28 June, 2012

ঢাকামেট্রো ২৭-০৬১২

ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতে সামার ভ্যাকেশন চলছে, সকালে যানজট একটু কম।
আমার বাসা থেকে মিরপুর ১৩ নম্বর পর্যন্ত যেতে ৮/৯টা স্কুল। তাই সকাল ছয়টা পঞ্চাশের আগে মিরপুর দশ নম্বর গোল চক্কর পার হতে না পারলে ভালো রকম ধরা খাওয়ার সম্ভবনা আছে। এ ধরা খাওয়া চরম রূপ নেবে ক্যান্টনমেন্টের আগে রজনীগন্ধা মার্কেটের সামনে। সেখান থেকে সৈনিক ক্লাব পর্যন্ত যেতেই আধ ঘন্টা পার হয়ে যাবে। ইদানিং সকাল ছয়টা পঞ্চাশেও দশ নম্বর গোল চক্করে ট্রাফিক জ্যাম লেগে থাকে। গাড়ি খুব বেশি, তা কিন্তু না। সমস্যা হলো, ঐ সময় ট্রাফিক পুলিস ভাইয়েরা একটু রিল্যাক্স মুডে থাকেন, আর গাড়িগুলো ইচ্ছেমতোন ডানে-বামে; হিজিবিজি। এখানেই দশ মিনিট দেরি হয়ে যায়।

ইচ্ছে ছিল - মিরপুর দশ নম্বর এলাকার আরেকটা সমস্যা নিয়ে লিখবো।
গত বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সময়, দশ নম্বর গোল চক্করের ফলপট্টি থেকে দুই নম্বর বাজার পর্যন্ত রাস্তাটিকে চমৎকার প্রশস্ত এবং চলাচলের উপযোগী করে সংস্কার করা হয়েছিল। বিশ্বকাপ শেষ হতেই আবার পুরনো অবস্থায় ফিরে গেছে। ফলপট্টির মোড়ে সিটি কর্পোরেশনের বিশালাকার তিনটা ডাস্টবিন। সারাদিন ময়লা জমা হয়। তীব্র দূর্গন্ধ।
আরো সমস্যা হলো - রাস্তার দুপাশে ভাসমান চা দোকান, হকার দখল করে নিয়েছে। তার পাশে আছে কুরিয়ার সার্ভিসের বড় বড় গাড়ি। তার পাশে পার্ক করানো ব্যক্তিগত গাড়ি। দারুণ প্রশস্ত একটি রাস্তা দুপাশে এভাবে দখল হয়ে গেলে রিক্সা চলাই মুশকিল। লেগে থাকে জটলা। হেটে আসাটাও হ্যাপা।
বড়বাগ এলাকার রাস্তাগুলোও দখল করে রাখছে মনিপুর স্কুলের ছাত্রদের বাবা-মাদের গাড়ি। শাইনপুকুর গলির চারপাশে অর্ধেক রাস্তা প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাসের দখলে। মিরপুর পোস্ট অফিসের পাশেও আছে বিশাল এক ডাস্টবিন, তীব্র গন্ধে টেকা দায়। পাশেই শিশু হাসপাতাল, হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল, ওএসবি চক্ষু হাসপাতাল। এমন জায়গায় ময়লার স্তুপ রাখার সিদ্ধান্ত কার?
এগুলো দেখার কেউ নেই! অভিযোগ জানানোর জায়গা হয়তো আছে, প্রতিকার কি আছে?

যানজট নিরশনে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ফ্লাইওভার হচ্ছে।
চোখে পড়ার মতো উন্নয়ন। সরকারগুলো এমন উন্নয়নেই নাকি আগ্রহ দেখায় বেশি।
এ সপ্তাহে হুট করে একাধিক পত্রিকায় শিরোনাম হয়েছে, ফ্লাইওভারে যানজট বাড়বে। গণপরিবহনের ব্যবস্থা না করে, প্রাইভেট কারকে উৎসাহিত করার ব্যবস্থা নাকি করা হচ্ছে। টক শো'তেও নগর পরিকল্পকেরা চিৎকার করছেন - কোরিয়ায় ফ্লাইওভার ভেঙে ফেলা হয়েছে, জাপানেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফ্লাইওভারের সিদ্ধান্ত ভুল।
প্রশ্ন হলো - জাপান-কোরিয়ায় এসব তো আজ হঠাৎ করে হয়নি। ঢাকায় ফ্লাইওভারের কাজ শুরু হওয়ার আগে এসব বিশেষজ্ঞেরা কিছু বলেননি কেন?
নাকি গড়তে একবার বাণিজ্য, আবার ভাঙতে আরেকবার বাণিজ্য?

সকাল দশটা চল্লিশ মিনিটে সচলের মনের মুকুরে দেখি পোস্ট "শিমুল কই?"
৫ বছর আগের পোস্ট। আমাকে কয়দিন অনলাইনে না দেখে আলবাব ভাই দিয়েছিলেন। সে সময় তেমন কারো সাথে ই-মেইলেও যোগাযোগ ছিল না, ফোন দূরে থাক। ২০১২ সালে এসে দেখি, ফোনে অনেক বন্ধুর নম্বর, ই-মেইল আছে সবার, ফেইসবুকেও যুক্ত। কিন্তু, 'যোগাযোগ' হয় কই? যোগাযোগহীনতার দায়ভার, জানি, আমারই বেশি। প্রযুক্তি এবং ব্যস্ততার মিশেলে আমাদের যোগাযোগ হয়ে গেছে, ফেইসবুক দেয়ালে লাইক-শেয়ার। কারো খোঁজ না পেয়ে পোস্ট দেয়ার দিনও বোধ হয় ফুরালো। একবার পাতায়ায় ছিলাম তখন, তীব্র জ্বর আর সারা শরীরে র‍্যাশ। লাল চোখ নিয়ে ঘরে বসে আছি, বিশালাকার ট্যাবলেট খাই। দেশ থেকে আম্মা ফোন করলে বলেছিলাম, ভালো আছি, হেসেছিলামও সশব্দে। আম্মা নাকি আগের রাতে স্বপ্নে দেখেছেন - আমার খুব অসুখ। সেবার জিমেইলে ৩জন ব্লগার বন্ধু খবর নিয়েছিলেন - জ্বরের কী অবস্থা? কী সব অনুভূতিময় দিন। না দেখা বন্ধুদের টান!
দেখাই হলো না যাঁর সাথে, সেই জুবায়ের ভাইয়ের ভাইয়েরও কমেন্ট পড়লাম আলবাব ভাইয়ের পোস্টে - "গতকাল ঠিক এইরকম সময়ে তাকে লগড-ইন দেখা গেছে। একটা পোস্টে মন্তব্যও করেছে। আমিও ভাবছিলাম, ছেলেটা গেলো কোথায়?"
আমাকে করা জুবায়ের ভাইয়ের শেষ মেইলটাও ছিল একই রকম "তোমার খবর নেই!"
আলবাব ভাইকে ফোনে বললাম, এভাবে পুরনো দিনগুলো সোনালী হয়ে যায়। সব গল্প হয়ে যায়---।

ফেসবুকপ্রবণ জীবনে - দেয়ালে লেখালেখি, ঠোকাঠুকিই দিনদিন খবর নেয়ার প্রতীক হয়ে উঠছে।
ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের একটা [url=http://www.facebook.com/pages/Dhaka-City-Corporation/235035329872075]পেজ[/url] দেখতে পাচ্ছি - ফেসবুকে। লাইক মাত্র ৭ জন। দুইকোটি মানুষের শহরের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক পেজটি আরো সক্রিয় হওয়া দরকার।
এটা হতে পারে নাগরিকদের সাথে নগরপিতার যোগাযোগের মাধ্যম, যেখানে নাগরিকেরা সচিত্র তুলে দেবেন - নিজেদের এলাকার সমস্যার কথা-ছবি।
ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্পে এ চাওয়ার বাস্তবায়ন খুব কঠিন কিন্তু নয়! তবে ভয়টা অন্য জায়গায় - আজই [url=http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=611e3e7bea7c41bf2d03ba92d1acfce2&nttl=28062012122645]খবর [/url]পড়লাম - কারিগরী ত্রুটির জন্য দেশের ৫৫ জেলা তথ্য-বাতায়ন বন্ধ রয়েছে!

0 মন্তব্য::

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP