29 October, 2008

চক্কর

একটা চক্করে আঁটকে যাচ্ছি ক্রমাগতঃ। নিজের তৈরি চক্কর। প্রতিদিন ভাবি, রাত এগারোটায় ঘুমিয়ে যাবো, হয় না একবারও। এটা সেটা করতে করতে তিনটা চারটা। তারপর ভাবি, ক'ঘন্টা ঘুমানো যাবে সকাল অবধি। মোবাইল ফোন নেই, তাই অনেক দিনের অভ্যাস মোবাইল ফোনে এলার্ম দেয়া, এনি বাটন জ্বালিয়ে সময় দেখা নেই। কেমাওয়ানের দেয়া ছোট্ট লাল ঘড়িতে এলার্ম সেট করে ফেলে রাখি রুমের কোণায়, মনে হয় চোখ বুঁজলাম আর সাথে সাথে সকাল হলো। সকাল সাতটা দশ। সূর্যোদয় সকাল সাতটা উনপঞ্চাশ। কমফোর্টার সরিয়ে ঘড়ি হাতে নিই, মনে হয় পুরা শরীর কাঁপছে। বাইরে অন্ধকার। ঝিম মেরে বসে থাকি। সারাদিনে কী কী করতে হবে লিস্টি করি। এই ঘুম নিয়ে কীভাবে ক্লাসে যাবো, কাজ করবো, চিন্তা করি - সন্ধ্যার ক্লাস না করলে কী হয়! শেষমেষ যা হয় - গোসল ক্বাজা করতে হয়। চুলে ভেজা হাত বুলিয়ে ইতংবিতং শীতের জামা গায়ে চাপিয়ে বের হই।

হীম সকাল।
মনে হয় নাক-কান ফেটে যাবে। কনরয়তে বাস চলে গেলো মাত্র। তারপর দাঁড়িয়ে থাকি উলটোপথে মুখ করে। চোখ বুঁজলে মনে পড়ে গোসল করবো বলে খালি গায়ে দাঁড়িয়ে আছি পুকুরের ঘাটে। অনেক পরে বাস আসে, ট্রেনে উঠি। নিত্য দেরী হয়। দুপুর পর্যন্ত ঘুমে থাকি, ঘুমে হাঁটি, ঘুমে ভাবি। কয়েক দফা কফির পরে মনে হয়, না থাকি। সন্ধ্যার ক্লাস করি। ক্লাসের শুরুতে আবার ঘুম পায়। "ঘুম ঘুম ক্লাস রুম, পাশে খোলা জানালা, ডাকছে আমাকে তোমার আকাশ"। ফাইন্যান্সের প্রফেসর এলান গস মজার লোক। সুযোগ পেলেই বৌয়ের গল্প নিয়ে আসে। বলে, "গতকাল বিকেলে শেয়ার বাজারে তোলপাড় ছিলো বলে, তোমরা ব্ল্যাকবোর্ড ডিসকাশনে নানান প্রশ্ন করেছো বলে, আমি কম্পিউটারে চোখ রেখে বসেছিলাম, নইলে বৌয়ের সাথে লনের ঘাস কাটতে হতো।" তারপর পড়াতে পড়াতে অন্য কী যেনো ভাবে, বলে - "আচ্ছা সোমবারে কী হবে? আসো বাজী ধরি।"
তখন আমার ঘুম পায়।

এখন যেমন পাচ্ছে।
বা'হাতি এলান বোর্ডে অংক করে চলেছে।
আমি ভাবছি বাসায় গিয়ে শাওয়ার নেবো, চুলে খুশকি হয়েছে, শ্যাম্পু করতে হবে, রুম গুছাই না তিন সপ্তাহ। টেবিলে কলম রাখার জায়গা নেই। খাটের অর্ধেক জুড়ে বই পত্র। কার্পেটে পত্রিকা। গুছাতে হবে।
তারও আগে আজ রাতে আরও দুটা এসাইনমেন্ট শেষ করতে হবে।
ধন্যবাদ কফি আবিষ্কর্তা, আমি জেগে থাকি কফি খেয়ে।
আগামী সকাল পর্যন্ত। আবার পৌণপুনিকতা।

এ চক্করে আমি কীভাবে আঁটকে গেলাম!

.
.
.

6 মন্তব্য::

সৌরভ 30 October, 2008  

বৃত্তবন্দী!

নিঘাত সুলতানা তিথি 30 October, 2008  

এ ব্যাপারটা খারাপ খুবই...রাতে না ঘুমানো, দিনেও ঘুমুবার সময় হয়ে ওঠে না। তার মানে ঘুমই নেই...অনিয়মটাই কেমন নিয়ম হয়ে যায়, কাটান এটা শীগগির।

ওয়ার্শ ভ্যারিফিকেশানটা বন্ধ করলে হয় না? :-(

নিঘাত সুলতানা তিথি 30 October, 2008  

ও বাই দ্য ওয়ে, ব্লগের নতুন চেহারা ভালো লাগছে। পরিবর্তন ভালো লাগে আমার।

আবার ওয়ার্ড ভ্যারিফিকেশান টাইপ করো...অসহ্য!

আনোয়ার সাদাত শিমুল 30 October, 2008  

@তিথিঃ
নাহ, আজ সকালে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আর রাত জাগবো না। early to bed, and early to rise এরকম কী একটা ছড়া আছে না? ;)
ওয়ার্ড ভেরিফিকেশন তুলে দিয়েছি।
ধন্যবাদ।

সৌরভকে থ্যাঙ্কু।

Aumit Ahmed 01 November, 2008  

নতুন লুকটা আসলেই দারুন হয়েছে। তোমারটা দেখে এখন আমার ব্লগটা দেখলেই মেজাজ খঁচে যাচ্ছে।

আনোয়ার সাদাত শিমুল 02 November, 2008  

থ্যাঙ্কু অমিত। তুমিও ৩কলাম করে নাও। দেখতে সুন্দর লাগে।

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP