29 February, 2012

ঢাকামেট্রো ২৯-০২১২

সকাল ছয়টা চল্লিশ মিনিট
সকাল কয়টায় রওনা দিলে মিরপুর থেকে বসুন্ধরা বারিধারায় আটটার আগে পৌঁছানো যাবে তা নিয়ে রীতিমতো গবেষণা হয়ে গেছে গত ক’বছরে। বছর দুয়েক আগেও সাতটা বিশে বাসা থেকে বের হয়ে আটটার আগে পৌঁছানো যেতো, এখন সেদিন আর নাই। যাওয়ার পথকে ক্যান্টনমেন্ট-বনানী-গুলশান, ক্যান্টনমেন্ট-শেওড়া-নদ্দা, ভাষানটেক-জিয়াকলোনী-এয়ারপোর্ট এরকম অনেকগুলো পারমুটেশন কম্বিনেশন করে নানান পথে গিয়ে দেখেছি ভীড় বেড়ে গেছে অনেক। গত ছ’মাস সকাল ছ’টা পঞ্চাশে রওনা দিলেও আটটায় পৌঁছানো যেতো, এখন তাও যাচ্ছে না। অগত্যা ছ’টা চল্লিশে বাসা থেকে বেরুলাম আজ।
সাত সকালের আগেই গুড়িগুড়ি বৃষ্টি। বছরের প্রথম বৃষ্টি। মর্নিং ওয়াকে বের হওয়া মানুষজন দৌড়াচ্ছে, ভিজে যাচ্ছে, কেউ কেউ মাথায় হাত রেখে হাঁটছে দ্রুত পায়ে। মিরপুর দশ নম্বর গোলচক্করে ভয়াবহ জ্যাম। সকাল সাতটার আগেই বিশ্রী অবস্থা। কারণ হলো, বৃষ্টির কারণে ট্রাফিক স্যার মাঝের ট্রাফিক বক্সে দাঁড়িয়ে আছেন, গা ভেজাবেন না, শুধু হুইসেল দিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু কে শোনে কার কথা? ওদিকে চারপাশে চক্রাবক্রা কার, মাইক্রো, বাস, রিক্সা, সিয়েঞ্জি। সাত মিনিটের জ্যাম শেষে রাস্তা খালি পাই। বৃষ্টি বাড়ছে। রাস্তার ধুলোগুলো যেনো আরাম পেয়ে ঘুমিয়ে যাচ্ছে পথে। শহীদ পুলিশ স্মৃতি স্কুলের সামনে দেখলাম এক কিশোরী ছাতা মাথায় রাস্তা চলছে, তবে ছাতার শিক খুলে গেছে একদিকে। মনে মনে ভাবলাম, আমার নিজের ছাতাটাও এবার ঠিক করাতে হবে, গতবার বাতাসে উলটে পালটে দূর্বল হয়ে গেছে।

দুপুর একটা
এসময়টায় একটু ফ্রি থাকি।
কম্পিউটারে পত্রিকা পড়ি, ব্লগ পড়ি, ব্যক্তিগত মেইলগুলোর রিপ্লাই করি। গত দু’সপ্তায় সারাক্ষণ পত্রিকার পাতা খুলে রাখতাম পিসিতে। একটু পরপর রিফ্রেশ করতাম। অনেকটা ক্রিকইনফোতে প্রতি সেকেন্ডে সেকেন্ডে স্কোর ফলো করার মতো। পত্রিকায় চোখ রাখতাম সাগর-রুনীর হত্যাকান্ডের কোনো সুরাহা হলো কিনা জানতে। চমকের-ঝমকের পরে এখন সব থেমে গেছে। আগ্রহ পাই না আর। পত্রিকায় বানোয়াট খবর প্রকাশের অভিযোগ শুনেছি এতদিন। এবার নিজের চোখেই দেখলাম, সাগর-রুনি নয়, অন্য এক প্রসঙ্গে। তিন চারটি পত্রিকা যদি একযোগে মিথ্যা কথা বলে, কথাগুলো বোধ হয় সত্যি হয়ে যায়। এটাই হয়তো সত্যি -বড়মাছ ছোটোমাছকে খেয়ে ফেলে, তারপর একদিন বড়মাছ মারা যায়, বেঁচে যাওয়া ছোটোমাছ একদিন বড় হয়, সেও অন্য ছোটোমাছ খায়। আর আমি তো, দিন আনি দিন খাই। আদার ব্যাপারীও নই যে জাহাজের খবর নেবো। তবে আজ খেলার পাতা পড়িনি। মন খারাপ, খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলস হেরে গেছে সেমিফাইনালে। অবাক হলাম, শেষদিনে খুলনা দলে পাকি এক খেলোয়াড়কে দেখে! হতাশও হলাম। ওদিকে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরের জয়জয়কার, আফৃদি-আজমল-নাজির-মেহমুদরাই মূলতঃ ঢাকা কিংসকে জিতিয়ে দিলো। গ্যালারীতে আফৃদির জয়ধ্বনি, উল্লাস। তবে, ধন্যবাদ সেই দর্শককে যিনি কাগজে, বুমবুম আফৃদি লিখে আফৃদিকে ক্রস সাইনে কেটে নিচে বড় করে সাকিব লিখেছিলেন। পাকিস্তানকে ঘৃণা করি বলে, ঢাকার এই বিজয়ে খুশি হতে পারিনা, শরীক হতে পারি না। এরচেয়ে বরং পরাজিত খুলনার সাকিবকেই স্যালুট জানাই, বীরের মতো লড়ে যায় যে, পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পরেও যে প্রবল বিক্রমে শেষ দুই বলে ছয় মারে তার প্রতি মুগ্ধতা জানাই। এই লেখা যখন লিখছি, তখন ফাইনালও শেষ হয়ে গেছে। ম্যান অব দ্য ম্যাচ, সর্বোচ্চ রান, এসব পুরস্কার গেল পাকিদের হাতে, ম্যান অব দ্য সিরিজের ৩ প্রার্থীর দুজন পাকি, অন্য জন বাঙালি; সাকিব। সাকিবই পেলো সে-ই গাড়ির চাবি। অভিনন্দন সাকিব। বিপিএল’এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলিউডের চ্ছম্মক্কচ্ছল্লা দেখে বলেছিলাম, বিপিএল=বলিউড প্রিমিয়ার লীগ। শেষদিন এসে মনে হলো এটা আসলে পিপিএল=পাকি প্রিমিয়ার লীগ। এমনকি একমাত্র জুয়াড়ি যে ধরা পড়েছে সেও পাকি।

সন্ধ্যা পাঁচটা তেত্রিশ
মিরপুর তেরো নম্বরের আগে বি আর টি এ’র অফিসের সামনে থেকে দশ নম্বর গোলচক্করের দিকে বিশাল জ্যাম। কোনো গাড়ী চলছে না। সামনে কী হলো বুঝতেও পারছি না। একবার খবর পেলাম, আজ ফাইনাল খেলা তাই রাস্তা বন্ধ, আরেকজন বললো সামনে আগুন লেগেছে। তবে ঘটনা যাই হোক জ্যাম ছুটতে সময় লাগবে, এটাই সত্য কথা। বাদামওলার থেকে ৫০ গ্রাম বাদাম কিনে খাই, জানলাম ১০০ গ্রামের দাম এখন ২০ টাকা। বাদামওলা বললো - দাম বেড়ে গেছে, এই ব্যবসা আর করা যাবে না। জিজ্ঞেস করলাম, ভুট্টার দাম কেমন? জবাব না দিয়ে অন্যদিকে চলে গেল সে। শেষমেশ সোয়া সাতটার সময় বাসার গলিতে ঢুকি। দু’নম্বর কাঁচা বাজারে দোকানে দেখি - সয়াবিন তেলের দাম আবার বেড়ে গেছে, প্রতি লিটার ১৩০ টাকা।

গুড বাই, ২৯ ফেব্রুয়ারি
চার বছর পরপর আসা এই দিনটিকে অন্যরকম মনে হয়। কেন মনে হয় জানি না, এর কোনো কারণ নেই ব্যাখ্যা নেই আমার কাছে। তবে ১লা মার্চে , ভারত বনধ আহবানে [http://www.sachalayatan.com/himu/43489], আমার এয়ারটেল সিমকার্ডটি বন্ধ রাখবো। কালই ঢাকায় শুরু হচ্ছে ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং সামিট। এ বিষয়ের ছাত্র হওয়ায়, ব্যক্তিগত আগ্রহ ছিল – কী হবে, কে কে আসবে তা জানার। শুরুতে জেনেছিলাম, ৩ দিনের এ অনুষ্ঠানে যেতে চাইলে টিকিট ফি ৮৩ হাজার টাকা। সাত নাকি দশ জনের গ্রুপে গেলে জনপ্রতি পয়ষট্টি হাজার টাকার মতো, তেত্রিশ হাজার টাকারও কী একটা প্যাকেজ ছিল। গত জুনে ফিলিপ কটলারের ‘সেশন উইথ ইয়ং’এ গিয়ে চ্রম হতাশ হয়েছি। এ গুরুকে দেখার ইচ্ছে ছিল সত্যি, কিন্তু তার থেকে শোনার আগ্রহ ছিল আরো বেশি। ২ ঘন্টা বলার কথা ছিল, কিন্তু কটলারদাদুভাই নাকি অসুস্থ বোধ করছিলেন, তাই ৩৫ মিনিটের ‘সাদামাটা’ কথায় শেষে থ্যাঙ্ক্যু বলে শেষ করেছিলেন। পোলার নাকি মিল্কভিটার ফ্রি আইসক্রিম খেয়ে বাসায় ফিরেছিলাম দুপুরে। আজ শেষ বিকেলে জানতে পারলাম, এবারের মার্কেটিং সামিটে যাওয়ার একটি ফ্রি প্রবেশ পত্র পাওয়ার সুযোগ আমার আছে। কিন্তু, আগ্রহ পেলাম না, শুনলাম – কটলারদাদুও আসবেন না। কিন্তু, তিনি যদি না আসেন, তার ছবি দেখিয়ে যে বিজ্ঞাপন, প্রচারণা, [http://www.worldmarketingsummit.org/speakers.php] টিকিট বিক্রি সেসবের কী হবে? সবশেষ ওয়েবসাইটে দেখতে পাচ্ছি টিকিটের দাম আরো কমেছে – বিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ হাজারে পাওয়া যাবে (১৫% ভ্যাট ছাড়া) [http://www.worldmarketingsummit.org/register.php]। জানিনা, এ সামিটে কী হবে, ভুরুঙ্গামারির কোনো উন্নতি হবে কিনা, বাংলাদেশের মার্কেটিং থিংকট্যাংকরা ভোক্তা সন্তুষ্টির জগত উল্টেপাল্টে দেবেন কিনা, তবে – মনে পড়ছে গতকাল ডেইলি স্টারে দেখা আরেক বিজ্ঞাপনের কথা – ঢাকায় আসছেন আশা ভোঁশলে। সম্ভবতঃ র্যাহডিসনে গান গাইবেন, সেটাও টিকিট সিস্টেম। এ আর নতুন কী? শাহরুখ নাইট, শ্রেয়া ঘোষাল নাইট, রাহাত আলী খান ইভিনিং (যদিও নাকি শেষ মুহূর্তে আসেনি, দর্শক চেয়ার ভেঙেছে), শিলাকিজওয়ানির ক্যাটরিনা, বিপাশা বসু, সবাই শো করছে। তাহলে জ্ঞানের ফেরিওয়ালা কটলার, লরা রাইস, পুনম কেলার ও অন্যান্যরাও বাদ যাবে কেন? কটলার কিংবা ক্যাটরিনা, লরা রাইস কিংবা লারা দত্ত, পুনম কেলার বা পুনম পান্ডে; বণিক সাম্রাজ্যে তাদের নগদের আশা কি ভুল?
তাই ওরা সবাই নাচনেওলা বাঈজী। এদিকে বুভুক্ষু ভোক্তা সমাজ প্রস্তুত, কেবল ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার অপেক্ষা “এনজয়িং এক্সোয়াইজেড’স ইভিনিং অ্যাট এবিসি হলরুম”।

0 মন্তব্য::

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP