ডেল পায়ে বের হই না। হতে পারি না। এপ্রিলের মাঝামাঝি এসেও মাইনাস তাপমাত্রা বিদায় নিচ্ছে না।

বিকেল হলে দেশে ফোন করতে ইচ্ছে করে, কথা বলতে ইচ্ছে করে। এখানে বিকেল সাড়ে চারটা মানে দেশে রাত আড়াইটা। অতএব সকালের অপেক্ষা। কলিং কার্ড যা কিনতাম আগে একটা একসপ্তায় শেষ হতো। কতো মিনিট ২০০ নাকি ১৩৫? শেষের বিশ মিনিটের অবশ্য হিসেব থাকে না। ইদানিং খেয়াল করছি কার্ডগুলো শেষ হচ্ছে না। দেশে কথা বলা কমে গেছে। না ঠিক কথা বলা কমেনি, বলার কথা কমে গেছে...।

সে-ই কবে একবার ছুটির দিনে টিটিসি'র বাসের অপেক্ষায় অপেক্ষায় রাস্তা থেকে রাগ করে ঘরে ফিরলাম, এরপর ছুটির দিনে সতর্ক থাকি। নেটে বাসের সময় দেখে বের হই। এরপরেও টের পাই সাতটা বিশের বাস চলে গেছে আগে। তাই সাতটা চল্লিশের অপেক্ষা করি। পায়চারি করি, রিহার্সেল দিই - আগামীর; স্বপ্ন এবং সম্ভবনার।

ডেন্টোনিয়া পার্কে বিকেলের রোদের ছটা। একদল ছেলে ফুটবল খেলছে। এ যেনো অনেক আগে অন্য কোথাও দেখা, ভুলে যাওয়া, কলোনীর মাঠ। কোলাহল। মারহাবা সুপার স্টোরে কলিং কার্ড কিনি। রাস্তার ওপাশে কফি টাইম। আমার ভালো লাগে টিম হর্টন্স। প্রিয়-রুমকির সাথে আড্ডায় সেকেন্ড কাপ। মাঝে মাঝে স্টারবাকস। কফি টাইমে তেমন যাইনি। অমিতের সংগে আড্ডায় আরেকটু হেঁটে টিম হর্টন্সে গিয়েই বসেছি। এই কফি টাইমে না আসলেও কফি খেয়েছিলাম আরেকবার। শাকিল স্যার আমাকে গাড়ীতে বসিয়ে কফি এনেছিলো। গাড়ীর পেছনে জুহের - নায়েফ ঘুমায়। স্যার কফি নিয়ে এসে বলে - 'ভেতরে বিশাল ক্যাওস'। জিজ্ঞেস করলাম - 'কী রকম?' স্যার হাসে - 'এ-ই, চিনি ২ প্যাক, আমাকে এইটা দেন...'।
আজ কফি টাইমে ঢুকে টের পেলাম - মিনি বাংলাদেশ। ফেয়ার ট্রেডের পরিবেশ বান্ধব কফি। লার্জ ডবল ডবল। কাঁচের পাশে টেবিল খালি ছিলো একটা। সেখানে গিয়ে বসি। বাইরে সন্ধ্যা নামবে নামবে করছে। আমার ডানের টেবিলে দুটো পরিবার। পুরুষ দু'জন আলোচক। বামে দুই বন্ধু, পঞ্চম বা ষষ্ঠ কাপ কফির জন্য গেছে একজন। যোগ দেয় আরেকজন; তাদের অনেকদিন পরে দেখা। খানিক নিচু স্বরে আলাপ করে। আরেকটু দূরে তিন আন্টি ভীষণ কটকটে গলায় কথা বলছে - যেনো ঝগড়া চলেছে অবিরাম, আবার হাসি। তাদের ডানে এক টেবিলে আফ্রিকা কিংবা ক্যারিবিয়ান তরুণ দল। চার তরুণ - এক হিজাবী তরুণী। সব ছাপিয়ে আমার ডানের পরিবারের দুই পুরুষের আলাপ কানে বাজে বেশি। বাংলাদেশে রড-সিমেন্টের ব্যবসা নিয়ে আলাপ করে তারা। জনৈক জসিমের সম্মুন্দি অডিট করতে এসে কী বলে গেলো তা বলে, মন্ট্রিওলে মান্না চৌধুরী নামের একজন ছোটোখাটো গার্মেন্টস খুলে ফেলছে সে-ই গল্প করে; বাংলাদেশি মহিলারা সেখানে কাজ করে। এসব আলাপের কোনো যোগসূত্র নেই, বড়োই বিক্ষিপ্ত। কিংবা আমি তাদের আলাপের গতি ধরতে পারি না। কারণ, নানান কোলাহল চারপাশে - আরেক কাপ ডবল ডবল, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই নিয়ে হুড়োহুড়ি, কেউ আসছে কেউ যাচ্ছে। মনে হয় আমি এক বিয়ে বাড়ীতে বসে আছি। কফিতে চুমুক দিই, ভাবি - কতোদিন পরে এমন কোলাহলের মাঝে এসে বসলাম। বিয়ে বাড়ীতে মানুষের গমগম, কথার তুবড়ি, দল উপদল। নীরব দর্শক আমি। ড্যানফোর্থ ধরে টিটিসি'র ১২ নম্বর বাস যাচ্ছে। ট্রাফিকের লাল হাত, শাদা মানুষ পাল্টাচ্ছে একটু পরপর। দূরে মেট্রো শপিং, শপার্স ড্রাগ, স্টাপলস; আরও দূরে পে-লেস শ্যুজ। বাচ্চা হাতে এক দক্ষিণ এশীয় মহিলা হেঁটে যাচ্ছে। বাচ্চার হাতে কোকের গ্লাস। আসার সময় এরকমই বাঙালি পরিবার রাস্তা ক্রস করছিলো। বাচ্চাটি মা'কে হাত ধরতে দিচ্ছিলো না। মা বলছে - 'না, এখানে মা'কে হাত ধরতে হয়। নইলে পুলিস এসে ধরে নিয়ে যাবে।' এসব ভাবি, এই কিছুক্ষণ আগে ঘটে যাওয়া ঘটনা, মাথায় হানা দেয় আরও কতো কিছু...। টিম হর্টন্স রোল আপ প্রমোশনে পুরস্কার দিচ্ছে। কাপের গায়ে খেয়াল করে দেখি কফি টাইমও একই প্রোগ্রামে নেমেছে। আড্ডাহীন কফিপান বড়ো দীর্ঘ আর ক্লান্ত মনে হয়। ঘড়ির কাঁটা আটটা পার হয়ে গেছে। বাকী কফি হাতে বের হয়ে আসি। ঠান্ডা বাতাস। আরও কয়েক চুমুক পরে কফি শেষ হয়। জানি, কিছু পাবো না - টিম হর্টনসের কাপে গত ২ মাসে মাত্র একবার এক্সট্রা কফি পেয়েছি, আজ এটাও বললো - 'স্যরি ট্রাই এগেইন...'। ভি/পি'তে এসে দেখি আটটা বিশের বাস চলে গেছে। আবার আটটা চল্লিশের অপেক্ষা...।

মাইকের কথা লিখেছিলাম আগের কোনো পোস্টে।
সবাই যখন ইনটার্ন নিয়ে চিন্তায় আছে, মাইক তখন সিরিয়ার ফ্লাইট কনফার্ম করেছে। ইন্ট্যারন্যাশনাল মার্কেটিং ক্লাসের প্রথমেই কার প্ল্যান কি জিজ্ঞাসায় সে বলেছিলো - 'আমি সিরিয়ায় কাজ করেছি ৩ বছর, সেখানে আমার গার্লফ্রেন্ড আছে, সে মুসলিম, তার বাবা ক্রেজি, আমার সাথে তার মেয়ের বিয়ে মেনে নিবে না, আমিও তাকে ভুলতে পারবো না, তাই সিরিয়া চলে যাবো, জানি না কপালে কী আছে, তবে আমি যাবোই যাবো।' বৃহস্পতিবারে মাইককে দেখছিলাম আরবী টাইপ শিখতে, আর ওয়েবে সিরিয়ার কোম্পানী সার্চ করতে। জিজ্ঞেস করলাম - সিরিয়া তো যাবা, জান নিয়ে ফিরতে পারবা? মাইকের রক্তহীন চেহারায় অনিশ্চয়তা - 'আই ডোন্ট নো'। জানলাম ফ্লাইট মে মাসের ৪ তারিখে, রাতে। গুড লাক, মাইক মিলানী...।

দীর্ঘদিন পরে, আসলে এই প্রথমবারের মতো তমকোর মেইল পেলাম। আগের অফিসে জাপানীস ক্লাস্টারের কলিগ। আমি যখন থাইল্যান্ড ছাড়ি তখন তমকো ছুটিতে। জেনেছি, দ্বিতীয় বয়ফ্রেন্ডসহ জাপান গেছে, উদ্দেশ্য বিয়ে। গডমাদার, তার কন্যাসমাবেশ এবং সভাসদ গোপনে এ খবরও বের করেছিলো - তমকো ইজ এক্সপেক্টিং। তাই দেখা হয়নি তমকোর সাথে। আগেরবার আসার সময় আমার জন্য আকুতাগাওয়া আর মেইজির ছোটোগল্পের বই নিয়ে এসেছিলো। মনে পড়ে ১ম দিকে আমি যখন কিছু চিনি না, এক ডিপার্টমেন্ট থেকে অন্য ডিপার্টমেন্টে যেতে হারিয়ে যাই, অর্থোপেডিক্সে গিয়ে নিওরোলজি খুঁজি, তখন তমকো হাত ধরে জায়গা মতো পৌঁছে দিতো। কিছু জানতে চাইলে কাগজে সুন্দর করে ডিটেইল লিখে দিতো। প্রায়ই ভাবতাম, এমন গুছানো মানুষ আমি জীবনেও হতে পারবো না। কিংবা কেবল জাপানীরাই এমন হয়...। গত সপ্তায় তমকোর মেইল পেলাম, সংক্ষিপ্ত - "তোমার মেইল পেলাম, আশা করছি ভালো আছো। আমার জীবনের কিছু বড় ঘটনা জানাই। গত জুনে বিয়ে করেছি, অক্টোবরে মা হয়েছি, আর এই ফেব্রুয়ারীতে ডিভোর্স দিয়েছি। ভালো আছি। ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়।" মেইলের সাথে বাচ্চার ছবি। এ ধরণের মেইলের কি রিপ্লাই করতে হয় আমার জানা নেই। লিখি - 'আমি ভালো আছি, পড়ালেখা চলছে, কানাডা ভালো লাগছে। তোমার আপডেট জানলাম, বাচ্চাটা কিউট - তার জন্য আদর আর শুভকামনা রইলো। আমাদের জীবনটা ছোটো, তাই জীবনকে দীর্ঘ করেই বেঁচে থাকো।"

থার্ড পারসন সিংগুলার নম্বর সিনেমার অডিও ট্র্যাক বেরিয়েছে আগে। ন্যান্সির কন্ঠে - 'দ্বিধা' শুনে মাতাল ছিলাম সপ্তাহ কয়েক। কী মায়া জাগানো মিষ্টি কন্ঠ। অপেক্ষায় ছিলাম ন্যান্সির প্রথম সলো ' ফার্স্ট এপিসোড' এর। শেষে পেলাম। এবং হতাশ হলাম। চরম হতাশ। অসাধারণ মিষ্টি কন্ঠের কন্ঠের কী অদ্ভুত অপচয়!
সেই হতাশা কাটিয়ে দিলো অচেনা পারভেজ নামের এক শিল্পী। হৃদয় খান ফিচারিং পারভেজ এর 'পথ' পেলাম আবারজিগস ডট কমে। ভালো লাগার ব্যাখ্যা নেই। প্রয়োজনও নেই। আজ এই ধুসর সন্ধ্যা শেষে মন ছোঁয়ার ক্ষমতা আছে এ গানের -
_

Get this widget | Track details | eSnips Social DNA

_

.
.
.

Read more...

07 April, 2009

ঘুম ভেঙে গেছে মধ্য রাতে

ঘুম ভেঙে গেছে মধ্য রাতে, তীব্র শব্দে। কলিংবেল, ট্রেনের হুইসেল, ঘড়ির এলার্ম কিংবা ফোনের শব্দে। ঠিক করা ছিলো সাড়ে চারটায় উঠবো। এমন তীব্র শব্দে ধড়পড় করে উঠে বসি। জানালার পর্দা সরে আছে। বাইরে শাদা আলো। তুষারে ঢেকে গেছে ব্যাকইয়ার্ড। নরোম আলোর ছটা লেগেছে। উঠে বসে থাকি। টের পাই - ঘড়ির এলার্ম থামার কথা না। তবে? হয়তো ফোন, হু ফোন - এমন বিচ্ছিরি করে বাজলো কেনো অহেতুক? বাতি জ্বালিয়ে দেখি - রাত সাড়ে বারোটা; ঘুমোলাম দুই ঘন্টা, কিংবা আরও কম। আবার বালিশে মাথা গুঁজি। আধো ঘুম আধো জাগরণে - তন্দ্রাভ্রম অথবা দুঃস্বপ্নেরা ভর করে। একদল লোক দরজা ভেঙে ঢুকে যায় আমার ঘরে, হইহই কোলাহলে ভরে যায়। এ কোলাহল শোকের, সন্তাপের, অনাকাঙ্খিত কষ্টের। দৃশ্যপ্লট পালটায় দ্রুত, আমি চিঠি লিখি - মরে গেছে আমার একুশের প্রিয় বন্ধু, আমি চিঠি লিখি বন্ধুর কাছে। গড়াগড়ি দিই, স্বপ্ন নামক দুঃস্বপ্নে। এভাবে আজ ঘুম ভেঙে গেছে মধ্য রাতে। তীব্র শব্দে...কলিংবেল, ট্রেনের হুইসেল, ঘড়ির এলার্ম কিংবা ফোনের শব্দে।

Get this widget | Track details | eSnips Social DNA

.
.

Read more...

04 April, 2009

ধিক্কার এই অসভ্য জীবন বিধানে

ভারতের উত্তর প্রদেশের ইমরানা বিবির কথা এখন কারো মনে আছে কিনা জানি না। তবে ইমরানা বিবিকে আলাপ উঠেছিলো অন্য ব্লগে। মোরশেদ ভাইয়ের পোস্টের সুত্র ধরে দেখেছিলাম প্রবল বিশ্বাসীদের ম্যাৎকার - সবই মিডিয়ার বাড়াবাড়ি, সবই বানোয়াট, বড়ো জোর অপপ্রয়োগ।

শরীয়া আইনে বিশ্বাসীদের ডাকি -
আসুন, আরেকটি বানোয়াট চিত্র দেখে যান।
পাক-ভূমি পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল সোয়াতে গত ফেব্রুয়ারী মাসে শরিয়া আইন জারী হয়েছে। adultery মানে কী? জেনাহ? পরপুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক? সাক্ষাৎ নাকি সঙ্গম? নাকি অন্য কিছু যাকে ব্যভিচার বলা হয়?

হু।
ব্যভিচারের শাস্তি দেয়া হয়েছে ১৭ বছরের এই কিশোরীকে।
মাটিতে শুইয়ে মাথা ও পায়ে চেপে ধরে দোররা মারা হয়েছে।
কান্না কাতর মেয়েটি পোশতু ভাষায় চিৎকার করছে - 'প্লিজ, যথেষ্ঠ হয়েছে, যথেষ্ঠ।'
জানি না, শরীয়া আইনে আসলেই যথেষ্ঠ হয়েছে কিনা, হয়তো হয়নি -কারণ, শেষে দেখলাম সে হেঁটে ফিরে যাচ্ছে।


অভিবাদন সেইসব শাসক,
অভিবাদন সেইসব দর্শক,
অভিবাদন সেইসব শরীয়া সমর্থক।
আসুন, আরেকবার সম্মিলিত আওয়াজ তুলুন - এইসব বানোয়াট, মিডিয়ার বাড়াবাড়ি। টাইমস অনলাইনের এই রিপোর্ট নিছক গল্প।

আর ভিডিওটি?
বলে ফেলুন - সেটাও বানানো। দেখুন এত অত্যাচারের মাঝেও মেয়েটি নড়ছে না, শুধু চিৎকার করছে, এসবই ক্যামেরার কারসাজী। বাংলাদেশে শরীয়া আইনের স্বাপ্নিক তাত্বিক স্কলার - আপনাদের স্কুল অব থট নিয়ে আসুন, বলুন এইসব বানোয়াট কিংবা অপপ্রয়োগ।

__


আমি আমার ক্ষুদ্র সামর্থ্যের মাঝে ধিক্কার জানাই এই অসভ্য জীবন বিধানে।
ঘৃণা-করুণা জানাই এই নষ্ট ব্যবস্থার স্বাপ্নিক ভ্রষ্টদের...



__


দূর্বল চিত্তের 'মানুষ' দেখার আগে একবার ভেবে নিবেন।
ক্ষমা করবেন, এই বিভৎস দৃশ্য দেখতে আপনি যথেষ্ঠ প্রস্তুত নাও হতে পারেন।
ইউটিউবের সৌজন্যে ভিডিও -




.
.
.

Read more...

01 April, 2009

পথ চলতে এইসব মুখ

সোনিয়ার সঙ্গে দেখা অনেক দিন পরে।
এমন ভীড়ের মাঝে সচরাচর কারো দিকে তাকানোর অবসর থাকে না। মোটামুটি দৌড়াতে থাকি। ব্রডভিউ-ক্যাসেলফ্র্যাঙ্ক-শেরবোর্ণ শেষে ব্লোর ইয়াং জাংশন। টিটিসির তিন বারের সিগন্যাল। কখনো ভিডিও গেমসের মতো করে শেষ মুহুর্তে ভেতরে ঢুকতে পারা, কখনো বা থমকানো। এক বিকেলে তাকিয়ে থাকে অসহায় কিশোরী...। এসব ভীড়, এসব কোলাহল, এসব ওভারকম্যুনিকেশন - মাইন্ড দ্য গ্যাপ। কিংবা কখনো মুগ্ধতা জাগানো গিটার, হোটেল ক্যালিফোর্ণিয়া আর ফাইভ হান্ড্রের্ডস মাইল; ইফ ইয়্যু মিস দিজ ট্রেন আয়্যাম অন...। দাঁড়িয়ে যেতে ইচ্ছে করে, মুগ্ধতায় - ক্লান্তিতে কিংবা অবসাদে। কোনো একদিন বিকেল অথবা সন্ধ্যার দিকে - ভেসে আসে লাকী আখন্দ, 'আমায় ডেকো না, ফেরানো যাবে না, ফেরারী পাখিরা কুলায় ফিরে না'। লাকী আখন্দ কি গানের সুর ধার করেছেন, নাকি আমার বিভ্রম? সোনিয়াকে দেখে বিভ্রম জাগে। সকালে ইন্টারভিউ, প্রেজেন্টেশন, ক্লাস শেষে ক্লান্তি নিয়ে ফিরছিলাম। ডানডাস স্টেশনে দেখা সোনিয়ার সঙ্গে। পরে হিসেব করে দেখি ক্যালন্ডারের পাতায় সাত বছর কতো দ্রুত চলে যায়। মাঝে দেখা হয়েছিলো একবার দেশে '০৪ এর দিকে। চোখ পড়তেই আমি বিভ্রমে পড়ি - কারণ, বয়সের ভারে মানুষ ন্যুজ হয়, কিশোরী হয় না। আমার চোখে চশমা উঠেছে তা'ও দু'মাস পার হলো। ভাবি, হয়তো সোনিয়ার মতো কেউ হবে। ভার্সিটিতে আমার এক ব্যাচ সিনিয়র, আপা ডাকি, কীভাবে কীভাবে যেনো বন্ধুতার চক্করে কিছুদিন সে সময়। তারপর তো সবাই নামে কোনো কোনো স্টেশনে। সোনিয়ারা ফ্যামিলিসহ মাইগ্রেট করে '০২ এর প্রথম দিকে। প্রবাসী বন্ধুরা সচরাচর ঈর্ষা জাগায়। বিদেশী বন্ধু-বান্ধবী জুটে। পার্টি হয় উইকেন্ডে, লং ড্রাইভ আর ফিশিং এর গল্প ইয়াহু মেইলের ইনবক্স পেরিয়ে চলে যায় চায়ের কাপে, সিগারেটের ধোঁয়ায়। সোনিয়ার মেইলের রিপ্লাইগুলো, মনে পড়ে, আদনানই রেগুলার করতো...।
আমাকে চিনতে সোনিয়ার কষ্ট হয় না, 'তুমি শিমুল না?' আমি হাসি, বলি - 'না, আমি অন্য কেউ। কেমন আছেন?'
তারপরে নেক্সট ট্রেন ইন থ্রি মিনিটস। সোনিয়া কার এক্সিডেন্ট করে ঘরে ছিলো অনেক মাস, এখন ভালো। আমি বলি - ক্লান্ত হয়ে গেছি সেমিস্টারের শেষভাগে...।
ট্রেন আসে, ভীড়ে দাঁড়িয়ে কথা বলি। আমার কাধের কাছে কান পেতে স্থুলকায়া ভারতীয় কিশোরী আলাপ শুনে। কলেজ-ওয়েলেসলি-ব্লোর। স্টেশনগুলো কাছাকাছি, আমাদের স্মৃতিচারণগুলো তার তিনগুণ প্রলম্বিত। ব্লোর থেকে ইয়াং'এর প্ল্যাটফর্মে যেতে যেতে লাকী আখন্দের গানের সুর ভেসে আসে। এবার আমি নিশ্চিত - এ বিভ্রম।

নির্মল স্যার কলেজে ইকনোমিক জিওগ্রাফী পড়াতো।
চল্লিশ মিনিটের ক্লাসের বিশ মিনিট নানান ক্যাচাল দিয়ে শুরু করে পরের বিশ মিনিটে চ্যাপ্টার শেষ করে দিতো, আর অদ্ভুতভাবে খেয়াল করতাম - ১ম বিশ মিনিটের ক্যাচালগুলো চ্যাপ্টার পুরো মনে রাখার জন্য ফিট। কিন্তু, বিভিন্ন কারণে এই স্যারকে আমার ভালো লাগতো না। শনিবারে ডেন্টোনিয়া পার্ক ক্রস করে আসছিলাম সকালে। পথে দেখা একজন, নির্মল স্যারের মতো। থমকে দাঁড়ালাম। সাথের মহিলার সঙ্গে কথা বলতে বলতে চলে গেলো - গলার আওয়াজ শুনে নির্মল স্যারই মনে হলো। জিজ্ঞেস করলাম না কিছু। কী হবে জিজ্ঞেস করে?
কে-ই বা মনে রাখে কাকে...!

রাত সাড়ে নয়টায় ক্লাস শেষ। ভি/পি'তে এসে দাঁড়াই সোয়া দশটার দিকে। বাস আসতে দেরী হয়। শীত কমে গেলেও ঠান্ডা বাতাস...। ঝিম মেরে দাঁড়িয়ে থাকি। পাশে কথপোকথন -
"কী দরকার ভাই এখানে আনার? যে ছেলে দেশে কিছু করতে পারে সে এখানে এসে মাল টানার দরকার কী? আপনি জানেন- দেশে এখন কতো বেতন দেয়? ব্যাংক মোবাইল কোম্পানিগুলা অনেক অনেক দেয়, পোলাপাইন গুলশানে সব বান্ধবী নিয়া বাফে খায়, এখানে এসে না পারবে ইংরেজি বলতে না পারবে কাজ করতে। ...কিন্তু অনেকেই তো এসে ভালো করে? আরে ভাই কয়জন করে? কী দরকার এই দেশে কষ্ট করার? তাহলে ভাই আপনি দেশে চলে যান। হ, চলেই যামু, ৩০ তারিখে ডকুমেন্ট রেডি হবে, এর পরেই যামু গা। কি নাকি সামার এসে গেছে, ঠান্ডায় কাঁপতেছি। কে থাকে এই দেশে?"

ফার্মাসি বির্ল্ডিং এসে গেলে তারা নেমে যায়, তাদের আলাপ থামে না।

আমি অন্যমনষ্ক হয়ে পেনায়ারে নামতে ভুলে যাই।
ফ্লোরেন্সে নেমে উলটা হাঁটি।
.
.
.

Read more...

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP