ইদানিং চমৎকার রোদেলা দিন। চৌধুরী জাফ্রুল্ল্যাহ শরাফত যাকে বলেন - রৌদ্রকরোজ্জ্বল আবহাওয়া। আকাশ আর বাতাসের ভাবগতি দেখে মনে হচ্ছে - তুষার পাতের দিন ফুরালো বোধ হয়। ঠান্ডা বাতাসে কান কেটে দেয় অবস্থা মাঝে মাঝে। ওয়েদার-আই বলছে - আগামী চৌদ্দ দিন শুন্যের উপরেই থাকবে তাপ। আগের মাসের কিছু ছবি দেখছিলাম ল্যাপটপে, ব্যাকইয়ার্ড বরফে ঢাকা। সরে গেছে সব। আবার ঘাসগুলো উঁকিঝুকি দিচ্ছে। পাশের বাড়ীর কুকুরটি অকারণে ছুটোছুটি করছে। যে বাসায় থাকি, মাঝরাতে ল্যাপটপে গান শোনা দায় হয়ে যায়। ভলিউম একেবারে কমিয়ে দিলেও মনে হয় - আশেপাশের তিন বাড়ীর মানুষ অভিযোগ নিয়ে আসবে, এমনই শুনশান নীরবতা। ফোনেও জোরে কথা বলতে অস্বস্তি হয়, তাই - ওপাশ থেকে প্রায়ই শুনি, 'আরেকটু জোরে কথা বলো...'। গত সোমবারে কনরয়ের সামনের বাসার লোকেরা টেবিল নিয়ে বাইরে বসেছে, কফি চুমুক দিচ্ছে, সাউন্ড সিস্টেমে জোরে গান শুনছে। সামার আসার প্রস্তুতি হয়তো শুরু হয়ে গেছে। কেটে যাচ্ছে শুনশান-সংকোচন। এই শুনশান শব্দটা ব্যাপক নস্টালজিয়া জাগানো ব্যাপার। হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসে বিশাল বাড়ি শুনশান থাকে, তিতলী দাদাজানের বাড়ি এসে শাড়ী পড়ে। প্রথম প্রথম ভালো লাগলেও অতি ব্যবহারে পরে বিরক্তি জন্মেছে। তবে কোন সময় শুনশান হলে ভালো সেটা ইন্টারেস্টিং মনে হয়। মনে হয়, কেনো জানি দুপুর দু'টা চল্লিশ - শুনশান নীরবতার জন্য মোক্ষম। দুপুরের ভাত খেয়ে সবাই দম নিচ্ছে। এসময় নানান দৃশ্যকল্প ভেসে ওঠে মনে। কোনো এক নাম না জানা গ্রামের চা'য়ের দোকান। চৈত্রের বাতাসী দুপুর। কেবল পাতা ঝরার, পাতা ওড়ার শব্দ। এর মাঝে টুং টাং বেল দিয়ে চলে যায় রিকশা, কোনো বাড়ীর মেহমান, কিংবা ডাক্তার। এই শব্দ মানুষের নীরবতা ভাঙে, শুনশানে ব্যাঘাত ঘটায়। হঠাৎ থমকে যাওয়া সময়কে আবার ব্যস্ত করে। তবুও কোনো ঘরে, মফস্বল শহরে, উপ-শহরে এরকম নির্ঘুম দুপুর আসে। এক কিশোর এবং আরও দূরে আরেক কিশোরী বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে থাকে। তাদের কোথাও যাবার জায়গা নেই। বালিশের পাশে পড়ে থাকে মাসুদ রানা কিংবা লুকানো সেবা রোমান্টিক। মাথার উপর ফ্যান ঘুরে। মনে হয়, আর কোথাও ঘুরছে না কিছু - এই ফ্যানই জেগে থাকা উপাদান। এমন সব দৃশ্যকে ঘটনা করেছিলো, ইরাজ আহমেদ (সম্ভবতঃ), উপন্যাসের নাম - পদ্মপুকুরের গলি (সম্ভবতঃ), ছাপা হয়েছিল সাপ্তাহিক ২০০০ বা প্রথম আলো'র ঈদ সংখ্যায়, ৯৯ কিংবা ২০০০ সালে, অথবা আরো ২ বছর পরে। চমৎকার শুনশান এক উপন্যাস। লেখকের নাম মনে নেই, উপন্যাসের নামও মনে নেই, কেবল সেই একদল কিশোর, তাদের উঠতি প্রেম এবং প্রেমাকাঙ্ক্ষা, লোহার গেটওয়ালা বাড়ির কিশোরী, যার নাম মনে নেই। এবং ব্যাপক বিষন্ন সমাপ্তি।
এইসব বিগত ভালোলাগা এই রোদেলা দিনে মনে পড়ে। মনে পড়ে দুপুর দু'টা চল্লিশে...
.
.
.
21 March, 2009
দুপুর দু'টা চল্লিশ
লিখেছেন: - at 1:14 PM
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
0 Comments:
Post a Comment