আমার তখন মনে হয়, আমার কৈশোর শেষের প্রথম বান্ধবী আমাকে হাত ধরে জোর করে রিকশায় তুলে নিলো। আমি পাশাপাশি বসে আছি, রিকশা চলছে। ভালো লাগা, ভয়, লজ্জা, সংশয়; সব মিলিয়ে এক অন্যরকম অনুভূতিতে আমি আঁটকে গেছি। আমার কানের কাছে কেউ বলছে - 'এমন চুপ করে আছো কেনো? কথা বলো...'
আমি কী বলবো ভেবে পাই না।
আমার জ্বর জ্বর লাগে। বুক ধুক ধুক করে।
আমি উত্তর খুঁজে পাই না।
আলবাব ভাই আবার বলেন, তাহলে এবার কাজ আগাই।
তারপর কতো কিছু ঘটে। গল্প গুছাই। আমি একা নই। আমার আত্মজন কনফুসিয়াস-তিথি-অমিত আমাকে সাহস দেয়। তাঁরা (খুব সচেতনভাবে চন্দ্রবিন্দু দিচ্ছি) আমার গল্পগুলো পড়ে। কোনটা কী করা যায় বলে। তারপর এক সন্ধ্যায় আমি সিদ্ধান্ত নিই - বই হবে না। আমাকে দিয়ে কিছু করা যাবে না। আলবাব ভাই ঠান্ডা মাথায় কারণ শোনেন। আমার বাকী ৩ পাশের তিনজন আমাকে ভাবতে বলে। যেমন বলে, আমার আশৈশব বন্ধু সৌরভ, প্রিয় হিমু ভাই, অনেক আড্ডার দৃশা।
তারপর আবার অন্য কোথাও ফেলে দেয়া ফোল্ডার খুলি। ক্রমশঃ গুছিয়ে উঠে একটি বই। নানান আপডেটে ফোন করি রুমকি-প্রিয়কে। তাদের ক্যামেরার ক্লিকে দাঁড়াই এক সন্ধ্যায়।
প্রচ্ছদ হয় নানা রকম।
পছন্দ হয়, আবার হয় না।
নানান মেইল চালাচালি।
বইয়ের শেষ প্রচ্ছদ দিই, ফেসবুকে।
সেই কবে, কতোসব ভুলে যাওয়া মঙ্গলবারে, কতোসব জাদুকরী শব্দে ঝিম ধরানো মানুষ মোরশেদ ভাই। প্রিয় হাসান মোরশেদ লিখেন সচলায়তনে। সেদিন আমি পালিয়ে বেড়াই। সচলে লগ ইন করি না অনেক বেলা। আমার কেবল নিজের মাঝে লুকোতে ইচ্ছে করে...।
স্কুল জীবনের পর প্রবল নিঃসঙ্গতার মাঝে আমার বেড়ে ওঠা। কীভাবে এমন অতীতচারী হয়ে গেছি, কে জানে, কেনো। কর্ণফুলী না দেখে গোমতী-মেঘনা পার হয়ে, বুড়িগঙ্গা না দেখে, কবে চলে গেলাম কাওয়াই নদীর পাশে। তারপরে অনেক স্রোতে ভেসে আটলান্টিকের এপাড়ে। লেক অন্টারিও।
অনুভূতিগুলো মাঝে মাঝে অবশ হয়ে যায়।
আমার কিছু বলার থাকে না। আজ ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০০৯।
গৌরবের একুশের বইমেলায়, ভালোবাসার প্রাঙ্গণে, শুদ্ধস্বরের স্টলে আজ একটি বই শোভা পাচ্ছে।
আনোয়ার সাদাত শিমুলের 'অথবা গল্পহীন সময়'।
ভিখিরি আমি আজ ডাকাত হয়ে গেছি, কাগুজে লেখক তালিকায় নাম লিখিয়ে কুঁকড়ে আছি খুব।
কেবল একটি ছবির দিকে তাকিয়ে চশমাটা খুলে নিচ্ছি চোখ থেকে। মোড়ক উন্মোচনে একজন মানুষ আমার বই হাতে তুলে দেখাচ্ছেন সবাইকে। এই বইয়ের প্রতিটি অক্ষর তাঁর পরম মমতায় পৃষ্ঠাবন্দী হয়েছে। নজমুল আলবাব। প্রিয় লেখক, শ্রদ্ধার মানুষ, বড়োভাই; কতো কিছুই তো ডাকি।
আলবাব ভাই, বারবার ফোন করবো ভেবেও নম্বরটা চাপতে পারছি না। কিছু কিছু সময় এমন অবশ হয়ে যায়। করে দেন কেউ কেউ। খুব অল্প কিছুজন। অথবা গল্পহীন সময়। অথবা প্রিয় নজমুল আলবাব।
.
.
.
20 February, 2009
তারপর অথবা গল্পহীন সময়
লিখেছেন: - at 5:00 PM 11 মন্তব্য:
15 February, 2009
ফারুকীর ‘ফার্স্ট ডেট’: প্রেম শুধু শরীর ঘিরে
ফারহানা বিথী ফেসবুকে পরিচয় সুত্রে পিন্টুকে সাদা শার্ট কালো প্যান্ট পরে আসতে বলেছিলো। প্রথম দেখা হবে। পিন্টু গিয়ে দেখে সেই স্পটে আরও একদল প্রেমিক ভীড় করেছে, তাদের কেউ রোসান, কেউ সাগর, সাদা-শার্ট কালো প্যান্টে। হাতে গোলাপের স্টিক। কেবল ফারহানা বিথী নেই। প্রেম-অপ্রেমের বিষণ্ণ শহরে প্রেমিকেরা গোলাপের স্টিক ফেলে আরও বিষণ্ণ হয়। কিন্তু, ডিজুস লাভার পিন্টু থেমে থাকার নয়।
নানান চক্কর শেষে পিন্টু লিটনের ফ্ল্যাটে। নতুন প্রেমিকার সাথে।
‘কী করা যায়?’
প্রেমিকা বলছে - চা বানাও, অথবা আসো ইংলিশ টু বেঙ্গলী ডিকশনারী পড়ি। পিন্টু ডিকশনারীই পড়তে চায়, হাজারো শব্দের মাঝে কেবল 'ডেটিং' শব্দটি শিখতে চায়। উহু, আগে চা বানাতে হবে। চা ভালো হলে ওখানে (আঙুলের ইশারায় বিছানা)।
পিন্টু চা বানায়। এনটিভি সীল মারা মগে চা খায় তারা। তবুও ডেট হয় না। এই প্রেমিকা বুঝায়, ডেটিং করতে করতে কাউকে কি পুরনো মনে হয় না?
পিন্টুর জবাব দেয় না। তার আকুতি, চা কেমন হলো। প্রেমিকা পাশ মার্ক দেয়। এবং তারা বিছানা রুমের দিকে যায়। দরজা বন্ধ হয়। প্রেমিকা নাটক করে বলে, সে এইচআইভি পজিটিভ। পিন্টু যেহেতু ভীতু, তাই তারা আবার ডায়নিং রুমে ফিরে।
তাহলে শেষে কী হবে? পিন্টুকে হেদায়েত করার দায়িত্ব কে নিবে? নাট্যকার এবার বিবেকীয় সংলাপে বলায় পিন্টুর মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে, সম্পর্কগুলোকে বস্তুগত কিংবা শারীরিক না, মানবিক সম্পর্ক হিসেবে ভাবতে হবে। শেষ পর্যন্ত এইচআইভির ভয় (‘নাট্যকার কি বাঁচতে হলে জানতে হবে’ জানে না?) দেখিয়ে প্রেমিক পিন্টুকে একা রিকশায় বসিয়ে নাটক শেষ হয়।
__
এরকম বিবেকীয় বিশেষ সম্পাদকীয় লিখেছিলো আরেকজন। রগরগে সব কাহিনী ছাপিয়ে বিশেষ সম্পাদকীয়তে সত্তুরোর্ধ স্যুটেড বুটেড সম্পাদকটি লিখেছিলো, এসব কাহিনী আগামী দিনে সমাজ বিজ্ঞানীদের গবেষণার উপাদান হবে, এগুলো অশ্লীল নয় – সামাজিক বাস্তবতা। সেই সম্পাদকটি বাংলাদেশে ভ্যালেন্টাইন ডে চালু করেছিলো। নানান নাটক শেষে মিস্টার রেহমানের পতন হয়েছে। ঢাউশ সাইজের বিশেষ ভালোবাসা সংখ্যা এখন বোধ হয় বের হয় না। কিন্তু তার জায়গাটি এবার দখল করে নিলো মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। প্রাইম ইয়ুথের চাওয়া-পাওয়া স্যালুলয়েডের ফিতায় বন্দী করে এনটিভি’র বক্সে দর্শকের ড্রয়িং রুমে তুলে দিয়েছে।
__
মো.স. ফারুকী,
দর্শক হিসেবে আমি এখনো পিঁছিয়ে আছি হয়তো। এফ টিভির ‘মিডনাইট হটস’ ব্যক্তিগত পরিবেশে দেখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। শরীরি প্রেমের এসব সংলাপ ঘনিষ্ট – দৃশ্য কুৎসিত নির্মাণে এনটিভি’তে দেখতে প্রস্তুত নই। চড়ুইভাতি/স্পার্টাকাস এবং আরও কিছু কাজ দেখে মুগ্ধতা ছিলো আপনার প্রতি।
তাই ‘ফার্স্ট ডেট’ দেখে আপনার প্রতি আমার জঘন্যতম নিন্দাটি জানাচ্ছি তাৎক্ষণিক।
__
ডাউনলোড লিংকঃ এখানে
ছবিসূত্র
.
.
.
লিখেছেন: - at 4:43 AM 0 মন্তব্য:
07 February, 2009
মিথিলা কি মারা যাবে?
এক মিথিলা মারা গিয়েছিলো ব্লগে। ২০০৭এর ১/১১ এ সময়ের কাছে কিনারে। অথবা মিথিলা মারা যায়নি। সে কেবলই নাটক ছিলো। নাট্যকার-কুশীলবের দক্ষতায় মাতম ছিলো অনলাইনে। 'মিথিলা, তোমার ম্রিত্যুর জন্য দিনটি চমৎকার ছিলো' লাইনের অসাধারণ কবিতাও লিখেছিলো কেউ। সেন্ট্রাল পার্কে মিথিলার ভার্চুয়াল কবর দেয়া হয়েছিলো। এসবই এখন অতীত।
ইফতেখার ফাহমি আর রেদওয়ান রনির মেগা সিরিয়াল 'হাউজফুল'। এন টি ভি'তে দেখায় সপ্তায় দুদিন। মোটামুটি ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ইউটিউবে /রঙিলা সাইটে চলে আসে। সাপ্তাহিক বিনোদন হিসাবে খারাপ লাগে না। হিউমার আর উইটের ভালো মিশ্রণ আছে। আছে স্টারের আনাগোনা। ৫৮ পর্ব শেষে কেউ যদি জিজ্ঞেস করে, এই নাটকে কী হয়? কাহিনী কি? এর উত্তর দর্শক আমি দিতে পারবো না। মনে হবে, কিছুই হয় না। আবার মনে হবে- অনেক কিছু হয়। তবে ওগুলো কাহিনী নয়, ঘটনা। এই দেখি, এই ভুলি। সব বিক্ষিপ্ত, এক সুতোয় গাঁথার মতো না।
আজ ৫৯ পর্ব দেখতে গিয়ে শুরুতেই নাটকের চরিত্র মিথিলা (যার আসল নামও মিথিলা, কেউ কেউ তাহসানের বৌ নামে চিনে) আড্ডার মাঝে মাথা ব্যাথায় আক্রান্ত হলো। নাট্যকার যেহেতু ব্লগের মহাজনীয় তত্ব জানেনা, তাই দর্শক হিসাবে অনুমান করি - ব্রেইন টিউমার। রাতে ঘুমের মাথাব্যাথা, ডাক্তারের চেম্বার, ব্লাড টেস্ট, পেছনে স্যাড মিউজিক, রিপোর্ট নিয়ে পারিবারিক লুকোচুরি শেষে ব্রেইন টিউমারই ধরা পড়লো। মেগা সিরিয়ালে ধুম করে কাউকে মেরে দর্শক সেন্টিমেন্ট আদায় খুব চাল্লু টেকনিক হয়ে যাচ্ছে তাহলে। ফারুকীর ৬৯, হুমায়ুনের 'এইসব দিন রাত্রি', 'কোথাও কেউ নেই', কিংবা অন্যকারো 'ট্যাক্সি ড্রাইভার' সব জায়গায় দেখি এই এক ধারা।
ফেসবুকে হাউজফুল সিরিয়ালের ফ্যানরা ধমক দিচ্ছে - মিথিলাকে মারলে হাউজফুল বয়কট করা হবে। ফেসবুকে গ্রুপটি চালায় হাউজফুল প্রোডাকশনের লোকজন, ৫০তম পর্বে নাট্যকারেরা এই গ্রুপে জয়েনের ডাকও দিয়েছিলো স্বয়ং। তারা কি শুনছে তাদের ভিউয়ার্স কী বলছে।
ব্রেইন সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট কি ভুল আসবে আগামী পর্বে, নাকি শেষ পর্যন্ত মিথিলা মারাই যাবে?
.
.
.
ছবি সুত্রঃ এখানে
লিখেছেন: - at 2:52 PM 7 মন্তব্য: