03 June, 2009

নিয়ন পেপসি - ২ : শুরুর কথা

এ প্রশ্নের উত্তর দেয়া আমার কাছে একটু কঠিন মনে হয়। সাক্ষাতে কিংবা অনলাইন চ্যাটে যারা এ প্রশ্ন করেছেন তারা আমার সরাসরি উত্তর শুনে ভ্রুঁ কুঁচকিয়েছেন। ভাবখানা এমন যেনো, এই ব্লগস্ফিয়ারে এত শত শত লোক থাকতে ঐ লোকের কাছ থেকে আপনি বাংলা কম্যুনিটি ব্লগের খবর প্রথম পেয়েছিলেন? কী আর করা, সত্য তো সত্যই। এই যেমন সেদিন, ডানডাস স্কয়ারে বসে বন্ধুবর অমিত আহমেদ এবং জনপ্রিয় কিংকর্তব্যবিমুঢ়ের সঙ্গে কফিতে চুমুক দিচ্ছি, তখনো এ আলাপ শুরু – আপনাকে বাংলা ব্লগস্ফিয়ারের খবর প্রথম কে দিয়েছিলো?

আমাকেও সে-ই পুরনো গল্প বলে যেতে হয়।
অনলাইন জীবনের প্রথম দিকে নানান বাংলা সাইটে রেজিস্ট্রেশনের কারণে কিংবা পত্রিকায় চিঠিপত্র কলামে লেখার শেষে ই-মেইল দেয়ার কারণে – অথবা অন্য কোনো অজানা কারণে, আমার ইয়াহু ইমেইল এড্রেস বিভিন্ন জাংক মেইলের লিস্টে চলে গেছে। ক্যালেন্ডারের পাতায় ৯ বছর উলটে গেছে, কিন্তু এখনো হাবিজাবি মেইল আসে। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, জব ট্রেনিং, সাইপ্রাসের ভিসা, কক্সবাজারকে ভোট দিন, হাই ফাইভ – ইয়ারীতে বন্ধু করতে চাই। কী নেই! তবে বেশি মনে পড়ে আদিত্য আনীকের কবিতা মেইল। অনেক অনেক রিকোয়েস্ট করেও যখন ঐ মেইল তালিকা থেকে নিজেকে সরাতে পারিনি তখন আদিত্যিক ঠিকানাটি ব্লক করেছিলাম। মনে পড়ে, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি মোহাম্মদ আলী আকন্দকে। ভারতের নানান ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রায়ই তিনি মেইল করে সাবধান করে দিতেন, জনসচেতনতা তৈরি করতেন। এ সবই আজ অতীত! এ অতীতেই, ২০০৫ এর শেষের দিকে সদ্য প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিকের ইয়াহুগ্রুপে আমার ইয়াহু একাউন্ট যুক্ত করে নেয় একজন। এই ভদ্রলোক এরপরে নানান মেইলে নিয়মিত ঐ সাপ্তাহিকের কোন সংখ্যায় কী ছাপা হলো – সে সব লিংক দিতেন। আমিও ক্লিক করে দেখে আসতাম। এই ভদ্রলোক, নিজের রিপোর্টিং এর জন্য নানা রকম জরিপও চালাতেন। লিংক দিয়ে বলতেন – এখানে কিছু প্রশ্ন আছে, উত্তর দিয়ে আসেন। আমি সেই লিংকে যাই, কিন্তু কী লিখবো বুঝি না। তবে পরের সপ্তায় আপডেট আসতো – রিপোর্ট ছাপা হয়েছে, দেখে আসুন। খারাপ না, ভালোই লাগে। অন্ততঃ কবিতা মেইল বা ভারত সতর্কতার মতো বিরক্তিকর না।

এরকম একদিন, ২০০৬ এর মাঝামাঝি সময়ে – ভদ্রলোক আবার ঐ ইয়াহু গ্রুপে মেইল করলেন। বাংলা ব্লগ নিয়ে একটি রিপোর্ট ছাপা হয়েছে সাপ্তাহিকটিতে। সেখানে চলমান বাংলা ব্লগের কয়েকজন ব্লগারের মন্তব্য, কে কেনো ব্লগিং করেন, একটি ফান্ড রাইজিং উদ্যোগের কথা ছিলো। তবে আগ্রহ পেয়েছিলাম, এ কথা জেনে – ব্লগে লিখলে সাথে সাথে পাঠক প্রতিক্রিয়া চলে আসবে মন্তব্যের ঘরে। মুহুর্তেই জেনে যাবেন, আপনার লেখাটি কার কেমন লেগেছে। ব্লগ পোস্ট নিয়ে বইও ছাপা হচ্ছে – যেগুলোকে ব্লগ ও বুক এর মিশ্রণে ‘ব্লুকস’ বলা হচ্ছে। মহা তুলকালাম কান্ড। ব্লগে লিখে টাকা আয় করা যাবে, এমনও নাকি সম্ভব! ঐ রিপোর্টে দেয়া লিংকে ক্লিক করে দেখি একটি বাংলা সাইট। এখনকার বাংলা ব্লগজগতের জনবহুল সাইট। দূর্দান্ত কিছু লেখা পড়ে ফেললাম এক টানা। মনে পড়ছে – বাম পাশে সর্বোচ্চ ব্লগারের একটি তালিকাও ছিলো, সেখানে ৭৭/৭৮টি পোস্ট দিয়েও জায়গা করে নিয়েছিলো কেউ কেউ। সেদিনই রেজিস্ট্রেশন করলাম। লিখে ফেললাম – ছোট্ট এক পোস্ট। দিনটি ৩রা জুলাই, ২০০৬।

সে-ই যে ব্লগের নেশা পেয়ে বসলো, এখনো ছাড়লো না। কতো কিছু হয়ে গেলো। ব্লগ জগত বিস্তৃত হলো। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে জায়গা করে নিলেন ব্লগারুরা। হারিয়ে গেছে প্রথম দিকের কতো কতো মুখ। এসেছে নতুন ব্লগার-প্রজন্ম, আসছে, এবং আসবে। দ্বন্ধ-কোলাহল-সংঘাত কিংবা নাটকের কমতি নেই। তবুও তুমুল গতিতে ছুটছে – কী বোর্ড। ব্লগ এক্সপ্রেস। কতো কতো স্টেশন পেরিয়ে গেলো গত প্রায় তিন বছরে। পিঁছু ফিরে দেখি স্মৃতির ঝাপির ওজন একেবারে কম নয়। ব্যক্তিগতভাবে আমার ব্লগিং এ প্রথম উৎসাহ ছিলো – কনফুসিয়াসের কিছু কমেন্ট। কোন সেই কমেন্ট কেনো এতো গুরুত্বপূর্ণ এ আলাপ পরে হবে, অন্য কোনো পর্বে। সেসব আজ থাক।

লিখতে গিয়ে ভেবেছিলাম, ব্লগিং নিয়ে খানিক নস্টালজিক হই আজ। ধুসর গোধুলি-চোর-মুডিওয়ালা কিংবা নুশরাত শারমিন সুমির কিছু গল্প বলি। কিন্তু, শুরুতেই এসে গেলো – ঐ প্রশ্ন, বাংলা ব্লগের প্রথম খবর আমি কার কাছ থেকে পেয়েছিলাম। কীভাবে পেয়েছিলাম সে গল্প করা হলেও ভদ্রলোকের নামটি বলা হয়নি। বলাটা খুব জরুরীও নয়। পাবলিক ফোরামে তিনি ৩টি যুগান্তকারী তথ্য দিয়েছিলেন – ১) বাংলাদেশের অনেক অনেক সাংবাদিক সন্ধ্যার সময় তার রুমে এসে অপেক্ষা করে, তার যে কোনো লেখা দেশের ১ম সারির আধা ডজন দৈনিক ছাপানো মুহুর্তের ব্যাপার মাত্র। ২) কামাকাঙ্খাই অসহনীয় মাথাব্যথার অন্যতম কারণ, এবং ৩) তিনি বাংলাদেশের প্রথম পাঁচজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর একজন।
আর বোধ হয় নাম বলার দরকার নেই। ভাবছি, এখন থেকে উত্তরটি এভাবে দেবো, বাংলা ব্লগ জগতের খবর আমাকে প্রথম যিনি দিয়েছিলেন, তিনি বাংলাদেশের প্রথম ৫জন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর একজন...।

কিন্তু, আজ এসব বলা কেনো!
কেনো এই স্মৃতিকাতরতা! তেমন কিছু হয়তো নয়, আবার একেবারে তুচ্ছও নয়।
আজ থেকে দুই বছর আগে, তখনো সচলায়তনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়নি – নানান ফিচার কারিগরী দিক টেস্টিং চলছে, জি-টকে নক করেছিলেন অরূপ কামাল, বলেছিলেন - সচলায়তনে রেজিস্ট্রেশন করতে। সেই থেকে শুরু...। ‘আমাদের সচলায়তন!’ শিরোনামের পোস্ট দিয়েছিলাম, এই দিনটিতেই।
৩রা জুন, ২০০৭ ছিলো সেদিন।

.
.
.

1 Comment:

প্রকৃতিপ্রেমিক said...

নতুন পেপসি চাই। আর কতো দেরী হবে?