29 November, 2008

এবং গান

Get this widget | Track details | eSnips Social DNA

লাকী আখন্দের 'আজ আছি কাল নেই, অভিযোগ রেখো না'

___

Get this widget | Track details | eSnips Social DNA


সম্ভবত পাঞ্জাবী ভাষার গান, বুঝি না কী বলে, তবে ভালো লাগে

___

Get this widget | Track details | eSnips Social DNA


শিল্পীর নাম আসিফ-মুন্নী। রুচিশীল শ্রোতার কাছে ভ্রু কুঁচকানো গান।

Read more...

24 November, 2008

বরফ মোড়ানো দিনে চিরায়ত অবিশ্বাস

বুধবার থেকে বরফে ঢাকছে সারা শহর। ঘুম থেকে উঠতে ইচ্ছে করে না। সকাল মানেই হুলস্থুল, হুড়োহুড়ি। আধ মগ চা''য়ে আধা চুমুক দিয়ে, শীতের ভারী কাপড় গায়ে চাপিয়ে, ক্যালেন্ডার চেক করে বই খাতা ব্যাগে ভরতে সোয়া আটটা পার। দরজা লক করে সামনে তাকাতেই দেখি আটটা তেইশের বাস চলে গেলো মাত্র। আবার পনেরো মিনিট অপেক্ষা...। কালকে আর দেরী করবো না, এ বাস ধরতেই হবে ভেবে ভেবে ঠান্ডা বাতাসে দাঁড়িয়ে থাকি। নাক মুখ দিয়ে ধোঁয়া বের হয়।
ম্যাকগাইভারকে মনে পড়ে...।

ঝামেলা লেগে আছে প্রথম দিন থেকে। আসার দিন এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন শেষে স্টাডি পারমিট পেয়েছিলাম সহজে। সহজে বলতে - লাইনে অপেক্ষা করা লাগেনি বেশি, উটকো প্রশ্ন করে বিব্রত করেনি। দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি শেষে ঐ পারমিট পেয়ে ভাজ করে পাসপোর্টে রেখেছিলাম সযত্নে। পরে দেখেছি, ভেতরে ঘাপলা আছে। সুন্দর করে লেখা আছে, অথরাইজেশন ছাড়া পার্ট টাইম - ফুল টাইম কোথাও কাজ করার অনুমতি নেই। এই জিনিস কেনো লিখে কার জন্য লিখে তার কোনো ঠিকঠিকানা নেই। কাউকে দেয়, কাউকে দেয় না। ইচ্ছেমতোন ব্যাপার-সেপার। ধারণা করা হয়, ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট সুযোগ পেলে অন-ক্যাম্পাস কাজ করবে। পেলামও সেটা। কিন্তু, অনুমতি নিয়ে ঝামেলা রয়ে গেলো। সোশ্যাল আইডেন্টিফিকেশনের কাগজ আনতে স্পেশাল অনুমতি লাগতে পারে, বিগত ভুক্তভোগীরা এমনটাই জানালো। অনেক চক্কর দিলাম, তবে শেষে জানা গেলো - এখন নিয়ম শিথিল, ঐ কথা লেখা থাকলেও সমস্যা নেই, অনুমতি পাওয়া যাবে। এবং গেলো। তবে - আমার নানান ভুলে এবং এইচ আরের বিচিত্র ছুতোয় পেমেন্টে ঝামেলা থাকছে। শেষ নেই ঝামেলার, কতোই আর বোঝাপড়া করা যায়। 'শিখছি দিবা রাত্র'।

অবশেষে পাকি চক্করেঃ
পাকি'প্রজাতির সাথে মেলামেশার দূর্ভাগ্য আগে হয়নি। টুকটাক সম্ভবনায় সযতনে এড়িয়ে গেছি। এবার তিনটা কোর্সে গ্রুপ মেম্বার পড়লো পাকি। কিছু করার নাই, র‌্যান্ডমলি সিলেক্ট করা হয়। সচলে ঐ সময় কী বোর্ড ঝড়, বিষয় - পাকিদের সাথে অবস্থান-ঘৃণা নাকি সহানুভূতি নাকি কনটেক্সট বিচার। অনেক কিছু পড়লাম, অনেক কিছু বুঝার চেষ্টা করলাম, বেলুচ সৈয়দের কাহিনীও জানলাম। আর ভাবলাম, কে জানে এবার আমি হয়তো নিজের 'গোয়ার্তুমি' থেকে বেরিয়ে আসবো। পাকিদের আলাদা আলাদা করে বিচার করবো। আমার সহপাঠী আমিনা মালিক (আটলান্টিক পেরিয়ে নামের প্রথম অংশ 'আম্ন্যা' হয়ে গেছে), আমের আব্দুল্লাহ কিংবা ফ্যাসাল (আসলে 'ফয়সাল') মুমতাজদের কাছে থেকে চিনে নেবো। ক্ষতি কী যদি নতুনভাবে ভাবার কিছু সুযোগ পাই। তাই চুপ থাকি যখন আমের পাঞ্জাব আব্দুল্লাহ পরিচয়ের শুরুতেই আমি রোজা আছি কিনা, ও পরে আমাকে তারাবীর নামাজের জন্য ভালো মসজিদের সন্ধান দিতে চায়। বলি, এ শহরে আমার বন্ধু-বান্ধব যে একেবারেই নেই তা কিন্তু নয়। কোথায় কী আছে সে-ই ওরিয়েন্টেশন আমার হয়ে গেছে। অথবা আমি থাই খাবারের ফ্যান শুনে আম্ন্যা যখন আমাকে বলে - 'থাই ফুড হালাল না। ফিশ স্যুপ কিংবা ভ্যাজিটেবল খেলেও ইনগ্রিডিয়েন্ট নিয়ে সন্দেহ থেকে যায়।' তখন কড়া কথা না বলে প্রবাস জীবনে এত ক্ষুদ্রাক্ষুদ্র ব্যাপারে আমার উদাসীনতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছি। বড়জোর বলেছি, 'দ্যাখো, এসব নিয়ে আমার সমস্যা নাই'। এরপরে আর কথা বাড়ায়নি - কারণ, আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম 'ওরিয়েন্টেশনের ২য় দিন লাঞ্চে পিজা খেয়েছো সেটা কি হালাল ছিলো'? তখন সে বলে, আসলে বাইরের ব্যাপারগুলো যতটা পারে এভয়েড করে, কিন্তু ঘরে তার হাজব্যান্ড এবং সে এসব ব্যাপারে খুব সতর্ক। আমের আবদুল্লাহ তখন হে হে করে হাসে। এই হাসিতে আমার মনে পড়ে - আমার দাদীর কাছে, নানীর কাছে এখনো ৭১এর হানাদার মানে পাঞ্জাবী। পাকি সৈন্য মানে পাঞ্জাবী। আমার খুব সহজ হিসাব - এ আমের আব্দুল্লার পূর্ব পুরুষ এসে আমার পূর্ব পুরুষের ঘর জ্বালিয়ে গেছে, মানুষ মেরে গেছে নির্বিচারে। তার এই হে হে হাসিতে আমি পিশাচের শব্দ ছাড়া কিছু পাই না। কিন্তু, তখন আমি চুপ থাকি। অধুনা ডাইভার্সিটি ম্যানেজমেন্টের ছাত্র হয়ে আমি শেখার চেষ্টা করছি অনেক কিছু। তাই তীব্র আবেগ তখন চেপে রাখি। সে তুলনায় আমেরিকায় বড় হওয়া ফেস্যালকে মান সম্মত মনে হয়। অন্ততঃ আচরণে সমস্যা নেই। শেষে তাদেরকে মনে না নিলেও মেনে নিই।
এ মাঝে আরেক পাকির খপ্পরে পড়লাম। তার নাম দিলাম 'তর্তাজা বাটপার'।

তর্তাজা কাহিনীঃ
বিজনেস স্কুলের অনেক ইতং বিতং আছে। মুখের কথায় বেচাকেনা করতে হবে। আর ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টরা লোকালদের তুলনায় এদিকে একটু পেছানো। কম্যুনিকেশন ডেভেলপমেন্ট ও নেটওয়ার্ক বিল্ডিং প্রোগ্রামে বিদেশী ছাত্রদের একজন করে সুপারভাইজর দেয়া হয়। পড়ালেখার কিছু নেই। এটার মূল কাজ হলো, ভিনদেশী ছাত্র যারা এই কালচারে একেবারে নতুন তাদের লোকাল বিজনেজ কম্যুনিটির সাথে পরিচয় করানো। নানান লোকাল ইভেন্টে পাঠানো, লোকজনের সাথে পরিচয় বাড়ানো। এবং এসব করে করে বাজার চাহিদার সাথে নিজেকে চাল্লু করা। খুব ইন্টারেস্টিং মনে হলো। অন্ততঃ আমার জন্য তো উপকারী বিষয় বটেই। প্রথম একটু ধাক্কা খেলাম যখন জানলাম আমার সুপারভাইজরের নাম তর্তাজাবাটপার ফ্রম পাকিস্তান।
এসিস্টেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর অভয় দিলো, সমস্যার কিছু নেই, সে খুব ভালো লোক।
ভাবলাম, ক্ষতি কি যদি একজন ভালো পাকির দেখা পাই ভবে...।

কথা অনুযায়ী মেইল করলাম, বললাম - তোমার সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে, তোমার অফিস আওয়ার জানাও।
রিপ্লাই আসে না।
৮ দিনের দিন দেখা এসিস্টেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টরের সাথে, নিজ থেকে জিজ্ঞেস করলো সুপারভাইজর কেমন? বললাম, সে তো আমার মেইলের রিপ্লাই করে নাই। এসিস্টেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর বললো, ঠিক আছে আমি দেখছি।
কী হলো জানি না, সে রাতেই মেইল পেলাম, তর্তাজা লিখেছে - শুক্রবার আফটারনুনে দেখা করো।
শুক্রবার সোয়া ১২টায় গেলাম। আমাকে দেখেই রুম থেকে বেরিয়ে এলো - 'তুমি এখন কেনো এসেছো? আমি তো এখন ব্যস্ত। আমি এখন দুপুরের খাবার খাবো, অনেক কাজ।'
ক্ষ্যাপা আচরণ।
বললাম, 'আমাকে মেইলে বলেছ আফটারনুনে আসতে। তাই আসলাম। তাহলে বলো আমি কখন আসবো?'
'চারটায় আসো'।
কী আর করা, অপেক্ষা করি। আর ভাবি, আমাকে প্রথম দেখায় এই হারামি চিনলো কীভাবে? উত্তরটা খুজে পেতে দেরি হয়নি। স্টুডেন্ট প্রোফাইল চেক করা কঠিন কিছু না।
চারটায় আবার গেলাম। রুমে বসতে বললো।
বাংলাদেশে কোথায় ছিলাম, কী করতাম এসব জেনে জিজ্ঞেস করলো - বাংলা বলি কিনা। (আরে হারামি, বাংলা বলবো না তো কী বলবো? উর্দু/হিন্দি?)
এরপরে সে 'আমার সোনার বাংলা' বলার চেষ্টা করলো। বুঝলাম, প্রিপারেশন ভালো নিয়েছে, আমাকে ভড়কানোর চেষ্টা করছে। এটা একেবারে নিশ্চিত হলাম যখন জিজ্ঞেস করলো - মনিকা আলীর নাম শুনেছ?
বললাম, 'হু, ব্রিক লেন লিখেছে'।
'পড়েছ?'
'না'।
'অবশ্যই পড়বা। লিখে রাখো, এটা কিনতে হবে - যদিও তুমি মনিকাকে পছন্দ করবা না।'
জিজ্ঞেস করলাম, 'কেন? মনিকাকে কেনো পছন্দ করব না?'
'যে কারণে তোমরা তসলিমাকে পছন্দ করো না...'
কী আজব! জিজ্ঞেস করলাম 'তোমাকে কে বলছে, আমি তসলিমাকে পছন্দ করি না?'
তর্তাজা আকাশ থেকে পড়লো, 'তুমি তসলিমার লেখা পছন্দ করো? লেজ্জা পড়েছো?'
বললাম পড়েছি।
এরপরে সে আরামবোধ করলো না, 'ওকে, এ প্রসংগ বাদ দাও'।
এবার শুরু করলো আমার কী কী করতে হবে, প্রতিদিন ১টা করে বিজনেস নিউজ এনালাইসিস, ৫০০ শব্দের মধ্যে। প্রতি উইকেন্ডে লোকাল কম্যুনিটি লাইব্রেরিতে গিয়ে যা যা প্রোগ্রাম হয় ওগুলো এটেন্ড করতে হবে, সেটা নিয়ে রিপোর্ট লিখতে হবে। সাথে বললো 'পত্রিকা হার্ড কপি সাবস্ক্রাইব করবা, লেখার সাথে পেপার ক্লিপ দিবা, ইন্টারনেট থেকে প্রিন্ট আউট নিলে তুমি সিরিয়াস থাকবা না'।
আর এর মাঝে ৩বার বললো, 'ডোন্ট চিট'।
এটা আমার মেজাজ চরম খারাপ করে দিলো। ফুল টাইম স্টুডেন্ট, পার্ট টাইম কাজ; ঐসব বাড়তি এসানমেন্টের টাইম কই? আর এই তর্তাজা দেখি আগে থেকে সব ডিসিশন নিয়ে আছে। আমাকে কথা বলার কোনো সুযোগ না দিয়ে ইচ্ছা মত আউল-ফাউল কথা বলে যাচ্ছে।
আঙুল তুলে বলে, 'শোনো - তুমি কানাডা আসছো, ঢাকা কখনো ফিরবা না, সুতরাং তুমি কানাডার কালচার সোসাইটি ভালো করে বোঝার চেষ্টা করো।'
বললাম, 'আমি থাকবো না। পড়া শেষে ঢাকা ফিরবো, এখানে থাকতে আসি নাই।'
সে বলে, 'না, তুমি ফিরবা না, আমি জানি।'
আবারও বলি, 'আমি ফিরবো, তুমি জানো না'।
তর্তাজা বলে, 'আমার সাথে ২ বছর পরে দেখা করো...'
বললাম, 'দু বছর না, যাবার আগেরদিন তোমাকে মেইল দেবো'।
তর্তাজা এবার থামে।
শেষে বললো, সব মিলিয়ে ৫টা কাজের লিস্ট। এই ৫টা কাজ শেষ করে নিয়ে যেতে পারলে যেন আগামী সপ্তায় যাই, নইলে আর যেন দেখা না করি। তখন আমার মাথার ভেতর টং টাং কিরকির শব্দ করে।
ততক্ষণে আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি এর সাথে কাজ করা যাবে না। সুপারভাইজর পাল্টাতে হবে। তাই চুপ থাকি, আম্ন্যা আর আমেরের মত একেও আপাতঃ সুযোগ দিই।...কথা বলে যা হে তর্তাজাবাটপার।

পরের সপ্তায় আমার প্রথম কাজ ছিলো এসিস্টেন্ট ডিরেক্টরের সাথে কথা বলা। বললাম সব কাহিনী। বলি, তর্তাজা যা করছে সেটা স্রেফ যন্ত্রণা দেয়া, কারণ এই প্রোগ্রামের অন্য কোনো সুপারভাইজর এসব শয়তানি করছে না। কিন্তু এ আবার উল্টা কথা বলে। আমাকে বুঝায় - 'জীবনে সব মানুষ একই রকম পাবানা। এটা তোমার জন্য চ্যালেঞ্জ। অপছন্দের লোকের সাথে কাজ করতে হয়।' পালটা টক্কর দিই, কিন্তু পাঞ্জা দেয়া যায় না। সেও স্বীকার করে তর্তাজার কিছু ইস্যু আছে, কিন্তু তাকে ম্যানেজ করতে হয়। আমি সাউথ এশিয়ার লোক হয়ে এসব বোঝার কথা। বলি, 'আমার বোঝার খায়েশ নাই। আমার সুপারভাইজর পাল্টাও।'
এসব শেষে দফা করলো তর্তজাকে ২ সপ্তাহ দেখবো, এর পরে কেমন লাগে জানাবো। কিন্তু, আমি তো বুঝে গেছি এই হানাদারের সাথে আমার মিলবে না। তবুও এসিস্টেন্ট ডিরেক্টরের কথা রাখি। পরের শুক্রবারে সময়মতো দুইটায় যাই। কোনো কাজ করি নাই। সে যদি বলে 'আল বিদা'। আমি বলবো 'আলহামদুলিল্লাহ'।
কিন্তু, দুটা বিশ মিনিটেও সে রুমে ফিরে না। চলে আসি। পরের সপ্তায় এসিস্টেন্ট ডিরেক্টরের কাছে যাই। সে জিজ্ঞেস করে -শুক্রবারে কী হলো। আমি বলি- কিছু হয় নাই। কারণ তর্তাজাকে পাই নাই। সে রুমে ছিল না, আমি ২০ মিনিট অপেক্ষা করেছি, এমনকি সে আমাকে মেইলও করে নাই। শুনে এসিস্টেন্ট ডিরেক্টর একটু কী যেনো চিন্তা করলো। তাকে বললাম, আমি এর মাঝে অন্য সুপারভাইজরের সাথে কথা বলেছি, সে আমাকে নিতে রাজী হয়েছে। এডমিন পারমিশন লাগবে। সো, তুমি প্রসেস করো। এসিস্টেন্ট ডিরেক্টর আমার ইমেইল ঠিকানা নিলো। বললো, মেইলে জানাবে।

বিকেলে তর্তাজার সাথে দেখা। আমাকে ডেকে বলে, স্যরি আমি ভুলে গেছিলাম সেদিন, কালকে আসবা আর আজকেই মেইল করবা টাইম কনফার্ম করে। সন্ধ্যায় মেইল করলাম, কালকে ৩টা থেকে ৫টা ফ্রি আছি। সে পরদিন রিপ্লাই করলো, আমি বিজি, শুক্রবারে ১১টায় আসো। আমি তারপরের দিন জবাব দিলাম - শুক্রবারে ঐসময় আমি ক্লাসে থাকি। এরপরে আমার সময় নাই। এবার সে মেইল করছে - নেক্সট মংগলবারে আসবা, ১টায়।
এখনো এই মেইলের রিপ্লাই করি নাই। করার ইচ্ছা নাই।
এই একটা অহেতূক যন্ত্রণা গত ৩ সপ্তাহ লেগে ছিলো। আশা করছি - নতুন সুপারভাইজর পেয়ে যাবো সোমবারে। না পেলেও সমস্যা নেই। এটাই ফাইনাল ডিসিশন - আলবিদা তর্তাজাবাটপার, পাকি হানাদারের উত্তরাধিকার।

আমের আব্দুল্লার হারামিনামাঃ
পরশু সকালে তাড়াহুড়া করে ক্লাসে চলে গেছি। ল্যাপটপের চার্জার নিতে গেছি ভুলে। দুপুরের মধ্যে চার্জ শেষ। টীমের সাথে প্রজেক্ট মিটিং। আমেরকে বললাম, 'তোমার ল্যাপটপে মেইল চেক করি?'
বিলকুল বিল্কুল বলে এগিয়ে দিলো।
লগ ইন করতে গিয়ে দেখে নিলাম রিমেম্বার পাসওয়ার্ড আছে কিনা। নেই।
মেইল চেক করলাম দ্রুত, ৪/৫ মিনিট লাগলো মোট। লগ আউট করে ল্যাপটপ ফেরত দিলাম।
ফেরত দিয়ে আবার মনে হলো, অন্য কোনো উপায়ে ইউজার নেম-পাসওয়ার্ড সেভ হয়ে যায় নাই তো?
সন্দেহ উকি দেয়ায় ল্যাপটপ আবার নিলাম।
কী আশ্চর্য্য! ইউজার নেমে s টাইপ করলেই আমার ইমেল এড্রেস চলে আসে। আর নিচে অটো হাজির আমার পাসওয়ার্ড!! ক্লিক করলে সাইন-ইনও হয়!!!
জিজ্ঞেস করলাম, কম্পুতে এই জিনিশ করে রাখছো আমাকে বলো নাই কেনো?
হারামির পাঞ্জাবী হারামি হে হে করে হাসে। বলে, এইটা ইচ্ছা করে করে রাখছি।
কিন্তু, পাকির বাচ্চা - তুই আমাকে আগে বললি না কেনো? তোর কম্পুতে আমার নাম আর পাসওয়ার্ড যে সেইভ হইল সেটা কি এথিক্যাল?
সে বলে, ' না না, আমি তোমার মেইল চেক করবো না'।
আরে কুত্তা, চেক করবি কিনা সেইটা পরের কথা। কিন্তু, তুই দেখলি আমি মেইল চেক করলাম। তখন বললি না কেনো? এটা তো ফাইজলামি না। এইটা সাইবার ক্রাইম।
সাথে সাথে ওর ল্যাপটপে কুকিজ ডিলিট মারলাম সব। আবার চেক দিলাম। আমার চিল্লাচিল্লি দেখে হারামি চুপ মেরে আছে।
ইচ্ছা করছিলো, কষে চড় মারি।
অনেক চেষ্টায় রাগ চেপে ল্যাবে গিয়ে বসে থাকি। এক বড়ভাই জিটকে, শুনে বললেন 'ওরে থাবড় মারা দরকার'।

থাপড় দেয়া হয় না।
কেবল নিজেকে নিজে বলি, 'হু, আমি কেবল গোয়ার্তুমি করেই পাকিদের অবিশ্বাস করি...'

.
.
.

Read more...

17 November, 2008

ভার্চুয়াল আচরণ বনাম ব্যক্তি অনুসন্ধান

যারা ব্লগস্পটে ব্লগান তাঁদের বেশিরভাগই কাউন্টার বসান - কে এলো গেলো, কোত্থেকে এলো, কেমন ভিজিটর এলো এসব জানতে। ব্যাপারটা নিঃসন্দেহে ইন্টারেস্টিং। গুগলে কোন শব্দ সার্চ করে আমার ব্লগস্পটে কীভাবে কে এলো সেটাও দেখা যায়। গত এক মাসে খেয়াল করেছি জনৈক জম্মানবাসী সচলের নাম ধরে গুগলিং করে আমার নিজের ব্লগস্পটে ভিজিটর বাড়ছে। আটলান্টিকের এপার ওপার দুপার থেকেই গুগলিং হচ্ছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, যে পোস্টে ভিজিটররা আসছেন সেটা নিছক কল্পগল্প। ব্লগ ইন্টার‌্যাকশনের অতীত না জানা থাকলে ঐ লেখা পড়ে নতুন কারো বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা মারাত্মক।

‘কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি’ সেমিনারে প্রফেসর আভনার প্রশ্নটা তুলেছিলেন কয়েক সপ্তাহ আগে। ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে কারও সম্পর্কে যা তথ্য পাওয়া যায় সেটা কতোটা বিশ্বাসযোগ্য। কিংবা পাওয়া তথ্য পুরোপুরি সত্য হলেও তার কতোটা গ্রহণ কিংবা কতোটা বর্জন করতে হবে?
তর্ক হয়েছে তুমুল।
কেউ তার নিজস্ব অবস্থান থেকে নিজের সাইট/ব্লগ চালাতে পারে। সেখানে তার নিজের রাজনৈতিক বা সামাজিক অবস্থান নিয়ে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ চলতে পারে। এটা নিতান্তই তার ব্যক্তিগত। কিন্তু, অন্যরা তার এ মত কিংবা আদর্শকে কীভাবে দেখবেন?

এ ব্যাপারেই জানতে চাইছি প্রিয় সচলদের কাছে -

কয়েকটা দৃশ্যকল্প দিলে মনে হয় ভালো হয়ঃ

এক.
একজন মানুষের সাথে নতুন পরিচয় হলো আপনার। তার সাথে সামাজিক কিংবা পেশাগত সম্পর্কের একটা সম্ভবনা আছে। যেমন, প্রেম বন্ধুত্ব বা বিয়ের প্রস্তাব হতে পারে। আবার হতে পারে তার সাথে ব্যবসা করবেন অথবা সে আপনাকে চাকরী দিবে তার অফিসে কিংবা আপনি তাকে চাকরী দিবেন আপনার অফিসে।
হঠাৎ মনে করলেন, আররে, গুগলে ওর নামে সার্চ মেরে দেখি তো কী কী আছে! এখন বেশিরভাগ মানুষ কোনো না কোনোভাবে ইন্টারনেটে যুক্ত হচ্ছে। আপনি হয়তো তার ব্লগ পেলেন, কিংবা কোনো ফোরামে আলাপ-আড্ডা পেলেন, অথবা ফেসবুক একাউন্টের খবর পেলেন।

প্রশ্নঃ এসব জায়গায় পাওয়া তথ্যগুলোকে আপনি কতোটা সিরিয়াসলি নিবেন? যা পড়বেন তা কি বিশ্বাস করবেন? আগে যেমনটা বলেছি, সামাজিক বা পেশাগত সম্পর্ক নির্মাণের ক্ষেত্রে এসব ভার্চুয়াল তথ্য আপনাকে কতোটা প্রভাবিত করবে?
__

দুই.
এটা আগেরটার সম্পুরক বা পরিপূরক। অনেকেই বলেন, ভার্চুয়াল স্বত্বা বাস্তব থেকে আলাদা। তার মানে কি এটা দাবী করা যাবে যে আমি অন্তর্জালে যা বলছি সেটা আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস নয়! যাঁরা ছদ্মনামে লিখেন তাঁদের ব্যাপারটা আলাদা করে রাখি। কিন্তু যাঁরা নিজের নামে লিখেন, বিভিন্ন বিষয়ে তর্ক বিতর্কে অংশ নেন, তাঁরা কি নিজের সব মন্তব্যের কিংবা অবস্থানের দায়ভার নিবেন? ধরি একজন মানুষ নাম ‘গাজী ওবামাকেইন’। এটা তাঁর আসল নাম, তিনি এই নামেই ব্লগে লিখেন। যুক্তির আসরে ঝাপিয়ে পড়েন স্বউদ্যোমে। অন্যায় কথাবার্তা দেখলেই যুক্তি দিয়ে বোঝাতে চান ঠান্ডা মাথায়। মাঝে মাঝে পারেন, মাঝে মাঝে পারেন না। তখন মাথায় রাগ চড়ে যায় আর প্রায়ই বলে ফেলেন – ‘রামছাগলের মতো কথা বললে গদাম লাত্থি খাবি’। এই কথা তিনি এতোবার বলেছেন যে একটু ডিটেইল গুগলিং করলে এই ব্যাপারটা সার্চে চলে আসে। এখন গাজী ওবামাকেইন চাকরি বা বিয়ের জন্য মাঠে নামলেন। চাকরীদাতা বা হবু শ্বশুর দিলেন গুগলে সার্চ। দিয়ে বললেন, ‘ধুর, ওতো অভদ্র রগচটা। দেখো কী সব নোংরা কথা বলে নানান ফোরামে।‘
আর এভাবে ক্রমাগতঃ বাদ পড়েন গাজী ওবামাকেইন। বন্ধুরা বিয়ে করে, বন্ধুরা চাকরি পায়। গাজী ওবামাকেইন অপেক্ষা করে সুদিনের। জানেও না কেনো সে বাদ পড়ে বারবার। জানলেও যুক্তি দেখায়, ‘আরে ওটা তো ভার্চুয়াল...’।

প্রশ্নঃ ভার্চুয়াল স্বত্ত্বা আর বাস্তব স্বত্ত্বাকে আপনি কতোটা একাত্ব বা আলাদা করে দেখেন? গাজী ওবামাকেইনের অন্তর্জালিক আচরণকে আপনি কেমন করে দেখবেন?

__
তিন.
এটা একটু ভিন্ন প্রেক্ষাপট। এটা হলো অন্তর্জাল আচরণের দায়ভার। যেমন ধরি, আমি সময় পেলে প্রায়ই ইউটিউবে ঘুরি। এরকম ঘুরতে ঘুরতে আজ পেলাম বাংলাদেশী সদ্য কিশোরী এবং সদ্য যৌবনা দুই বোনের মর্ডান নাচের ফাইল, গায়ে টি শার্ট- থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট। পুরোটাই ঘরোয়া এমেচার কাজ। ভিডিও করেছে তাঁদের মা বা খালা বা বড়বোন বা অন্য কেউ। গুতিয়ে দেখলাম ঐ ইউজারের ফোল্ডারে এরকম আরও হাফ ডজন শৌখিন নাচ-গানের ভিডিও আছে। ধরি, নাচগুলো আমার কাছে খুব ভাল লাগলো। একটু ঝাকানাকা, তবে বারবার দেখার মতো ব্যাপার। কিংবা ধরি, আসলে সেরকম শিল্প মানের কিছু নয়, আমার উথাল-পাথাল বয়সের কারণেই এরকম অসাধারণ জিনিশ বলে মনে হচ্ছে। সিদ্ধান্ত নিলাম, সচলায়তনে কিংবা ফেসবুকে দিই, সাথে আরও কিছু ইন্টারেস্টিং ভিডিও দিই। সবার সাথে শেয়ার করি। দেয়ার আগে কথা বললাম, আমার বাল্যবন্ধু দীপ্তর সাথে। সে প্রতিভাবান কম্পিউটার বিজ্ঞানী। এবং সে কম্পু-এথিকসের ব্যাপারে ভালো জানে। সে আমাকে বললো, ‘এটা একটু গ্রে সিদ্ধান্ত। তবে যেহেতু ধরা যায় এগুলো পাবলিক প্লেসে ওপেন করে রাখা আছে, সেহেতু তুমি সচলে এমবেডেড ভিডিও করে দিতে পারো। কিন্তু, খেয়াল রাখো – উলটা পালটা কমেন্ট আসলে তার দায়ভার তোমাকেই নিতে হবে’।
এরপরে চিন্তা করলাম, আসলেই কী তাই? উচ্ছ্বলা উদ্ভিন্না দুটো মেয়ে নাচবে, দুলবে; এটা দেখে কেউ একজন সরেস কমেন্ট করে বসতেই পারেন। আরও দুয়েকজন তাতে রসদ দিতে পারেন, কারণ – যারা নাচছে তাদের আমরা কেউ চিনি না, তারাও আমাদের চিনে না। এই ফোরামে এরকম কমেন্ট চালাচালি হচ্ছে সে খবর তাদের কানে হয়তো যাবেও না। যেহেতূ মালিকের অনুমতি ছাড়া এরকম ক্লিপ আমি অন্য কোথাও শেয়ার করছি, এবং সেখানে ‘অনুভূতিতে আঘাত আসতে পারে’ টাইপ কমেন্ট করা হচ্ছে, সেহেতু পাবলিশার/ডিস্ট্রিবিউটর হিসাবে এর পুরো দায়ভার আমাকেই নিতে হবে। দীপ্তর এ ব্যাখ্যাটা মনে ধরেছে।

প্রশ্নঃ দীপ্ত যা বলেছে তা কি শতভাগ ঠিক? কোনো পারফরম্যান্স, সেটা লেখা হোক – গান হোক – নাচ হোক, যখন পাবলিকলি আসে তখন পাঠকের/শ্রোতার/দর্শকের মতামত দেয়ার স্বাধীনতা কি অসীম নয়? সকল প্রকার মতামত কি পারফরমারকেই নিতে হবে না?

প্রিয় সচল, আপনি কী ভাবছেন?
__

বাংলা অন্তর্জাল বিস্তৃত হচ্ছে। নিত্য আসছে নতুন ফোরাম। থাকছে নানা রকম নীতিমালা, অবস্থান। উপরের দৃশ্যপট বিবেচনায় এই মুহুর্তে ভার্চুয়াল আচরণের সীমানা নির্ধারণ কি প্রয়োজন?

__

সচলদের মন্তব্য প্রতি মন্তব্য আছে এখানে...।

.
.
.

Read more...

15 November, 2008

ব্লগে প্রবাসী বাঙালীর স্মৃতিকাতরতা

ইন্টারনেট ছাড়া চলছে না একদম। গুরু-সতীর্থ-স্বজন সব এই অন্তর্জালে বাঁধা। লগ ইন করা মানেই জিমেইল, ফেসবুক আর সচলায়তনে যাওয়া। এখন গান শোনার বাইরে বিনোদন বলতে ফেসবুক আর সচলায়তন। এক সময় ফেসবুক ভাল্লাগতো না। দু'বার মনে হয় ডিলিট করেছিলাম। আদনানের বিয়ের ছবি দেখতে হবে, বললো - ফেসবুকে আছে দেখে নাও। আমি বললাম, মেইলে পাঠাও। উহু, ফেসবুকে গিয়েই দেখতে হবে। অতঃপর আবার যাই ফেসবুকে, মনজুর কী করে ধরে ফেলে - এড করে। এরপর আর থামাথামি নেই। ব্লগের সংগীরাই বেশি। এখন খারাপ লাগে না। মজাই লাগে, নানান জনের ছবি দেখি, কমেন্ট করি টুকটাক। এর মাঝে সময় কেড়ে নিলাম সচলায়তন থেকে। মন দিয়ে লেখা পড়ে কমেন্ট কবে করেছি সেটা মনে করতে পারি, কারণ সেরকম কমেন্ট খুবই কম। ঝালমুড়ি পোস্টে ঐ তুলনায় দ্রুত কমেন্ট করা যায়। করেছিও মাঝে মাঝে।

আরেকটা কাজ করি, প্রিয় কজন মানুষের ব্লগস্পটে ঢুঁ মারি মাঝে মাঝে।
গতকাল এরকমই চোখ আঁটকালো অমিত আহমেদের ব্লগে।
'ষড়ব্লগ' লেখার ১ম অনুচ্ছেদের কিছু কথায় ভাবনায় পড়লাম।
অমিত লিখেছে -

প্রবাসী বাংলাদেশীদের দিনলিপি মার্কা ব্লগ পড়তে ইদানিং খুব ক্লান্ত লাগে। এসব ব্লগে অবধারিত ভাবেই দেশের স্মৃতিচারণ থাকবে। "আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম" উপলব্ধি থাকবে। নিঃসঙ্গতার দীর্ঘশ্বাস থাকবে। আর নিশ্চিত ভাবেই এমন কিছু থাকবে যাতে মন খারাপ হয়ে যাবে। তাই অনেক প্রিয় লেখকের ব্লগ পড়ার আগে মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে তবে পড়তে হয়। এমন কেনো? এটা কী প্রবাসের মূলধারার সাথে মিলে যেতে না পারার আক্ষেপ? নাকি ব্লগাররা খুব মন খারাপ হলেই কেবল দিনলিপি লেখেন?

ক্লান্তি লাগাটা অমিতের নিজস্ব বোধ। আপত্তি নেই মোটেও। অনেক ভালো কিছুতেও ক্লান্তি আসতে পারে। কিন্তু এর পরে অমিত খুব সিরিয়াস একটা বিষয় ধরেছে - প্রবাসী বাংলাদেশীদের ব্লগে স্মৃতিচারণ থাকবে, আগের দিন নিয়ে আক্ষেপ থাকবে। এবং অবধারিতভাবে পাঠকের মন খারাপ করানোর একটা ছোঁয়া থাকবে। ভেবে দেখলাম, এ পর্যবেক্ষণ আমারও। এরপর আমি অমিতের সাথে একমত হই তার করা শেষ দুটি প্রশ্নে। কারণ, প্রশ্নগুলো আমারও।

এটা কী প্রবাসের মূলধারার সাথে মিলে যেতে না পারার আক্ষেপ? নাকি ব্লগাররা খুব মন খারাপ হলেই কেবল দিনলিপি লেখেন?

অমিত এর পরে ৫ অনুচ্ছেদে একান্তই ডায়েরি লিখেছে। সিগারেট, বুরহানি, স্ট্রাইক, ম্যুভি। তবে আগের প্রশ্নগুলো উত্তরহীন রয়ে গেছে। বাংলা ব্লগস্ফিয়ারে আরও বছর দুয়েক আগে এক শক্তিমান ব্লগার লিখেছিলেন 'আজ বৃষ্টি হলো, বৃষ্টিতে ভিজলাম। আজ আমার মন ভাল নাই; এইসব বালছাল পড়তে ভালো লাগে না। ব্লগে এগুলো লিখবেন না।" বোঝা গিয়েছে তিনি নিজেই বিরক্ত ছিলেন ঐসব একঘেঁয়ে একান্ত দিনলিপির চক্করে। হতে পারে কম্যুনিটি ফোরামে এমন ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখ অনুভূতির প্রকাশ্য বয়ান কাম্য নয়। হতেই পারে। সমস্যার কিছু নয়। আপনার একান্ত ফ্যাঁচফ্যাঁচ কান্না আপনার ব্লগে ভেজান, আপনার বিরিয়ানী-বুরহানী না পাবার খিদা আপনার ব্লগেই ঢালেন, ঝমঝম বৃষ্টির জন্য রাত জাগার শব্দমালা আপনার নিজের ব্লগে নির্ঘুম করে লিখেন। আমজনতার আপত্তি নেই।
একমত অনেকাংশে।
আমার নিজের সুখ-দুঃখ নিয়ে কম্যুনিটি ব্লগে আজান দেবো কেনো?
এরচেয়ে বরং 'পেঁয়াজের দাম তিন দিনে বেড়েছে দশটাকা, আলু তিন টাকা' নিয়ে কমেন্ট্রি লেখা যায়। পারষ্পরিক আলাপের সুযোগ আছে এমন বিষয় নিয়ে কীবোর্ডে ঝড় তোলা যায়। আপলোডারদের কনুই মেরে ব্লগ সাহিত্য যে আগামীতে মূলধারায় জায়গা করে নেবে সেটা নিয়ে গম্ভীর আলাপ জুড়ে দেয়া যায়।
এমনটাই তো ভালো।

কথা হচ্ছে, এসব তো কম্যুনিটি ফোরামের কথা।
তাহলে একান্ত নিজের ব্লগ বলে পরিচিত ব্লগস্পটে লেখালেখির ধরণ কী রকম হবে?
এখানে কি আমি আমার সদ্য অথবা পুরনো বন্ধুবীকে দৈনিক চুমু খাওয়ার বর্ণনা অথবা স্মৃতি বা তার চলে যাওয়া, অথবা অন্যকোনো কারণে মন খারাপের কথা লিখতে পারবো? এ লেখা লিখতে গেলে কি পাঠকের চিন্তা আমার মাথায় আসবে?
যদি ধরে নিই, ব্লগস্পট আমার দিনলিপির জায়গা, আমার নিজের পাতা। তাহলে এখানে যা খুশি ইচ্ছা লেখার অধিকার আমার আছে। এটা আমার ডিজিটাল ডায়েরি।
তাই, এই ডায়েরি আমি খোলা পাতা রাখবো, নাকি বন্ধ করে রাখবো, সেটা আমার সিদ্ধান্ত।
প্রক্রিয়া জটিল কিছু নয়। আমার কথা আমি গোপন রাখতে চাইলে ব্লগ রিডারের জায়গাটা ক্লোজ করে দিতে পারি। কেবল সিলেক্টেড মানুষই আমার ব্লগ পড়তে পারবেন। কিংবা একান্তই আমি। কাগজ কলমে না লিখে কম্পিউটারে ডায়েরি লিখি।
এ জায়গাটা একেবারেই নিরাপদ। এরকম নিরাপদ জোন অপ্রকাশ্য থাকে, অপ্রকাশ্যই থাক। সেখানে ভালোবাসা থাক, ভালোলাগা থাক, অভিমান থাক, নিন্দা থাক। পরচর্চাও থাকুক। এবং সেটা গোপনই থাকুক।

কিন্তু, আমি যখন আমার ডায়েরি উন্মুক্ত রাখছি, তখন কী একেবারে স্বাধীনভাবে লিখতে পারছি। লিখতে গেলে কী একবারও ভাবছি যে অন্য কেউ এ লেখা পড়তে পারে? হায়দার নামক পাকি প্রফেসারকে আমি গত ১০ দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা অব্ধি চুত্মারানি-শুওরের বাচ্চা-মাদার্চুত এবং আরও কুৎসিত গালি দিই। আমার এ তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়া-বোধ কিংবা অনুভব কি খোলা ডায়েরিতে লেখা যাবে? লেখার পর আমি প্রিয় কোনো ব্লগার এসে বলবে না তো - 'মাথা গরম করো না...'? আমার এই একান্তই নিজস্ব ব্যাপারগুলোতে অন্য কেউ এসে নাক গলাবে সেটা কি আমি পছন্দ করবো? ঘুরে ফিরে সে-ই কথাই চলে আসে, প্রকাশ্য ব্লগ কতোটা ব্যক্তিগত, কতোটা ভাগাভাগির?

এখানে দুটো অপশন থাকতে পারে, ১) আমার নিজের ব্লগে আমি লিখি, আমার ইচ্ছা তাই পাতা খোলা রাখি, তুমি পড়ো, কোনো অসুবিধা নেই, কিন্তু আমার লেখা পড়ে তোমার কান্না পেলো নাকি বিরক্তি লাগলো - থোড়াই কেয়ার করি। হু দ্য হেল ইয়্যূ আর? ভালো না লাগলে আমার ব্লগবাড়িতে আর এসো না।
২) আসলে এরকম মনে হলো, গতকাল ঘটনাটা ঘটলো, বা ছোটো ভাইটাকে কাল স্বপ্নে দেখলাম, ব্লগে তাই লিখলাম। এই মন খারাপটা হয়তো কেটে যাবে দ্রুত। কিন্তু মনে হলো, লিখে ফেলি। এই দূরদেশে কথা বলার লোক কই? নিজের সাথে নিজেই বলি, ব্লগেই লিখি। আর লিখতে গেলে মনটা আরও নরোম হয়ে আসে। যা ভেবেছি লিখতে গিয়ে তার চেয়ে আবেগী হয়েছি। ব্লগ লেখাটা এক রকম থেরাপী বলা যায়। সকালে এই পোস্ট লিখে বিকেলে ঠিকই ম্যুভি দেখে এলাম। সারাদিন আর এসব মনেই পড়েনি।

এই দুই অপশনের ১ম টা নিরাপদ।
কিন্তু, ২য়টা নিয়ে কথা থেকে যায়।
নিজের ব্লগপাতা একান্ত করে রেখে এবং লিখে, প্রিয় কিছু লিংক যখন রাখবো, চাইবো অন্যরা আমার লেখা পড়ুক। কে কে আসে না আসে সেটা দেখার জন্য স্ট্যাট কাউন্টার লাগাবো। রেফারিং ইউ আর এল নিয়ে গুতাবো। এই পাঠক মোহ যখন থাকেই, তখন নিজের মন খারাপের বয়ানে অন্যের বিরক্তি বা মন খারাপ করানোর অধিকার আমার কতোটুকু আছে? এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়াটা আপাততঃ কঠিন বলেই মনে হচ্ছে।

এক সময় ঘরকুনো বলে পরিচিত বাঙালী প্রবাসে ছড়িয়েছে কয়েক দশকেরও বেশি হলো। নেটিজেন হয়ে ফিজি থেকে আলবার্টা, ক্যামেরুন থেকে সুইডেনের দূরত্ব ভুলতে বসেছে। চিন্তায় আচরণে আধুনিক হতে পারছে, অনুভূতিগুলো ব্লগের পাতায় তুলছেও হয়তো। কিন্তু, সে-ই ঘর-বিরামীর রোমান্টিসিজম ভুলতে পারছে ক'জন?

প্রবাসের মূলধারার সাথে মেশা না মেশায় এইসব অনুভূতি পাল্টাবে কিনা সেটা আমার বড়ো সন্দেহ। কোথায় যেনো পড়েছিলাম, বিদেশী পাসপোর্ট পেয়ে বছর পেরিয়েছে অনেক। সবুজ পাসপোর্টটা তবুও কতো যত্ন করে রাখে আলমারীর ড্রয়ারে। মাঝে মাঝে হাতে নিয়ে আলতো করে পরশ বুলায় পাতায়, যেনো অনেক আগে চলে যাওয়া বাবার ফ্রেমবন্দী সাদাকালো ছবি।

অমিতের লেখা পড়ে বারবার ভাবছিলাম, প্রবাসী বাঙালীর এ অন্তর্জালিক নস্টালজিয়া, এ স্মৃতিকাতরতা আসলেই কী এড়ানো সম্ভব!

.
.
.
ছবি কৃতজ্ঞতাঃ এখানে

Read more...

13 November, 2008

ভালো আছি, খুব ভালো আছি ?

মৃত্যু আমাকে নেবে, জাতিসংঘ আমাকে নেবেনা,

আমি তাই নিরপেক্ষ মানুষের কাছে, কবিদের সুধী সমাবেশে
আমার মৃত্যুর আগে বোলে যেতে চাই,
সুধীবৃন্দ ক্ষান্ত হোন, গোলাপ ফুলের মতো শান্ত হোন
কী লাভ যুদ্ধ কোরে? শত্রুতায় কী লাভ বলুন?
আধিপত্যে এত লোভ? পত্রিকা তো কেবলই আপনাদের
ক্ষয়ক্ষতি, ধ্বংস আর বিনাশের সংবাদে ভরপুর...

মানুষ চাঁদে গেল, আমি ভালোবাসা পেলুম
পৃথিবীতে তবু হানাহানি থামলো না।

পৃথিবীতে তবু কেউ আমার মতোন রাত জেগে
নুলো ভিখিরীর গান, দারিদ্র্যের এত অভিমান দেখলোনা!

আমাদের জীবনের অর্ধেক সময় তো আমরা
সঙ্গমে আর সন্তান উৎপাদনে শেষ কোরে দিলাম,
সুধীবৃন্দ, তবু জীবনে কয়বার বলুন তো
আমরা আমাদের কাছে বোলতে পেরেছি,

ভালো আছি, খুব ভালো আছি ?
__

(জন্ম মৃত্যু জীবনযাপন, আবুল হাসান)

.
.
.

Read more...

03 November, 2008

সান্ধ্যলিপিঃ সময় যায়...

এক সময় ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টানোর জন্য ব্যাকুল ছিলাম। কেবল মনে হতো, কখন পরের পাতায় যাবো। বছরের শুরুতে সুন্দর ছবিওয়ালা পছন্দের পাতাগুলো সিলেক্ট করে রাখতাম। আর অপেক্ষায় থাকতাম কখন ঐ মাস আসবে। আবার এস.এস.সি-এইচ.এইস.সি'র মাসগুলোর দিকে তাকিয়ে ভাবতাম, কেমন সময় যাবে তখন!

আঙুলের কড়ে ষাট দিন পার হয়ে গেলো।
অক্টোবর শেষে নভেম্বর আসলো। এখনো ডেস্ক ক্যালেন্ডার পালটানো হয়নি। এত দ্রুত সময় যাচ্ছে, টের পাচ্ছি না কিছু। কোর্স ক্যালেন্ডারে তাকিয়ে দেখি হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্টে সেভেন্টি পার্সেন্ট গেলো, মার্কেটিং'য়ে এখনো সেভেন্টি ফাইভ পার্সেন্ট বাকী। স্ট্র্যাটেজিক ম্যানেজমেন্টের ফার্স্ট রিপোর্টে বড়োসড়ো কোপানি খেলাম। ইন্টিগ্রিটিভ উইক ভালো না হলে এই কোপানিতে শুয়ে পড়তাম। ইন্টিগ্রিটিভের জোরে এখনো দাঁড়িয়ে আছি। বাকী ২টা রিপোর্টে ঢাল-তলোয়ার মারলে টিকে থাকার চান্স আছে।

ঘুমের অভ্যাস পাল্টানোর চেষ্টা করছি। তবুও ঠিক হচ্ছে না। গতরাতে ঘুমালাম ৪টায়। ঘুম ভাঙলো ঘড়িতে বারোটা। আগে হিসেব করা ছিলো আজ এক ঘন্টা কমে যাবে। উঠে সময় ঠিক করে নিলাম - সোয়া এগারোটা।

মাথার চুল লম্বা হয়ে গেছে। ভেবেছিলাম আজ সকালে বের হবো। হলো না। এখন ৫টা বেজে গেছে। বাইরে ঠান্ডা বাড়ছে। ৪ ডিগ্রি। বের হতে ইচ্ছে করতে না। চা খেতে খেতে বরং ইয়্যুটিউবে দারুণ একটা গান দেখা যায় -



.
.
.

Read more...

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP