15 December, 2007

এই আগুনে হাত

রাতের ঘুমের সমস্যা আবার শুরু হয়েছে। ভোর রাতে ঘুম জাঁকিয়ে আসে। অনেক দিনের ছ'টা চল্লিশ পাল্টে অ্যালার্ম সাতটা হয়েছে। তবুও পাঁচ মিনিটের বেহেশতী ঘুম আমাকে ছাড়ে না। সাতটা দশ, সাতটা পনেরো, পঁচিশ করে করে সাড়ে সাতটা। তারপর ব্রাশ, গোসল, তোয়ালে, ভেজা চুলে চিরুনী। সাতটা আটান্ন মিনিটে ক্লক ইন। কয়লা খনির ময়লা শ্রমিক। প্রয়োজনটা তখন আবশ্যিক হয়ে ওঠে, এক কাপ কফি। খুব বেশী হলে সাথে একটা পাউরুটি টুকরা, ভেতরে চিনি মাখন মেশানো থাকে। আধুনিক মানুষের ফাস্ট ব্রেকিং। কতোদিন নাস্তা করি না। নাস্তা মানে য়িউগার্ট কর্নের কনজ্যুমারিস্ট অখাদ্য নয়। নাস্তা মানে রুটি, নাস্তা মানে পরোটা, নাস্তা মানে সবজি ভাজি, নাস্তা মানে গরুর গোশত ভুনা। তারপর ঘন এক কাপ চা। নাস্তা মানে হাতের কাছে দৈনিক পত্রিকা, রেডিওতে মহানগর ম্যাগাজিন। নাস্তা মানে সারা দিনের তাড়া।

ইদানিং হাল্কা শীত পড়ছে। সন্ধ্যায় বাসা ফিরতে নাকে কুয়াশা লাগে। কেনো জানি না - বারবার ভাজা মাছের ঘ্রাণ ভেসে আসে। আমি হাঁটি। হাঁটতেই থাকি। আমার সাথে সাথে ভাজা মাছের ঘ্রাণ। মনে পড়ে - অনেক দিন আগে, ক'বছর? দশ? না, আরো বেশী সতেরো, আঠারো বছর আগে। অনিয়মে সন্ধ্যায় নাপিত ঘর হয়ে ঠান্ডা পানিতে গোসল করে কাঁপাকাঁপা শরীর নিয়ে ধোঁয়া ওঠা ভাত, সাথে ভাজা মাছ। সেদিন পড়ার টেবিলে বসিনি কেনো? অদ্ভুত অনাকাঙ্ক্ষিত প্রশ্রয়ের সন্ধ্যাটা খুব জেগে ওঠে আজকাল।

খাটের অর্ধেক জুড়ে বই ছড়িয়ে আছে। গুনে দেখলাম - এক সাথে পড়ছি চারটি বই। তাই কোনোটিই শেষ হচ্ছে না। জর্জ এলিয়টের তিনটি উপন্যাস কেনাটাই শেষ, কখনো পড়া হবে কিনা জানি না। ইংলিশ ফর টুডে জ্ঞান দিয়ে কাজ হবে না। আঁটকে আছে শোহেইর খাসোগ্যির 'মিরাজ'। বাকীগুলো পাতা উল্টাই, প্রতি সন্ধ্যায়। আর শনিবারে হাউজ কিপার এসে গুছিয়ে যায়।

ডিসেম্বর চলে এলো। অর্ধেক শেষ। দেশে যাওয়া হলো না। ইচ্ছেরা মাঝে মাঝে পরাজিত হয়। ষোলই ডিসেম্বর, ঈদ, ক্রিসমাস, নিউ ইয়ার সব মিলিয়ে উৎসবের আমেজ। ক্রিসমাস এলে জন গোমেজের কথা মনে পড়ে। কলেজের চমৎকার এক বন্ধু জন। বলেছিল - গার্জিয়ানের অনুমতি নিয়ে গেলে বাসায় শুকরের মাংশ খেতে দেবে। ক্রিসমাসে শুভেচ্ছা জানানোর কাউকে খুঁজে পাই না। কয়লা খনির সেন্ট্রাল সাউন্ড সিস্টেমে আজ মেরী ক্রিসমাসের গান চলছে। সান্তা ক্লজ এসেছিল লাল সাদা জামা আর চকোলেটের প্যাকেট হাতে। বাণিজ্যের প্রলেপটুকু এড়িয়ে সান্তা ক্লজের কাছে বলতে ইচ্ছে করে - এক পকেট স্বপ্ন দাও হে বুড়ো। বেঁচে থাকার স্বপ্ন। আমার ইদানিং মরে যেতে ইচ্ছে করে কেনো? তোমার যীশুকে জিজ্ঞেস করে দেখো। সান্তা ক্লজের মুখভঙ্গি দাঁড়ি ভেদ করে আমার চোখে আসে না। আমি চকলেট কামড়াই। নিয়তি আমাকে কামড়ায়।

গতরাতে মায়ের সাথে কথা হলো। কবে দেশে যাবো? নিয়ত প্রশ্নের জবাবে আমারও উত্তর - দেখি আগামী মাসে হয়তো। টুমরো নেভার কামস। ক'টা ঈদ গেলো এভাবে? আটটা? আমি হিসেব করি, না না - চারটা মাত্র। রাত তখন একটা।

আজ কফি বেশী হয়ে গেছে। ক্লান্তির মাঝেও ঘুম আসবে না। আবারও নিশি যাপন। সুকুমভিতের বুক চিড়ে অ্যাম্বুলেন্সের শব্দের সাথে নিত্য সহবাস। চার চৌদ্দ ছাপ্পান্ন গুনে গুনে সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে গত সন্ধ্যায় মনে হলো - দ্য সান উইল রাইজ টুমরো।

.
.
.

3 মন্তব্য::

Anonymous,  15 December, 2007  

ki hoise? dese koba asba?

সৌরভ 17 December, 2007  

হুমমমমম!

konfusias 17 December, 2007  

আজ দেখি কারোরই মন ভাল নেই।
গত বছর এই সময় দেশে ছিলাম, এ বছর তাই কেমন খালি খালি লাগছে সব কিছু।

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP