22 November, 2006

ছুটির পাখির ডাক

এক সময়ের আলোচিত সিনেমা ’ছুটির ঘন্টা’ দেখে অনেকেই মন খারাপ করেছেন, চোখ ভিজিয়েছেন। শিশুদের জন্য তৈরী এ ছবির একটি গান শিশুতোষ আনন্দের প্রকাশ হিসেবে কালজয়ী হয়ে আছে। ঢাকা শিশুপার্কের রাইডগুলোয় কিংবা বিটিভি-তে শিশুদের অনুষ্ঠানে এখনো জনপ্রিয় গান - “একদিন ছুটি হবে, অনেক দূরে যাবো, নীল আকাশে সবুজ ঘাসে, খুশিতে হারাবো“।

ছুটির আনন্দের কথা এসেছে নানানভাবে; ছড়ায়, কবিতায়, গল্পে আর গানে। ’মেঘের কোলে রোদ হেসেছে বাদল গেছে টুটি, আজ আমাদের ছুটিরে ভাই আজ আমাদের ছুটি’ কিংবা ’ছুটির দিনে মামার বাড়ী আম কুড়াতে সুখ, পাকা জামের মধুর রসে রঙীণ করি মুখ’ - আহারে ছুটি, আহারে মামা বাড়ী! বিদেশের বাচ্চাদের বোধ হয় মামা বাড়ী নেই। তাই তারা ’ছুটির অবসরে’ রেস্টুরেন্টে কাজ করে। কবি জসীম উদদীনের লেখা গল্পটি ছিল আমাদের ক্লাস থ্রি-এর বাংলা বইয়ে। এর কিছুদিন পর ’বড়বোনের বিবাহ উপলক্ষ্যে তিনদিনের ছুটি চাহিয়া প্রধান শিক্ষকের নিকট দরখাস্ত’ লেখা শিখতে হয়েছে। বাংলাটা না হয় সহজ ছিল। কিন্তু আরেকটু বড় হয়ে যখন ’লীভ অব অ্যাবসেন্স’ শিখতে হলো তখন ’আই বেগ মোস্ট রেসপেক্টফুলি টু স্টেট দ্যাট’ শিখতেই দিন পার। পরদিন ইংরেজী ক্লাসে কশ্যাত কশ্যাত বেতের বাড়ি। এরপরও ছুটির মোহ কাটেনি। অদ্ভুত লাগতো যখন বাংলা দি্বতীয় পত্রে বন্ধুর কাছে পত্র লেখা - ’এবারের বার্ষিক পরীক্ষার পর ছুটির দিন গুলোয় আমি আমাদের এলাকার কিছু দরিদ্র ছেলেকে বিনা পয়সায় পড়াবো’ টাইপ ডাহা মিথ্যা কথা শিখতে হতো। অবশ্য ওটা কতোক্ষণই বা আর মনে থাকতো! ’এতদ্বারা সকলের অবগতির জন্য জানানো যাইতেছে যে - ... উপলক্ষ্যে আগামী ... তারিখ হইতে ... তারিখ পর্যন্ত বিদ্যালয় বন্ধ থাকিবে’ - শোনার পর সবাই ক্লাস থেকে ছুউউটিইই বলে দৌড়, কার আগে কে স্কুলের মাঠ পার হতে পারে...!

ছুটিগুলো মাঝে মাঝে অন্যরকম হয়ে উঠে। ক্ষুধার রাজ্যে গদ্যময় পৃথিবী থেকে অভিমানী কবি তার কবিতাকে ছুটি দিয়ে দেয়। অথবা কবি নিজেই ছুটি নেয়। কেউ ছুটি নিয়ে নেয় বড্ড অসময়ে, অনেকের অজান্তে। অফিসের ব্যস্ত মানুষটি যখন এলপিআর-এ যান, তখন তার অস্থির সময়ের শঙ্কা। অফিস ছুটির পাশাপাশি জীবন ছুটির সময়ও বুঝি ঘনিয়ে এলো...।


দামী একটি ছুটিঃ

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি এম.এ.আজিজ অবশেষে ছুটি নিতে রাজী হয়েছেন। বাজারে মিথ্যা গুজব আছে - ছাত্রজীবনে তিঁনি খুব অধ্যবসায়ী ছিলেন। ছাত্রনং অধ্যয়ন তপঃ-তে বিশ্বাসী হয়ে তিঁনি ছুটির দিন গুলোতেও নাকি স্কুলের বারান্দায় ঘুরঘুর করতেন। লাইব্রেরী খোলা থাকলে ওখানে গিয়ে পড়তেন। ছুটির ব্যাপারটি তাঁর একদম পছন্দ হতো না। ভীষণ প্রজ্ঞাবান এই “ভদ্রলোকের এক কথা“ - “সীতা ধ্যান, সীতা জ্ঞান, সীতা চিন্তামণি, সীতা ছাড়া আমি যেন মণিহারা ফণী। আমার চিন্তা শুধু ইলেকশন, ইলেকশন আর ইলেকশন।“ ক’মাস পরেই ইলেকশন। এ সময় ছুটি নেয়া যায়! নেয়া কি উচিত? কিন্তু সিইসি আজিজকে অবশেষে তিনমাসের জন্য ছুটি নিতে হচ্ছে। খবরে প্রকাশ - ছুটিটা একটু ’কস্টলি’ হয়ে গেছে; মাত্র ৬৭টি জীবন ও সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা...

0 মন্তব্য::

  © Blogger templates The Professional Template by Ourblogtemplates.com 2008

Back to TOP