31 January, 2009

বিশ্ব ইজতেমাঃ একটি প্রস্তাব অথবা সম্ভাবনা

আজ বাংলা দৈনিক পত্রিকাগুলো পড়তে গিয়ে দেখছিলাম বিশ্ব ইজতেমার খবর। প্রতি বছর এ সময়ে ইজতেমা হয়, সংবাদপত্রে-রেডিও-টিভিতে ফলাও করে বলা হয় - এটি পৃথিবীর মুসলিমদের ২য় বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশ। এ বছর নিয়ে মোট ৪৫ বার ইজতেমা হচ্ছে বাংলাদেশে। ইজতেমায় আসা মানুষদের নানা রকম সেবা নিশ্চয়তা দেয়া হচ্ছে সরকারী উদ্যোগে, এমন খবর জানাচ্ছে দৈনিক সংবাদ।

প্রথম আলোর খবরে পড়লাম, বিশ্বের ৮০টি দেশের ৫হাজার মুসল্লী আসছে এবার ইজতেমায়। এর মাঝে ১ হাজার ৭৪১ জন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে।

বাংলাদেশে অন্য কোনো উপলক্ষ্যে একসাথে এতো বিদেশী মনে হয় জড়ো হয় না। ভাবছিলাম, এই ৫০০০ বিদেশীকে ইজতেমা পরবর্তী সময়ে ট্যুরিস্ট বানিয়ে দিলে কেমন হয়?

ধরি, ৫০০০ এর ১০ ভাগ, ৫০০ লোক এই প্রোগ্রামে রাজী হলো। ইজতেমার পরদিন থেকে পরের ৭ অথবা ১০ দিন এদেরকে বাংলাদেশ দেখানো হবে। বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, স্থাপনা, প্রাকৃতিক দর্শনীয় বা ঐতিহাসিক স্থান দেখানো হবে। থাকা-খাওয়া-যাতায়াত-প্রবেশ ফি সব মিলিয়ে একটা প্যাকেজ মূল্য ধরা হবে। এর বাইরে, অতিরিক্ত হিসেবে স্যুভেনিওর, গিফট আইটেম বিক্রির ব্যবস্থা থাকবে।
আরেকটি সম্ভবনা থাকে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতকে প্রমোট করার জন্য। পাশের দেশ ইন্ডিয়া মেডিক্যাল ট্যুরিজমে সিংগাপুর-থাইল্যান্ডকে টেক্কা দিচ্ছে সমান তালে। একই রকমভাবে বাংলাদেশে অধুনা ফাইভ-স্টার হসপিটালগুলোকে প্রমোট করা যায়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের তুলনায় বাংলাদেশে চিকিৎসা খরচ অনেক কম। কেবল এখানে প্রয়োজনীয় মনোযোগ এবং সেবামান নিশ্চিত করা দরকার।

এ কাজটা করতে পারে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন বা অন্য কোনো বেসরকারী ট্যুর অপারেটর। প্রায়ই শোনা যায়, বাংলাদেশে ট্যুরিস্ট আসে না। অবকাঠামোগত সমস্যার পাশাপাশি ভিনদেশি ট্যুরিস্টের বেসিক চাওয়া উইমেন-ওয়াইনের দূর্লভ্যতার কথাও বলেন অনেকে। এই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে ইজতেমায় আসা বিদেশীরা ভালো টার্গেট গ্রুপ হতে পারে। আগামী বছরগুলোয় ইজতেমায় বিদেশি মুসল্লি বাড়বে, সে সম্ভাবনাটুকু অনুমান করে ভাবছি, এদের টার্গেট করে বাংলাদেশে পর্যটন বিকাশ কি আসলেই সম্ভব?

.
.
.

0 মন্তব্য::

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP