21 February, 2009

তারপর অথবা গল্পহীন সময়

আমার তখন মনে হয়, আমার কৈশোর শেষের প্রথম বান্ধবী আমাকে হাত ধরে জোর করে রিকশায় তুলে নিলো। আমি পাশাপাশি বসে আছি, রিকশা চলছে। ভালো লাগা, ভয়, লজ্জা, সংশয়; সব মিলিয়ে এক অন্যরকম অনুভূতিতে আমি আঁটকে গেছি। আমার কানের কাছে কেউ বলছে - 'এমন চুপ করে আছো কেনো? কথা বলো...'

আমি কী বলবো ভেবে পাই না।
আমার জ্বর জ্বর লাগে। বুক ধুক ধুক করে।
আমি উত্তর খুঁজে পাই না।
আলবাব ভাই আবার বলেন, তাহলে এবার কাজ আগাই।

তারপর কতো কিছু ঘটে। গল্প গুছাই। আমি একা নই। আমার আত্মজন কনফুসিয়াস-তিথি-অমিত আমাকে সাহস দেয়। তাঁরা (খুব সচেতনভাবে চন্দ্রবিন্দু দিচ্ছি) আমার গল্পগুলো পড়ে। কোনটা কী করা যায় বলে। তারপর এক সন্ধ্যায় আমি সিদ্ধান্ত নিই - বই হবে না। আমাকে দিয়ে কিছু করা যাবে না। আলবাব ভাই ঠান্ডা মাথায় কারণ শোনেন। আমার বাকী ৩ পাশের তিনজন আমাকে ভাবতে বলে। যেমন বলে, আমার আশৈশব বন্ধু সৌরভ, প্রিয় হিমু ভাই, অনেক আড্ডার দৃশা।
তারপর আবার অন্য কোথাও ফেলে দেয়া ফোল্ডার খুলি। ক্রমশঃ গুছিয়ে উঠে একটি বই। নানান আপডেটে ফোন করি রুমকি-প্রিয়কে। তাদের ক্যামেরার ক্লিকে দাঁড়াই এক সন্ধ্যায়।

প্রচ্ছদ হয় নানা রকম।
পছন্দ হয়, আবার হয় না।
নানান মেইল চালাচালি।

বইয়ের শেষ প্রচ্ছদ দিই, ফেসবুকে।
সেই কবে, কতোসব ভুলে যাওয়া মঙ্গলবারে, কতোসব জাদুকরী শব্দে ঝিম ধরানো মানুষ মোরশেদ ভাই। প্রিয় হাসান মোরশেদ লিখেন সচলায়তনে। সেদিন আমি পালিয়ে বেড়াই। সচলে লগ ইন করি না অনেক বেলা। আমার কেবল নিজের মাঝে লুকোতে ইচ্ছে করে...।

স্কুল জীবনের পর প্রবল নিঃসঙ্গতার মাঝে আমার বেড়ে ওঠা। কীভাবে এমন অতীতচারী হয়ে গেছি, কে জানে, কেনো। কর্ণফুলী না দেখে গোমতী-মেঘনা পার হয়ে, বুড়িগঙ্গা না দেখে, কবে চলে গেলাম কাওয়াই নদীর পাশে। তারপরে অনেক স্রোতে ভেসে আটলান্টিকের এপাড়ে। লেক অন্টারিও।

অনুভূতিগুলো মাঝে মাঝে অবশ হয়ে যায়।
আমার কিছু বলার থাকে না। আজ ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০০৯।
গৌরবের একুশের বইমেলায়, ভালোবাসার প্রাঙ্গণে, শুদ্ধস্বরের স্টলে আজ একটি বই শোভা পাচ্ছে।
আনোয়ার সাদাত শিমুলের 'অথবা গল্পহীন সময়'।
ভিখিরি আমি আজ ডাকাত হয়ে গেছি, কাগুজে লেখক তালিকায় নাম লিখিয়ে কুঁকড়ে আছি খুব।
কেবল একটি ছবির দিকে তাকিয়ে চশমাটা খুলে নিচ্ছি চোখ থেকে। মোড়ক উন্মোচনে একজন মানুষ আমার বই হাতে তুলে দেখাচ্ছেন সবাইকে। এই বইয়ের প্রতিটি অক্ষর তাঁর পরম মমতায় পৃষ্ঠাবন্দী হয়েছে। নজমুল আলবাব। প্রিয় লেখক, শ্রদ্ধার মানুষ, বড়োভাই; কতো কিছুই তো ডাকি।
আলবাব ভাই, বারবার ফোন করবো ভেবেও নম্বরটা চাপতে পারছি না। কিছু কিছু সময় এমন অবশ হয়ে যায়। করে দেন কেউ কেউ। খুব অল্প কিছুজন। অথবা গল্পহীন সময়। অথবা প্রিয় নজমুল আলবাব।

.
.
.

11 মন্তব্য::

বিপ্র 21 February, 2009  

অভিনন্দন...

এ বছরের শেষদিকে দেশে যাবার ইচ্ছে আছে। তখন আপনারটা সহ সবার বই একসাথে কিনে নিয়ে আসবো।

মুকুল 21 February, 2009  

অভিনন্দন শিমুল ভাই!

আমি বইমেলায় আবার যাবো বইটি কিনতে। :-)

Dhushor Godhuli 21 February, 2009  
This comment has been removed by the author.
Dhushor Godhuli 21 February, 2009  

এই একটা ছেলেকে কখনো স্নেহ, কখনো শ্রদ্ধা, কখনো ভালোবাসা আর কখনো বা অন্য কোথাও ঘটে যাওয়া সম্পূর্ণ অন্য প্রেক্ষিতের খানিকটা রাগ নিয়ে দেখেছি তাঁকে। নিজের স্বকীয় লেখনিতে অসাধারণ তীক্ষ্ণ মুগ্ধতার রেশ ছড়িয়ে যে বুনে চলে একেকটা গল্পের পট, একেকটা ছত্র, ভেবে পাইনি একুশে বই মেলার চত্বরে আনোয়ার সাদাত শিমুল নামক এই অসাধারণ অভিমানী, বালকটির বই কেনো বের হয় না!

অবশেষে আসে গল্পের সে সময়, অথবা গল্পহীন সময়, নিয়ে আসেন আরেক প্রিয় মানুষ নজমুল আলবাব। ভার্চুয়াল জগতে আমার সবচাইতে দু'জন প্রিয় এবং অবশ্যই কাছের মানুষের কম্বিনেশন। দুঃখ বোধে ভুগি, এই অসাধারণ সময়ের সাক্ষী হতে পারি না বলে। কিংবা সময়টাই হয়তো সহায়তা করে না। বড্ড বেশি চুপচাপ মনেহয় সময়টাকে। শত গল্পের ভীড়েও কিছুটা গল্পহীন... তারপর গল্পহীন সময়...

অভিনন্দন প্রিয় শিমুলকে।

নজমুল আলবাব 23 February, 2009  
This comment has been removed by the author.
নজমুল আলবাব 23 February, 2009  

শুদ্ধস্বরে বসে বসে যখন পড়লাম, আমার কেমন শূন্য শূন্য লাগে। ডেস্কটা খালি ছিলো। কিউবিকলের ওপাশে তুলি বসে আছে, বাবাই কাটুম কুটুম করছে। আমার বলতে ইচ্ছে হলো, তীব্র ইচ্ছে, দেখে যাও তুলি কতটা ভালোবাসা আমারে ঘিরে রাখে অহর্ণিশ... এই ছেলেগুলো জেনে গেছে দেখো, আলবাব শুধু ভালোবাসায় মাখামাখি হয়ে থাকতে চায়... বলা হয় না। ধরে আসা গলায় ব্যাথা হয়। ঝাপসা হয় চোখ...

আনোয়ার সাদাত শিমুল 25 February, 2009  

সবিনয় কৃতজ্ঞতা জানাই সবাইকে...

Anonymous,  24 March, 2009  

(বুঝতে পারছি না, এইটা প্রতিক্রিয়া জানানোর ঠিক জায়গা হল কিনা!)
বইটা একদমই ভালো হয়নি। একদমই না! বুজচ্ছি তো, আপনি ভালো লেখক। পাঠককে নাড়া দিতে পারেন!! কবির অন্তর্দ্বন্দ্বে চোখে জল আসে। লোমেলা, জাহিদ, সালিম ভাই, সাফরীনদের কথা পড়তে পড়তে মুখে থুথু জমে ওঠে। দেলুমিয়াকে ধরে কোপাতে ইচ্ছা করে। আরমান,আদিলের জীবন-যাপনে বিস্মিত হই! কিন্তু সত্যি সত্যি, একটিবারের জন্যও একটা গল্প পড়েও মুখে একটুকরো হাসি ফুটে উঠেনি। একটা আনন্দের-সুখি মানুষের গল্প কি লেখা যেত না?

আনোয়ার সাদাত শিমুল 24 March, 2009  

নামহীন পাঠক ঈশ্বর অথবা ঈশ্বরী:
সবিনয় কৃতজ্ঞতা জানুন। কিছুই পরিকল্পিত নয়, আরোপিত নয়, তখনো ছিলো না, এখনো নেই। তাই সাবলীলভাবে স্বীকার করে নিচ্ছি - মন খারাপের ভার ছিলো সব গল্পে। দেখার কিংবা জানার যেটুকু পথ পেরিয়ে এসেছি - তাতে ছিলো কেবলই অস্থিরতা, সিদ্ধান্তহীনতার আর সীমাবদ্ধতার গোপন কষ্ট - না পারার বেদনায় কুঁকড়ে যাওয়া। কখন কীভাবে গল্প হয়ে গেছে সব টের পাইনি একবারও...। হতে-চাওয়া-গল্পকারের এ ব্যর্থতা পাঠক ঈশ্বর/ঈশ্বরী ক্ষমা করবেন কি! আমি নিশ্চিত - অবশ্যই করবেন, মন ভালো রকম গল্প লিখার স্বপ্নটুকু আপনার এ মন্তব্যেই না হয় শুরু হোক, আজ...।

ভালো থাকবেন, নিরাপদে থাকবেন।

Anonymous,  25 March, 2009  

“অপেক্ষায়- নাজির”
নাহ্, দুষ্টুমি না। আসলেই অপেক্ষায় থাকলাম।এরপরের ঈদে যেন আপনার লেখা পড়ে আর কান্না লুকাতে না হয়; বরং ‘ফেসবুকে গরু’ পড়ে নিজেকেই একটা ভেংচি কাটা হাসি দিতে পারি!
অনেক ভালো থাকুন। আর সেই ভালো থাকার গল্প লিখুন।

আনোয়ার সাদাত শিমুল 26 March, 2009  

আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। মঙ্গলময় হোক আপনার যাপিত দিন...

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP