25 October, 2012

ঢাকামেট্রো ২৫-১০১২

ঢাকায় শীত আসি আসি করছে।
সকালের দিকে ফ্যান বন্ধ করে দিতে হয়। আবার দুপুর ২টায়ও মনে হয় বিকেল হয়ে এলো। সন্ধ্যা নামে সাড়ে পাঁচটার আগে।
আবহাওয়ার এ বদলী সময়ে চারদিকে সর্দি কাশি হচ্ছে। আমার নিজেরও ঠান্ডা লেগেছে। টিভিতে রিপোর্ট দেখছিলাম, শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। আবহাওয়ার পাশাপাশি পানিতেও সমস্যা আছে মনে হয়। ওয়াসার পানিতে ব্যাপক ময়লা। বালতির তলানীতে কালো ময়লা জমে যায় দ্রুত।

সকালটা বেশ ভালো লাগে। হাল্কা একটা ঠান্ডা বাতাস থাকে। পরশু সকাল সাড়ে ছয়টায় বাসা থেকে বের হতেই একটা শিরশির ঠান্ডা বাতাস কানে লাগলো। মনে পড়ে, চৌদ্দ-পনেরো বছর আগে, ১৯৯৭-৯৮ সালের দিকে, এরকম বাতাস পেতাম সেপ্টেম্বরের শেষাশেষি। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সেপ্টেম্বরের শেষাশেষি বেশ ভালোই গরম থাকে। অক্টোবরে বৃষ্টিও হতো একসময়, এখন কমে গেছে।

মিরপুর ওএসবি চক্ষু হাসপাতালের সামনে একটা বিজ্ঞাপন দেখে চমকালাম।
পারিবারিক সমস্যার জন্য কিডনী বিক্রয়ে আগ্রহী জনৈক আনোয়ারুল হাছান।
মোবাইলে ছবি তুলে রাখলাম।
Kidney
দুপুরে ফোন করলাম, ঐ নম্বরে।
"হ্যালো, আনোয়ারুল হাছান বলছেন?"
"জ্বি, কে বলছেন?" - খুব দূর্বল কন্ঠস্বরের জবাব এবং প্রশ্ন।
"আপনি কিডনী বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছেন?"
"জ্বি, দিয়েছি" - এবার কন্ঠ আরো দূর্বল। শুরুতে ভেবেছিলাম, মধ্য বয়সের কেউ হবে, এবার মনে হচ্ছে কিশোর কিংবা পঞ্চাষোর্ধ কেউ কথা বলছে।
"আপনি কি অসুস্থ?"
"না, আমার জানামতে তো কোনো অসুখ নাই।"
জিজ্ঞেস করলাম "আপনার বাসা কই?"
"মিরপুর।"
"কিডনী বিক্রি করবেন কেন?"
"টাকার দরকার, ভাই।"
"কত টাকার দরকার?"
কোনো জবাব নেই।
"হ্যালো, হ্যালো"।
ওপাশ থেকে ক্ষীণস্বরে কী যেন বললো, বুঝলাম না। এরপর লাইন কেটে দিলো।
ভাবলাম, আবার ফোন করবো কিনা। এ-ও মাথায় এলো, কী লাভ? আমি কি তার প্রয়োজনীয় টাকা সাহায্য হিসেবে দেব?
ছবি তোলার সময় খেয়াল করিনি। ছবিটি কম্পিউটারে নেয়ার পর খেয়াল করে দেখলাম, ঐ বিজ্ঞাপনের নিচে লুকিয়ে আছে আরেকটি বিজ্ঞাপন। কোনো এক মোঃ হানিফ কিডনী বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছিল। যতোদূর জানি, বাংলাদেশে নিকট আত্মীয় ছাড়া কারো কিডনী প্রতিস্থাপনের অনুমতি নেই। গত বছর এরকম কিডনী ব্যবসায়ী এক চক্রকে ধরা হয়েছিল।
অবাক হবো না, আগামী দিনগুলোয় যদি দেখি- কিডনী বিক্রি, চোখ বিক্রি, লিভার বিক্রি, সন্তান বিক্রির বিজ্ঞাপনে শহরের দেয়ালগুলো সয়লাব হয়ে যায়।

কুরবানীর ঈদ সমাগত। আজ সন্ধ্যায় ঘরে ফিরছিলাম।
গলির মোড়ে চার কিশোর একটা গরুকে ঠেলছে, গরু হাঁটছেই না। গোঁ ধরে আছে।
একজন বললো, "গরু হাঁটবে না।"
আরেকজন বললো, "হাঁটবে না মানে, ওর বাপ হাঁটবে। ৩দিন ধরে খাওয়াইছি কী জন্য?"
পাশ দিয়ে আরেক মুরুব্বী যাচ্ছিলেন, জিজ্ঞেস করলেন "দাম কত?"
"তেত্রিশ হাজার"
"অনলি তেত্রিশ হাজার? সস্তা হইছে তো!"
সন্ধ্যা নামতেই চারপাশে গরু ছাগলের ডাক। গ্রামীণ পরিবেশের আবহ সৃষ্টি হয়। সকালে ঘুম ভাঙে ছাগলের ডাকে।

টিভি চ্যানেলগুলো বিজ্ঞাপন দিচ্ছে, ঈদের ৫ দিনের আয়োজন।
ট্রেলারে দেখতে পাচ্ছি - মেহের আফরোজ শাওন, অনন্ত জলিল এবং আরেফিন রুমী। বাজার জমজমাট।

উৎসবের সময়ে এ শহরের মানুষগুলোকে সুখী মনে হয়। সিয়েঞ্জিওলা ২০ টাকা কিংবা রিক্সাওলা ৫ টাকা বাড়তি নিয়ে সুখের হাসি দেয়। মধ্যরাতেও পাশের টিনশেড ঘরের বাসিন্দা শ্রমজীবি মানুষগুলো গল্প-গুজবে হা-হা শব্দে হেসে ওঠে।
কামনা করি, আনন্দ দীর্ঘজীবি হোক।
আজকের ঢাকামেট্রো এখানেই থামাই। চাইলে গান শুনতে পারেন, বাউল শাহ আব্দুল করিমের - কোন মেস্তরী নাও বানাইলো। অনলাইনেই পাওয়া। গেয়েছে- দোহার ব্যান্ড, দলছুটের বাপ্পা-সঞ্জীব, রমেশ ঠাকুর আর রাশেদুল হাসান কায়েস। শেষ জনের গান কিংবা নাম কোনোটাই শুনিনি আগে।

ঝিলমিল ঝিলমিল - দোহার

ঝিলমিল ঝিলমিল - দলছুট

ঝিলমিল ঝিলমিল- রমেশ ঠাকুর

ঝিলমিল ঝিলমিল - রাশেদুল হাসান কায়েস

ইস্নিপ্স থেকে গান এমবেড করার উপায় পেলাম না। ওরা নিয়ম পাল্টিয়েছে নাকি অনভ্যাসে আমিই ভুলে গেলাম, বুঝতে পারছি না।


0 মন্তব্য::

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP