09 June, 2009

মেঘ পিওনের ব্যাগ

এমন সকালে কারও সঙ্গে কথা বলতে আমার ভালো লাগে না। শনি-রবিবার সকাল ছাড়া কোনো সকালেই আমার ঘুম পূর্ণ হয় না। তাই প্রতিটি সকালে আমি বিষন্ন থাকি। মুখভার থাকি। আমার নীরব থাকতে ভালো লাগে। ভেবে দেখলাম গত এক যুগ ক্রমাগতঃ এমন নিঃসঙ্গ সকাল আমাকে অবশ করেছে। সকাল মানে আমার জন্য এক কাপ কফি, সকাল মানে মেইল চেক করা, সকাল মানে গান শোনা। সকাল মানে ভাবা আরও একটা দিন গেলো...।

এখানে আসার পর সকালের ট্রেন যাত্রা খুব উপভোগ করি। ভাগ্যক্রমে সীট পাওয়া গেলে আরামসে বই পড়া যায়। ১১ আর ১০ এ ২১টি স্টেশন দ্রুতই পার হয়। আমার ভালো লাগে। বই পড়তে গিয়ে যা ঘটে তা হলো, গন্তব্যে পৌঁছার মুহুর্তে বইয়ের সবচে' আকর্ষণীয় অংশ শুরু হয়। আর আমি সারাদিন অপেক্ষায় থাকি।

তালিকা করেছি, আগামী ১২ সপ্তায় ১২টা বই শেষ করবো। এ উইকএন্ডে প্রিয়-রুমকির সঙ্গে আড্ডায় খেলা দেখে দিন গেলো। আজ সকালে যখন ভিক্টোরিয়া পার্ক স্টেশনে বাসে উঠতে যাবো, শুরু করবো প্রায় শেষ হয়ে আসা 'আউটলায়ার্স', তখন দেখি প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো - পল। মার্কেটিং এর লেকচারার। পলের কাছে আমার সীমাহীন কৃতজ্ঞতা। উইন্টারে টি-এশীপ অনিশ্চিত হয়ে গেলে যখন ধুমায়ে সবার কাছে মেইল করছি, তখন পলই একমাত্র মেইলের রিপ্লাই করেছিল। কফি আলাপের ডাক দিয়ে কাজ দিয়েছিলো প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। এ কারণেই ৪ মাস থাকা খাওয়া ঘোরা নিরাপদে করতে পেরেছি। আলাপের শুরুতেই জেনে নিলাম সে কোন স্টেশনে যাবে। ব্লোর এন্ড ইয়াং; মানে ১১টা স্টেশন পর্যন্ত কথা বলতে হবে। স্বভাবতই আমি ভালো শ্রোতা তাই সমস্যা হয় না। পড়ালেখা-অর্থনীতি-বাংলাদেশ-পিএইচডি-সোশ্যাল সিস্টেম-বেড়াল; এরকম নানান বিষয়ে কেটে যায় পঁচিশ কিংবা এরকম কোনো মিনিট। আমি ব্লোরে উত্তরমূখী প্ল্যাটফর্মে, ওপাশে দক্ষিণমূখীতে পল। আমি আবার আউটলায়ার্সের পাতা উল্টাই...। টরন্টোর ভিক্ষুকরা এমন ভদ্র ভাবে পয়সা চায়, প্রথমে দেখে খুব অবাক হয়েছিলাম। তবে আজ চমকালাম, 'লেডিস এন্ড জেন্টেলম্যান, আয়্যাম হাংরি ফর লাস্ট থ্রি ডেজ, জাস্ট থিংক - থ্রি ডেজ, ওহ গড মারসি মি, প্লিজ হেল্প মী'। ময়লা জামার, অপরিচ্ছন্ন চেহারার কৃষ্ণাঙ্গ মহিলার সকাতর আকুতি। এক নজরে দেখে মনে হয় ড্রাগ এডিক্টেড। সব ঐ ম্যালকমের দোষ, তার 'ব্লিংক'ই শিখিয়েছে - জাজ এট ফার্স্ট সাইট। অন্ধকার টানেলে ট্রেনের জানালায় তাকিয়ে নিজের মুখই দেখি...। আর কিছু নয়...।

অফিস থেকে যখন বের হবো, প্রচন্ড মাথা ব্যথা। ঠান্ডা বাতাসে উলটো পথে টিম হর্টন্সে না গিয়ে শেপার্ড সেন্টারে ঢুকি। কফি শপ খুঁজি। জানি না কীভাবে, কেনো - এসে দাঁড়াই 'কোল'' , বইয়ের দোকান, এর সামনে। মিনিট চল্লিশেক ঘুরে বগলদাবা - ওয়ার্ল্ড ফেমাস ডিক্টেটরস, আর থ্রি কাপ অব টি। প্রথমটা স্রেফ ইতিহাস জানার জন্য। আর পরেরটা পাকিস্তান-আফগানিস্তান প্রেক্ষিতে লেখা। টিটিসিতে অনেক মাস বিজ্ঞাপিত ছিলো। ততক্ষণে মাথাব্যথা কমে গেছে। তবুও কফি কিনি...। মন খারাপে ট্রেনে উঠি।

মন খারাপের কারণ, ঐ একটাই। লিখতে ইচ্ছে করছে না বিস্তারিত।
সচলে এক পোস্টে দুটো কমেন্ট করেছি -

গত ৫ বছরে আজ এই প্রথম আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের উপরে চ্রম বিরক্ত হলাম।হ্যালু, হ্যালু উৎপল শুভ্র, হ্যালু মতিউর রহমান, হ্যালু প্রথম আলু, আমিও লাইনে দাড়াইলাম। আমিও শপথ করিব আজ।আমি শপথ করিতেছি যে, ২০০৯ এর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের আর কোনো খেলা আমি টেলিভিশনে কিংবা ক্রিকইনফো বা অন্য কোনো মাধ্যমে ফলো করিবো না।

-
আসসালামুয়ালাইকুম আশরাফুল গং। ভালো থাইকেন। আমার মন ভালো/খারাপ করানোর দায়িত্ব আর বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের উপরে রাখতে চাই না। ২০০৯ সাল অন্ততঃ এই অপদার্থ ক্রিকেট প্রতিভা থেকে মুক্তি চাই। জাঝাকুল্লাহ খাইরান। খুদাপেজ।

-

হিসেব করে দেখেছি, নিজের কাছে করা প্রতিজ্ঞাগুলো ভুলে যাই মাঝে মাঝে।
এই প্রতিজ্ঞা আমি পালন করতে চাই।

অসংখ্য মন খারাপের ডিস্টার্বিং এলিমেন্ট হুটহাট আজকাল যন্ত্রণা দেয়।
কষে লাত্থি মারতে ইচ্ছে করে এসব যন্ত্রণাকে...

ভরসা ইয়্যুটুব।
এবং রাজ কাপুর...
অনুবাদে পেলাম -
Give ur life for someone's smile..take other's pain..love others..that is life...
i accept that i m poor..but not from heart..life is one which knows how to love..
that is life.. relation among hearts is by belief in each other..
love is alive bcoz of us.. i will be remembered even after I die..
I will smile through someone's tears..that is life...



.
.
.

1 মন্তব্য::

নিঘাত সুলতানা তিথি 20 June, 2009  

হেই শিমুল...অনেক দিন পরে ইন্টারনেটে কিছু পড়লাম জানেন?

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP