23 March, 2008

শহীদুল জহির আর নেই!

শহীদুল জহিরের নাম প্রথম শুনি আরমান মুরাদের মুখে। কিছু ভালো উপন্যাসের তালিকার তিনি লিখেছিলেন - আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের উপন্যাস সমগ্র, মাহমুদুল হকের 'কালো বরফ' এবং শহীদুল জহিরের 'সে রাতে পূর্ণিমা ছিল'।

আরো পরে, বছর পেরিয়ে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের উপন্যাস হাতে পেয়েছিলাম, তবে 'সে রাতে পূর্ণিমা ছিল' পাইনি। গত বই মেলায়ও ফরমায়েশ ছিল, যাকে বলেছিলাম তিনি খুঁজে পাননি। অনলাইনে পড়ে নিয়েছি সামান্য কিছু বর্ণনা।

এর মাঝে শহীদুল জহিরের লেখা পড়ার আগ্রহ জাগে অন্য কারণে। ২০০৬এ এটিএনে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নাটক "কোথায় পাবো তারে" ছিলো শহীদুল জহিরের ছোটোগল্পে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা। নাটকে দেখা যায়, 'কোথায় পাবো তারে' গল্পের চরিত্রগুলোর সাথে মিল পায় পুরান ঢাকার নবাবপুরের একদল লোক। মহল্লার আব্দুল আজিজ ব্যাপারী ঠোঙায় করে গরম ডালপুরি কিনে ফেরার পথে আব্দুল করিমের সাথে দেখা হয়, এবং আব্দুল করিম বলে - "ডালপুরির মধ্যে ডাল নাই, হুদা আলু।" আশ্চর্যজনকভাবে এই আব্দুল করিমও তার ময়মনসিং ফুলবাড়ি আকুয়া নিবাসী অদেখা বান্ধবী শেফালীর গল্প জুড়ে সবার সাথে, এবং মহল্লার সবাই দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। আজিজ ব্যাপারীর ছেলে দুলাল মিয়া যখন শহিদুল জহিরের "ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প" পড়তে গিয়ে - কোথায় পাবো তারে গল্পে নিজেদের খুঁজে পায়, তারা তখন অস্থির হয়ে উঠে। মতিন প্রফেসরের সাথে কথা বলে তারা ৩৬ বাংলা বাজার, মাওলা ব্রাদার্সের অফিসে গিয়ে শহিদুল জহিরকে খোঁজ করে, এবং গল্প ও বাস্তবের গোলকধাঁধায় চক্কর খায়। নাটকটি এখানে শেষ।

জীবনে দেখা অনেক নাটকের মতো এটিও হারিয়ে যেতে পারতো, কিন্তু হারায়নি - কারণ ব্লগের এক তর্কে আমি এ নাটকের রেফারেন্স টেনেছিলাম যথাযথ ভাবে, এবং প্রয়োজনটা ছিলো মারাত্মক। মাঝে মাঝে সময় পেলে এর মাঝে "কোথায় পাবো তারে" আরো বেশ ক'বার দেখেছি। এবং এবারের বইমেলায় শহিদুল জহিরের বই খুঁজেছি বেশ। উপন্যাস পাইনি, মাওলা ব্রাদার্স থেকে কিনলাম - "ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প"। মোট সাতটা গল্প।

ঐ রাতেই পড়লাম - 'কোথায় পাবো তারে'।
পরদিন 'আমাদের বকুল'।
ভাষার ভিন্নটা থাকলেও শহীদুল জহিরের গল্প আমাকে কাবু করে ফেলে। পড়ে যাই, পড়ি আর পড়ি। মনে হয় - এটা আবার গল্প কি? এটা তো নিছক বর্ণনা। কিন্তু না - পরে মনে হয়, কথার গভীরে অন্য কথায় শহিদুল জহিরের গল্প বলার এ কারিশমা আর কারো নেই।
পাতায়া এসে পড়েছি - 'প্রথম বয়ান', 'মহল্লায় বান্দর, আব্দুল হালিমের মা এবং আমরা', পরশু রাতে পড়লাম 'ডলু নদীর হাওয়া'। আরও দুটি বাকী। পড়বো কাল অথবা পরশু কিংবা তারপর দিন।

মাঝে মাঝে দু:খ লাগে, অনেক জরুরী সময় অলেখকদের বই পড়ে নষ্ট করেছি। কলেজে বাংলার প্রমীলা ম্যাডাম বলেছিলেন - এই বয়সে নজরুল-রবীন্দ্রনাথ-শরৎ শেষ করার কথা। কিছুই হয়নি। বাণিজ্যের ছাত্র হয়ে - মার্কেট সেগমেন্টেশন আর স্ট্র্যাটেজির পাশাপাশি গদ্য লেখার ব্যর্থ চেষ্টা করি। এখনো শিশু শ্রেণীতে পড়ে আছি। এমন পাঠকের কাছে শহীদুল জহির এক নতুন মোহ।

চলমান মোহের মাঝে আজ দুপুরে খবর পেলাম, শহীদুল জহির আর নেই। এখন তাঁর নামের পাশে লেখা থাকবে (১৯৫৩-২০০৮)।

ব্যাখ্যাতীত ভালো লাগা লেখক আমার - প্রিয় শহীদুল জহির।
.
.
.

4 মন্তব্য::

Bazlur 23 March, 2008  

কালো বরফটা বোধহয় মাহমুদুল হক এর লেখা ।

আনোয়ার সাদাত শিমুল 23 March, 2008  

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
ঠিক করে দিয়েছি।

নজমুল আলবাব 24 March, 2008  

সে রাতে পূর্ণিমা ছিল পড়ে আমি মোহগ্রস্থ ছিলাম অনেক দিন। এখনো মনে হলেই ঘোরে পড়ি। আমার লেখাগুলোর নামকরনে মনে হয় জহিরের ছায়া আছে।

Susanta 25 March, 2008  

সত্যি তাঁর মত লেখক খুজে পাওয়া ভার।

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP