26 February, 2008

বই মেলার ম্যালা গল্প

ভীড় নেই তেমন, লাইনে সামনে দশ-পনেরো জন। সবুজ জামা পরা লুৎফর রহমান রিটন আগে আগে গেলেন, সাথে বিটিভির এক সেলিব্রিটি অভিনেতা। ঘড়িতে সময় চারটা পঁচিশ। আলবাব ভাই বলেছিলেন - বিকেল চারটায় সবাই আসবে। চেহারা দেখে চিনবো অনেককে এই ভরসায় সামনে হাঁটি। লিটল ম্যাগ চত্বর ঘুরে জনান্তিক-জাগৃতিতে যাই। যাদের খুঁজছি তারা কেউ নেই। অবধুতের সামনে সুমন্ত আসলাম দুই কিশোরীকে অটোগ্রাফ দিচ্ছে। মাইক্রোফোন হাতে বাংলাভিশন চ্যানেল। শেষে আলবাব ভাইকে ফোন দিই - উত্তরে "শিমুল, তুমি লিটল ম্যাগ চত্বরে যাও, ওখানে পিয়াল ভাইরা আছেন। আমি দশ মিনিটে আসবো"

দূর থেকে পিয়াল ভাইকে চিনলাম। অমি রহমান পিয়াল। কাছে এগিয়ে যেতেই আরেকটি মুখ - অলৌকিক হাসান, সাথে কুয়াশা ভাবী। চমকে গেলাম পরিপাটি থার্ড আইকে দেখে। সকালেই লন্ডন থেকে এসেছেন। পিয়াল ভাইয়ের পাশে আরেকজন ব্লগার সুচিত্রা। টুকটাক কথা হয়। অলৌকিক হাসান দারুণ মিশুক মানুষ। অল্প সময়েই নানান গল্প জমে। থার্ড আই চকলেট বার বের করেন। মাঝে ঘুরে যান - ব্রাত্য রাইসু।

তারপর চশমা পড়া সৌম্য - অচেনা বাঙালী। এই মানুষটির সাথে দেখা করার ইচ্ছে অনেকদিনের। লিকলিকে শরীরের অয়ন (মুনতাসির অয়ন) কখন এলো ঠিক মনে পড়ে না। তবে অয়নই দেখিয়ে দেয় - সামনে আসছে উনি রাসেল ভাই। রাসেল (--------)।

অচেনা বাঙালী আর অয়ন সহ শুদ্ধস্বর স্টলে গেলাম। আলবাব ভাইয়ের বউ, বাটা, বলসাবান কিনবো। সামনে লীলেন ভাই। মাহবুব লীলেন, চেহারা দেখেই চিনলাম। শিমুল শুনে বললেন - আনোয়ার সাদাত শিমুল? বললাম - 'জ্বী, সুলতানা পারভীন শিমুল না'। লীলেন ভাই বললেন - 'না, ঐ শিমুলকে আমি ভালো করেই চিনি'। এই গোলকধাধা লীলেন ভাই'র সাথে আরেক দিন খেলেছিলাম সচল আড্ডাঘরে। কথায় কথায় এটাও জানিয়ে রাখলাম - লীলেন ভাই'র লেখা পড়ে আমি কেবল যতিচিহ্ন কমা (,)খুঁজি। কারণ, তিনি কমা ব্যবহার করেন না। স্টলে বসা আহমেদুর রশীদ। এই ভীড়েই একজন এসে লীলেন ভাইয়ের সাথে পরিচিত হলেন। খুব শীতল গলার আওয়াজ। জলিল ভাই, কবি শেখ জলিল। প্রশিকা স্টলে নিয়ে পরিচয় করিয়ে দিলেন ভাবীর সাথে, জারীফ আর হৃদিকেও দেখলাম।

হঠাৎ চেহারায় হাসি হাসি ভাব নিয়ে সফেদ পাঞ্জাবীতে এলো অমিত আহমেদ। হাত বাড়িয়ে বললাম - 'আপনি অমিত? অমিত আহমেদ?'
'জ্বী'।
'কেমন আছেন?'
'ভালো'।
'আপনার লেখা আমার খুব ভালো লাগে। আপনার গন্দম কিনবো, কিন্তু শর্ত হচ্ছে - এক পৃষ্ঠা পুরো কিছু লিখতে হবে'।
অমিতের মুখে তখনো হাসি। বললো - 'আপনার নাম কি?'
বললাম - 'নাম দিয়ে কি হবে? অটোগ্রাফ দিবেন না?'
পাশে অয়ন হাসতেই আছে।
এবার অমিত বললো - 'চিনেছি, আপনি শিমুল।'
'কিভাবে চিনলেন?'
'কথা শুনে বুঝা যায়'।
হা হা।
অমিতকে ভড়কে দেয়ার পরিকল্পনাটা ওখানেই থামাতে হয়।

এরপর আমরা লিটল ম্যাগ স্টলের আশেপাশেই থাকি।
আরিফ ভাই এলেন, আরিফ জেবতিক।
একটু পর নজমুল আলবাব।
দু'জনকেই দেখলাম সাত বছর পর। আগেরবার বন্ধুসভার এক অনুষ্ঠানে দূর থেকে দেখা, কথা হয়নি। এবার মনে হলো - দেখা তো প্রতিদিনই হয় - - -।

ছোটোখাটো শরীরের একজন অচেনা বাঙালীর পাশে। নাম জানলাম - একরামুল হক শামীম। চেনা নাম। আরও দু'জন এসে আলবাব ভাইয়ের সাথে হাত মেলালেন। আলবাব ভাই পরিচয় করিয়ে দিলেন আমার সাথে। জিজ্ঞেস করলাম - 'আপনার নাম?'
'আমি পাকিস্তানের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট।'
হ্যাংলা পাতলা শরীরে মজার মানুষ। জানলাম, তার নাম ফাহিম। ব্লগে মনিটর। পাশের জন মেন্টাল (আসল নামটা ভুলে গেছি)। দু'জন ঘুরতে ঘুরতে দাঁড়কাক স্টলে গেলেন। অপরবাস্তব-২ কিনলেন।

এর মাঝে সন্ধ্যা নেমেছে টের পাইনি।
এলেন প্রিয় মোরশেদ ভাই। পাঠক ফোরাম, বন্ধুসভার মুগ্ধতা জাগানো লেখক, প্রিয় ব্লগার - হাসান মোরশেদ। মুন্নী ভাবী আর মৃন্ময় আছে সাথে। আলবাব ভাই শুরু করলেন বিয়ের গল্প। সিলেট-চিটাগাং সংকট সমন্বয়ে প্রস্তাবক। পরে অমিত যখন এলো তখনও তিনি আবিয়াইত্যাদের লেজ কাটার পরিকল্পনায় মত্ত। আমার ধারণা এই মানুষটি ঘটক পাখি ভাইয়ের লাইনে ঢুকার চেষ্টা করছে।

আড্ডা এবার গ্রুপ-সাবগ্রুপে ভাগ হয়ে যায়। পিয়াল ভাই'র সাথে কথা হয় কিছুক্ষণ। বন্ধুবৎসল আলাপী - নিরহংকার মানুষ। অলৌকিক ভাই ভাবী এবং থার্ড আই চলে গেলেন। মাসকাওয়াথ ভাই এলেন আসরে। আগেরদিন দেখা হয়েছিল। ছ'বছরে মানুষের গঠন পাল্টায় বৈকী! সাথে ইউরোপের ঠান্ডা বাতাসে শ্যামবর্ণ হয়েছেন বেশ।

পরিচয় হয় মুজিব মেহদী, জামাল ভাস্কর, কৌশিক আহমেদ, পথিক, রাহা, নুরুজ্জামান মানিকের সাথে। গ্রীণ টাইগার আবু মুস্তাফিজও এলেন। আলবাব ভাই'র সাথে থাকা নীরব মারিযাদ হারুণ নামটা পাঠক ফোরামের বদৌলতে অনেক চেনা।

অমিত, আলবাব ভাই, অয়নসহ জাগৃতিতে গেলাম। 'গন্দম'এ অটোগ্রাফ দিলো অমিত। আরিফ ভাই ব্যস্ত ছিলেন তাই অটোগ্রাফাশীর্বাদ পেয়েছি একটু পরে।
তবে অটোগ্রাফের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষায় ছিলাম নজমুল আলবাবের সামনে। আমার সিরিয়াল এগারো নম্বর। ভদ্রলোক অক্লান্তভাবে স্বাক্ষর দিয়ে যাচ্ছেন। আমি যখন গেলাম তখন অন্য পাশে অয়নও অপেক্ষায়।

শুদ্ধস্বরের সৌজন্যে মুড়ি-মোয়া আসে। আলাপ চলে অবিরাম।
লম্বা গড়নের প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব এলেন একটু পরে। অচেনা বাঙালী নিজেকে হোসেইন পরিচয় দিলেন। প্রত্তু বললেন - 'না, না, আপনি হোসেইন না।'
অচেনা বাঙালী বললেন - 'কেনো হোসেইন না কেনো?'
প্রত্তু কনফিডেন্ট, 'আপনি অন্য কেউ হবেন, হোসেইন না'।

মোরশেদ ভাইয়ের সাথে আলাপ হয় আরও কিছু। অপ্রকাশিত 'শমন-শেকল-ডানা'র গল্প শুনি। ডানে ডাক শুনে এগিয়ে যাই - আপন তারিক, সাথে ছোটোভাই। এক সময়কার নিয়মিত ব্লগার কিছুটা বিব্রত এই ভেবে এখনকার অনেকেই তাকে চিনবে না।
আপনের সাথে অনেক পুরনো ব্লগস্মৃতি চাঙা হয়। আলভী, অন্ধকার, সৌরভ আর কনফুসিয়াসকে নিয়ে আলাপ হয়। আপনকে ব্লগে নিয়মিত থাকার অনুরোধ করি।

রাত আটটা পার হয়ে গেছে। সবাই ঘরে ফিরছে। আলবাব ভাই আর মোরশেদ ভাইয়ের সিলেট নিমন্ত্রণে এক কথায় রাজী হয়ে গেলাম। অমিত কানাডা ফিরবে তারও আগে। শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত অপেক্ষায় ছিলাম দু'জন ব্লগারের জন্য, আসেননি; দৃশা এবং হোসেইন।

অয়ন শ্যামলী যাবে, আমি মিরপুর। ভুট্টায় কামড় বসিয়ে দু'জন রিক্সা চড়ে নীলক্ষেত আসি। বাসের জন্য মানুষের ভীড়। ইডেন পার হয়ে আজিমপুর যাই। 'সেফটি পরিবহনে' অয়ন ওঠার পর ট্রাফিক পুলিশ এসে বাসের কন্ডাক্টারকে পেটানো শুরু করলো। ড্রাইভার দিলো টান। আমি উঠতে পারলাম না। কাঁধে ব্যাগ হাতে ভুট্টা নিয়ে দৌড়াই। বাস থামে না, আমিও থামি না। আধা মিনিট পরে বাস থামলো। নানান জ্যামেও শ্যামলী আসতে দেরী হলো না। কথার মাঝেই 'আমি নামবো' বলে অয়ন নেমে গেলো।

এরকম অনেক কথা অসমাপ্ত রয়ে গেলো অনেকের সাথে।
.
.
.

1 মন্তব্য::

সুশান্ত 14 June, 2008  

ভাল লাগল। পড়ে অনেককে চিনলাম। অনেককিছু জানলাম। লেখককে ধন্যবাদ।

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP