18 August, 2008

একই শহরে

যা ভেবেছিলাম, তা-ই হলো। মনে হয়েছিলো, সময় দ্রুত গিয়ে আবার পিছুটানে আঁটকাবে। গত দু'মাসে এ পাতায় কিছু লেখা হয়নি। লেখার ছিলো তো অনেক কিছু। নকিয়া বারোশ'তে র‌্যাপিড রোল খেলে কেটে গেছে অনেক বিকেল। এখনো আকাশ দেখি বাসার উত্তরে খালি প্লট এখনো আছে, এক টুকরো আকাশ আছে। এ ইট পাথরের এ কোণে গাছ গাছালি বেড়েছে।
বাসার নিচে ওরা ছাগল পালে। ভোর রাত থেকে ছাগলের ডাকাডাকি। ঘুম ভেঙে যায়। এম্বেসীর ইত্রামিতে আমি ছাগল হয়ে থাকি।
ঝিম মেরে থাকি। শ্যাওলা জমা ফ্লোরে পায়ের আঙুল টিপে টিপে সাবধানে যাওয়া। একবার পা মচকালে ৬ মাস।

তপু ফোন দিয়ে জানিয়েছিলো, রকিব দেশে এসেছে, তাও আমি আসার ১০ দিনের মাথায়। সন্ধ্যা করে গিয়ে দেখা, নয়তো আর দেখাই হতো না। তপু গাড়ী কিনেছে। নতুন গাড়ীতে মোহাম্মদপুর বিহারী ক্যাম্প, স্যুপ, চাপ, চিকেন। কিছু সময় খুব দ্রুত কাটে।

শেষতক পরাগ-সাথীর বিয়ে হলো।
এবার অদ্ভুত দুঃসময়ে আমার ১০২ ডিগ্রী জ্বর। বিয়ে-বৌভাত কোনোটায় যাওয়া হলো না।
পরাগ ফোন করেছিলো আধ ডজন বার। সাথীও করেছিলো। সাথীর আগে সাথে দেখা হয়েছে একবার। পরাগ সাথীর একান্ত চা সন্ধ্যায় ১০ নম্বরের গ্রামীণ রেস্তঁরায় আমিও সংগী হয়েছিলাম। পরাগের সাথে দেখা কলেজ শেষের পরে। রাইনখোলা রোডের চেনা মুখ। কিংবা ফার্মগেট। জাহিদ এসেছিলো আমার বাসায় সেবার। বললো, চলো - পরাগ ভাই'র বাসায় যাই।
তারপর গ্রুপ স্টাডি।
কারো হয় কারো হয় না।
শেষে জাহিদই হারিয়ে গেল। শিমুল সময়ের ধুলোয় মুকুল মেহেদী হয়ে যায়।
আমি আর পরাগ অনেক বিকেল বিক্ষিপ্ত আড্ডা মারি। বেশিরভাগ পরাগের বাসায়, সময় চারটা তিরিশ।
কতো দিন, কতো কথা। কতো তর্ক।

সংসারী বন্ধুদের সাথে আলাপে দ্বিধা করছি ইদানিং। এ সমস্যা বাড়ছেই বাড়ছে।
ফ্রেন্ডশীপ ডে তে পরাগ এস এম এস করেছে - "when someone asks me, which one is better; love marriage or settle marriage?
i reply - it's as simple as giving options of suicide or hanging".
আমি রিপ্লাই করি - "ur sms reminds me the monkey who eats all sweet grapes and says, it's sour."
পরাগ রিপ্লাই করেনি আর।

মিল্টনের সাথে ফোনে আলাপ হলো বেশি এবার।
এবং এবার নাকি সে বুঝতে পেরেছে, আমি ভালো চাপা মারতে পারি। সে চাচ্ছে এ চাপায় তাকে সান্ত্বনা দিই, আশার কথা বলি।
আমি হাসি, আর কী বলি? সেই একটি কথাই, 'আমাদের জীবনটা খুব ছোটো'।
এটাও নাকি চাপা। হায়!
মিল্টন আমাদের ক্যাম্পাসের ডাটাবেস হয়ে গেছে। যাবতীয় তথ্য তার মুখের আগায়।
মিল্টন এস এম এস দিয়েছিলো - "medicine and friends both cure you, when u needed. but the only difference is friendship doesn't have any expire date."
রিপ্লাই করেছিলাম, "tahole manusher bondhutto vange keno?"
এটারও জবাব পাইনি।

এফ এম রেডিও'র উপর ত্যক্ত হয়ে আছি। সব ফাজলামি আর মানুষের পকেট কাটা।
এসএমএস বিজনেস। ডেইলি স্টারে রিপোর্ট দেখলাম ৬০% রেডিও'র আর ৪০% মোবাইল কোম্পানির হাতে!
হায় - পাগলা বাবা, মেটাল শিরিন- মাতাল শিরিন, ক্রেজি বয়।
পারস্পরিক বিচ্ছিন্নতা আর সামাজিক শৈথিল্যের মাঝে কে কোথায় আশ্রয় খোঁজে?
আরযে নীরব, আরযে জ্যাক্লিন জয়জয়কার।
রেডিও ফুর্তিতে লাইভ এসেছে প্রীতম।
নচিকেতার সাথে ডুয়েট এল্বামের কিছু গান ভালো লেগেছিল। তাই কান পাতি।
উপস্থাপিকা, ওহ - ওরা বলে হট সীটের হোস্ট;এর খলবলানিতে চটুল প্রশ্ন।
তবুও শুনি।
হঠাৎ এক শ্রোতার প্রশ্নঃ হ্যালো প্রীতম ভাই... হ্যালো।
হোস্টঃ আপনার নামটা প্লিজ?
কলারঃ বাইঞ্চুত!
হোস্টঃ কী? কী নাম?
কলারঃ বাইঞ্চুত।
টো টো টো, লাইন কেটে গেছে।

আজকাল নিচের ছাগলটা আর ডাকে না। হয়তো জবাই হয়ে গেছে।
গরম তেমন নেই, বৃষ্টি হচ্ছে প্রতিদিন।
প্রতিদিন ৩ বার ১ ঘন্টা করে ৩ ঘন্টা লোডশেডিং। অভ্যস্ত হয়ে গেছি।
ভালোও লাগছে, এভাবে পাওয়ার সেইভ করার জন্য বললে কেউ করতো না।
সন্ধ্যা সাতটা সতেরো'তে গেলে আটটা সতেরোতে আসে। এই এক ঘন্টা কোনো কাজ হয় না।

নাজমুল ভাই'র সাথে ফোনে কথা হয়েছে, দেখা করা দরকার আবার। মনজুরের সাথে দুবার দেখা। আদনান-মিতু-পরাগ-তপুর সাথে দেখা করা দরকার। এখন একটা চেক লিস্ট। মোজা কিনতে হবে, কেনা হলো, টিক মার্ক।

প্রবাসের সাতষট্টি দিন এতো ধীর কেনো? কেনো এতো দ্রুত কাটে না।
বাইরে থাকলে দু'মাসে ৫টা দিনলিপি হতো। এখানে নেই কেনো?

এ শহরের চমকের বিল বোর্ড বাড়ছে, বাড়ছে জ্যাম। কোলাহল।
ক্লান্ত মানুষের বিষণ্ন মুখ। যেনো কোথাও আশার আলো নেই। বাজারে আগুন। যানবাহনে ভাড়ায় নৈরাজ্য।
কালো মেঘ ক্রমশঃ ধেয়ে আসছে।
আর আমি এবং আমরা আশান্বিত হতে চাই প্রতিদিন।
আস্থা কমছে। আর কতো ভুল যাপনের দায়?

বাপ্পা মজুমদার গেয়ে চলেছে -
"এতো কাছে, একই শহরে আমাদের বসবাস/ তবু কারও দেখা নেই/ চোখে চোখে কথা নেই/ একই চাদরে পড়ে না নিঃশ্বাস/ শুণ্যতা ঘিরে আছে শীতের বাতাস"।


(অসমাপ্ত)
.
.
.

7 মন্তব্য::

রাশেদ 18 August, 2008  

সব রাগ এক পোস্টে ঝেড়ে দিলেন দেখি। :)

দেশে গেলে টাইম কিভাবে কেটে যায় বুঝাই যায় না। :(

নিঘাত সুলতানা তিথি 19 August, 2008  

এইসব মুক্তাছড়ানো দিনলিপি কি সব সময় এমন চুপিচুপিই লেখা হবে?
কি সব লিখলেন, বিষন্নতায় ভরা...পড়ে টড়ে আবার সেই দেশেই ফিরতে ইচ্ছা হলো...কি লাভ...

konfusias 19 August, 2008  

হুমমম।
ভাল লাগে না রে ভাই, কি যে ভাল লাগবে তাও জানি না।

আনোয়ার সাদাত শিমুল 22 August, 2008  

হ ভাই, সব রাগ নিজের উপ্রে @ রাশেদ ভাই।

@ তিথিঃ এরকম লেখা শুরু করে শেষ হয় না, তেমন জরুরীও কিছু না, তাই ব্লগস্পটেই রাখি।

@ কনফুঃ এই প্রশ্নের উত্তর আমি খুঁজে পাই না।

রাশেদ 22 August, 2008  

আপনি মিয়া আমার ব্লগ পড়ে লজ্জা দেন কেন! :((

ফালতু ফালতু কিছু লেখাতে আপনার মত মানুষের কমেন্ট পাইলে লইজ্জা বাড়ে! :D :D

সৌরভ 24 August, 2008  

জীবন এখন প্যাকেজকরণ হয়ে গেছে। এক চিমটি এসএমএস, সামান্য ফেসবুক ওয়াল, অল্প পরিমানে ছবিতে কমেন্ট - তোকে যা লাগছে রে।

কর্পোরেট অফিসে এখন ফান-পার্টি হয়, পরকীয়া হয়, এ ছাড়ে, ও-কে ধরে।
আমরা পুরনো, আমরা বেমানান। তাই না?

(অনেক দেরিতে পড়লাম। গুগল রিডার অনেকদিন দেখা হয় নি। তাই ক্ষমা প্রার্থনা করি।)

আনোয়ার সাদাত শিমুল 25 August, 2008  

বাংলা ব্লগস্ফিয়ারের সেলিব্রিটি রাশেদ এইটা কী কয়!!!
_

হ সৌরভ, এক্কেবারে মিসফিট।
নেভী ব্লু শার্ট, ঝকঝকে শ্যু, চুলে জেল, আফটার শেভের ভুরভুর করা গন্ধ, মুখে মিষ্টি করে কথা, সিরামিক্সের দেয়াল, কোমরে লেটেস্ট নকিয়া /এইচ পি ; তখন ক্রমাগত তামান্না লোমেলারা তীর হাতে উড়ে আসে। কিউপিড-সাইকী এ শহরে আলোকিত করে।
আর আমরা বিষন্ন হই। ভুল সময়ে জন্ম নেয়া একদল মানুষ; অস্থির জনপদের পথিক।

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP