02 September, 2008

মুচকি হাসে ঈষাণ কোণের বায়ু...

তখন সময়টা বিষন্ন হয়ে উঠে।
চোখ বার বার ক্যালেন্ডারের পাতায় যায়, ভাবি - বছর মানে ৩৬৫ দিন - কতো লম্বা এ সময়? বিগত বিরাশি দিনের মতো পলকক্ষণ - স্বজনের মমতা অভিমান নাকি পিছুটান? তানপুরায় কেবলই বিষাদের সুর।
ব্যক্তিগত নিঃসঙ্গতা।

গতির টানে ছুটছে চারপাশ।
দুর্নীতির মামলা থেকে মুক্তি পেয়ে সান-মুন-অলিভ সার্টিফায়েড তারকা হচ্ছে, হবে অনেকে।
আসবে উৎসবের নির্বাচন।
তার আগে আসছে আশ্বিনের মঙ্গা।
আজ এসে গেলো রমজান - রামাদান কিংবা সিয়াম।
ব্যবসায়ীরা বলছে - দাম কম রাখা হবে। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে সেহেরী-ইফতার-তারাবীতে বিদ্যুৎ সচল থাকবে। বাংলালিংক বলছে - প্রেয়ার এলার্ট দেয়া হবে, তবে চার্জ প্রযোজ্য। ঈদ ফ্যাশন ম্যাগে ঝলমল করছে লিকলিকে শ্বেতবর্ণা পাটকাঠি বুক-ধড়াস মডেল।

চলছে চলবে।

সিয়ামের মহাযজ্ঞে পাঁচ তারার ব্যুফে ইফতারী ফ্লাশ হবে কমোডে। ইফতার পার্টির ঝলমলে মহলে হবে পার্সেন্টেজের লেনদেন। বণিকের মূল্যহ্রাসে থাকবে পরকালের নেকীর লোভ। সংখ্যার হিসাবে সত্তুর গুন। তবুও আলাদা সাইনবোর্ড থাকে - 'এখানে জাকাতের সস্তা কাপড় পাওয়া যায়।'
তবে এ সুযোগ সীমিত সময়ের জন্য, মাত্র তিরিশ দিন।

আর আমরা আমরাই থাকি।
কিছু স্বপ্ন বুকে নিয়ে ভার্চুয়াল মঞ্চে অনাবিল হৃদ্যতা।
তাই, দুঃসময়ে সেল ফোনে কথা বলে তেপান্তরবাসী কনফু-তিথি-সৌরভ। অথবা জোড় পাহাড়ে চাঁদ দেখা বাউল, প্রিয় আলবাব ভাই। ই-চিঠিতে মুগ্ধতার মোরশেদ ভাই।
আরও চেনা মুখ - নাম।
আটলান্টিকের ওপারে যেতে হবে জেনে চোখে ভেসে উঠে মনিটর। সেখানে প্রিয় সচলায়তন।
নিশ্চিত জেনে রাখি, অঞ্জনের গানে গানে, "এখান থেকে একটু দূরে, পাড়ার মোড়টা একটু ঘুরে..." এঁরাই আমার আরশীনগরের পড়শীরা। তাই তারে চোখ দিয়ে না দেখলেই বা কী!

এই সময়ে তবুও শংকাটা ভর করে। দেখেছি ও জেনেছি - বণিকের কারিশমা কেড়ে নেয় মানুষের মন। শেঁকল ভাঙার গান গেয়ে কোন স্রোতে ভেসে আমরা এসেছি এ নীড়ে, সারা বিকেল মন খারাপ হয়ে থাকে জুবায়ের ভাইয়ের অসুস্থতার সংবাদে। এখানে দেনা পাওনা নেই, চাওয়া নেই। কেবল পরম শুভকামনা।

অথচ, বণিকেরা ঠিকই বুঝে নেয় আমাদের এ কোমলতা। তাই পণ্যের মোড়কে আসে ভালোবাসা।
পণ্যের প্যাকেজে মা দিবস।
পণ্যের বাহারে ধর্ম।
বিজ্ঞাপন নগরীতে একদল বণিক কালো কাঁচের ঘরে বসে ছক সাজায়। আর আমরা শংকিত হই ভাঙনে, বিচ্ছিন্নতায়। হায়েনার হাসি আসে কানে। সুশীল বণিকের কূটচালে আমাদের সচলায়তনে গুমোট সময় আসে। অথচ, কলকাঠি নাড়ানো নষ্টেরা জানে না - তাদের পেছনেও হাসছে অন্য কিছু।
ঈশাণ কোণের বায়ু কেবল হেসেই চলেছে।

তাই সমস্ত শংকায় আমরা আবার একত্র হই।
হাতে হাত রাখি - যাবতীয় বিচ্ছিন্নতায়।


.
.

0 মন্তব্য::

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP