19 September, 2008

মনে পড়ে, নীলক্ষেত



বাংলায় ‘কপিরাইট আইন’ নিয়ে গুগলিং করতে গিয়ে প্রথমেই যে লিংক পেলাম সেটা সম্ভবতঃ বাংলাদেশ সরকারের আইন মন্ত্রণালয়ের সাইট। কিন্তু, সাইটে যেতে পারছি না। পাসওয়ার্ড চাইছে। কপিরাইট আইন নিয়ে আরেকটি বাংলা সাইট পেলাম - কপিরাইট অফিস বাংলাদেশ। কপিরাইট আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৫) এবং ২০০৬ সালের একটা গেজেটও আছে। কপিরাইট তালিকায় আছে কেবল একটি বই; ফোরকান পাবলিকেশন্সের মর্ডান মেডিসিন (১ম খন্ড), লেখক ডা আ বাসিত। এটুকুই মাল মসলা আছে ভেতরে, তবে কাজের কথা বলা আছে – অনুলিপি চিত্রানুলিপি করা যাবে না।

বাড়ীভাড়া আইন নিয়ে সুহৃদ ব্লগার রণদীপম বসু কিছু দিন আগে পরিশ্রমসাধ্য একটি লেখা দিয়েছেন, কাজীর কিতাব তোঘলকি কান্ড, বলেছেন। কপিরাইট আইনও এরকম কাজীর কিতাবে বন্দী আছে বলে জানি। প্রাণ ভরে কৃতজ্ঞতা জানাই সে বন্দীদশাকে। বিদেশি কোম্পানীর দামী দামী সব বইয়ের কপি পেয়ে গেছি নীলক্ষেত এডিশনে। চারশ’ পাঁচশ’ পৃষ্ঠার বই অফসেটে, চমৎকার বাঁধাইয়ে, দেড়শ থেকে দু’শ টাকা দামে। নয়তো কার এমন সাধ্য ছিলো হাজার হাজার টাকা খরচ করে মূল বই কেনার!

এখানে এসে প্রথমেই ধাক্কা খেলাম। ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে বলে দিয়েছে – এই দেশে বই কপি করা অবৈধ। ক্লাসে কপি করা বই আনা চলবে না। হায়, করি কী? সাত আটটা বই কিনতে ছ’শ ডলারের উপরে যাবে। সমাধান দিলেন সিনিয়র মিঠু ভাই, ‘পিএইচডি তো প্রায় শেষ করে ফেললাম, কয়টা বই কিনেছি? বেশির ভাগই কপি করেছি। ক্লাসে বই নেয়ার দরকারও নাই’। আরো সন্ধান দিলেন এক চায়নিজ দোকানের যেখানে বই জমা দিলে রাতের মাঝে কপি করে দিবে।

শেষে খুঁজে পেলাম এক শ্রীলংকান দোকান। সেলফ সার্ভিস, প্রতি পৃষ্ঠা ৩ সেন্ট। ৫০০ পৃষ্ঠার বই কপি করতে লাগে ট্যাক্সসহ ১৬ ডলারের মতো। মূল বই কেনার খরচের তুলনায় অনেক সহনীয় মাত্রা। কষ্ট কেবল - দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কপি করতে হয়, অনভ্যস্ততায় সময় লাগে অনেক। তবুও ভালো।

আজ নীলক্ষেতের মামাদের মনে পড়ে। কোলাহল-ভীড়ের মাঝেও তাঁদের দ্রুত গতিতে কপি করে যাওয়া। মাঝে টুপ করে আমাদের ১৫ টাকার তেহারি, ১০ টাকায় লাচ্ছি খেয়ে আসা। আইন-কানুন হয়তো অনেক কিছু বলে।
তবে আপাততঃ এই মুহুর্তে কৃতজ্ঞতা, নীলক্ষেত।
আজ এই রোদ জ্বলা দুপুরে তোমাকে রুবি রায়ের মতো মনে পড়ে।

_
ছবিটি এখান থেকে নেয়া।

-
-
-

1 মন্তব্য::

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP