24 November, 2008

বরফ মোড়ানো দিনে চিরায়ত অবিশ্বাস

বুধবার থেকে বরফে ঢাকছে সারা শহর। ঘুম থেকে উঠতে ইচ্ছে করে না। সকাল মানেই হুলস্থুল, হুড়োহুড়ি। আধ মগ চা''য়ে আধা চুমুক দিয়ে, শীতের ভারী কাপড় গায়ে চাপিয়ে, ক্যালেন্ডার চেক করে বই খাতা ব্যাগে ভরতে সোয়া আটটা পার। দরজা লক করে সামনে তাকাতেই দেখি আটটা তেইশের বাস চলে গেলো মাত্র। আবার পনেরো মিনিট অপেক্ষা...। কালকে আর দেরী করবো না, এ বাস ধরতেই হবে ভেবে ভেবে ঠান্ডা বাতাসে দাঁড়িয়ে থাকি। নাক মুখ দিয়ে ধোঁয়া বের হয়।
ম্যাকগাইভারকে মনে পড়ে...।

ঝামেলা লেগে আছে প্রথম দিন থেকে। আসার দিন এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন শেষে স্টাডি পারমিট পেয়েছিলাম সহজে। সহজে বলতে - লাইনে অপেক্ষা করা লাগেনি বেশি, উটকো প্রশ্ন করে বিব্রত করেনি। দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি শেষে ঐ পারমিট পেয়ে ভাজ করে পাসপোর্টে রেখেছিলাম সযত্নে। পরে দেখেছি, ভেতরে ঘাপলা আছে। সুন্দর করে লেখা আছে, অথরাইজেশন ছাড়া পার্ট টাইম - ফুল টাইম কোথাও কাজ করার অনুমতি নেই। এই জিনিস কেনো লিখে কার জন্য লিখে তার কোনো ঠিকঠিকানা নেই। কাউকে দেয়, কাউকে দেয় না। ইচ্ছেমতোন ব্যাপার-সেপার। ধারণা করা হয়, ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট সুযোগ পেলে অন-ক্যাম্পাস কাজ করবে। পেলামও সেটা। কিন্তু, অনুমতি নিয়ে ঝামেলা রয়ে গেলো। সোশ্যাল আইডেন্টিফিকেশনের কাগজ আনতে স্পেশাল অনুমতি লাগতে পারে, বিগত ভুক্তভোগীরা এমনটাই জানালো। অনেক চক্কর দিলাম, তবে শেষে জানা গেলো - এখন নিয়ম শিথিল, ঐ কথা লেখা থাকলেও সমস্যা নেই, অনুমতি পাওয়া যাবে। এবং গেলো। তবে - আমার নানান ভুলে এবং এইচ আরের বিচিত্র ছুতোয় পেমেন্টে ঝামেলা থাকছে। শেষ নেই ঝামেলার, কতোই আর বোঝাপড়া করা যায়। 'শিখছি দিবা রাত্র'।

অবশেষে পাকি চক্করেঃ
পাকি'প্রজাতির সাথে মেলামেশার দূর্ভাগ্য আগে হয়নি। টুকটাক সম্ভবনায় সযতনে এড়িয়ে গেছি। এবার তিনটা কোর্সে গ্রুপ মেম্বার পড়লো পাকি। কিছু করার নাই, র‌্যান্ডমলি সিলেক্ট করা হয়। সচলে ঐ সময় কী বোর্ড ঝড়, বিষয় - পাকিদের সাথে অবস্থান-ঘৃণা নাকি সহানুভূতি নাকি কনটেক্সট বিচার। অনেক কিছু পড়লাম, অনেক কিছু বুঝার চেষ্টা করলাম, বেলুচ সৈয়দের কাহিনীও জানলাম। আর ভাবলাম, কে জানে এবার আমি হয়তো নিজের 'গোয়ার্তুমি' থেকে বেরিয়ে আসবো। পাকিদের আলাদা আলাদা করে বিচার করবো। আমার সহপাঠী আমিনা মালিক (আটলান্টিক পেরিয়ে নামের প্রথম অংশ 'আম্ন্যা' হয়ে গেছে), আমের আব্দুল্লাহ কিংবা ফ্যাসাল (আসলে 'ফয়সাল') মুমতাজদের কাছে থেকে চিনে নেবো। ক্ষতি কী যদি নতুনভাবে ভাবার কিছু সুযোগ পাই। তাই চুপ থাকি যখন আমের পাঞ্জাব আব্দুল্লাহ পরিচয়ের শুরুতেই আমি রোজা আছি কিনা, ও পরে আমাকে তারাবীর নামাজের জন্য ভালো মসজিদের সন্ধান দিতে চায়। বলি, এ শহরে আমার বন্ধু-বান্ধব যে একেবারেই নেই তা কিন্তু নয়। কোথায় কী আছে সে-ই ওরিয়েন্টেশন আমার হয়ে গেছে। অথবা আমি থাই খাবারের ফ্যান শুনে আম্ন্যা যখন আমাকে বলে - 'থাই ফুড হালাল না। ফিশ স্যুপ কিংবা ভ্যাজিটেবল খেলেও ইনগ্রিডিয়েন্ট নিয়ে সন্দেহ থেকে যায়।' তখন কড়া কথা না বলে প্রবাস জীবনে এত ক্ষুদ্রাক্ষুদ্র ব্যাপারে আমার উদাসীনতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছি। বড়জোর বলেছি, 'দ্যাখো, এসব নিয়ে আমার সমস্যা নাই'। এরপরে আর কথা বাড়ায়নি - কারণ, আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম 'ওরিয়েন্টেশনের ২য় দিন লাঞ্চে পিজা খেয়েছো সেটা কি হালাল ছিলো'? তখন সে বলে, আসলে বাইরের ব্যাপারগুলো যতটা পারে এভয়েড করে, কিন্তু ঘরে তার হাজব্যান্ড এবং সে এসব ব্যাপারে খুব সতর্ক। আমের আবদুল্লাহ তখন হে হে করে হাসে। এই হাসিতে আমার মনে পড়ে - আমার দাদীর কাছে, নানীর কাছে এখনো ৭১এর হানাদার মানে পাঞ্জাবী। পাকি সৈন্য মানে পাঞ্জাবী। আমার খুব সহজ হিসাব - এ আমের আব্দুল্লার পূর্ব পুরুষ এসে আমার পূর্ব পুরুষের ঘর জ্বালিয়ে গেছে, মানুষ মেরে গেছে নির্বিচারে। তার এই হে হে হাসিতে আমি পিশাচের শব্দ ছাড়া কিছু পাই না। কিন্তু, তখন আমি চুপ থাকি। অধুনা ডাইভার্সিটি ম্যানেজমেন্টের ছাত্র হয়ে আমি শেখার চেষ্টা করছি অনেক কিছু। তাই তীব্র আবেগ তখন চেপে রাখি। সে তুলনায় আমেরিকায় বড় হওয়া ফেস্যালকে মান সম্মত মনে হয়। অন্ততঃ আচরণে সমস্যা নেই। শেষে তাদেরকে মনে না নিলেও মেনে নিই।
এ মাঝে আরেক পাকির খপ্পরে পড়লাম। তার নাম দিলাম 'তর্তাজা বাটপার'।

তর্তাজা কাহিনীঃ
বিজনেস স্কুলের অনেক ইতং বিতং আছে। মুখের কথায় বেচাকেনা করতে হবে। আর ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টরা লোকালদের তুলনায় এদিকে একটু পেছানো। কম্যুনিকেশন ডেভেলপমেন্ট ও নেটওয়ার্ক বিল্ডিং প্রোগ্রামে বিদেশী ছাত্রদের একজন করে সুপারভাইজর দেয়া হয়। পড়ালেখার কিছু নেই। এটার মূল কাজ হলো, ভিনদেশী ছাত্র যারা এই কালচারে একেবারে নতুন তাদের লোকাল বিজনেজ কম্যুনিটির সাথে পরিচয় করানো। নানান লোকাল ইভেন্টে পাঠানো, লোকজনের সাথে পরিচয় বাড়ানো। এবং এসব করে করে বাজার চাহিদার সাথে নিজেকে চাল্লু করা। খুব ইন্টারেস্টিং মনে হলো। অন্ততঃ আমার জন্য তো উপকারী বিষয় বটেই। প্রথম একটু ধাক্কা খেলাম যখন জানলাম আমার সুপারভাইজরের নাম তর্তাজাবাটপার ফ্রম পাকিস্তান।
এসিস্টেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর অভয় দিলো, সমস্যার কিছু নেই, সে খুব ভালো লোক।
ভাবলাম, ক্ষতি কি যদি একজন ভালো পাকির দেখা পাই ভবে...।

কথা অনুযায়ী মেইল করলাম, বললাম - তোমার সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে, তোমার অফিস আওয়ার জানাও।
রিপ্লাই আসে না।
৮ দিনের দিন দেখা এসিস্টেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টরের সাথে, নিজ থেকে জিজ্ঞেস করলো সুপারভাইজর কেমন? বললাম, সে তো আমার মেইলের রিপ্লাই করে নাই। এসিস্টেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর বললো, ঠিক আছে আমি দেখছি।
কী হলো জানি না, সে রাতেই মেইল পেলাম, তর্তাজা লিখেছে - শুক্রবার আফটারনুনে দেখা করো।
শুক্রবার সোয়া ১২টায় গেলাম। আমাকে দেখেই রুম থেকে বেরিয়ে এলো - 'তুমি এখন কেনো এসেছো? আমি তো এখন ব্যস্ত। আমি এখন দুপুরের খাবার খাবো, অনেক কাজ।'
ক্ষ্যাপা আচরণ।
বললাম, 'আমাকে মেইলে বলেছ আফটারনুনে আসতে। তাই আসলাম। তাহলে বলো আমি কখন আসবো?'
'চারটায় আসো'।
কী আর করা, অপেক্ষা করি। আর ভাবি, আমাকে প্রথম দেখায় এই হারামি চিনলো কীভাবে? উত্তরটা খুজে পেতে দেরি হয়নি। স্টুডেন্ট প্রোফাইল চেক করা কঠিন কিছু না।
চারটায় আবার গেলাম। রুমে বসতে বললো।
বাংলাদেশে কোথায় ছিলাম, কী করতাম এসব জেনে জিজ্ঞেস করলো - বাংলা বলি কিনা। (আরে হারামি, বাংলা বলবো না তো কী বলবো? উর্দু/হিন্দি?)
এরপরে সে 'আমার সোনার বাংলা' বলার চেষ্টা করলো। বুঝলাম, প্রিপারেশন ভালো নিয়েছে, আমাকে ভড়কানোর চেষ্টা করছে। এটা একেবারে নিশ্চিত হলাম যখন জিজ্ঞেস করলো - মনিকা আলীর নাম শুনেছ?
বললাম, 'হু, ব্রিক লেন লিখেছে'।
'পড়েছ?'
'না'।
'অবশ্যই পড়বা। লিখে রাখো, এটা কিনতে হবে - যদিও তুমি মনিকাকে পছন্দ করবা না।'
জিজ্ঞেস করলাম, 'কেন? মনিকাকে কেনো পছন্দ করব না?'
'যে কারণে তোমরা তসলিমাকে পছন্দ করো না...'
কী আজব! জিজ্ঞেস করলাম 'তোমাকে কে বলছে, আমি তসলিমাকে পছন্দ করি না?'
তর্তাজা আকাশ থেকে পড়লো, 'তুমি তসলিমার লেখা পছন্দ করো? লেজ্জা পড়েছো?'
বললাম পড়েছি।
এরপরে সে আরামবোধ করলো না, 'ওকে, এ প্রসংগ বাদ দাও'।
এবার শুরু করলো আমার কী কী করতে হবে, প্রতিদিন ১টা করে বিজনেস নিউজ এনালাইসিস, ৫০০ শব্দের মধ্যে। প্রতি উইকেন্ডে লোকাল কম্যুনিটি লাইব্রেরিতে গিয়ে যা যা প্রোগ্রাম হয় ওগুলো এটেন্ড করতে হবে, সেটা নিয়ে রিপোর্ট লিখতে হবে। সাথে বললো 'পত্রিকা হার্ড কপি সাবস্ক্রাইব করবা, লেখার সাথে পেপার ক্লিপ দিবা, ইন্টারনেট থেকে প্রিন্ট আউট নিলে তুমি সিরিয়াস থাকবা না'।
আর এর মাঝে ৩বার বললো, 'ডোন্ট চিট'।
এটা আমার মেজাজ চরম খারাপ করে দিলো। ফুল টাইম স্টুডেন্ট, পার্ট টাইম কাজ; ঐসব বাড়তি এসানমেন্টের টাইম কই? আর এই তর্তাজা দেখি আগে থেকে সব ডিসিশন নিয়ে আছে। আমাকে কথা বলার কোনো সুযোগ না দিয়ে ইচ্ছা মত আউল-ফাউল কথা বলে যাচ্ছে।
আঙুল তুলে বলে, 'শোনো - তুমি কানাডা আসছো, ঢাকা কখনো ফিরবা না, সুতরাং তুমি কানাডার কালচার সোসাইটি ভালো করে বোঝার চেষ্টা করো।'
বললাম, 'আমি থাকবো না। পড়া শেষে ঢাকা ফিরবো, এখানে থাকতে আসি নাই।'
সে বলে, 'না, তুমি ফিরবা না, আমি জানি।'
আবারও বলি, 'আমি ফিরবো, তুমি জানো না'।
তর্তাজা বলে, 'আমার সাথে ২ বছর পরে দেখা করো...'
বললাম, 'দু বছর না, যাবার আগেরদিন তোমাকে মেইল দেবো'।
তর্তাজা এবার থামে।
শেষে বললো, সব মিলিয়ে ৫টা কাজের লিস্ট। এই ৫টা কাজ শেষ করে নিয়ে যেতে পারলে যেন আগামী সপ্তায় যাই, নইলে আর যেন দেখা না করি। তখন আমার মাথার ভেতর টং টাং কিরকির শব্দ করে।
ততক্ষণে আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি এর সাথে কাজ করা যাবে না। সুপারভাইজর পাল্টাতে হবে। তাই চুপ থাকি, আম্ন্যা আর আমেরের মত একেও আপাতঃ সুযোগ দিই।...কথা বলে যা হে তর্তাজাবাটপার।

পরের সপ্তায় আমার প্রথম কাজ ছিলো এসিস্টেন্ট ডিরেক্টরের সাথে কথা বলা। বললাম সব কাহিনী। বলি, তর্তাজা যা করছে সেটা স্রেফ যন্ত্রণা দেয়া, কারণ এই প্রোগ্রামের অন্য কোনো সুপারভাইজর এসব শয়তানি করছে না। কিন্তু এ আবার উল্টা কথা বলে। আমাকে বুঝায় - 'জীবনে সব মানুষ একই রকম পাবানা। এটা তোমার জন্য চ্যালেঞ্জ। অপছন্দের লোকের সাথে কাজ করতে হয়।' পালটা টক্কর দিই, কিন্তু পাঞ্জা দেয়া যায় না। সেও স্বীকার করে তর্তাজার কিছু ইস্যু আছে, কিন্তু তাকে ম্যানেজ করতে হয়। আমি সাউথ এশিয়ার লোক হয়ে এসব বোঝার কথা। বলি, 'আমার বোঝার খায়েশ নাই। আমার সুপারভাইজর পাল্টাও।'
এসব শেষে দফা করলো তর্তজাকে ২ সপ্তাহ দেখবো, এর পরে কেমন লাগে জানাবো। কিন্তু, আমি তো বুঝে গেছি এই হানাদারের সাথে আমার মিলবে না। তবুও এসিস্টেন্ট ডিরেক্টরের কথা রাখি। পরের শুক্রবারে সময়মতো দুইটায় যাই। কোনো কাজ করি নাই। সে যদি বলে 'আল বিদা'। আমি বলবো 'আলহামদুলিল্লাহ'।
কিন্তু, দুটা বিশ মিনিটেও সে রুমে ফিরে না। চলে আসি। পরের সপ্তায় এসিস্টেন্ট ডিরেক্টরের কাছে যাই। সে জিজ্ঞেস করে -শুক্রবারে কী হলো। আমি বলি- কিছু হয় নাই। কারণ তর্তাজাকে পাই নাই। সে রুমে ছিল না, আমি ২০ মিনিট অপেক্ষা করেছি, এমনকি সে আমাকে মেইলও করে নাই। শুনে এসিস্টেন্ট ডিরেক্টর একটু কী যেনো চিন্তা করলো। তাকে বললাম, আমি এর মাঝে অন্য সুপারভাইজরের সাথে কথা বলেছি, সে আমাকে নিতে রাজী হয়েছে। এডমিন পারমিশন লাগবে। সো, তুমি প্রসেস করো। এসিস্টেন্ট ডিরেক্টর আমার ইমেইল ঠিকানা নিলো। বললো, মেইলে জানাবে।

বিকেলে তর্তাজার সাথে দেখা। আমাকে ডেকে বলে, স্যরি আমি ভুলে গেছিলাম সেদিন, কালকে আসবা আর আজকেই মেইল করবা টাইম কনফার্ম করে। সন্ধ্যায় মেইল করলাম, কালকে ৩টা থেকে ৫টা ফ্রি আছি। সে পরদিন রিপ্লাই করলো, আমি বিজি, শুক্রবারে ১১টায় আসো। আমি তারপরের দিন জবাব দিলাম - শুক্রবারে ঐসময় আমি ক্লাসে থাকি। এরপরে আমার সময় নাই। এবার সে মেইল করছে - নেক্সট মংগলবারে আসবা, ১টায়।
এখনো এই মেইলের রিপ্লাই করি নাই। করার ইচ্ছা নাই।
এই একটা অহেতূক যন্ত্রণা গত ৩ সপ্তাহ লেগে ছিলো। আশা করছি - নতুন সুপারভাইজর পেয়ে যাবো সোমবারে। না পেলেও সমস্যা নেই। এটাই ফাইনাল ডিসিশন - আলবিদা তর্তাজাবাটপার, পাকি হানাদারের উত্তরাধিকার।

আমের আব্দুল্লার হারামিনামাঃ
পরশু সকালে তাড়াহুড়া করে ক্লাসে চলে গেছি। ল্যাপটপের চার্জার নিতে গেছি ভুলে। দুপুরের মধ্যে চার্জ শেষ। টীমের সাথে প্রজেক্ট মিটিং। আমেরকে বললাম, 'তোমার ল্যাপটপে মেইল চেক করি?'
বিলকুল বিল্কুল বলে এগিয়ে দিলো।
লগ ইন করতে গিয়ে দেখে নিলাম রিমেম্বার পাসওয়ার্ড আছে কিনা। নেই।
মেইল চেক করলাম দ্রুত, ৪/৫ মিনিট লাগলো মোট। লগ আউট করে ল্যাপটপ ফেরত দিলাম।
ফেরত দিয়ে আবার মনে হলো, অন্য কোনো উপায়ে ইউজার নেম-পাসওয়ার্ড সেভ হয়ে যায় নাই তো?
সন্দেহ উকি দেয়ায় ল্যাপটপ আবার নিলাম।
কী আশ্চর্য্য! ইউজার নেমে s টাইপ করলেই আমার ইমেল এড্রেস চলে আসে। আর নিচে অটো হাজির আমার পাসওয়ার্ড!! ক্লিক করলে সাইন-ইনও হয়!!!
জিজ্ঞেস করলাম, কম্পুতে এই জিনিশ করে রাখছো আমাকে বলো নাই কেনো?
হারামির পাঞ্জাবী হারামি হে হে করে হাসে। বলে, এইটা ইচ্ছা করে করে রাখছি।
কিন্তু, পাকির বাচ্চা - তুই আমাকে আগে বললি না কেনো? তোর কম্পুতে আমার নাম আর পাসওয়ার্ড যে সেইভ হইল সেটা কি এথিক্যাল?
সে বলে, ' না না, আমি তোমার মেইল চেক করবো না'।
আরে কুত্তা, চেক করবি কিনা সেইটা পরের কথা। কিন্তু, তুই দেখলি আমি মেইল চেক করলাম। তখন বললি না কেনো? এটা তো ফাইজলামি না। এইটা সাইবার ক্রাইম।
সাথে সাথে ওর ল্যাপটপে কুকিজ ডিলিট মারলাম সব। আবার চেক দিলাম। আমার চিল্লাচিল্লি দেখে হারামি চুপ মেরে আছে।
ইচ্ছা করছিলো, কষে চড় মারি।
অনেক চেষ্টায় রাগ চেপে ল্যাবে গিয়ে বসে থাকি। এক বড়ভাই জিটকে, শুনে বললেন 'ওরে থাবড় মারা দরকার'।

থাপড় দেয়া হয় না।
কেবল নিজেকে নিজে বলি, 'হু, আমি কেবল গোয়ার্তুমি করেই পাকিদের অবিশ্বাস করি...'

.
.
.

0 মন্তব্য::

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP