09 July, 2009

আধখানা মানুষ

মনে হচ্ছে এ যেনো স্বর্গ থেকে পতন। আহ! কী শান্তিতেই না ছিলাম এই দুই মাস...। কাজের চাপ ছিলো অফিসে, চিন্তা ছিলো হালকা, কিন্তু আগের ৮ মাসের মতো যন্ত্রণা ছিলো না। কোর্সওয়ার্ক শেষ হওয়ার পরে যেটা ভালো লাগলো বেশি তা হলো একগাদা মেইল থেকে মুক্তি। ৫ কোর্সের ৫টা টীম, ৫টা মাস্টার আর ক্যারিয়ার সেন্টারের মেইল। সঙ্গে ছিলো - টিএ শীপের কাজ, তার মেইল। হাঁফিয়ে উঠেছিলাম।
এ জন্যই ভীষণ আরামের মনে হলো - গত মে-জুন।
আহ, নায়াগ্রা ফলস, আহ!
আহ, উইন্ডজর ট্রিপ, আহ!
কী করে ভুলি এইসব দিন। ঝামেলাহীন এমন সোনালী সময়, কেনো এমন পলকেই চলে যায়!

গত দু'মাসে মুভি দেখছি হাফ ডজন।
বই পড়েছি এক ডজন। এখন হাতে আছে আগুন পাখি, লাভ ইন দ্য টাইম অফ কলেরা, হোয়াট গুগল উড ডু, দ্য লং টেইল, দ্য কাইট রানার, কালো বরফ, মাটির জাহাজ। এর বাইরে দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ ফ্ল্যাট সম্ভবত ধরতে পারবো না।
জীবন খুব ছোটো।
খুব দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে সময়। পড়ছিলাম ধীরাজ ভট্টাচার্যের 'যখন পুলিস ছিলাম'। টেকনাফের মাথিনের কুপের ধীরাজ। তার আরেকটা বই 'যখন নায়ক ছিলাম'। কতো আগের লেখা, কিন্তু মারাত্মক স্বাদু গদ্য। পড়া হলো না ওসব।
গতকাল মনজুরের সঙ্গে আলাপ হচ্ছিলো, বিষয় - আবার যদি আঠারো বয়সে ফিরে যেতে পারতাম!
হায়, ঈশ্বর - 'কে হায় প্রায়শ্চিত্তের পেয়ে গেলো অবসর, আমার তো পাপ করবার সময়টুকুও নেই!' কার লেখা? আনন্দ নারায়ন মুল্লা?

অবস্থা যেই পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে টেনশনে হা হুতাশ করার কথা।
এরপরেও দাঁতে দাঁত চিপে আছি।
হাতে সময় ৬ দিন।
এখনো মেজর রিসার্চ পেপারের ৫০ ভাগ কাজ বাকী।
অফিসের জিম-ক্রিস্টিন বলছে ডোনার সার্ভে হয়ে যাবে। কিন্তু আমি লিখবো কখন?
এইসব তুমুল চাপে মাথায় আসে গল্প উপন্যাসের প্লট। মাথাটা কিরকির করে যন্ত্রণা দেয়। কাজের চাপ কমলে গল্পেরা মারা যায়। ফেসবুক ডিএক্টিভেট করেছি ১ মাসের জন্য। তবুও কাজ আগালো না। শরীরের ওজন না বেড়েও যেমন মুখের আয়তন বাড়ে...

ইয়াহু একাউন্টে এখন কেউ তেমন মেইল করে না। প্রথম পাতায় ইনবক্সে ২০০ মেইল দেখায়। ওখানে ২০০৭ সালের মেইল পর্যন্ত আছে। কিন্তু ২০০৬-২০০৫ সালের দিকে এক মাসেই ২০০'এর মতো মেইল পেতাম ইয়াহুতে। আজ হঠাৎ কী জানি মনে হলো ভাবলাম আগের বছরগুলোয় জুলাই মাসে পাওয়া মেইলগুলো পড়ি। পড়লাম বেশ কিছু।
আমার ধারণা ভুল ছিলো।
সব কিছু মনে থাকে না। কতো কিছুই ভুলে যাই।
অন্যরকম ভালো লাগলো, চেষ্টা না করেই কতো সহজেই ভুলে গেলাম কতো কিছু!
...কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে?হায় চিল, সোনালী ডানার চিল...

ইয়্যুটিউবে ঘুরছিলাম।
সুমেধা কারমাহির প্রতি দীর্ঘদিনের জমে থাকা মোহ এবার কি আসমা মোহাম্মদ রাফি কাটিয়ে দেবে?
ভেবে দেখলাম, উত্তরটা সম্ভবত - 'হ্যাঁ'।
_

_

3 Comments:

প্রকৃতিপ্রেমিক said...

হা শিমুল, লেখাটা তো সচলে দাওনি। মনে হচ্ছে দ্রুতই লিখে ফেলেছ। একটু একটু কষ্ট মনে আসতে আসতেই শেষ হয়ে গেল। যাক ভালই হলো। খামাখা পাঠককে কষ্ট দিয়ে লেখকের কী লাভ।

Anonymous said...

sumedhar chehara bhalo, tobe asma hot.

(chor)

আনোয়ার সাদাত শিমুল said...

পিপি'দাঃ
এরকম মাঝে মাঝে হুটহাট কিছু লিখি, মাথায় যা আসে -যখন যা দেখি, করি বা ভাবি; সেসব লিখি। এসব পড়ে পাঠক কষ্ট না পেলেই খুশি হই :)
_

ha ha ha! apnar sathe amar onek pochonder mil... @ chor