30 March, 2009

মুখর বাদর দিনে



মনে পড়ে যায় - ভুলে যাওয়ার দিন
ভুলে যাওয়া ঘ্রাণ,
আজ এই বৃষ্টির দিনে, অহেতুক
নস্টালজিয়াময় বিকেল ও রাত
কিংবা সন্ধ্যায় ঘিরে রাখে তীব্র
মাতাল পারফিউম।
_

"...খোলা পারফিউম, অযথা সুবাস কিছু বাতাসে, ক্লান্তিহীন ছুটছে কিছু বিরতিহীন বাস, চকচকে বীচে বেরসিক বৃষ্টি নাম লিখে গেছে, সন্ধানী হকার খুঁজে বেড়ায়, গাড়ী যাত্রীগুলো কিছু হাসিমুখ, এই সন্ধ্যায় দাঁড়িয়ে আছে কিছু স্বপ্ন বিক্রি করে যারা। জানলো না কিছুতেই ঝুলছে আকাশ ভরা তারা, কিশোরীর হাতে ফুলের সুবাস, ছুঁয়ে দিতে চায় চকচকে গ্লাস; বৃষ্টির ছাঁটে ভেজা পলিথিন, মিরপুর যাবে বিরতিহীন; বিবর্ণ ঠোঁটে সাইনবোর্ড হাসি, বলছে প্রেমিকা তোমায় ভালোবাসি, বিজ্ঞাপন হয় এক্স সুন্দরীম বাসস্টপে আসে ইচ্ছে ঘুড়ি, বিক্রি হয় কতো কমিক কমিক সিরিজ, উদাস বিজ্ঞাপনে কাটে পণ্য পণ্য... এই সন্ধ্যায় দাঁড়িয়ে আছে কিছু স্বপ্ন বিক্রি করে যারা। জানলো না কিছুতেই ঝুলছে আকাশ ভরা তারা। সন্ধ্যায়...জানলো না...আকাশ ভরা তারা..." (বন্ধ জানালা, শিরোনামহীন)
_


Get this widget | Track details | eSnips Social DNA

_

.
.
.

Read more...

21 March, 2009

দুপুর দু'টা চল্লিশ

ইদানিং চমৎকার রোদেলা দিন। চৌধুরী জাফ্রুল্ল্যাহ শরাফত যাকে বলেন - রৌদ্রকরোজ্জ্বল আবহাওয়া। আকাশ আর বাতাসের ভাবগতি দেখে মনে হচ্ছে - তুষার পাতের দিন ফুরালো বোধ হয়। ঠান্ডা বাতাসে কান কেটে দেয় অবস্থা মাঝে মাঝে। ওয়েদার-আই বলছে - আগামী চৌদ্দ দিন শুন্যের উপরেই থাকবে তাপ। আগের মাসের কিছু ছবি দেখছিলাম ল্যাপটপে, ব্যাকইয়ার্ড বরফে ঢাকা। সরে গেছে সব। আবার ঘাসগুলো উঁকিঝুকি দিচ্ছে। পাশের বাড়ীর কুকুরটি অকারণে ছুটোছুটি করছে। যে বাসায় থাকি, মাঝরাতে ল্যাপটপে গান শোনা দায় হয়ে যায়। ভলিউম একেবারে কমিয়ে দিলেও মনে হয় - আশেপাশের তিন বাড়ীর মানুষ অভিযোগ নিয়ে আসবে, এমনই শুনশান নীরবতা। ফোনেও জোরে কথা বলতে অস্বস্তি হয়, তাই - ওপাশ থেকে প্রায়ই শুনি, 'আরেকটু জোরে কথা বলো...'। গত সোমবারে কনরয়ের সামনের বাসার লোকেরা টেবিল নিয়ে বাইরে বসেছে, কফি চুমুক দিচ্ছে, সাউন্ড সিস্টেমে জোরে গান শুনছে। সামার আসার প্রস্তুতি হয়তো শুরু হয়ে গেছে। কেটে যাচ্ছে শুনশান-সংকোচন। এই শুনশান শব্দটা ব্যাপক নস্টালজিয়া জাগানো ব্যাপার। হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসে বিশাল বাড়ি শুনশান থাকে, তিতলী দাদাজানের বাড়ি এসে শাড়ী পড়ে। প্রথম প্রথম ভালো লাগলেও অতি ব্যবহারে পরে বিরক্তি জন্মেছে। তবে কোন সময় শুনশান হলে ভালো সেটা ইন্টারেস্টিং মনে হয়। মনে হয়, কেনো জানি দুপুর দু'টা চল্লিশ - শুনশান নীরবতার জন্য মোক্ষম। দুপুরের ভাত খেয়ে সবাই দম নিচ্ছে। এসময় নানান দৃশ্যকল্প ভেসে ওঠে মনে। কোনো এক নাম না জানা গ্রামের চা'য়ের দোকান। চৈত্রের বাতাসী দুপুর। কেবল পাতা ঝরার, পাতা ওড়ার শব্দ। এর মাঝে টুং টাং বেল দিয়ে চলে যায় রিকশা, কোনো বাড়ীর মেহমান, কিংবা ডাক্তার। এই শব্দ মানুষের নীরবতা ভাঙে, শুনশানে ব্যাঘাত ঘটায়। হঠাৎ থমকে যাওয়া সময়কে আবার ব্যস্ত করে। তবুও কোনো ঘরে, মফস্বল শহরে, উপ-শহরে এরকম নির্ঘুম দুপুর আসে। এক কিশোর এবং আরও দূরে আরেক কিশোরী বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে থাকে। তাদের কোথাও যাবার জায়গা নেই। বালিশের পাশে পড়ে থাকে মাসুদ রানা কিংবা লুকানো সেবা রোমান্টিক। মাথার উপর ফ্যান ঘুরে। মনে হয়, আর কোথাও ঘুরছে না কিছু - এই ফ্যানই জেগে থাকা উপাদান। এমন সব দৃশ্যকে ঘটনা করেছিলো, ইরাজ আহমেদ (সম্ভবতঃ), উপন্যাসের নাম - পদ্মপুকুরের গলি (সম্ভবতঃ), ছাপা হয়েছিল সাপ্তাহিক ২০০০ বা প্রথম আলো'র ঈদ সংখ্যায়, ৯৯ কিংবা ২০০০ সালে, অথবা আরো ২ বছর পরে। চমৎকার শুনশান এক উপন্যাস। লেখকের নাম মনে নেই, উপন্যাসের নামও মনে নেই, কেবল সেই একদল কিশোর, তাদের উঠতি প্রেম এবং প্রেমাকাঙ্ক্ষা, লোহার গেটওয়ালা বাড়ির কিশোরী, যার নাম মনে নেই। এবং ব্যাপক বিষন্ন সমাপ্তি।

এইসব বিগত ভালোলাগা এই রোদেলা দিনে মনে পড়ে। মনে পড়ে দুপুর দু'টা চল্লিশে...
.
.
.

Read more...

18 March, 2009

যোগাযোগ বাহুল্য...

বলা হচ্ছে - আমরা একটি ওভার-কম্যুনিকেটেড পৃথিবীতে বাস করছি। ওভার-কম্যুনিকেটেড মানে কী? প্রয়োজনের অতিরিক্ত যোগাযোগ সমৃদ্ধ? নাকি বাহুল্য? যদি সেটাই হয় তাহলে চারিদিকে এতো কোলাহল এত হইচই যে কারো কথা শোনার সময় কারো নেই, কিংবা একটা কথা যথাযথ জায়গায় পাঠানোর জন্য মাত্রাতিরিক্ত শ্রম এবং সময় দিতে হচ্ছে। তাই কথা বলতে হচ্ছে - বাহারী চমকে। বিজ্ঞাপনের স্লোগানের মতো করে ভালোবাসার কথা বলতে হয়, ঘৃণা কিংবা নিন্দা জানাতে হয় তীব্রতায়। সেখানেও ব্যাপক প্রতিদ্বন্দ্বীতা। ছুটে গেছে কেউ কেউ আগে। ফার্স্ট মুভার এডভান্টেজ কিংবা সেকেন্ড মুভার ডিজএডভান্টেজ এখন নিরেট বাস্তবতা। চাঁদে ১ম কে পা দিলো, ১ম কে আটলান্টিক পাড়ি দিলো, কে ১ম ক্রিকেটে সেঞ্চুরি করলো সব সাধারণ জ্ঞান। কিন্তু, কে ছিলো দ্বিতীয়, তার এবং তাদের হিসেব নেই আর...

ক্রিস্টোফার কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কার করলেও আমেরিকার নাম তার নামানুসারে হয়নি। ইতালিয়ান পরিব্রাজক এমেরিগো, যে কিনা কলম্বাসেরই বন্ধু, অনেক পরে আমেরিকা গিয়েও আমেরিকা আবিষ্কারের কৃতিত্ব নিয়ে নিয়েছে। আগেভাগে ভ্রমণ কাহিনী লিখে, আমেরিকাকে আলাদা মহাদেশ ঘোষণা করে এমেরিগো ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়ে নিয়েছে। স্বর্ণসন্ধানী কলম্বাস মুখ বন্ধ রেখে হারিয়ে গেলো কোথায়! শেষে মারা গিয়েছিলো জেলখানায়। নাকি কলম্বাস কৌশলে হাতিয়ে নিয়েছিলো চায়নিজ এডমির্যাল চ্যাং হো'র কৃতিত্ব?

ওভার-কম্যুনিকেটেড সোসাইটিতে তীব্র কোলাহল-হইচই'এর মাঝে 'কম যোগাযোগই বেশি', এ কথা কি কলম্বাস জেনে গিয়েছিল? নাকি চ্যাং হো? এরও এত বছর পরে, ফেসবুক জানতে চাচ্ছে - 'আমার মনের মধ্যে কী'!

জানতে ইচ্ছে করে ওভার-কম্যুনিকেশন নিয়ে ফেসবুক কী ভাবছে?
.
.

Read more...

09 March, 2009

গল্প: শনিবারে নাজ ম্যারেজ মিডিয়ায় (শেষ)

ফারজানার মনে হয়েছিলো এমন প্রশ্ন করার জন্য সাহস লাগে। রাজনের সেই সাহস আছে। এরপর তারা ক্রমশঃ ঘনিষ্ঠ হয়। তাদের একসাথে দেখা যায় ক্যান্টিনে, লাইব্রেরিতে, ছাত্র সংসদের অফিসে অথবা আরেকটু দূরে পুকুর পাড়ের নির্জনে। কেউ কেউ বলতো, ফারজানা নাজনীনের এ সাহসের পেছনে আসল লোক রাজন। কারণ, সে উপজেলা ভূমি কমিশনারের ছেলে, মোটর সাইকেল চাপিয়ে কলেজে আসে। যখন ইচ্ছা ক্লাস করে, যখন ইচ্ছা করে না, কিন্তু পাশ করে সব পরীক্ষায়। এলাকার ছেলেপেলে ফারজানাকে ঘাঁটানোর সাহস পেতো না এই রাজন এবং তার বাবার ভয়ে। সরকারী অফিসারের ক্ষমতা নিয়ে কম বেশি জানা ছিলো সবারই। অথচ ফারজানা কখনো রাজনের নাম ভাঙায়নি কোথাও। কলেজের বাইরে টং দোকানে চা খাওয়ার সময় কোনো এক ছেলে খারাপ কিছু একটা বলেছিলো, যেটা দোকানের মালিক রুস্তমচাচাও শোনেনি। শুনেছে ফারজানা, আর সাথে সাথে গরম চায়ের কাপ ছুড়ে মেরেছে ঐ ছেলের মুখে। রাজনকে ডাকা লাগেনি। ভয়ে ছেলেটি দৌড়ে পালিয়েছিলো, দেখে কেউ বলেছিলো – ‘খুব ভালো করেছে চায়ের কাপ মেরে’, কেউ বলেছে – ‘এমন দস্যি মেয়ে কোন বাবা জন্ম দিলো’। ফারজানার বাবা বেঁচে ছিলো না তখন। ভাইদের প্রশ্রয়ে নানান কাহিনীর নায়িকা ফারজানাকে এরপর একদিন দেখা যায় উপজেলা ভূমি কমিশনারের ছেলে রাজনের মোটরবাইকের পেছনে বসে কুসুমিয়া কলেজের সামনে দিয়ে কোথাও চলে যাচ্ছে। তার ডান হাত রাজনের কোমর ছুঁয়ে ছিলো। অনেকদিন পর ফারজানার তাই রাজনকে মনে পড়ে সে বিকেলে। ইচ্ছে করে, রাজনের মোটর বাইকে চড়ে কুসুমিয়া থানা কমপ্লেক্সের সামনে গিয়ে থামতে। রাজন মোটরবাইকে বসে থাকবে, ওসি রওশন আরাকে ইচ্ছেমতো শাসিয়ে ফারজানা। এ কাজ সে এখনো ইচ্ছে করলে করতে পারে, ফারজানা জানে, সাহসের কমতি হবে না। কিন্তু এতদিন পরে ঝামেলায় জড়াতে ইচ্ছে করে না। তাই পুরনো রোমান্টিসিজম ভর করে মনে, যেখানে রাজন আর তার মোটরবাইক সঙ্গী হয়ে উঠে। রাজনের উপর পুরনো অভিমান আবার জেগে উঠে – একটা মানুষ চলে যাওয়ার পর একবারও খবর নিলো না! রাজন এখন কোথায় আছে কী করছে কিছুই জানা নেই। কেবল জেনেছিলো পাঁচ বছর আগে, ‘আব্বা বদলী হয়ে যাচ্ছে। আমরা চলে যাবো ত্রিশ তারিখে।’ এসব ভেবে ভেবে ফারজানা দীর্ঘশ্বাস ফেলে।

সেই শনিবারের পরে আরো দুই শনিবার চলে যায়। রওশন আরার জন্য পাত্র পাওয়া যায় না। নাজ ম্যারেজ মিডিয়া চালু হওয়ার আগে যেসব বেকার বৃদ্ধ ঘটকালী ব্যবসায় ছাতা হাতে ছুটতো তাদের কাছে ধর্না দেয় মাসুদ চাচা, বলে - যদি তেমন পাত্র থাকে। কিন্তু পাত্রীর নাম পরিচয় গোপন রাখে ফারজানার পরামর্শে। সেসব পুরনো ঘটকদের কেউ কেউ অবাক হয়, নাজ ম্যারেজ মিডিয়ার ম্যানেজার এসে তাদের কাছে পাত্র খুঁজছে। অথচ গত দু’বছরে তাদের সব ব্যবসা কেড়ে নিয়েছে এই ফারজানা নাজনীন। মুখে না বললেও সবাই বুঝে, এখানে ধমক ছিলো না একেবারে, যা ছিলো তার পুরোটাই নিছক চমক। উদ্যমী, সাহসী, স্পষ্টভাষী ফারজানার কথায় প্যাঁচ নেই। পাত্র কিংবা পাত্রী পক্ষের তথ্য গোপনের চেষ্টা নেই। আর মানুষ যখন ক্রমশঃ আধুনিক হচ্ছে, মোবাইল ফোনে কথা বলছে, ঘরে চৌদ্দ ইঞ্চি কংকা রঙিণ টিভি দেখছে, তখন জীর্ণ শীর্ণ বুড়ো পানখেকো বুড়ো ঘটক নয়, ফি দিয়ে ফাইলে নাম লেখানো সিস্টেমে নাজ ম্যারেজ মিডিয়ায় গিয়ে ফারজানার সাথে আলাপ করা যায়, ঠান্ডা ফ্যানের বাতাসে বসে স্প্রাইটের বোতলে মুখ লাগিয়ে এলবামে রাখা পাত্র-পাত্রীর রঙিণ ছবি দেখা যায়। এতোসব হাঁকডাকের মধ্যে ফারজানা মোবাইলে নানান নম্বর টিপে, কিন্তু কোথাও ত্রিশোর্ধ্ব অবিবাহিত সরকারী চাকুরীজীবি অথবা ব্যবসায়ী পাত্র পাওয়া যায় না। শেষে ফারজানা নিজেই ফোন করে ওসি রওশন আরাকে। মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় রওশন আরা ফারজানাকে পরে ফোন করবে জানায়, কিন্তু ফোন করে না। আরো তিন চারদিন পর এক দুপুরে রওশন আরা হাজির হয় নাজ ম্যারেজ মিডিয়ার অফিসে। তখন সেখানে পাত্র পাত্রীর সন্ধানে আসা জনা চারেক লোক ছিলো, মাসুদ চাচা ছিলো। ওসির আচমকা আগমনে উপস্থিত লোকেরা খানিক সংকোচিত হলে তাদের ভীত হওয়ার সুযোগ না দিয়ে রওশন আরা বলে,
‘আপনারা সবাই একটু বাইরে যান, ফারজানা ম্যাডামের সাথে আমার প্রাইভেট আলাপ আছে।’
শুরুতেই ‘ঠান্ডা কিছু খাবেন’ প্রশ্ন করে আলাপ জমাতে চাইলেও ফারজানার অস্বস্তি কমে না, বরং বাড়তে থাকে যখন রওশন আরা বলে – ‘কিছু খাবো না, আমার ব্যাপারটার কদ্দুর কী করলেন?’ ফারজানা সহজ হওয়ার চেষ্টা করে, হাসিমুখে বলে – ‘আসলে বুঝেন তো আমাদের ছোট মফস্বল। আপনার মতো উঁচু মানুষের জন্য পাত্র পাওয়া সহজ না মোটেও...।’ এরপর ফারজানা আরো কিছু বলতে চায়, পারেনা। কারণ, রওশন আরা ফারজানাকে ইশারায় থামিয়ে বলে, ‘আপনাদের এই ম্যারেজ মিডিয়ার নামে তো থানায় অনেক কমপ্লেইন।’
ফারজানা থতমত খায়, ‘কী রকম?’
রওশন আরা টেবিলে আঙুলের টোকা মারে। ঠুক ঠুক করে বলে, ‘অভিযোগ আর কি? প্রতারণা...। বিয়ে শাদীর নাম করে আপনারা লোক ঠকান। টাকা দাবী করেন। এইসব।’
ফারজানা এবার সাহসী হয়, ‘অভিযোগের বিবরণ কি আমি জানতে পারি? প্রয়োজন হলে আপনার অফিসেও যেতে পারি।’
রওশন আরা চেয়ার ছেড়ে উঠে, বলে - ‘থানায় যেতে হবে না। একটু সতর্ক থাকেন কাজে কর্মে, তাতেই চলবে।’
নাজ ম্যারেজ মিডিয়ার অফিসে ওসি রওশন আরা আসার এবং চলে যাওয়ার এ দৃশ্য দেখে অনেকেই। কেউ কেউ এর কারণ খুঁজে। সেরকমই একজন পঞ্চাশোর্ধ্ব বিগত বাম বিপ্লবী চিরকুমার বিল্টুকাকা আসে ফারজানার অফিসে, ‘কি ফারজানা! পুলিশ আসলো তোমার অফিসে? বিয়েশাদী করতে চায় নাকি?’
ফারজানা হাসি দেয়, ‘হ্যাঁ বিল্টু্কাকা – ঠিক ধরেছেন, ঐ ওসিকে আপনি বিয়ে করবেন?’
বিল্টুকাকা টেবিলে মাথা ঝোঁকায়, ‘তুমি আমার জন্য ঘুষখোর পাত্রী পছন্দ করলা?’
এরপর দুজনেই শব্দ করে হাসে। সামনের টেবিলে বসা মাসুদ চাচা হাসে। ফারজানা বলে, ‘বিল্টুকাকার জন্য চা নিয়ে আসেন চাচা’।

এ ঘটনার পরে আরো মাস চলে যায়। নাজ ম্যারেজ মিডিয়া আগের মতোই সরগরম থাকে। ওসি রওশন আরা আর আসেনি, ফোনও করেনি। একদিন খবর আসে ওসি রওশন আরা বদলী হয়ে গেছে জেলা পুলিশ সদর দপ্তরে। উপজেলা অডিটোরিয়ামে তাকে বিদায় সম্বর্ধনা দেয়া হয়েছে, এমন খবরও ফারজানার কানে আসে।

এরপর অন্য এক শনিবারে দুপুর এবং বিকেলের মাঝামাঝি সময়ে নাজ ম্যারেজ মিডিয়ার অফিসে কাজে মগ্ন ফারজানার মনোযোগ ভাঙে ‘নাজ, আপনার হাতে ভালো পাত্রী আছে’ প্রশ্নে। ফারজানা চোখ তুলে তাকায়।
সামনে চেয়ারে বসা ইউনিফর্ম পরা রাজন আহমেদ, কুসুমিয়া থানার নতুন ওসি।
__

(সমাপ্ত)

.
.
.

Read more...

06 March, 2009

মধ্য রাতের নেটনামচা

দীর্ঘ ক্লান্তিময় অথচ বিরক্তিহীন সময় পার করছি। মাঝে মাঝে মনে হয় কিছু ভালো লাগছে না। অথচ খারাপ লাগার কিছু নেই। মাঝে মাঝে এভাবে সীমা টানা কষ্টকর হয়ে যায়। এইসব বোধ কাজ করে না। একেকটা বৃহস্পতিবার কাটছে কতো দ্রুত, আবার ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টাচ্ছে ধীরে, বাইরে বরফ গলবে গলবে করেও গলছে না। ক্যালেন্ডারে টুকিটাকি নোট রেখে ভর্তি। আলস্য, ব্যস্ততা, সীমাবদ্ধতা সব পেরিয়ে খেয়াল করছি মোটামুটি সব ডেডলাইন ধরতে পারছি। মৃতরেখায় পৌঁছায় না কেউ কেউ। তাহলে করছিটা কী? এ প্রশ্নের উত্তর কঠিন মনে হয়। বলার মতো কিছু নেই। কিছুই করছি না। ভালো বই পড়ছি না, মুভি দেখছি না, ব্লগিং করছি না, কমেন্ট করছি না, গল্প লিখছি না, এমনকি নিয়ম করে পেপারও পড়ছি না। এরপরেও করার তালিকার কমতি নেই। কহতব্য কিছু নেই, হয়তো ওসব আমি নিজের জন্য করি না, ভালো লাগার জন্য করি না, করতে হয় বলেই করি। অথবা আমাকে বেঁচে থাকতে হলে এইসব করতে হবে। এভাবেই চলতে হবে। আমার তাই ঘুম পায়। গ্রীণউড, কক্সওয়েল, উডবাইনের পরে আমার ঘুম পায়। মেইনস্ট্রীট স্টেশন পেরুলে আমি ভারী ব্যাগ কাঁধে তুলি। তারপর বাসায় ফিরি। বাসায় ফিরলে আবার কাজের তালিকায় চোখ বুলাই। কোনটা আগে কোনটা পরে এসব ভেবে ভেবে মাঝরাত হয়ে যায়। ভেবে দেখলাম, প্রতিদিন যাদের সাথে কথা হয় বাংলা ভাষায়, তাদের বেশিরভাগ অনলাইনে। সাইবার সমাজের নাগরিক আমরা। এরকম কতো আগে কবে কীভাবে এসব ভার্চুয়ালিতে ডুব দিলাম, ভেবে শংকা হয় - আসল সোশ্যাল বেষ্টনীতে খুব অপাংক্তেয় হয়ে যাবো হয়তো, কিংবা হয়ে গেছি। যাচ্ছি ক্রমশঃ। অনেক সময় খুব গন্ডিবদ্ধ মনে হয় নিজেকে , এইসব সীমাবদ্ধতা নিয়ে বেঁচে থাকি প্রতিদিন। পিলখানা ট্র্যাজেডিতে বিমর্ষ হই, হতবাক হই। কী-ই বা করার থাকে। কোথাও খেলারাম খেলে যাচ্ছে, কে যেনো জোর করে বসিয়ে দিয়েছে গ্যালারীতে। দর্শক হয়ে আছি এইসব সাজানো প্লটের। নাম মনে নেই, একই স্কুলে আন্ডারগ্রেডে পড়ে, ছেলেটির সাথে পরিচয় হয়েছিল আরও মাস কয়েক আগের। স্বদেশী সারল্যে ভরপুর, প্রবল উৎসাহ পরায়ণ। মনে হয় সারাক্ষণ দেশ নিয়ে ভাবে। মায়ানমার সমুদ্রপথে আক্রমণ করলে চায়না আসবে নাকি ভারত আসবে তা নিয়ে ভাবে। আমাকে জিজ্ঞেস করে, আমার কাছে এসব প্রশ্নের উত্তর কঠিন মনে হয়। এরপর আরও অনেকদিন দেখা হয়ে যায়, চলতি সিঁড়িতে, ব্যস্ত করিডোরে কিংবা ডানডাস স্টেশনে, বন্ধুদের সাথে হই-হল্লা করে বাসায় ফিরছে রাতের ট্রেনে। আমি মুখ বুঁজে আছি শ্যন ওয়াইজের 'ওয়াইজ ওয়ার্ডস'। ' দ্য ফার্স্ট মিটিং উইথ ইউর ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট ইজ লাইক দ্য ফার্স্ট ডেট। গেট ড্রাঙ্ক এন্ড সি হাও হি/শী বিহেভস।' রুল সেভেন্টিন। সন্ধ্যা ছয়টায় ক্লাস, সাড়ে পাঁচটায় প্রিন্ট আউট নিতে হবে। নির্ঘুম চোখ নিয়ে দৌড়ে যেতেই দেখে অসহায়ভাবে ছেলেটি বসে আছে। হাত তুলে সালাম দেয়। হয়তো দেশের বড়ো ভাই ফ্যাক্টর কাজ করে, আমি মানিনা এসব। ডেকে বলে, মন ভালো নেই। দেশটার কী হয়ে যাচ্ছে এসব। ইনভেস্টমেন্ট কমে যাবে, ইমেজ খারাপ হবে। আমি হু হ্যা করি, বলি - আসলেই হতাশার ব্যাপার, কিন্তু - আমাদের কন্ট্রোলের বাইরে। তাকে বুঝাই দর্শক হয়ে আছি। আমার মনে হয় সে হতাশ হয়। আমার দৃশ্যমান নির্লিপ্ততা আলাপ থামিয়ে দেয়। অবশ্য এসব আলাপে অন্য পক্ষের মনোভাব বুঝে গেলে আমি চুপ হয়ে যাই অথবা তীব্র রিভার্স খেলি। সাবেক সম্ভবনাময় যুবরাজের ফ্যান মিল্টন তাই এমএসএনে আমার সাথে আলাপে আগ্রহী হয় না। আজ বাংলাদেশ সময় রাত দুটায় তাকে অনলাইনে দেখে জিজ্ঞেস করি, কী হয়েছে, তার মন খারাপ, দেশের জন্য মন ভালো নেই। আমি বলি, আসলে সব দোষ ইন্ডীয়ার। মিল্টন টের পায়, সে আমাকে পলিটিক্সের দোহাই দেয়, আমি পালটা দোহাই দিই, বলি - 'দেশের কথা ভাবি'। তারপর সে আমাকে যাবতীয় অনিশ্চয়তার কথা বলে, এসবই ভারতের পরিকল্পিত। বর্ডার খুলে দিয়েছে, ঢাকা শহরে এখন ইন্ডিয়ান ছিনতাইকারী ভরপুর, সে রাত দশটার আগে ঘরে ফিরে, মোবাইল নিতে ভয় পায়। আমি আরও উস্কে দিই, চুকচুক করি। মিল্টন কনফিউজড হয়। আবার আওয়ামি-বিয়েনপি সীমারেখা টানতে চায়। আমি ঈশ্বরের দোহাই দিই, রাজনীতি দূরে রাখতে বলি। বলি - খালেদা কি মনে করে, সরকার পতনের আন্দোলন কি করা উচিত? তার মতে এখন না। আমি একজন ব্লাইন্ড বিয়েনপি সাপোর্টারের সাথে কথা বলি, হয়তো সে আরাম পায়, আমার স্বভাবে বাঁক দেখে। পাকিস্তানে শ্রী লংকার ক্রিকেটারদের উপর হামলার কথা আসে, আমি একে ভারত আর আওয়ামি লীগের সাথে যুক্ত করি, বলি - এসব পরিকল্পিত। মিল্টনের আগ্রহ বাড়ে। এভাবে সময় যায় এম এস এনে। বাংলাদেশে তখন রাত তিনটা। জিজ্ঞেস করি, এত রাত জাগার কারণ কি? ব্যক্তিগত নাকি রাষ্ট্রিক? মিল্টন বলে, দেশের জন্য দুঃশ্চিন্তা। এবার আমি সমাধান দিই, এভাবে ঘুম নষ্ট করে লাভ নেই, বরং ম্যানিফেস্টো করা যায়, দাবী নিয়ে মাঠে নামা যায়, দেশের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়ার ষড়যন্ত্র রুখে দেয়া যায়, প্রয়োজনে গায়ে আগুন ঢেলে দেয়া যায়। এটুকু বলা বেশি হয়ে যায়, আমি কেনো প্রবাসে সে প্রশ্ন আসে। কাটকাট বলে ফেলি, আমি সেলফিস, আম দেশের জন্য রাত জাগি না। তবে প্রয়োজনে তার ম্যানিফেস্টো তৈরিতে সহায়তা করবো। প্রফেসর টিম ম্যাকলারেন তখন সাপ্লাই চেইন ডিমান্ড ফোরকাস্টিং'এর চ্যাপ্টার শেষ করেছে। আমার সামনের বেঞ্চের মার্সাল এক্সেল শীটে তুলে নিয়েছে সব, তার সামনের ক্রিস্টি বইয়ের পাতায় হাইলাইটারে দাগিয়েছে সব। আমি দর্শক হয়ে আছি। বাইরে বাতাসটা সহনীয় ইদানিং। নিঃশ্বাসে আরাম আছে, আজ মাইনাস টু ছিলো, আগামীকাল প্লাস বারো হবে। গত সপ্তার মাইনাস সাতাশের পরে এ বোধ বড়ো আরামের, বড়ো স্বস্তির। এই উইন্টার প্রলম্বিত হলে আমি ক্লান্ত হবো আরো, আমি স্থূল হবো শরীরে-মননে। 'অথবা গল্পহীন সময়' নিয়ে টুকটাক পাঠক প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে। এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি পেলাম বইয়ের আকার ছোটো দেখতে কিউট। সেই গুণ বিচারীর আগে দর্শনধারী তত্ত্ব চলে আসে আবার। প্রফেসর পলও এই কথা বলছিলো গত রোববারে। কিছু এসাইনমেন্ট ফেরত নিতে এসেছিলো আমার বাসায়। বাড়ীওলার আতিথেয়তায় নাশতার টেবিলে আলাপ জমে। বুঝায়, এইসব এমবিএ ফ্যাম্বিয়ে করে আসলে চাকরি হয় না। বেকারের সাথে কেউ নেটওয়ার্কিং করে না। আমার সহকর্মী ভ্যালেরির কথা আসে, আর যা-ই হোক দেখার গুণে সে চাকরির বাজারে এগিয়ে যাবে। দু'দিন পরে পরীক্ষায় ইনিভিজিলেশন ডিউটি ছিলো। পুরনো নিয়মে আমি পেছনে দাঁড়িয়ে থাকি। ন্যাশনাল পোস্টের ফাইন্যান্স পাতায় দেখি ক্রাইজলারের ভায়াবিলিটি প্ল্যান নিয়ে জ্ঞান। তখন আরেক মিল্টনকে মনে পড়ে। মিল্টন বিশ্বাস আমাদের বাংলা পড়াতো সেকেন্ড ইয়ারে, লালসালু। হয়তো বয়সে তরুণ ছিলো বলে, কিংবা আমাদের প্রত্যাশা সেরকম ছিলো বলে, মিল্টন বিশ্বাস নানান ইংগিতপূর্ণ কথায় ক্লাস জমিয়ে তুলতো - 'এই, এই- এই ছেলে, আমি তোমাকে কাল দেখছি, তুমি কাল গেটে দাঁড়িয়ে রিকশা চড়ে যাওয়া মেয়েদের দেখছিলা।' ক্লাসে হাসির রোল উঠে। 'এই, তোমরা কি দেখ? মেয়েদের কাঁধ ঘাঁড় দেখো?' আবার 'ছিঃ ছিঃ' কলরবে তবলা স্যারের ক্লাসের রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। 'একবার কি হয়েছে শোনো, এইচ এস সি পরীক্ষায় ডিউটি পড়লো, আইডিয়াল গার্লসে, ঐসব রুমে আবার বসার চেয়ার নাই, ভাবলাম কী করবো, মেয়েদের ফরসা ফরসা ঘাড় গলা দেখে সময় কাটাবো, ওহ! গিয়ে দেখি মেয়েরা আরও চালাক, সবাই স্কার্ফ পরে এসেছে।' ক্লাসে আবার ছিঃ ছিঃ রোল উঠে। আমরা সবাই টের পাই আমাদের আর ক্লান্তি লাগে না। প্রমীলা ম্যাডামের চেয়ে মিল্টন বিশ্বাসকে ভালো মাস্টার বলে মনে হয়। ১১ বছর পরে মঙ্গলবারে এসব যখন ভাবছিলাম তখন পল এক প্যানিক ছাত্রীর পাশে গিয়ে বসেছে, প্রশ্ন বুঝিয়ে দিচ্ছে। আমি অকারণে এদিক থেকে ওদিকে হাঁটি। কাজের তালিকা করি হাতের কড়ে গুনে গুনে। আমি জানি এসব দিন শেষ হবে, কতো পুড়ে ফেলা ডায়েরিতে লিখেছিলাম দিনগোণা বড়ো বোকামি। তাই দিন গুনি না। ইচ্ছে করে না। এই ক্লান্তি ভালো লাগে। তাই বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করে না। অলটারনেটিভ থাকে মৃত্যুর। আপত্তি নেই। বিশাল মোহে পড়ার আগে, এই পৃথিবীর চোরকাঁটায় জড়ানোর আগে বিদেয় নেয়া যায়। অথচ জানি, ঘরে ফিরতে হবে। অপেক্ষার খেরোখাতা ফেলে দিয়েছি আগে। জেনে গেছি, মৃত্যুর জন্য ছাড়া পৃথিবীর সব অপেক্ষা বিরক্তিকর। তাহলে শেষে এ সিদ্ধান্তে যাওয়া যায় - এসবই সাময়িক। ইদানিং খুব টের পাচ্ছি, পালটে যাচ্ছে চারপাশ। সোশ্যাল এলিমেন্ট। যা কিছু পাল্টানোর কথা ছিলো, তা তো পাল্টাবেই, কী এসে যায় একগুঁয়েমি করে কী সব দর্শনে বসে থেকে?
__

Get this widget | Track details | eSnips Social DNA


.
.
.

Read more...

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP