12 June, 2008

শহুরে পাখি মানুষ

সেবার ঘরে ফেরার কথা ছিলো না।
কেবল গন্তব্যহীন যাত্রা – ক্রমাগত নিজেদের ছাড়িয়ে শহরের বাইরে।
সেদিন বৃষ্টি ছিলো এবং রোদ – কখনো মেঘলা আকাশ।

আমরা এসব দেখে দেখেই শহরের বাইরে যাই। মনের রোদ আর দমকা হাওয়া সঙ্গী হয় মাধবীর ঘ্রাণে। ভর দুপুরে একটা কোকিল ডেকে যায় আষাঢ়ের মাঝামাঝি। অথবা কোকিল ছিলো না, অন্য কোনো পাখি হবে হয়তো। না বুঝে আমরা কোকিল ধরে নিই, আর মুগ্ধ হই। অচেনা মেঠো পথে শান বাঁধানো পুকুর ঘাট, ছায়া নিরিবিলি – ঢিল মেরে বৃত্তাকার ঢেউ দেখা, তারপর পা ডুবিয়ে বসে থাকা ছেলে মানুষী।
ঝরে পড়া অচেনা ফুল বিনিময়ে বিশুদ্ধ মুগ্ধতার মুহুর্ত। নীরবতা।
আরো পরে, রোদ আরো কমলে সেই প্রথমবার হাত ধরা, প্রবল সাহসে। বুকের পুকুরের ঢেউ ক্রমশঃ পায়ে নেমে খানিক ছলাৎছল। তখন কোকিলের ডাক থেমে গেছে, কাছে বসা অপয়া এক শালিক পানিতে ঠোঁট ডুবিয়ে আবার উড়াল দেয়, সাথে তীব্র শীষ কাটা আওয়াজ। আমরা চোখাচোখি।

কালিদাসের কাল পেরিয়ে জীবনানন্দ – থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার।

সে জনারণ্যে আচমকা আইসক্রীম ভ্যানের আওয়াজে একদল খালি গা শিশু দৌড়ায়। আইসক্রীমের মোহ নয়, হয়তো ওদের দৌড়াতে ভালো লাগে। বণিক বেচারা কী করে বিলাবে সম্বল? বণিকের বাতাসে আমরা লোভী হই। বলি – আগামীর কথা, ঠিক এরকম – পথে দেখা গ্রাম, টিনের ঘর – ঝমঝম বৃষ্টি, খানিক স্বাস্থ্যবতী বউ, ঝোল মাখা ভাত। কেবল ভালোবাসাবাসি। এসব স্বপন বয়ানে আবার শহরে ফেরা – বিশাল ট্রাকে রাঁধুনি গুড়া মসলা - বিলবোর্ডে ফেয়ার এন্ড লাভলী – ক্রমশঃ বাণিজ্য ঘিরে রাখে, শাহ সিমেন্ট জন্ম সৃষ্টির লক্ষ্যে – ইটের পরে ইটে তুমি আর আমি, পাশে শাইনপুকুর অথবা কপোতাক্ষ প্রকল্প। ক্যাসেট প্লেয়ারে হেমন্ত বদলে গানস এন্ড রোজেস। চরম বৈপরীত্যে অবসাদ ক্লান্তি।

'আমরা তাহলে ঘরে ফিরে যাচ্ছি।'
'হ্যাঁ।'

ততক্ষণে লেনদেন হয়ে গেছে। কোমল পানীয় ডাক দেয় – ইটস ইয়্যুর লাইফ – কালার ইট। সাথে বার্জার – স্পর্শে জীবনের রঙ বদল। ট্রাফিকের হলুদ-লাল বাতির অপেক্ষা। বলি- 'পাখিটি কী কোকিল ছিল, নাকি শারষ?' এ শহরে পাখি কই? মানুষগুলো সব পাখি হয়ে গেছে – কাক, শালিক, বক। সময়ের রঙ। জীবনের পলেস্তারা।

তাহলে বণিকেরা জিতে গেলো? দালানের ভীড়ে অদেখা সূর্যাস্ত-সময়।
তারপর অনেকদিন অচেনা শহরে…
কর্পোরেট আমেজে ব্যস্ত মুঠোফোন – খানিক চেনা মুখ।
ভালোবাসাহীন মহীনের ঘোড়াগুলি – বেহালা চৌরাস্তায়, নিঃসঙ্গ সাথী - লোপামুদ্রা।
মাধবী লুকিয়ে আছে কোথাও। আমারই ফেরা এ শহরে কাঁচ ঘেরা কোনো ঘরে।

-
-
-

Read more...

09 June, 2008

হঠাৎ ধূসর সন্ধ্যা

যাচ্ছেতাই ফালতু জঘন্য দিন যাপন শেষে আজ শেষ মুহুর্তের আরেকটু আগে এসে মনে হয় এই সন্ধ্যা ৫টা ৫৩ মিনিট আরেকটু বড় হোক।

হাতের কাছে নোটপ্যাডে খসখসে পেন্সিল, জমে থাকা কাজ, আধ খাওয়া রামভুটাম, কফি শুকিয়ে মগে লেগে থাকা দাগ, একসাথে বেজে ওঠা ফোন, সেলফোন। মাথায় আচমকা মনে পড়া লকারে কী যেনো রয়ে গেছে, খুলিনি বছর, স্মৃতি ভান্ডারের মতো।

কবে কে গেয়ে গেছে,
"জীবন এতো ছোটো কেনো, কাহারে সুধাই - মরণ কেনো বলে চলো চলে যাই?"

আজ সন্ধ্যাটা ধূসর, ক্রমশঃ বিষণ্ণ। আজ রাস্তা ধীর। আজ আকাশ স্থবির।

আজ আমার কোথাও যেতে ইচ্ছে করছে না।

Read more...

02 June, 2008

সকাল বেলার খিদেঃ খবর অখবর

কেউ কেউ বলেন - কুকুর মানুষকে কামড়ালে সেটা পেপারে ছাপার সংবাদ হবে না, কিন্তু মানুষ যদি কুকুরকে কামড়ায় তবে সেটা চমকপ্রদ খবর। মানুষের আগ্রহ জাগায় - পরবর্তীতে কী হলো না হলো, এরকম বিষয়গুলো পাঠকের পছন্দের খবর হয়ে উঠে।

কোনো এক কারণে পত্রিকার চিঠিপত্র কলামের প্রতি আমার আগ্রহ ব্যাপক। সুযোগ পেলেই মন দিয়ে পড়ি কার কী আবেদন, দাবী দাওয়া, মতামত। কোথায় সেতু দরকার, কোন গ্রামে বিদ্যুতের খাম্বা আছে - বিদ্যুৎ নাই, কোন গ্রাম্য বাজারে জুয়ার আসর বসেছে, কোন এলাকায় পাগলা কুকুরের উপদ্রব বেড়ে গেছে, কিংবা দেশ রাজনীতি নিয়ে রাজধানী-রাজনীতির বাইরের মানুষের ভাবনা।

আজ যুগান্তরের চিঠিপত্র কলামে কিশোরগঞ্জের এক স্কুলের সহকারী শিক্ষক মোঃ সাফী উদ্দিন চিঠি লিখেছেন - বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা মাসে বাসা ভাড়া বাবদ পেয়ে থাকেন ১০০ টাকা। তিনি এও বলছেন, এ অপমানজনক বাড়ী ভাড়া দেয়ার চেয়ে না দেয়াই ভালো। তবে শেষে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন আসন্ন বাজেটে যেনো শিক্ষকদের এ ব্যাপারটি খেয়াল করা হয়।

আলু নিয়ে আলুচনা থেমে নাই।
সাপ্তাহিক২০০০ এ সংখ্যায় ফিচার ছাপিয়েছে আলুনামা। আলুর ইতিহাস-ভূগোল-পুষ্টিগুণের পাশাপাশি সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ প্রয়োজনীয়তা নিয়ে রিপোর্টটি ছাপা হয়েছে।
জামালপুরে আলু নিয়ে মত বিনিময় সভা হয়েছে - এ খবর জানাচ্ছে প্রথম আলো।
আবার ইত্তেফাক বলছে - ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মিষ্টি আলুর চাষ বাড়ছে। তবে গত বছর আলুর দাম ছিল প্রতি মণ ১৬০-১৮০ টাকা, এ বছর সে দাম ২৬০-২৭০ টাকা।

ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গতকাল ইত্তেফাক ভবনে এক দোয়া-মাহফিল হয়েছে। এ নিয়ে বড়সড় রিপোর্ট আছে আজকের ইত্তেফাকে। ছবিতে মোনাজাতরত ইত্তেফাকের সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি এবং অন্যান্যদের দেখা যাচ্ছে। সারা দেশে এ উপলক্ষ্যে কি কি কর্মসূচী নেয়া হয়েছে সে খবরও আছে। অন্য পত্রিকায় এ খবর চোখে পড়েনি।
আবার যায়যায়দিনে ছাপা হয়েছে 'ওয়ান ব্যাংক নিয়ে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর; সংবাদ সম্মেলনে সাঈদ হোসেন চৌধুরী। খবরের সাথে জনাব সাঈদের ছবিও আছে। যাযাদি'র প্রিন্টার্স লাইনে দেখা যাচ্ছে - সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সাঈদ হোসেন চৌধুরী।

দৈনিক সমকালের এক রিপোর্ট বলছে - কক্সবাজার থেকে ৮ কিলোমিটার দূরের সোনাদিয়া দ্বীপ লিজ পাচ্ছে আরব আমিরাতের যুবরাজ। ৫০ বছরের জন্য লিজ চাইলেও সরকার ভাবছে ২৫-৩০ বছরের জন্য লিজ দিবে। আপাততঃ দফারফা ২ হাজার কোটি টাকা কিংবা আরো বেশি। সেখানে মোটেল, সী-স্পোর্টস, ক্যাসিনো সুবিধা থাকবে। তবে এক্সক্লুসিভ পর্যটন জোন ঘোষণা করে দ্বীপটি কেবল বিদেশিদের জন্য নির্দিষ্ট রাখা হবে।

আচ্ছা, এই চুক্তি হয়ে গেলে - দেশি কেউ সেখানে ঘুরতে যেতে পারবে না? নাকি পারবে?
সেখানে বিদেশিদের জন্য উইমেন-ওয়াইনের ব্যবস্থা থাকবে? একটা দ্বীপ এরকম বিদেশিদের দিয়ে নারী-জুয়া-মদের আয়োজন করলে 'মডারেট মুসলিম কান্ট্রির' সচেতন জনগণের নানান রকম 'অনুভূতি' আহত বা নিহত হবে না তো?

শুরুতে বলছিলাম, কোনটা খবর হবে আর কোনটা হবে না।
যায়যায়দিনের আরেক খবর - শেরপুরের নকলায় এক পাগলের পাগলামির শিকার হয়েছেন ইউএনও। ইউএনও বাসা থেকে বের হয়ে মসজিদে যাওয়ার সময় ঐ পাগল তার উপর চড়াও হয়, পরে লোকজন ইউএনও-কে উদ্ধার করে। পাগলের কাজ পাগল করেছে, হামলে পড়েছে গায়...।
শিরোনামে বলা হয়েছে - পাগলের হাতে ইউওএনও লাঞ্ছিত।
খুব তুচ্ছ একটি ঘটনা, পাগলের হাতে মানুষের তাড়া খাওয়া নতুন কিছু না।

তাহলে এ ঘটনা পত্রিকায় খবর হলো কোন যোগ্যতায়?
_

(মূল লেখা এখানে http://www.sachalayatan.com/ashimul/15653)

-
-
-

Read more...

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP