12 August, 2009

ধুসর গোধূলীর জন্মদিনে...

সঠিক বানান কোনটি? ধুসর নাকি ধূসর, কিংবা গোধুলী নাকি গোধূলী?
আবার বলা হয় – নামের বানানে ভুল নেই।
ভুল থাকুক আর না থাকুক, এটাও বলা হয় – নাম দিয়ে যায় চেনা, নামেই পরিচয়।
বাংলা ব্লগ জগতে তেমনি একটি নাম ধুসর গোধুলী।
বিরামহীন কমেন্ট, হাসি মজায় ভরপুর, ক্লাসিক শালী শিকারী এই ধুসর গোধুলীকে নিয়েই বোধ হয় বাংলা ব্লগে সবচে’ বেশী ফ্যান্টাসী লেখা হয়েছে।
নিকের পেছনের মানুষটির বিরুদ্ধে আমার অভিযোগ আছে অন্ততঃ ৩৭টি।
ইচ্ছে ছিলো – ৩৭টি অভিযোগ নিয়ে ধুসর গোধুলীর ৩৭তম জন্মদিনে বিশাল একটি পোস্ট ছাড়বো। কিন্তু, একটু আগে জানতে পারলাম – এবার ৩৭তম নয়, ৩৮তম জন্মদিন তার। তাই অভিযোগ টভিযোগ বাদ।
একটা সত্য গল্প বলি।
আজ সকালে ফোনে রুমার কাছ থেকে শুনলাম এ গল্প।
_
ছাত্র জীবন থেকে ধু-গো মহা বাজিগর।
বাজি ধরে আর জিতে। ধরে আর জিতে। ধরে আর জিতে।
হারাহারি নাই।
একটি বহুজাতিক কোম্পানীর ঢাকা অফিসে ধু-গো যখন জয়েন করলো, তখন সবাইকে নাজেহাল করে ছাড়লো। এটা নিয়ে বাজি, ওটা নিয়ে বাজি। প্রত্যেকবার ধু-গো জিতে।
অফিসের বিগবস অতিষ্ট হয়ে ধু-গো কে চিটাগাং ট্রান্সফার করে দিলো।
চিটাগাং অফিসে যাওয়ার পরপর ওখানে বিশাল হৈ-হল্লা পড়ে গেলো। হেড অফিস থেকে সেই মহা বাজিগর চিটাগাং অফিসে জয়েন করেছে।
চিটাগাং অফিসের বস ধু-গো’কে রুমে ডাকলো, “আচ্ছা, ধু-গো আপনি নাকি বাজি ধরেন আর জিতেন, সত্য নাকি?”
ধু-গো মিটিমিটি হাসে, বিনয়ী হয়ে বলে “জ্বী স্যার”।
বস্‌ এবার আগ্রহ নিয়ে বলে, “দেখি আমার সঙ্গে ধরেন তো একটা বাজী।“
ধু-গো বলে, “বাদ্দেন স্যার, পারবেন না”।
বস বলে, “আরে না, ধরেন – অসুবিধা কী?”
ধু-গো রাজী হলো, ৫০০ টাকার বাজী, বললো – “স্যার আপনার দুই পায়ের তালুতে মোট ১৫টা তিল আছে”।
বস এবার হা হা করে হাসে। বলে, “ধুর কী বলেন? ৫০০ টাকা তো হারালেন!”
ধু-গো হাল ছাড়ে না, বলে – “স্যার আমি শিউর – ১৫টা তিল আছে, আপনি জুতা মোজা খোলেন”।
বস জুতা মোজা খুললো। দেখা যায় কোনো তিল নাই।
সবাই হাত তালি দেয়। ধু-গো পকেট থেকে ৫০০ টাকা বের করে বসের হাতে তুলে দেয়।

খানিক পরে ঢাকা অফিস থেকে ফোন।
ঢাকা অফিসের বিগ বস করেছে চিটাগাং অফিসের বসের কাছে, “হ্যালো, আপনার ওখানে ধু-গো জয়েন করেছে? আজই তো যাওয়ার কথা।“
চিটাগাং অফিসের বস হো হো করে হাসে, “হ্যাঁ হ্যাঁ জয়েন করেছে, তবে বেচারা বাজীতে ৫০০ টাকা হেরে মন খারাপ করে বসে আছে, হে হে হে”
“কী বলেন, কী হয়েছে?” ঢাকা অফিসের বসের প্রশ্ন।
“আর বলবেন না, আমার দুই পায়ের তালুতে নাকি ১৫টা তিল আছে, এই বাজী ধরে ৫০০ টাকা হেরে এখন চুপচাপ ডেস্কে বসে আছে”।
ঢাকা অফিসের বস হাহাকার করে ওঠেন, “হায় হায় এটা কী হলো? সর্বনাশ!”
চিটাগাং এর বস জিজ্ঞেস করেন, “কেনো স্যার, কী হয়েছে?”
ঢাকার বস বলেন “আর বলবেন না, ধু-গো ঢাকা থেকে যাওয়ার সময় আমার সঙ্গে বাজী ধরে গেছে, চিটাগাং অফিসে গিয়ে ৩০ মিনিটের মধ্যে আপনার দুই পায়ের জুতা মোজা খুলিয়ে ছাড়বে, ৫০০০ টাকার বাজী ছিলো, আমি তো হেরে গেলাম!”
“এঁ!” চিটাগাং এর বস থ মেরে থাকে।

তো এই হলো ধুসর গোধুলী।
রুমার বলা এই গল্পটা সত্যও হতে পারে, মিথ্যেও হতে পারে। তবে এ কথা ১০০ ভাগ সত্য – আজ ধু-গো’র জন্মদিন।
এমন শুভদিনে জা-কা-জা এবং সমগ্র সচলসঙ্গীর পক্ষ থেকে ধুগো’কে সীমাহীন শুভকামনা। শুভ জন্মদিন।
_
বিঃদ্রঃ – রুমা কে – জানতে হলে আজ থেকে ২ বছর আগের এই দিনের পোস্টে চোখ বোলাতে হবে।

0 মন্তব্য::

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP